মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)

১০- যাবতীয় দোয়া-যিক্‌র

হাদীস নং: ২৩০৯
- যাবতীয় দোয়া-যিক্‌র
১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - তাসবীহ (সুবহা-নাল্ল-হ), তাহমীদ (আল হাম্‌দুলিল্লা-হ), তাহলীল (লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ) ও তাকবীর (আল্ল-হু আকবার)- বলার সাওয়াব
২৩০৯। হযরত আবু সায়ীদ খুদরী (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিয়াছেনঃ একদা মুসা (আঃ) বলিলেন, পরওয়ারদেগার! আমাকে এমন একটি বাক্য বালাইয়া দাও যদ্দ্বারা আমি তোমার যিকর করিতে পারি অথবা বলিয়াছেন, তোমার নিকট দো'আ করিতে পারি। আল্লাহ্ বলিলেন, তুমি বলিবে, 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্।' তখন মুসা বলিলেন, পরওয়ারদেগার! তোমার সকল বান্দাই তো ইহা বলিয়া থাকে। আমি তো তোমার নিকট একটি বিশেষ বাক্য চাহিতেছি। তখন আল্লাহ্ বলিলেন, মুসা যদি সপ্ত আকাশ আর আমি ভিন্ন উহার সমস্ত অধিবাসী এবং সপ্ত পৃথিবী এক পাল্লায় রাখা হয়, আর 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্' অপর পাল্লায় রাখা হয়, তবে নিশ্চয়ই, 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্-এর পাল্লা ভারী হইবে। — শরহুস সুন্নাহ্
كتاب الدعوات
وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: قَالَ مُوسَى عَلَيْهِ السَّلَامُ: يَا رَبِّ عَلِّمْنِي شَيْئًا أَذْكُرُكَ بِهِ وَأَدْعُوكَ بِهِ فَقَالَ: يَا مُوسَى قُلْ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ فَقَالَ: يَا رَبِّ كلُّ عبادكَ يقولُ هَذَا إِنَّما أيد شَيْئًا تَخُصُّنِي بِهِ قَالَ: يَا مُوسَى لَوْ أَنَّ السَّمَاوَاتِ السَّبْعَ وَعَامِرَهُنَّ غَيْرِي وَالْأَرَضِينَ السَّبْعَ وُضِعْنَ فِي كِفَّةٍ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ فِي كِفَّةٍ لَمَالَتْ بِهِنَّ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ . رَوَاهُ فِي شرح السّنة

হাদীসের ব্যাখ্যা:

১. (ক) হাদীসের মূল কথাটি অর্থাৎ, কলেমায়ে তাইয়্যেবার শ্রেষ্ঠত্ব ও সওয়াবের কথা অন্য হাদীসেও আছে। (খ) এই হাদীস এবং ইবনে আব্বাসের অপর এক হাদীস হইতে পৃথিবী সাতটি বলিয়াই বুঝা যায়।

২. আল্লাহর সাথে বন্দেগীর বিশেষ সম্পর্ক ছিল মূসা (আ)-এর সে হিসাবে বিশেষ নৈকট্যের ভিত্তিতে তাঁর যে আকুতি ছিল সে জন্যে তিনি আল্লাহর দরবারে বিশেষ দু'আর জন্যে প্রার্থনা জানান। আল্লাহ তা'আলা তাঁকে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর যিকির করতে বলেন-যা সর্বোত্তম যিকির। তিনি আরয করেন: আমার দরখাস্ত কোন একটি বিশেষ কালিমার জন্যে, যা কেবল বিশেষভাবে আমাকেই প্রদান করা হবে। মোট কথা, কালিমায়ে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ ব্যাপকভাবে বহুল প্রচলিত হওয়ায় তাঁর মূল্যমান ও ফযীলত অনুধাবনের ব্যাপারে তিনি সঠিকভাবে উপলব্ধি করে উঠতে পারেননি। এ জন্যে তাঁকে বলে দেয়া হলো যে, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ হাকীকত যমীন ও আসমান তথা গোটা সৃষ্টি জগতের তুলনায় অধিকতর মূল্যবান ও ভারী। এটা দয়ালু আল্লাহর দয়ার দান যে, তিনি তাঁর পয়গম্বরগণের মাধ্যমে নির্বিশেষে সকলকে আমভাবে এ রহমত দান করেছেন। মোদ্দা কথা, আম্বিয়া ও প্রেরিত রাসূলগণের জন্যেও এর চাইতে বেশি দামী এবং অধিক বরকতময় আর কিছুই নেই।

এ অমূল্য নিয়ামতের শুকর হচ্ছে যে, এই পবিত্র কলিমাকে জপমালা বানিয়ে নেবে এবং বহুল পরিমাণে এর যিকির-এর মাধ্যমে আল্লাহর সাথে সংযোগ স্থাপন করা হবে।
২. ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান