মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
১০- যাবতীয় দোয়া-যিক্র
হাদীস নং: ২৩৮১
- যাবতীয় দোয়া-যিক্র
৪. প্রথম অনুচ্ছেদ - সকাল সন্ধ্যা ও শয্যা গ্রহণকালে যা বলবে
২৩৮১। হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সন্ধ্যায় প্রবেশ করিতেন, বলিতেন, “আমরা সন্ধ্যায় প্রবেশ করিলাম এবং সন্ধ্যায় প্রবেশ করিল রাজ্য আল্লাহর উদ্দেশ্যে। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, আল্লাহ্ ব্যতীত কোন উপাস্য নাই। তিনি এক, তাহার কোন শরীক নাই, তাঁহারই শাসন, তাঁহারই প্রশংসা এবং তিনি সমস্ত বিষয়ের উপর ক্ষমতাবান। হে খোদা! আমি তোমার নিকট চাহি এই রাতের মঙ্গল এবং উহাতে যাহা আছে তাহার মঙ্গল এবং আমি আশ্রয় চাহি তোমার নিকট উহার অমঙ্গল হইতে, আর উহাতে যাহা রহিয়াছে তাহার অমঙ্গল হইতে। খোদা! আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাহি অলসতা, বার্ধক্য ও বার্ধক্যের অপকারিতা এবং দুনিয়ার বিপদ ও কবরের আযাব হইতে।" আর যখন তিনি ভোরে প্রবেশ করিতেন, তখনও ঐরূপ বলিতেন। বলিতেন, “আমরা ভোরে প্রবেশ করিলাম এবং ভোরে প্রবেশ করিল রাজ্য আল্লাহর উদ্দেশ্যে।" অপর এক বর্ণনায় আছে, “পরওয়ার দেগার" ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাহি দোযখের আযাব ও কবরের শাস্তি হইতে।” —মুসলিম
كتاب الدعوات
بَابُ مَا يَقُوْلُ عِنْدَ الصَّبَاحِ وَالْمَسَاءِ وَالْمَنَامِ:
الْفَصْل الأول
الْفَصْل الأول
عَن عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَمْسَى قَالَ: «أَمْسَيْنَا وَأَمْسَى الْمُلْكُ لِلَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِ هَذِهِ اللَّيْلَةِ وَخَيْرِ مَا فِيهَا وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَشَرِّ مَا فِيهَا اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكَسَلِ وَالْهَرَمِ وَسُوءِ الْكِبَرِ وَفِتْنَةِ الدُّنْيَا وَعَذَابِ الْقَبْرِ»
وَإِذَا أَصْبَحَ قَالَ أَيْضًا: «أَصْبَحْنَا وَأَصْبَحَ الْمُلْكُ لِلَّهِ» . وَفِي رِوَايَةٍ: «رَبِّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابٍ فِي النَّار وَعَذَاب فِي الْقَبْر» . رَوَاهُ مُسلم
وَإِذَا أَصْبَحَ قَالَ أَيْضًا: «أَصْبَحْنَا وَأَصْبَحَ الْمُلْكُ لِلَّهِ» . وَفِي رِوَايَةٍ: «رَبِّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابٍ فِي النَّار وَعَذَاب فِي الْقَبْر» . رَوَاهُ مُسلم
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ দু'আতে নিজের সত্তা এবং গোটা বিশ্বজাহানের উপর আল্লাহ তা'আলার আধিপত্যের স্বীকারোক্তি এবং তাঁর স্তব-স্তুতির সাথে সাথে তাঁর একত্ববাদের ঘোষণা রয়েছে। এছাড়া আছে রাত বা দিনের মধ্যে নিহিত মঙ্গলের প্রার্থনা এবং যে সব দুর্বলতা কল্যাণ ও সৌভাগ্য থেকে বঞ্চনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, সেগুলো থেকে আশ্রয় প্রার্থনা। সর্বশেষে দুনিয়ার ফিৎনা ও কবরের আযাব থেকে মুক্তির দরখাস্ত। সুবহানাল্লাহ। কী ব্যাপক অর্থপূর্ণ দু'আ! নিজের বান্দা হওয়ার ও দীনতার কী অকুণ্ঠ স্বীকারোক্তিই না ফুটে উঠেছে এ দু'আটির মধ্যে!
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)