মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)

১০- যাবতীয় দোয়া-যিক্‌র

হাদীস নং: ২৩৯১
- যাবতীয় দোয়া-যিক্‌র
৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সকাল সন্ধ্যা ও শয্যা গ্রহণকালে যা বলবে
২৩৯১। হযরত আবান ইবনে ওসমান (রাঃ) বলেন, আমি আমার পিতাকে বলিতে শুনিয়াছি; রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি প্রত্যেক দিন সকালে এবং প্রত্যেক রাত্রি সন্ধ্যায় তিন বার বলিবে “আল্লাহর নামে যাঁহার নামের সাথে যমীন ও আসমানে কোন কিছুই ক্ষতি করিতে পারে না, আর তিনি হইতেছেন শ্রোতা ও জ্ঞাতা”— তাহাকে কোন কিছুই ক্ষতি করে এমন হইতে পারে না। পরবর্তী রাবী বলেন, আবানকে পক্ষাঘাত আক্রমণ করিয়াছিল, তাই শ্রোতা তাহার দিকে দেখিতেছিল। তখন আবান তাহাকে বলিলেন, আমার দিকে দেখিতেছ কি? নিশ্চয়ই হাদীস আমি যাহা বর্ণনা করিয়াছি তাহাই—তবে আমি সেদিন ইহা বলি নাই, “যাহাতে আল্লাহ্ আমাতে তাঁহার পূর্ব নির্ধারণ কার্যকরী করেন।” —তিরমিযী, ইবনে মাজাহ্ ও আবু দাউদ
কিন্তু আবু দাউদের অপর বর্ণনায় আছে, সে রাতে তাহার প্রতি কোন আকস্মিক বিপদ পৌঁছিবে না যাবৎ না সকাল হয়, আর যে উহা সকালে বলিবে তাহার প্রতি কোন আকস্মিক বিপদ পৌঁছিবে না যাবৎ না সন্ধ্যা হয়।
كتاب الدعوات
وَعَنْ أَبَانَ بْنِ عُثْمَانَ قَالَ: سَمِعْتُ أَبِي يَقُولَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا مِنْ عَبْدٍ يَقُولُ فِي صَبَاحِ كُلِّ يَوْمٍ وَمَسَاءِ كُلِّ لَيْلَةٍ بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ فَيَضُرَّهُ شَيْءٌ» . فَكَانَ أَبَانُ قَدْ أَصَابَهُ طَرَفُ فَالَجٍ فَجَعَلَ الرَّجُلَ يَنْظُرُ إِلَيْهِ فَقَالَ لَهُ أَبَانُ: مَا تَنْظُرُ إِلَيَّ؟ أَمَا إِنَّ الْحَدِيثَ كَمَا حَدَّثْتُكَ وَلَكِنِّي لَمْ أَقُلْهُ يَوْمَئِذٍ لِيُمْضِيَ اللَّهُ عَلَيَّ قَدَرَهُ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْن مَاجَه وَأَبُو دَاوُد وَفِي رِوَايَته: «لَمْ تُصِبْهُ فُجَاءَةُ بَلَاءٍ حَتَّى يُصْبِحَ وَمَنْ قَالَهَا حِينَ يُصْبِحُ لَمْ تُصِبْهُ فُجَاءَةُ بَلَاءٍ حَتَّى يُمسيَ»

হাদীসের ব্যাখ্যা:

হযরত উছমান (রা) থেকে এ হাদীসটির বর্ণনাকারী হচ্ছেন তারই পুত্র আবান। তিনি পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন, যার প্রভাব তাঁর দেহে দৃশ্যমান ছিল। একবার যখন তিনি এ হাদীসটি বর্ণনা করছিলেন, তখন তার জনৈক শাগরিদ তাঁর দিকে বিশেষ অর্থবহ দৃষ্টিতে তাকালেন। তিনি বুঝতে পারলেন শাগরিদটি মনে মনে বলছে, আপনি যখন স্বয়ং আপনার পিতা উছমান (রা) থেকে এ হাদীসটি শুনেই ছিলেন, তা হলে আপনার নিজের এ দুর্গতির কারণ কি? আপনার নিজের আবার পক্ষাঘাত হলো কি করে? এ হাদীছে তো সকাল-সন্ধ্যায় তা পাঠে সর্বপ্রকার নিরাপত্তার গ্যারান্টি রয়েছে। তখন তিনি বললেন: মিঞা, আমার দিকে কী দেখছো? না আমি ভুল রিওয়ায়াত করছি আর না হযরত উছমান (রা) আমার কাছে ভুল রিওয়ায়াত করেছেন। একদা কী একটা কারণে আমি অত্যন্ত ক্রুদ্ধাবস্থায় ছিলাম, ফলে সে দিন ঐ দু'আটি পড়তে আমি ভুলে যাই আর ঐ দিনটিতেই আমি পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হই। যেহেতু ভাগ্যের লিখন ছিল ঐ দিন আমার পক্ষাঘাত হবে, তাই সেদিন আল্লাহর পক্ষ থেকেই আমাকে তা ভুলিয়ে রাখা হয়। হযরত আবানের এ মন্তব্যটুকু হাদীসের সাথে সাথে সুনানে আবু দাউদ ও জামে' তিরমিযী সহ বিভিন্ন কিতাবে বর্ণিত হয়েছে। সকাল-সন্ধ্যায় তিন তিন বার এ দু'আটি পাঠ করা হচ্ছে আল্লাহর নেক বান্দাদের নিত্যদিনের অভ্যাস। নিঃসন্দেহে এতে আসমানী ও যমীনী বালা-মুসীবত থেকে নিরাপত্তার গ্যারান্টি রয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান