মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)

১০- যাবতীয় দোয়া-যিক্‌র

হাদীস নং: ২৪২৭
- যাবতীয় দোয়া-যিক্‌র
৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - বিভিন্ন সময়ের পঠিতব্য দুআ
২৪২৭। হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে বুসর (রাঃ) বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ্ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার পিতার নিকট পৌঁছিলেন। আমরা তাহার নিকট কিছু রুটি ও মলীদা পেশ করিলাম। তিনি উহার কিছু খাইলেন, অতঃপর তাঁহার নিকট কিছু খেজুর উপস্থিত করা হইল। তখন তিনি উহা খাইতে লাগিলেন এবং তর্জনী ও মধ্যমা অঙ্গুলী মিলাইয়া উহাদের মধ্যখান দিয়া উহার বিচি ফেলিতে রহিলেন। অপর বর্ণনায় রহিয়াছে, তর্জনী ও মধ্যমা অঙ্গুলীদ্বয়ের পিঠের দিক দিয়া বিচি ফেলিতে রহিলেন। অতঃপর তাঁহার নিকট কিছু পানীয় আনা হইল এবং তিনি উহা পান করিলেন। (তিনি যখন রওয়ানা হইলেন,) আমার পিতা তাহার সওয়ারীর লাগাম ধরিয়া বলিলেন, হুযুর! আমাদের জন্য আল্লাহর নিকট কিছু দো'আ করুন ! তখন তিনি বলিলেন, “আল্লাহ্! তুমি তাহাদিগকে যাহা দান করিয়াছ তাহাতে তুমি বরকত দাও এবং তাহাদিগকে মাফ কর ও দয়া কর।” মুসলিম
كتاب الدعوات
وَعَن عبد الله بن يسر قَالَ: نَزَلَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى أَبِي فَقَرَّبْنَا إِلَيْهِ طَعَامًا وَوَطْبَةً فَأَكَلَ مِنْهَا ثُمَّ أُتِيَ بِتَمْرٍ فَكَانَ يَأْكُلُهُ وَيُلْقِي النَّوَى بَيْنَ أُصْبُعَيْهِ وَيَجْمَعُ السَّبَّابَةَ وَالْوُسْطَى وَفِي رِوَايَةٍ: فَجَعَلَ يُلْقِي النَّوَى عَلَى ظَهْرِ أُصْبُعَيْهِ السَّبَّابَةِ وَالْوُسْطَى ثُمَّ أُتِيَ بِشَرَابٍ فَشَرِبَهُ فَقَالَ أَبِي وَأَخَذَ بِلِجَامِ دَابَّتِهِ: ادْعُ اللَّهَ لَنَا فَقَالَ: «اللَّهُمَّ بَارِكْ لَهُمْ فِيمَا رَزَقْتَهُمْ واغفرْ لَهُم وارحمهم» . رَوَاهُ مُسلم

হাদীসের ব্যাখ্যা:

১. ‘তর্জনী ও মধ্যমা মিলাইয়া – অর্থাৎ, হুযূর ডান হাত দ্বারা খেজুর মুখে দিতেন, অতঃপর বাম হাতের তর্জনী ও মধ্যমা মিলাইয়া উহাদের সাহায্যে উহাদের ফাক দিয়া উহার বিচি বাহিরে ফেলিতেন এবং ইহাতে অঙ্গুলীর পিঠের দিক ব্যবহার করিতেন। (তরজমা ও ব্যাখ্যা মেরকাত অনুযায়ী।)

২. এধরণের হাদীসগুলো দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, যেভাবে খানাপিনার পর আল্লাহ তা'আলার স্তব-স্তুতি ও শুকরিয়া আদায় করা দরকার, ঠিক তেমনি যখন আল্লাহর কোন বান্দা পানাহারে আপ্যায়িত করে, তখন তার জন্যেও দু'আ করা উচিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ হযরত উবাদা (রা)-এর বাড়িতে পানাহার শেষে তাঁর জন্যে যে দু'আ করেন, যার বর্ণনা হযরত আনাস থেকে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে অর্থাৎ-
أَفْطَرَ عِنْدَكُمُ الصَّائِمُونَ وَأَكَلَ طَعَامَكُمُ الْأَبْرَارُ وَصَلَّتْ عَلَيْكُمُ الْمَلَائِكَةُ.
আর হযরত বুসর আসলামীর ওখানে পানাহারের পর তাঁর ওখানে তিনি যে দু'আ করেছেন- যার বর্ণনা আবদুল্লাহ ইব্‌ন বুসর (রা) থেকে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে অর্থাৎ-
اَللّٰهُمَّ بَارِكْ لَهُمْ فِيمَا رَزَقْتَهُمْ وَاغْفِرْ لَهُمْ وَارْحَمْهُمْ
এ দু'আ দু'টির বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্যের কারণ যতদূর মনে হয় তাঁদের দু'জনের দীনী মর্যাদার ভিত্তিতে হয়েছে। হযরত সা'আদ ইবনে উবাদা (রা) হুযুর ﷺ-এর বিশেষভাবে ফয়েযপ্রাপ্ত বিশিষ্ট সাহাবীগণের অন্যতম। তাঁকে তিনি এভাবে দু'আ করলেন যেন আল্লাহ তা'আলা সর্বদা তাঁর ঘরে রোযাদারদের ইফতার-আপ্যায়ন করান, পুণ্যবান বান্দারা যেন সর্বদা তাঁর বাড়িতে আতিথ্য-আপ্যায়ন লাভ করেন এবং ফেরেশতাগণ যেন তাঁর জন্যে দু'আ করেন। হযরত সা'আদ ইবনে উবাদার দীনী মর্যাদা হিসাবে এ দু'আই তাঁর জন্যে অধিকতর প্রযোজ্য ছিল। পক্ষান্তরে সাধারণ পর্যায়ের সাহাবী বুসর আসলামী (রা)-এর জন্যে খায়র ও বরকত ও ক্ষমা-মাগফিরাতের দু'আই বেশি প্রযোজ্য ছিল। তাই রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর জন্যে সেরূপ দু'আই করেছেন। আল্লাহই উত্তম জানেন।
২. ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান