মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
১২- ক্রয় - বিক্রয়ের অধ্যায়
হাদীস নং: ২৭৭৭
- ক্রয় - বিক্রয়ের অধ্যায়
১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - উপার্জন করা এবং হালাল রুযী অবলম্বনের উপায় সন্ধান করা
২৭৭৭। হযরত ইবনে ওমর (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিয়াছেনঃ আল্লাহ্ তা'আলার লা'নত মদের উপর, মদ পানকারীর উপর, যে মদ পান করায় তাহার (মদ পান করানেওয়ালার উপর, মদ বিক্রেতার উপর, মদ ক্রেতার উপর, মদ প্রস্তুতকারীর উপর, মদের ফরমায়েশদাতার উপর, মদ বহনকারীর উপর এবং যাহার প্রতি বহন করা হয় তাহার উপর। –আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ্
كتاب البيوع
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَعَنَ اللَّهُ الْخَمْرَ وَشَارِبَهَا وَسَاقَيَهَا وَبَائِعَهَا وَمُبْتَاعَهَا وَعَاصِرَهَا وَمُعْتَصِرَهَا وَحَامِلَهَا وَالْمَحْمُولَةَ إِلَيْهِ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَابْنُ مَاجَهْ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
লা'নত ও অভিসম্পাতের অর্থ হচ্ছে আল্লাহর রহমত ও তাঁর কৃপাদৃষ্টি থেকে বঞ্চিত থাকার বদদু‘আ করা। এ হিসাবে হাদীসের মর্ম এই হল যে, যে ব্যক্তি মদের সাথে কোন ধরনের সম্পর্ক রাখে- চাই সে প্রস্তুতকারী হোক অথবা প্রস্তুতের নির্দেশ দানকারী, পানকারী অথবা পরিবেশনকারী, ক্রয়কারী হোক অথবা বিক্রয়কারী, কাউকে উপহার দানকারী হোক অথবা কারো কাছে বহনকারী- এদের সবার জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বদদু‘আ করেছেন যে, এরা আল্লাহর, রহমত ও কৃপাদৃষ্টি থেকে বঞ্চিত থাকুক। প্রায় এ বিষয় বস্তুরই একটি হাদীস মুসনাদে আহমাদ ও আবু দাউদ শরীফে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকেও বর্ণিত হয়েছে।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর এ ধরনের বক্তব্য ও শিক্ষা সাহাবায়ে কেরামকে মদের ব্যাপারে কতটুকু কঠোর মনোভাবাপন্ন বানিয়ে দিয়েছিল, এর অনুমান নিম্নের এ একটি ঘটনা থেকে করা যেতে পারে। হযরত সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস রাযি.-এর আঙ্গুরের অনেক বাগান ছিল। একবার এগুলোতে প্রচুর ফল আসল। তখন এগুলোর দেখাশুনায় নিয়োজিত তাঁরই নিযুক্ত বিশ্বস্ত কর্মচারী ও তত্ত্বাবধায়ক লোকটি তাঁর কাছে পত্র লিখল যে, এ মওসুমে আঙ্গুরের ফলন প্রচুর হয়েছে। আমার আশংকা যে, সংরক্ষণের কোন ব্যবস্থা না করলে এগুলো বিনষ্ট হয়ে যাবে। তাই আপনি ভালো মনে করলে আমি এসব আঙ্গুর থেকে রস সংগ্রহ করে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে পারি। হযরত সা'দ রাযি. এর উত্তরে পত্র লিখলেন: إذا جاءك كتابي هذا فاعتزل ضيعتي فوالله لا أئتمنك على شيء بعده أبدا অর্থাৎ, যখন তোমার নিকট আমার এ পত্র পৌঁছবে, তখন তুমি আমার বাগান থেকে পৃথক হয়ে যাও। কেননা, আমি এরপর কোন বিষয়ে তোমার উপর বিশ্বাস রাখতে পারি না। -নাসায়ী
যাহোক, হযরত সা'দ রাযি. এ বাগানরক্ষীকে কেবল এ কারণে পৃথক ও চাকুরী থেকে বরখাস্ত করে দিলেন যে, সে আঙ্গুর থেকে রস বের করে এটা সংরক্ষণ করার কথা চিন্তা করে ছিল, যার দ্বারা মদ তৈরী হতে পারত।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর এ ধরনের বক্তব্য ও শিক্ষা সাহাবায়ে কেরামকে মদের ব্যাপারে কতটুকু কঠোর মনোভাবাপন্ন বানিয়ে দিয়েছিল, এর অনুমান নিম্নের এ একটি ঘটনা থেকে করা যেতে পারে। হযরত সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস রাযি.-এর আঙ্গুরের অনেক বাগান ছিল। একবার এগুলোতে প্রচুর ফল আসল। তখন এগুলোর দেখাশুনায় নিয়োজিত তাঁরই নিযুক্ত বিশ্বস্ত কর্মচারী ও তত্ত্বাবধায়ক লোকটি তাঁর কাছে পত্র লিখল যে, এ মওসুমে আঙ্গুরের ফলন প্রচুর হয়েছে। আমার আশংকা যে, সংরক্ষণের কোন ব্যবস্থা না করলে এগুলো বিনষ্ট হয়ে যাবে। তাই আপনি ভালো মনে করলে আমি এসব আঙ্গুর থেকে রস সংগ্রহ করে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে পারি। হযরত সা'দ রাযি. এর উত্তরে পত্র লিখলেন: إذا جاءك كتابي هذا فاعتزل ضيعتي فوالله لا أئتمنك على شيء بعده أبدا অর্থাৎ, যখন তোমার নিকট আমার এ পত্র পৌঁছবে, তখন তুমি আমার বাগান থেকে পৃথক হয়ে যাও। কেননা, আমি এরপর কোন বিষয়ে তোমার উপর বিশ্বাস রাখতে পারি না। -নাসায়ী
যাহোক, হযরত সা'দ রাযি. এ বাগানরক্ষীকে কেবল এ কারণে পৃথক ও চাকুরী থেকে বরখাস্ত করে দিলেন যে, সে আঙ্গুর থেকে রস বের করে এটা সংরক্ষণ করার কথা চিন্তা করে ছিল, যার দ্বারা মদ তৈরী হতে পারত।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)