মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)

১২- ক্রয় - বিক্রয়ের অধ্যায়

হাদীস নং: ২৯২০
- ক্রয় - বিক্রয়ের অধ্যায়
৯. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - দেউলিয়া (দারিদ্র্য) হওয়া এবং ঋণীকে অবকাশ দান
২৯২০। হযরত আবু সায়ীদ খুদরী (রাঃ) বর্ণনা করিয়াছেন, একদা নবী করীম (ﷺ)-এর নিকট একটি জানাযা উপস্থিত করা হইল—উহার নামায পড়িবার জন্য। নবী করীম (ﷺ) জিজ্ঞাসা করিলেন, তোমাদের সাথী—মৃত ব্যক্তির উপর কোন ঋণ আছে কি? লোকগণ উত্তর করিল, জি হ্যাঁ! নবী করীম (ﷺ) জিজ্ঞাসা করিলেন, ঋণ পরিশোধের কোন ব্যবস্থা রাখিয়া গিয়াছে কি ? লোকগণ বলিল, জি না। নবী করীম (ﷺ) বলিলেন, তোমরা তোমাদের সাথীর জানাযার নামায পড়িয়া নেও।
তখন আলী ইবনে আবু তালেব (রাঃ) বলিলেন, তাহার ঋণ পরিশোধের দায়িত্ব আমি গ্রহণ করিলাম—ইয়া রাসূলাল্লাহ্! অতঃপর নবী করীম (ﷺ) তাহার নামায পড়িলেন।
অপর এক বর্ণনায় আরও আছে যে, [আলী (রাঃ)-এর জন্য দো'আরূপে] নবী করীম (ﷺ) হযরত আলীকে বলিলেন, আল্লাহ্ তা'আলা তোমাকে দোযখ হইতে মুক্তি দান করুন, যেরূপ তুমি তোমার মুসলমান ভ্রাতাকে (ঋণের বোঝা হইতে) মুক্ত করিয়াছ। যে কোন মুসলমান তাহার ভ্রাতাকে ঋণ হইতে মুক্ত করিবে, আল্লাহ্ তা'আলা তাহাকে কিয়ামত দিবসে মুক্তি দান করিবেন। —শরহে সুন্নাহ্
كتاب البيوع
وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: أَتَى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِجِنَازَةٍ لِيُصَلِّيَ عَلَيْهَا فَقَالَ: «هَلْ عَلَى صَاحِبِكُمْ دَيْنٌ؟» قَالُوا: نَعَمْ قَالَ: «هَلْ تَرَكَ لَهُ مِنْ وَفَاءٍ؟» قَالُوا: لَا قَالَ: «صَلُّوا عَلَى صَاحِبِكُمْ» قَالَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ: عَلَيَّ دَيْنُهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَتَقَدَّمَ فَصَلَّى عَلَيْهِ. وَفِي رِوَايَةٍ مَعْنَاهُ وَقَالَ: «فَكَّ اللَّهُ رِهَانَكَ مِنَ النَّارِ كَمَا فَكَكْتَ رِهَانَ أَخِيكَ الْمُسْلِمِ لَيْسَ مِنْ عَبْدٍ مُسْلِمٍ يَقْضِي عَنْ أَخِيهِ دَيْنَهُ إِلَّا فَكَّ اللَّهُ رِهَانَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ» . رَوَاهُ فِي شَرْحِ السُّنَّةِ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর এ কর্মপদ্ধতি বাহ্যত জীবিতদের সাবধান করার জন্য ছিল। তারা যেন ঋণ পরিশোধে অবহেলা ও ত্রুটি না করে। আর সবার এ চেষ্টা থাকা চাই যে, যদি তার ওপর কারো ঋণ থেকে থাকে তবে সে তা থেকে মুক্ত হবার চিন্তা ও চেষ্টা করবে। দুনিয়া হতে এরূপ অবস্থায় বিদায় নিবে যে, তার জিম্মায় কারো কোন দাবি নেই। সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে এক হাদীস এ মর্মে বর্ণিত হয়েছে।

হাদীস থেকে এটাও জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর এ কর্ম পদ্ধতি (অর্থাৎ ঋণ গ্রহীতা ব্যক্তির নামাযে জানাযা থেকে তিনি নিজে বিরত থাকতেন, আর সাহাবীদের বলে দিতেন তোমরা পড়ে নাও) প্রাথমিক যুগে ছিল। পরে যখন আল্লাহ তা'আলার পক্ষ হতে বিজয়ের দ্বারসমূহ খুলে যায় এবং দারিদ্র্য ও অসামর্থ্যের যুগ চলে গেল। তখন তিনি ঘোষণা করে দিলন, যদি কোন মুসলমান ঋণগ্রস্ত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে (আর পরিশোধের কোন সম্পদ রেখে না যায়) তবে সে ঋণ আমার জিম্মায় আমি পরিশোধ করব। এ কথার উদ্দেশ্যই ছিল যে, কোন মুসলমানের জিম্মায় অন্য কারো দাবি বাকি যেন না থাকে। বস্তুত এসব হাদীস থেকে জানা গেল যে, ঋণ পরিশোধ না করা এবং এ অবস্থায় দুনিয়া থেকে চলে যাওয়া বড় শক্ত গুনাহ এবং এর পরিণতি খুবই ভয়ানক। রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর এসব নির্দেশাবলী থেকে আল্লাহ তা'আলা আমাদের সবাইকে তাওফীক দিন এবং দুনিয়া থেকে এ অবস্থায় নিয়ে যান যেন কোন বান্দার ঋণ ও কোন প্রকার দাবি আমাদের জিম্মায় অবশিষ্ট না থাকে। ঋণ পরিশোধের ইচ্ছা থাকলে আল্লাহ তা'আলা পরিশোধ করিয়েই দিবেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান