মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
১২- ক্রয় - বিক্রয়ের অধ্যায়
হাদীস নং: ২৯২৬
- ক্রয় - বিক্রয়ের অধ্যায়
৯. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - দেউলিয়া (দারিদ্র্য) হওয়া এবং ঋণীকে অবকাশ দান
২৯২৬। হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে আবী রবীআ (রাঃ) বলেন, নবী করীম (ﷺ) (বাইতুল মালের প্রয়োজনে) আমার নিকট হইতে চল্লিশ হাজার দেরহাম ধার নিয়াছিলেন। যখন (বাইতুল মালে) অর্থ সঞ্চয় হইল, তখন তিনি আমার প্রাপ্য পরিশোধ করিলেন এবং দো'আ করিলেন— আল্লাহ্ তা'আলা তোমাকে ধনে-জনে বরকত দান করুন। আর বলিলেন, ধার দেওয়ার প্রতিদান ধারদাতার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা এবং ধার পরিশোধ করা। —নাসায়ী
كتاب البيوع
وَعَن عبد الله بن أبي ربيعَة قَالَ: اسْتَقْرَضَ مِنِّي النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرْبَعِينَ أَلْفًا فَجَاءَهُ مَالٌ فَدَفَعَهُ إِلَيَّ وَقَالَ: «بَارَكَ اللَّهُ تَعَالَى فِي أَهْلِكَ وَمَالِكَ إِنَّمَا جَزَاءُ السَّلَفِ الْحَمْدُ وَالْأَدَاءُ» . رَوَاهُ النَّسَائِيُّ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এসব হাদীস থেকে জানা গেল যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ ঋণ গ্রহণ করতেন আর পরিশোধকালে ইহসানের বিনিময়ে ইহসান নীতির ভিত্তিতে পাওনা থেকে বেশী ও উত্তম পরিশোধ করতেন এবং কল্যাণের জন্য দু'আও করতেন। শেষোক্ত হাদীসে চল্লিশ হাজার ঋণ গ্রহণের উল্লেখ আছে। স্পষ্টত এর অর্থ চল্লিশ হাজার দিরহাম। হাদীস থেকে এ কথাও জানা গেল যে, কখনো কখনো তিনি বিরাট অঙ্কের টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। তবে একথা সুস্পষ্ট যে, এরূপ কর্জ তিনি যুদ্ধ ইত্যাদি দীনী প্রয়োজনের জন্যই গ্রহণ করে থাকতেন। তা না হলে তাঁর নিজের ও তাঁর পরিবারের জীবিকা নির্বাহের অবস্থা তো হযরত আম্মাজান সিদ্দীকার ভাষায় কখনো পুরা দু'দিন যবের রুটি পেটপুরে খাইনি। আর অধিকাংশ সময় উপোস থাকার পরিস্থিতি সৃষ্টি হত না। সারা মাস ঘরে চুলা জ্বলত না। কেবল পানি ও খেজুর-এর উপর দিন অতিবাহিত হত। (আল্লাহ তার নবীর প্রতি রহমত নাযিল করুন)
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)