মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)

১২- ক্রয় - বিক্রয়ের অধ্যায়

হাদীস নং: ২৯৩৩
- ক্রয় - বিক্রয়ের অধ্যায়
১০. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - অংশীদারিত্ব ও ওয়াকালাহ্ (দায়িত্ব প্রদান)
২৯৩৩। হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) নবী করীম (ﷺ)-এর নাম করিয়া বলিলেন, তিনি বলিয়াছেন, আল্লাহ্ পাক বলেনঃ দুই অংশীদারের মধ্যে আমি তৃতীয়, যাবৎ তাহারা একে অন্যের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা না করে। যখন তাহাদের কেহ অপরের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে, আমি তাহাদের মধ্য হইতে সরিয়া পড়ি। –আবু দাউদ
কিন্তু রযীন বর্ধিত করিয়াছেন, (তাহাদের মধ্যে) শয়তান আসিয়া পৌঁছে।
كتاب البيوع
الْفَصْل الثَّانِي
عَن أبي هُرَيْرَة رَفَعَهُ قَالَ: إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يَقُولُ: أَنا ثَالِث الشَّرِيكَيْنِ مَا لم يخن صَاحِبَهُ فَإِذَا خَانَهُ خَرَجْتُ مِنْ بَيْنِهِمَا . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَزَاد رزين: «وَجَاء الشَّيْطَان»

হাদীসের ব্যাখ্যা:

১. শরীকি কাজে বিশ্বাসঘাতকতার কুফল হইতে সতর্ক করাই এ হাদীসের উদ্দেশ্য। এই বিশ্বাসঘাতকতার কারণেই আমাদের দেশে যৌথ কোম্পানী গড়িয়া উঠিতেছে না, আর বিশ্বাস বজায় রাখার ফলেই পাশ্চাত্য দেশসমূহ উহার দ্বারা লাভবান হইতেছে।

২. উলামা ও লিখক বৃন্দের পরিভাষা অনুযায়ী এটা হাদীসে কুদসী। কেননা, এতে রাসুলুল্লাহ ﷺ আল্লাহ তা'আলার বাণী উল্লেখ করেছেন। এতে আনুষাঙ্গিক রূপে একথাও জানা গেল যে, ব্যবসা-বাণিজ্যে অংশীদারিত্ব বৈধ এবং কল্যাণের হেতুও।

ইমাম বুখারী (র) ব্যবসায়-বাণিজ্যের অংশীদারিত্বের অধ্যায়েই যুহরা ইবনে মা'বাদ তাবিঈ-এর বর্ণনায় এ ঘটনা লিপিবদ্ধ করেছেন যে, আমার দাদা আব্দুল্লাহ ইবনে হিশামকে নিয়ে তাঁর ছোট বেলায়ই তাঁর মা (যয়নব বিনতে হুমাইদ) নবী করীম ﷺ-এর নিকট উপস্থিত হন এবং আরজ করেন যে, হুযুর! আমার এ ছেলেকে বায়'আত করুন। তিনি বললেন, (هو صغير) সে-তো এখনও অল্প বয়সী। এরপর তিনি তাঁর মাথায় হাত বুলালেন ও তাঁর জন্য দু'আ করলেন। (সামনে যুহরা ইবনে মা'বাদ বর্ণনা করেন যে.) এরপর আমার এ দাদা আব্দুল্লাহ ইবনে হিশাম যখন ব্যবসায়-বাণিজ্য করতে লাগলেন, তখন আমি তাঁর সাথে বাজার ও আড়তে যেতাম। তখন অধিকাংশ সময় এরূপ হত যে, তিনি ব্যবসার জন্য খাদ্যশস্য ক্রয় করতেন; এমতাবস্থায় হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ও আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর (উভয়ই মর্যাদাবান সাহাবী) তাঁর সাথে সাক্ষাত করে বলতেন, আমাদেরকেও শরীক করুন, অংশীদার করে নিন। কেননা রাসূলুল্লাহ ﷺ আপনার জন্য কল্যাণের দু'আ করেছেন। (তাই এ দু'আর কল্যাণে ইন্‌শাআল্লাহ খুব লাভ হবে)। আমার দাদা আব্দুল্লাহ ইবনে হিশাম পণ্যদ্রব্যে এই দুই সাহাবীকেও শরীক করে নিতেন। তখন অধিকাংশ সময় এত লাভ হতো যে, পূর্ণ এক উট খাদ্যশস্য লাভ হিসাবে বেঁচে যেত, যা তাঁরা নিজেদের ঘরে পাঠিয়ে দিতেন।
২. ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান