মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)

১৪- বিবাহ-শাদী সম্পর্কিত অধ্যায়

হাদীস নং: ৩৩৬৭
- বিবাহ-শাদী সম্পর্কিত অধ্যায়
১৭. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - স্ত্রীর খোরপোষ ও দাস-দাসীর অধিকার
৩৩৬৭। হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে ওমর (রাঃ) বলেন, একদা এক ব্যক্তি নবী (ﷺ)-এর খেদমতে আসিয়া আরয করিল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমরা স্বীয় গোলামদের অপরাধ কতবার ক্ষমা করিব? ইহা শুনিয়া তিনি চুপ রহিলেন, লোকটি পুনরায় কথাটি আবৃত্তি করিল। এইবারও তিনি নীরব রহিলেন। যখন সে তৃতীয়বার জিজ্ঞাসা করিল, তখন তিনি বলিলেন, 'তোমাদের গোলামদের অপরাধ দৈনিক সত্তরবার মাফ করিয়া দাও।' —আবু দাউদ।
كتاب النكاح
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ كم نَعْفُو عَنِ الْخَادِمِ؟ فَسَكَتَ ثُمَّ أَعَادَ عَلَيْهِ الْكَلَامَ فصمتَ فلمَّا كانتِ الثَّالثةُ قَالَ: «اعفُوا عَنْهُ كُلَّ يَوْمٍ سَبْعِينَ مَرَّةً» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

হাদীসের ব্যাখ্যা:

১. এখানে 'সত্তর' সংখ্যাটি নির্দিষ্ট সংখ্যা বুঝানোর জন্য ব্যবহার হয় নাই; বরং ইহার অর্থ হইল, যত বেশী সম্ভব তাহাকে শাস্তি না দিয়া ক্ষমা করিতে থাক। আর হুযূর (ﷺ) প্রথম দুইবার চুপ থাকার কারণ হইল, হয়তো তিনি লোকটির এই প্রশ্নটিকে পছন্দ করেন নাই। অথবা ওহীর অপেক্ষায় ছিলেন।

২. অধীনস্থদের সাথে অমায়িক ব্যবহার করা, তাদের ছোটখাটো ত্রুটি-বিচ্যুতি খুব বড় করে না দেখা এবং তাদের অপরাধ মার্জনা করা উত্তম আখলাকের অন্তর্গত। কিন্তু তারা ইসলামী হুকুম-আহকামের খেলাফ কোন কিছু করলে তা সহানুভূতির চোখে দেখা যাবে না। শরীআত মোতাবিক তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক বা সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

খাদিম বা অধীনস্থদের ত্রুটি-বিচ্যুতি বার বার মাফ করা কোন কৃতিত্বের কাজ নয়, বরং তা প্রত্যেক ঈমানদার ব্যক্তির কর্তব্যকর্ম। মানুষ হিসেবে আমরা বার বার ত্রুটি-বিচ্যুতি করি, বার বার অপরাধ করি, বার বার আমরা আমাদের কর্তব্যকর্মের বিপরীত অনেক কিছু করি, বার বার আল্লাহ আমাদেরকে মাফ করেন এবং সংশোধন হওয়ার সুযোগ দেন। যদি আমরা আল্লাহর বান্দাদের প্রতি দয়া ও রহম প্রদর্শন না করি তাহলে আমরা কি করে আশা করতে পারি যে, আমাদের প্রতি তিনি রহমের দৃষ্টি দান করবেন এবং আমাদের সাথে নরম ব্যবহার করবেন। বুখারী ও মুসলিম শরীফে বর্ণিত এক হাদীসে আল্লাহর রাসূল ﷺ সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন: যে ব্যক্তি মানুষকে রহম করে না, আল্লাহ তাকে রহম করেন না। অপর এক বর্ণনায় বলা হয়েছে, আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন: তোমরা দুনিয়াবাসীর প্রতি রহম কর, আসমানে অবস্থানকারী তোমাদেরকে রহম করবেন। তাই বার বার অধীনস্থদের মাফ করতে হবে।

হাদীসে বর্ণিত সত্তর অর্থ কোন নির্দিষ্ট সংখ্যা নয়, বরং অনেক বা বার বার অর্থে ব্যবহৃত। আল্লাহর নবী ﷺ সর্বদা তাঁর অধীনস্থদের প্রতি সহনশীল ছিলেন। তিনি তাদেরকে মহব্বত করতেন। তিনি তাদের অপরাধ শুধু মাফই করেননি, কোনদিন তাদের কৈফিয়তও তলব করেননি, তাদের প্রতি কখনো রাগ বা বিরক্তিও প্রকাশ করেননি। নবী করীম ﷺ-এর বিশিষ্ট খাদিম আনাস ইবন মালিক (রা) তাঁর জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেছেন, আমি দশ বছর আল্লাহর রাসূলের খিদমত করেছি, তিনি কখনো উফ (আহ) বলেননি। আমি কোন কাজ করলে বলেননি কেন করেছ এবং কোন কাজ না করলে বলেননি কেন করনি? মানব জাতির মধ্যে আল্লাহর রাসূলের আখলাক ছিল সর্বোত্তম।
২. ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান