মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)

১৭- কিসাসের অধ্যায়

হাদীস নং: ৩৫৪২
- কিসাসের অধ্যায়
৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মুরতাদ এবং গোলযোগ সৃষ্টিকারীকে হত্যা করা প্রসঙ্গে
৩৫৪২। হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাঃ) তাঁহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন, তিনি বলিয়াছেন, একদা আমরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সঙ্গে এক সফরে ছিলাম। এক সময় তিনি ইসতেনজা করিতে গেলেন, এমন সময় আমরা দুইটি বাচ্চাসহ একটি 'হুম্মারা' দেখিতে পাইলাম (এক প্রকার ছোট পাখী, উহার ঠোঁট লাল)। আমরা উহার ছানা দুইটি (ধরিয়া) লইয়া আসিলাম। পাখীটি আসিয়া তাহার ডানাদ্বয় একেবারে যমীনের উপর চাপড়াইতে লাগিল। পরে নবী (ﷺ) আসিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, ইহার বাচ্চাগুলি আনিয়া কে উহাকে ব্যথিত করিয়াছে ? উহার বাচ্চাগুলি উহাকে ফেরত দিয়া দাও। আবার হুযূর (ﷺ) পিঁপড়ার একটি বস্তি দেখিলেন, যাহা আমরা জ্বালাইয়া দিয়াছিলাম। তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, কে ইহাদিগকে জ্বালাইয়াছে ? বলিলাম, আমরা। তিনি বলিলেনঃ আগুনের প্রভু (আল্লাহ্) ছাড়া আগুন দ্বারা শাস্তি দেওয়া অন্য কাহারও জন্য উচিত নহে। (জায়েয নাই।) — আবু দাউদ
كتاب القصاص
وَعَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِيهِ قَالَ: كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفَرٍ فَانْطَلَقَ لِحَاجَتِهِ فَرَأَيْنَا حُمْرَةً مَعَهَا فَرْخَانِ فَأَخَذْنَا فَرْخَيْهَا فَجَاءَتِ الْحُمْرَةُ فَجَعَلَتْ تَفْرُشُ فَجَاءَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «مَنْ فَجَعَ هَذِهِ بِوَلَدِهَا؟ رُدُّوا وَلَدَهَا إِلَيْهَا» . وَرَأَى قَرْيَةَ نَمْلٍ قَدْ حَرَّقْنَاهَا قَالَ: «مَنْ حَرَّقَ هَذِهِ؟» فَقُلْنَا: نَحْنُ قَالَ: «إِنَّهُ لَا يَنْبَغِي أَنْ يُعَذِّبَ بِالنَّارِ إِلاَّ ربُّ النَّار» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

হাদীসের ব্যাখ্যা:

আল্লাহ মানুষকে জন্তু-জানোয়ার এবং পশুপাখির উপর পূর্ণ কর্তৃত্ব দান করেছেন। মানুষ প্রয়োজন-মোতাবিক পশুপাখিকে কাজে লাগাতে পারে। কিন্তু এ ব্যাপারেও খুব সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য আল্লাহর নবী ﷺ হিদায়াত করেছেন। যেসব জন্তুকে যবেহ করে খাওয়া বৈধ, সেগুলো আগুনের মধ্যে বা ফুটন্ত পানি অথবা তেলের মধ্যে নিক্ষেপ করা খুবই অন্যায় এবং গুনাহর কাজ। কোন ইতর প্রাণীর বাচ্চাকে তার মায়ের কাছে থেকে বিচ্ছিন্ন করে তার মায়ের মনে কষ্ট দেয়া অনুচিত এবং রাসুলের শিক্ষার সম্পূর্ণ পরিপন্থি। মানুষের প্রয়োজন পূরণ করার জন্য যখন বেশুমার পূর্ণবয়স্ক পশুপাখি রয়েছে, তখন কেন পশুপাখির বাচ্চা বধ করা হবে। অবশ্য প্রয়োজনবশত তা ব্যবহার করা যাবে। তবে বিনা প্রয়োজনে শুধু শখ মিটানোর জন্য পশুপাখির বাচ্চাকে মা থেকে বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। যে সব পশুপাখি বা প্রাণী খাওয়া বৈধ নয়, সেগুলোকে অহেতুক বিরক্ত করা অনুচিত এবং আগুন দ্বারা তাদেরকে মারা অন্যায়। বিষধর এবং হিংস্র প্রাণী ছাড়া প্রত্যেক ইতর প্রাণীর দুনিয়ার বুকে জীবন ধারণ করার অধিকার বৈধ এবং স্বীকৃত।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান