মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)

১৮- শরীআতের দন্ড বিধি অধ্যায়

হাদীস নং: ৩৬৩৯
- শরীআতের দন্ড বিধি অধ্যায়
৬. প্রথম অনুচ্ছেদ - মদের বর্ণনা ও মধ্যপায়ীকে ভীতিপ্রদর্শন করা
৩৬৩৯। হযরত জাবের (রাঃ) হইতে বর্ণিত, একদা এক ব্যক্তি ইয়ামান দেশ হইতে (মদীনায় আগমন করিল এবং নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ঐ মদের বিধান জিজ্ঞাসা করিল, যাহা তাহাদের দেশে পান করা হয়। এই মদটি জোয়ার হইতে প্রস্তুত করা হয়। তাহারা উহাকে 'মিযর' বলে। ইহার উত্তরে নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করিলেন, আচ্ছা, উহার দ্বারা কি নেশা সৃষ্টি হয়? সে বলিল, হা। তখন হুযুর (ছাঃ) বলিলেন: নেশা সৃষ্টি করে এমন প্রত্যেক জিনিসই হারাম। আর আল্লাহর প্রতিজ্ঞা হইল এই যে, যে লোক নেশা সৃষ্টিকারী জিনিস পান করিবে, তিনি তাহাকে 'তীনাতুল খাবাল' পান করাইবেন। উপস্থিত লোকেরা জিজ্ঞাসা করিল, হে আল্লাহর রাসূল! 'তীনাতুল খাবাল' জিনিসটা কি? তিনি বলিলেন, উহা জাহান্নামীদের গায়ের ঘাম, অথবা তিনি বলিয়াছেন, দোযখীদের রক্ত ও পুঁজ। মুসলিম
كتاب الحدود
وَعَنْ جَابِرٍ أَنَّ رَجُلًا قَدِمَ مِنَ الْيَمَنِ فَسَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ شَرَابٍ يَشْرَبُونَهُ بِأَرْضِهِمْ مِنَ الذُّرَةِ يُقَالُ لَهُ الْمِزْرُ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أوَ مُسْكِرٌ هُوَ؟» قَالَ: نَعَمْ قَالَ: «كُلُّ مُسْكِرٍ حَرَامٌ إِنَّ عَلَى اللَّهِ عَهْدًا لِمَنْ يَشْرَبُ الْمُسْكِرَ أَنْ يَسْقِيَهُ مِنْ طِينَةِ الْخَبَالِ» . قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا طِينَةُ الْخَبَالِ؟ قَالَ: «عَرَقُ أَهْلِ النَّارِ أَوْ عُصَارَةُ أَهْلِ النَّارِ» . رَوَاهُ مُسلم

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এখানে রাবীর সন্দেহ রয়েছে যে, 'তীনাতুল খাবাল' এর ব্যাখ্যার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম عرق اهل النار বলেছিলেন, না عصارة أهل النار বলেছিলেন। প্রথমটির তরজমা হচ্ছে জাহান্নামীদের দেহ নির্গত ঘাম, আর দ্বিতীয়টির তরজমা হচ্ছে তাদের শরীরের রক্ত-পূজ। বস্তুত মদ হারাম হয়ে যাওয়ার পর এটা পান করা এত বড় অপরাধ যে, এ হাদীসের বক্তব্য অনুযায়ী আল্লাহ্ তা'আলা এ সিদ্ধান্ত করে নিয়েছেন যে, যে ব্যক্তি দুনিয়াতে মদের সাথে সম্পর্ক ও এর প্রতি আসক্তি রাখবে এবং বিনা তওবায় দুনিয়া থেকে চলে যাবে, আল্লাহ্ তা'আলা তার এ মদ্যপানের শাস্তিস্বরূপ তাকে طينة الخبال তীনাতুল খাবাল অবশ্যই পান করাবেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান