মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)

১৯- রাষ্ট্রনীতি ও আদালত-বিচার অধ্যায়

হাদীস নং: ৩৭৮২
- রাষ্ট্রনীতি ও আদালত-বিচার অধ্যায়
৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - বিচারকার্য এবং সাক্ষ্যদান
৩৭৮২। হযরত আমর ইবনে শোআয়ব তাঁহার পিতার মাধ্যমে তাঁহার দাদা হইতে বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ) বলিয়াছেনঃ খেয়ানতকারী পুরুষ ও খেয়ানতকারিণী নারীর সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নহে। ব্যভিচারী পুরুষ ও ব্যভিচারিণী নারীর সাক্ষ্যও গ্রহণযোগ্য নহে এবং শত্রুর সাক্ষ্যদান জায়েয নাই যদিও সে তাহার মুসলমান ভাই হয়। আর হুযূর (ﷺ) এমন লোকের সাক্ষ্যদান অগ্রাহ্য করিয়াছেন, যে লোক কোন পরিবারের উপর নির্ভরশীল হয়। –আবু দাউদ
كتاب الإمارة والقضاء
وَعَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا تَجُوزُ شَهَادَةُ خَائِنٍ وَلَا خَائِنَةٍ وَلَا زَانٍ وَلَا زَانِيَةٍ وَلَا ذِي غِمْرٍ عَلَى أَخِيهِ» . وَرَدَّ شَهَادَةَ الْقَانِعِ لِأَهْلِ الْبَيَتْ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

হাদীসের ব্যাখ্যা:

আলোচ্য হাদীসে প্রথমে খিয়ানতকারী ও যিনাকার পুরুষ ও নারীদের সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তাদের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়। এ উভয় গুনাহকে দৃষ্টান্ত হিসাবে বুঝা চাই। মূলনীতি ও আইন এরূপ হবে যে, যে ব্যক্তি এরূপ কবীরা ও অশ্লীল পাপে জড়িত, অন্য কথায় ফাসিক ও পাপিষ্ঠ, তার সাক্ষ্য গৃহীত হবে না। কেননা, এরূপ গুনাহ করা একথার প্রমাণ বহন করে যে, তার অন্তরে আল্লাহভীতি নেই। এ জন্য তার সততার ওপর নির্ভর করা যায় না।

কোন শত্রুতা পোষণকারীর বিদ্বিষ্ট সাক্ষ্য যে কারণে গৃহীত নয়, তা সুস্পষ্ট। এভাবে যে ব্যক্তি কোন পরিবারের সাথে সম্পৃক্ত, তার থাকা-খাওয়া তাদেরই সাথে, যেন সে উক্ত পরিবারেরই এক সদস্য। এ জন্য উক্ত পরিবারের জন্য তার সাক্ষ্য গ্রহণ করা যাবে না। এতে বুঝা গেল যে, পরিবারের লোকদের সাক্ষ্য আরো উত্তমরূপে অগ্রহণযোগ্য হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান