মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
২১- শিকার ও জবাইয়ের পশুর বিধান
হাদীস নং: ৪১৫৮
- শিকার ও জবাইয়ের পশুর বিধান
৩. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - আক্বীকার বর্ণনা
৪১৫৮। হযরত বুরায়দা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, জাহিলী যুগে আমাদের কাহারও সন্তান জন্মিলে সে (তাহার পক্ষ হইতে) একটি বকরী যবাহ্ করিত এবং উহার রক্ত লইয়া শিশুর মাথায় মালিশ করিয়া দিত। কিন্তু ইসলামের আবির্ভাবের পর শিশুর জন্মের সপ্তম দিন আমরা একটি বকরী যবাহ্ করি, তাহার মাথা কামাইয়া ফেলি এবং তাহার মাথায় জাফরান মালিশ করি। –আবু দাউদ, আর ইমাম রাযীন অতিরিক্ত এই কথাটিও বর্ণনা করিয়াছেন যে, সেই দিন আমরা তাহার নামও রাখি।
كتاب الصيد والذبائح
الْفَصْل الثَّالِث
عَن بُريدةَ قَالَ: كُنَّا فِي الْجَاهِلَيَّةِ إِذَا وُلِدَ لِأَحَدِنَا غلامٌ ذَبَحَ شاةٌ ولطَّخَ رأسَه بدمه فَلَمَّا جَاءَ الْإِسْلَامُ كُنَّا نَذْبَحُ الشَّاةَ يَوْمَ السَّابِعِ وَنَحْلِقُ رَأْسَهُ وَنُلَطِّخُهُ بِزَعْفَرَانٍ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَزَاد رزين: ونُسمِّيه
হাদীসের ব্যাখ্যা:
'খালুক' বিভিন্ন উপাদান মিশ্রিত এক প্রকার সুগন্ধির নাম, যা জাফরান ইত্যাদি দিয়ে তৈরী করা হয়। এ হাদীস থেকে জানা গেল যে, আকীকার প্রচলন আরবদের মধ্যে জাহেলী যুগেও ছিল। যেহেতু এর মধ্যে অনেক কল্যাণকর দিক রয়েছে- যেগুলোর প্রতি উপরে ইঙ্গিত করে আসা হয়েছে, আর এটা মৌলিকভাবে ইসলামী শরী‘আত প্রকৃতির অনুকূল ছিল এবং সম্ভবত হজ অনুষ্ঠানের মত এটা ইবরাহীমী মিল্লাতের অবশিষ্ট নিদর্শনসমূহের একটি ছিল, এজন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মূল ভিত্তিটি ঠিক রাখলেন এবং জাহেলী প্রথাগুলোর সংশোধন করে দিলেন।
বায়হাকীর এক বর্ণনা দ্বারা জানা যায় যে, আকীকার প্রচলন ইয়াহুদীদের মধ্যেও ছিল। কিন্তু তারা কেবল ছেলে সন্তানের পক্ষ থেকে আকীকা করত, মেয়েদের পক্ষ থেকে করত না। যার কারণ সম্ভবত মেয়েদের প্রতি অবজ্ঞা ও অনাদরই ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এটারও সংশোধন করলেন এবং নির্দেশ দিলেন যে, ছেলেদের মত মেয়েদের পক্ষ থেকেও আকীকা করতে হবে। তবে দুই শ্রেণীর মধ্যে প্রকৃতিগত ও স্বভাবগত পার্থক্য রয়েছে, (যার প্রতি উত্তরাধিকার বণ্টন ও সাক্ষ্য দান ইত্যাদি ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখা হয়েছে।) এর ভিত্তিতে তিনি বলেছেন যে, কন্যা সন্তানের আকীকায় একটি ছাগল এবং পুত্র সন্তানের আকীকায় (সামর্থ্য থাকলে) দু'টি ছাগল যবেহ করতে হবে।
বায়হাকীর এক বর্ণনা দ্বারা জানা যায় যে, আকীকার প্রচলন ইয়াহুদীদের মধ্যেও ছিল। কিন্তু তারা কেবল ছেলে সন্তানের পক্ষ থেকে আকীকা করত, মেয়েদের পক্ষ থেকে করত না। যার কারণ সম্ভবত মেয়েদের প্রতি অবজ্ঞা ও অনাদরই ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এটারও সংশোধন করলেন এবং নির্দেশ দিলেন যে, ছেলেদের মত মেয়েদের পক্ষ থেকেও আকীকা করতে হবে। তবে দুই শ্রেণীর মধ্যে প্রকৃতিগত ও স্বভাবগত পার্থক্য রয়েছে, (যার প্রতি উত্তরাধিকার বণ্টন ও সাক্ষ্য দান ইত্যাদি ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখা হয়েছে।) এর ভিত্তিতে তিনি বলেছেন যে, কন্যা সন্তানের আকীকায় একটি ছাগল এবং পুত্র সন্তানের আকীকায় (সামর্থ্য থাকলে) দু'টি ছাগল যবেহ করতে হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)