মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
২৬- আদাব - শিষ্টাচার অধ্যায়
হাদীস নং: ৪৬৮৯
- আদাব - শিষ্টাচার অধ্যায়
৩. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - করমর্দন ও আলিঙ্গন
৪৬৮৯। হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন, আচার-আচরণে, চাল-চলনে এবং মহৎ চরিত্রে, অপর এক রেওয়ায়তে আছে—আলাপ-আলোচনায় ও কথাবার্তায় ফাতিমা (রাঃ) অপেক্ষা অন্য কাহাকেও আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সহিত অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ দেখিতে পাই নাই। ফাতিমা যখনই তাহার নিকটে আসিতেন তখন তিনি দাঁড়াইয়া তাঁহার হাত ধরিয়া চুম্বন করিতেন এবং নিজের আসনে বসাইতেন। আর যখনই নবী (ﷺ) তাঁহার কাছে যাইতেন তখন তিনিও তাঁহার জন্য দাঁড়াইয়া তাঁহার হাতখানা ধরিয়া উহাতে চুম্বন করিতেন এবং তাঁহাকে নিজের আসনে বসাইতেন। – আবু দাউদ
كتاب الآداب
وَعَنْ
عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: مَا رَأَيْتُ أَحَدًا كَانَ أَشْبَهَ سَمْتًا وَهَدْيًا وَدَلًّا. وَفِي رِوَايَةٍ حَدِيثًا وَكَلَامًا بِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ فَاطِمَةَ كَانَتْ إِذَا دَخَلَتْ عَلَيْهِ قَامَ إِلَيْهَا فَأَخَذَ بِيَدِهَا فَقَبَّلَهَا وَأَجْلَسَهَا فِي مَجْلِسِهِ وَكَانَ إِذَا دَخَلَ عَلَيْهَا قَامَتْ إِلَيْهِ فَأَخَذَتْ بِيَدِهِ فَقَبَّلَتْهُ وَأَجْلَسَتْهُ فِي مجلسِها. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: مَا رَأَيْتُ أَحَدًا كَانَ أَشْبَهَ سَمْتًا وَهَدْيًا وَدَلًّا. وَفِي رِوَايَةٍ حَدِيثًا وَكَلَامًا بِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ فَاطِمَةَ كَانَتْ إِذَا دَخَلَتْ عَلَيْهِ قَامَ إِلَيْهَا فَأَخَذَ بِيَدِهَا فَقَبَّلَهَا وَأَجْلَسَهَا فِي مَجْلِسِهِ وَكَانَ إِذَا دَخَلَ عَلَيْهَا قَامَتْ إِلَيْهِ فَأَخَذَتْ بِيَدِهِ فَقَبَّلَتْهُ وَأَجْلَسَتْهُ فِي مجلسِها. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
হাদীসের ব্যাখ্যা:
১. ফাতিমার জন্য পিতৃ-মমতায় এবং নবী (ﷺ)-এর জন্য ফাতিমা সম্মান প্রদর্শনার্থে দাঁড়াইয়াছিলেন। স্নেহ-মমতা ও মহব্বতের জোশে কিংবা ফয়েয ও বরকত হাসিলের উদ্দেশ্যে হাতে ও কপালে চুম্বন দেওয়া জায়েয।
২. এসব হাদীস একথার সুস্পষ্ট প্রমাণ যে, ভালোবাসা ও সম্মানের অনুভূতিতে মু'আনাকা ও চুম্বন (অর্থাৎ, হাতে এবং কপালে চুমু খাওয়া) জায়েয এবং স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে প্রমাণিত। এ জন্য হযরত আনাস রাযি.-এর ঐ হাদীসকে যার মধ্যে মু'আনাকা ও চুম্বনের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এর উপরই প্রয়োগ করতে হবে যে, এ নিষেধাজ্ঞার হুকুমটি ঐসব ক্ষেত্রের জন্য, যখন বুক মিলানো ও চুম্বনের মধ্যে কোন অনিষ্ট অথবা এর সন্দেহ সৃষ্টি হওয়ার আশংকা থাকে।
হযরত আয়েশা রাযি. বর্ণিত হাদীসটিতে হযরত ফাতিমার আগমনে হুযুর (ﷺ)-এর দাঁড়িয়ে যাওয়ার এবং হুযুর (ﷺ)-এর শুভাগমনে হযরত ফাতিমা রাযি.-এর দাঁড়িয়ে যাওয়ার উল্লেখ রয়েছে। এটা একথার প্রমাণ যে, ভালোবাসা, সম্মান ও ভক্তি প্রদর্শনের আবেগে নিজের কোন প্রিয় ও সম্মানিত ব্যক্তির জন্য দাঁড়িয়ে যাওয়াও বৈধ। কিন্তু কোন কোন হাদীস দ্বারা এটাও বুঝা যায় যে, হুযুর (ﷺ)-এর আগমনে যদি সাহাবায়ে কেরাম কখনো দাঁড়িয়ে যেতেন, তাহলে তিনি এটা অপছন্দ করতেন এবং কিছুটা অসন্তুষ্টি প্রকাশ করতেন। সম্ভবত এর কারণ ছিল তাঁর স্বভাবসুলভ বিনয় ও নম্রতা।
২. এসব হাদীস একথার সুস্পষ্ট প্রমাণ যে, ভালোবাসা ও সম্মানের অনুভূতিতে মু'আনাকা ও চুম্বন (অর্থাৎ, হাতে এবং কপালে চুমু খাওয়া) জায়েয এবং স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে প্রমাণিত। এ জন্য হযরত আনাস রাযি.-এর ঐ হাদীসকে যার মধ্যে মু'আনাকা ও চুম্বনের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এর উপরই প্রয়োগ করতে হবে যে, এ নিষেধাজ্ঞার হুকুমটি ঐসব ক্ষেত্রের জন্য, যখন বুক মিলানো ও চুম্বনের মধ্যে কোন অনিষ্ট অথবা এর সন্দেহ সৃষ্টি হওয়ার আশংকা থাকে।
হযরত আয়েশা রাযি. বর্ণিত হাদীসটিতে হযরত ফাতিমার আগমনে হুযুর (ﷺ)-এর দাঁড়িয়ে যাওয়ার এবং হুযুর (ﷺ)-এর শুভাগমনে হযরত ফাতিমা রাযি.-এর দাঁড়িয়ে যাওয়ার উল্লেখ রয়েছে। এটা একথার প্রমাণ যে, ভালোবাসা, সম্মান ও ভক্তি প্রদর্শনের আবেগে নিজের কোন প্রিয় ও সম্মানিত ব্যক্তির জন্য দাঁড়িয়ে যাওয়াও বৈধ। কিন্তু কোন কোন হাদীস দ্বারা এটাও বুঝা যায় যে, হুযুর (ﷺ)-এর আগমনে যদি সাহাবায়ে কেরাম কখনো দাঁড়িয়ে যেতেন, তাহলে তিনি এটা অপছন্দ করতেন এবং কিছুটা অসন্তুষ্টি প্রকাশ করতেন। সম্ভবত এর কারণ ছিল তাঁর স্বভাবসুলভ বিনয় ও নম্রতা।
২. ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)