মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
২৬- আদাব - শিষ্টাচার অধ্যায়
হাদীস নং: ৫১৫২
- আদাব - শিষ্টাচার অধ্যায়
২২. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - ভালো কাজের আদেশ
৫১৫২। হযরত জাবের (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিয়াছেনঃ মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ্ তা'আলা হযরত জিবরাঈল (আঃ)-কে নির্দেশ দিলেন যে, অমুক অমুক শহরকে উহার অধিবাসীসমেত উল্টাইয়া দাও। তিনি বলিলেনঃ হে রব! উহাদের মধ্যে তো তোমার অমুক এক বান্দা আছে, যে মুহূর্তের জন্যও তোমার নাফরমানী করে নাই। হুযূর (ﷺ) বলেনঃ তখন আল্লাহ্ তা'আলা বলিলেনঃ তাহার ও উহাদের সকলের উপরই শহরটিকে উল্টাইয়া দাও। কারণ, তাহার সম্মুখে পাপাচার হইতে দেখিয়া মুহূর্তের জন্যও তাহার চেহারা মলিন হয় নাই ।
كتاب الآداب
وَعَنْ جَابِرٍ
قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَوْحَى اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ إِلى جبريلَ عَلَيْهِ السَّلَامُ: أَنِ اقْلِبْ مَدِينَةَ كَذَا وَكَذَا بِأَهْلِهَا قَالَ: يارب إِنَّ فِيهِمْ عَبْدَكَ فُلَانًا لَمْ يَعْصِكَ طَرْفَةَ عَيْنٍ . قَالَ: فَقَالَ: اقْلِبْهَا عَلَيْهِ وَعَلَيْهِمْ فَإِنَّ وَجهه لم يتمعر فِي سَاعَة قطّ
قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَوْحَى اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ إِلى جبريلَ عَلَيْهِ السَّلَامُ: أَنِ اقْلِبْ مَدِينَةَ كَذَا وَكَذَا بِأَهْلِهَا قَالَ: يارب إِنَّ فِيهِمْ عَبْدَكَ فُلَانًا لَمْ يَعْصِكَ طَرْفَةَ عَيْنٍ . قَالَ: فَقَالَ: اقْلِبْهَا عَلَيْهِ وَعَلَيْهِمْ فَإِنَّ وَجهه لم يتمعر فِي سَاعَة قطّ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আলোচ্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পূর্ব যুগের এ ঘটনা বর্ণনা করেন যে, কোন এক বস্তি ছিল, যার অধিবাসী সাধারণভাবে ভীষণ ফাসিক ও ফাজির ছিল। আর এরূপ মন্দ কাজসমূহ করত, যা আল্লাহর গযব ও ক্রোধের কারণ হয়ে যেত। তবে সেই বস্তিতে এরূপ এক বান্দাও ছিল, ব্যক্তিগত জীবনে যে আল্লাহর পূর্ণ অনুগত ছিল। তার থেকে কখনো গুনাহ্ প্রকাশ পায়নি। তবে তার অবস্থা এই ছিল যে, বস্তিবাসীদের গর্হিত কাজসমূহের প্রতি কখনো তার কোন প্রকার ক্রোধ আসেনি। আর চেহারার ওপর রেখাও পড়েনি। আল্লাহ্ তা'আলার নিকট এটাও সেই স্তরের অপরাধ ছিল যে, জিব্রাইল (আ) নির্দেশিত হলেন, বস্তির ফাসিক ফাজির অধিবাসীদের সাথে সেই বান্দার ওপরও বস্তি উল্টিয়ে দাও। আল্লাহ্ তা'আলা আলোচ্য হাদীস থেকে উপদেশ ও শিক্ষা গ্রহণের তাওফীক দিন। আমীন!
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)