মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
২৭- নম্রতা ও যুহদের অধ্যায়
হাদীস নং: ৫২০৭
- নম্রতা ও যুহদের অধ্যায়
তৃতীয় অনুচ্ছেদ
৫২০৭। হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি হালাল উপায়ে দুনিয়ার মাল-সম্পদ অন্বেষণ করে ভিক্ষাবৃত্তি হইতে বাঁচিবার জন্য, পরিবারের খরচ নির্বাহের উদ্দেশ্যে এবং প্রতিবেশীর প্রতি সদাচরণের লক্ষ্যে, সে আল্লাহ্ তা'আলার সহিত কিয়ামতের দিন এমনভাবে মিলিত হইবে যে, তাহার চেহারা পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বল থাকিবে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি হালাল উপায়ে মাল অর্জন করিল বটে; কিন্তু গর্ব, অহঙ্কার ও ধনের আধিক্য প্রকাশের নিয়তে, সে আল্লাহ্ তা'আলার সহিত এমন অবস্থায় মিলিত হইবে যে, তিনি তাহার উপর ভীষণভাবে রাগান্বিত হইবেন। —বায়হাকী শো আবুল ঈমানে এবং আবু নোয়াইম তাহার হিলইয়া গ্রন্থে
كتاب الرقاق
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ طَلَبَ الدُّنْيَا حَلَالًا اسْتِعْفَافًا عَنِ الْمَسْأَلَةِ وَسَعْيًا عَلَى أَهْلِهِ وَتَعَطُّفًا عَلَى جَارِهِ لَقِيَ اللَّهَ تَعَالَى يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَوَجْهُهُ مِثْلُ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ. وَمَنْ طَلَبَ الدُّنْيَا حَلَالًا مُكَاثِرًا مفاخرا مرائيا لَقِي الله وَهُوَ عَلَيْهِ غَضْبَانُ» . رَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ فِي «شُعَبِ الْإِيمَانِ» وَأَبُو نُعَيْمٍ فِي «الْحِلْية»
হাদীসের ব্যাখ্যা:
১. অর্থাৎ, হালাল ও বৈধভাবে সম্পদ সঞ্চয় করিতেও নিয়ত মন্দ থাকিলে আল্লাহ্ পাকের রোষানলে পড়িতে হইবে। অতএব ইহা হইতেই অবৈধ সঞ্চয়ের পরিণাম কি ? সহজেই অনুমান করা যায়।
২. অন্যের মুখাপেক্ষী না হওয়ার, পরিবার-পরিজনের ভরণ-পোষণ এবং পাড়া-প্রতিবেশীর সাহায্য-সহযোগিতা করার উদ্দেশ্যে হালাল উপায়ে দুনিয়া তলব বা ধন-সম্পদ উপার্জনের মধ্যে প্রচুর সওয়াব রয়েছে। এ ধরনের ব্যক্তি কিয়ামতের দিন আল্লাহর মহব্বত, কুরবত ও দিদার লাভ করবেন। আল্লাহ কিয়ামতের দিন এ ধরনের খোশ নসীব ব্যক্তির চেহারা উজ্জ্বল ও সুশোভিত করে দিবেন। পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় তার চেহারা সুন্দর ও নূরানী প্রভাযুক্ত হবে। অপরপক্ষে মালদার হওয়ার, মালের ফখর করার এবং প্রদর্শন করার উদ্দেশ্যে হালাল উপায়ে দুনিয়ায় ধন-দৌলত উপার্জন করলেও কোন সওয়াব পাওয়া যাবে না; বরং তাতে গুনাহ হবে। কিয়ামতের দিন আল্লাহ ঐ ধরনের ব্যক্তির উপর খুব ক্রোধান্বিত থাকবেন। বলা বাহুল্য, আল্লাহ যার উপর নারাজ থাকবেন তার আখিরাত বিলকুল বরবাদ হবে। আল্লাহ রিয়াকার, অহঙ্কারী ও মালের খাতিরে মাল উপার্জনকারীকে পসন্দ করেন না। তাই মাল উপার্জনের ক্ষেত্রে উপার্জনের পন্থা শুধু হালাল হলে চলবে না, বরং সম্পদ উপার্জনের উদ্দেশ্য বৈধ ও হালাল হতে হবে। অন্যথায় আখিরাত বরবাদ হবে।
২. অন্যের মুখাপেক্ষী না হওয়ার, পরিবার-পরিজনের ভরণ-পোষণ এবং পাড়া-প্রতিবেশীর সাহায্য-সহযোগিতা করার উদ্দেশ্যে হালাল উপায়ে দুনিয়া তলব বা ধন-সম্পদ উপার্জনের মধ্যে প্রচুর সওয়াব রয়েছে। এ ধরনের ব্যক্তি কিয়ামতের দিন আল্লাহর মহব্বত, কুরবত ও দিদার লাভ করবেন। আল্লাহ কিয়ামতের দিন এ ধরনের খোশ নসীব ব্যক্তির চেহারা উজ্জ্বল ও সুশোভিত করে দিবেন। পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় তার চেহারা সুন্দর ও নূরানী প্রভাযুক্ত হবে। অপরপক্ষে মালদার হওয়ার, মালের ফখর করার এবং প্রদর্শন করার উদ্দেশ্যে হালাল উপায়ে দুনিয়ায় ধন-দৌলত উপার্জন করলেও কোন সওয়াব পাওয়া যাবে না; বরং তাতে গুনাহ হবে। কিয়ামতের দিন আল্লাহ ঐ ধরনের ব্যক্তির উপর খুব ক্রোধান্বিত থাকবেন। বলা বাহুল্য, আল্লাহ যার উপর নারাজ থাকবেন তার আখিরাত বিলকুল বরবাদ হবে। আল্লাহ রিয়াকার, অহঙ্কারী ও মালের খাতিরে মাল উপার্জনকারীকে পসন্দ করেন না। তাই মাল উপার্জনের ক্ষেত্রে উপার্জনের পন্থা শুধু হালাল হলে চলবে না, বরং সম্পদ উপার্জনের উদ্দেশ্য বৈধ ও হালাল হতে হবে। অন্যথায় আখিরাত বরবাদ হবে।
২. ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)