মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)

২৭- নম্রতা ও যুহদের অধ্যায়

হাদীস নং: ৫৩০০
- নম্রতা ও যুহদের অধ্যায়
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - তাওয়াক্কুল (আল্লাহর ওপর ভরসা) ও সবর (ধৈর্যধারণ) প্রসঙ্গে
৫৩০০। হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিয়াছেনঃ হে লোকসকল! এমন কোন জিনিস নাই যাহা তোমাদিগকে বেহেশতের নিকটবর্তী করিতে পারে, দোযখ হইতে দূরে রাখিতে পারে উহা ব্যতীত, যাহা আমি তোমাদিগকে আদেশ করিয়াছি। আর এমন কোন বস্তু নাই যাহা তোমাদিগকে দোযখের নিকটবর্তী করিতে পারে এবং বেহেস্ত হইতে দূরে রাখিতে পারে উহা ব্যতীত, যাহা আমি তোমাদিগকে নিষেধ করিয়াছি। হযরত রূহুল আমীন আরেক বর্ণনায় আছে রূহুল কুদুছ (জিবরাঈল [আঃ]) আমার অন্তরে এই কথাটি ঢালিয়া দিয়াছেন যে, কোন দেহ তাহার (নির্ধারিত) রিযক পরিপূর্ণভাবে ভোগ না করা পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করিবে না। সাবধান! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং মাল-সম্পদ উপার্জনে উত্তম নীতি অবলম্বন কর (অর্থাৎ, বৈধভাবে হাসিল কর)। কাঙ্ক্ষিত রিযক পৌঁছার বিলম্বতা যেন তোমাদিগকে আল্লাহর নাফরমানীর পথে উহা অন্বেষণে উদ্বুদ্ধ না করে। কেননা, আল্লাহর কাছে যাহা নির্ধারিত রিষ্ক আছে তাহা আল্লাহর আনুগত্য ব্যতীত অর্জন করা যায় না। –আল্লামা বাগবী শরহে সুন্নাহতে এবং বায়হাকী শো'আবুল ঈমানে বর্ণনা করিয়াছেন। তবে — وَإِنَّ رُوحَ الْقُدُسِ এই বাক্যটি বায়হাকী বর্ণনা করেন নাই।
كتاب الرقاق
وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَيُّهَا النَّاسُ لَيْسَ مِنْ شَيْءٍ يُقَرِّبُكُمْ إِلَى الْجَنَّةِ وَيُبَاعِدُكُمْ مِنَ النَّارِ إِلَّا قَدْ أَمَرْتُكُمْ بِهِ وَلَيْسَ شَيْءٌ يُقَرِّبُكُمْ مِنَ النَّارِ وَيُبَاعِدُكُمْ مِنَ الْجَنَّةِ إِلَّا قَدْ نَهَيْتُكُمْ عَنْهُ وَإِنَّ الرُّوحَ الْأَمِينَ - وَفِي روايةٍ: وإِن رُوحَ الْقُدُسِ - نَفَثَ فِي رُوعِي أَنَّ نَفْسًا لَنْ تَمُوتَ حَتَّى تَسْتَكْمِلَ رِزْقَهَا أَلَا فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَجْمِلُوا فِي الطَّلَبِ وَلَا يَحْمِلَنَّكُمُ اسْتِبْطَاءُ الرِّزْقِ أَنْ تَطْلُبُوهُ بِمَعَاصِي اللَّهِ فَإِنَّهُ لَا يُدْرَكُ مَا عِنْدَ اللَّهِ إِلَّا بِطَاعَتِهِ «. رَوَاهُ فِي» شرح السّنة «وَالْبَيْهَقِيّ فِي» شعب الإِيمان إِلَّا أَنَّهُ لَمْ يَذْكُرْ: «وَإِنَّ رُوحَ الْقُدُسِ»

হাদীসের ব্যাখ্যা:

যদি কোন বান্দা জান্নাতে যেতে চায় এবং দোযখের আগুন থেকে বেঁচে থাকতে চায়, তাহলে কুরআন ও হাদীসের তামাম হুকুম-আহকাম পালন করা কর্তব্য। যদি কোন বান্দা কুরআন ও হাদীসের নির্দেশ অমান্য করে, তাহলে সে দোযখী হবে। জান্নাত লাভ করা এবং দোযখ থেকে নিষ্কৃতি লাভের জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কর্তৃক নিদেশিত তরীকা ছাড়া অন্য কোন পথ নেই।

রিযকের ব্যাপারে মানুষের দুর্বলতা ও অস্থিরতার অন্ত নেই। রিযকের চাবিকাঠি সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর হাতে। রিযক হাসিল করার জন্য চেষ্টা-সাধনা করতে হবে। চেষ্টা-সাধনা না করলে রিযক থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কিন্তু চেষ্টা-সাধনা দ্বারা বান্দা নির্ধারিত রিযকের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে পারে না। আল্লাহ চাইলে তাঁর অনুগত মেহনতি বান্দার রিযক বৃদ্ধি করে দিতে পারেন। অনুরূপভাবে অসন্তুষ্ট হয়ে তাঁর বিদ্রোহী বান্দার রিযক হ্রাস করতে পারেন। হ্রাস-বৃদ্ধি একমাত্র আল্লাহর নিয়ন্ত্রণে। অধিকন্তু আল্লাহ প্রত্যেক প্রাণীর জন্য যে রিযক রেখেছেন, যদি তিনি নিজে ইচ্ছা করে বা রাগ করে পরিবর্তন না করেন তাহলে নির্ধারিত রিযক হাসিল না করা পর্যন্ত তার মৃত্যু হবে না। মানুষের এ বাস্তব জ্ঞানের অভাবের জন্য কোন কোন সময় রিযকের সংস্থানে বিলম্ব হলে অবৈধ ও হারাম পন্থায় রিযক লাভ করার চেষ্টা করে। তাতে সে তার ভাগ্যের নির্ধারিত রিযক থেকে বিন্দুমাত্র বেশি অর্জন করতে পারে না। শুধু আখিরাতকে বরবাদ করে। আল্লাহর আনুগত্যের মাধ্যমে বান্দা তার আকাঙ্ক্ষার চেয়ে অনেক বেশি লাভ করতে পারে। আনুগত্যের মাধ্যমে শুধু দুনিয়ার রিযক নয়, আখিরাতের রিযক, তাঁর অফুরন্ত নিয়ামত, রহমত এবং মাগফিরাত লাভ করতে পারে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান