মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
২৭- নম্রতা ও যুহদের অধ্যায়
হাদীস নং: ৫৩৩৩
- নম্রতা ও যুহদের অধ্যায়
তৃতীয় অনুচ্ছেদ - লোক দেখানো ও শুনানোর ব্যাপারে বর্ণনা
৫৩৩৩। হযরত আবু সাঈদ (রাঃ) বলেন, একদা আমরা মসীহ দাজ্জাল সম্পর্কে পরস্পর আলোচনা করিতেছিলাম। এমন সময় রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদের নিকট আসিলেন এবং বলিলেনঃ খবরদার। আমি কি তোমাদিগকে এমন একটি ব্যাপার অবহিত করিব না যাহা আমার নিকট তোমাদের জন্য মসীহে দাজ্জাল হইতেও অধিক আশংকাজনক? আমরা বলিলাম, হ্যাঁ, বলুন ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তিনি বলিলেনঃ উহা হইল শিরকে খফী অর্থাৎ, কোন ব্যক্তি নামাযে দাঁড়াইয়া এই কারণে নামাযকে দীর্ঘায়িত করে যে, তাহার নামায কোন ব্যক্তি দেখিতেছে। —ইবনে মাজাহ্
كتاب الرقاق
وَعَن أبي سعيد الْخُدْرِيّ قَالَ: خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَنَحْنُ نَتَذَاكَرُ الْمَسِيحَ الدَّجَّالَ فَقَالَ: «أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِمَا هُوَ أَخْوَفُ عَلَيْكُمْ عِنْدِي مِنَ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ؟» فَقُلْنَا: بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ: «الشِّرْكُ الْخَفِيُّ أَنْ يَقُومَ الرَّجُلُ فَيُصَلِّيَ فَيَزِيدَ صَلَاتَهُ لِمَا يَرَى مِنْ نَظَرِ رجلٍ» . رَوَاهُ ابْن مَاجَه
হাদীসের ব্যাখ্যা:
মসীহ দাজ্জাল ভয়ানক ফিতনা সৃষ্টিকারী। দাজ্জাল দুর্বল মানুষের ঈমান-আমল বরবাদ করবে এবং দুনিয়াবাসীর প্রচুর ক্ষতি সাধন করবে। কিন্তু দাজ্জালের ফিতনার চেয়েও মারাত্মক ও ভয়ঙ্কর হল রিয়া বা গোপন শিরক। আল্লাহর বিশ্বাসী বান্দাগণ মনে-প্রাণে দাজ্জালকে ঘৃণা করেন এবং আশা করা যায় যে, তারা ঘৃণিত দাজ্জাল থেকে নিজেদের ঈমান-আমল রক্ষা করতে পারবেন। কিন্তু লোক দেখানো ইবাদতের অনিষ্টকারিতা সম্পর্কে অজ্ঞতা বা রিয়াকে নগণ্য মনে করার কারণে কিংবা মানুষের বাহবা ও প্রশংসার মোহের জন্য বান্দা নেক আমল করলে কোন সওয়াব পাবে না, বরং অপরাধী হবে। সে এভাবে গোপন শিরকের গোপন পথে এবং কোন কোন সময় সম্পূর্ণ অজ্ঞাতে নিজের ঈমান ও আমল বিনষ্ট করবে।
রিয়া শুধু নামাযের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, তা যে কোন ইবাদতে হতে পারে। যেখানে ঈমান ও আমল ধ্বংস করবে।
ইমাম আহমদ মাহমূদ ইবনে লবীদ (রা)-এর হাওয়ালা দিয়ে অনুরূপ এক হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাতে রিয়াকে ছোট শিরক বলে উল্লেখ করা হয়েছে:
أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ أَخْوَفَ مَا أَخَافُ عَلَيْكُمُ الشِّرْكُ الْأَصْغَرُ» قالول: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا الشِّرْكُ الْأَصْغَرُ؟ قَالَ: «الرِّيَاءُ»
"নবী করীম ﷺ বলেছেন: আমি তোমাদের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি ছোট শিরকের ভয় করি। সাহাবায়ে-কিরাম বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! ছোট শিরক কি? তিনি বললেন: রিয়া।" (মুসনাদে আহমদ)
রিয়া শুধু নামাযের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, তা যে কোন ইবাদতে হতে পারে। যেখানে ঈমান ও আমল ধ্বংস করবে।
ইমাম আহমদ মাহমূদ ইবনে লবীদ (রা)-এর হাওয়ালা দিয়ে অনুরূপ এক হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাতে রিয়াকে ছোট শিরক বলে উল্লেখ করা হয়েছে:
أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ أَخْوَفَ مَا أَخَافُ عَلَيْكُمُ الشِّرْكُ الْأَصْغَرُ» قالول: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا الشِّرْكُ الْأَصْغَرُ؟ قَالَ: «الرِّيَاءُ»
"নবী করীম ﷺ বলেছেন: আমি তোমাদের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি ছোট শিরকের ভয় করি। সাহাবায়ে-কিরাম বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! ছোট শিরক কি? তিনি বললেন: রিয়া।" (মুসনাদে আহমদ)
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)