মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
৩১- সাহাবায়ে কিরামের রাঃ মানাকিব ও ফাযায়েল
হাদীস নং: ৬০২৬
- সাহাবায়ে কিরামের রাঃ মানাকিব ও ফাযায়েল
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - আবু বাকর সিদ্দীক (রাঃ) -এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০২৬। হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিয়াছেনঃ যেকোন ব্যক্তি আমাদের প্রতি যেই কোন প্রকারের এহসান করিয়াছে, আমরা উহার প্রতিদান দিয়াছি, আবু বকরের এহসান ব্যতীত। তিনি আমাদের প্রতি যেই এহসান করিয়াছেন, আল্লাহ্ তা'আলাই কিয়ামতের দিন তাঁহাকে উহার প্রতিদান প্রদান করিবেন। আর কাহারও মাল-সম্পদ আমাকে ততখানি উপকৃত করিতে পারে নাই, যতখানি আবু বকরের মাল আমাকে উপকৃত করিয়াছে। আর আমি যদি (আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কাহাকেও) খলীল বা অন্তরং্গ বন্ধুরূপে গ্রহণ করিতাম, তাহা হইলে আবু বকরকেই অন্তরং্গ বন্ধুরূপে গ্রহণ করিতাম। জানিয়া রাখ ! তোমাদের সঙ্গী [অর্থাৎ, নবী (ﷺ)] আল্লাহ্ই খলীল (বন্ধু)। — তিরমিযী
كتاب المناقب
الْفَصْل الثَّانِي
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا لِأَحَدٍ عِنْدَنَا يَدٌ إِلَّا وَقَدْ كَافَيْنَاهُ مَا خَلَا أَبَا بَكْرٍ فَإِنَّ لَهُ عِنْدَنَا يَدًا يُكَافِيهِ اللَّهُ بهَا يومَ الْقِيَامَة وَمَا نَفَعَنِي مَالٌ قَطُّ مَا نَفَعَنِي مَالُ أَبِي بَكْرٍ وَلَوْ كُنْتُ مُتَّخِذًا خَلِيلًا لَاتَّخَذْتُ أَبَا بَكْرٍ خَلِيلًا أَلَا وَإِنَّ صَاحِبَكُمْ خَلِيلُ اللَّهِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হুযুর (ﷺ)-এর অভ্যাস এই ছিল যে, যখন কেউ তাঁকে কোন হাদিয়া প্রদান করত, তখন তিনি এটা গ্রহণ করে নিতেন এবং তখনই অথবা পরে অন্য কোন সময় তাকে এতটুকুই অথবা এর চেয়ে বেশী কিছু দিয়ে এর প্রতিদান দিয়ে দিতেন। ব্যাখ্যাধীন হাদীসে তিনি বলেছেন যে, আবু বকর রাযি. ছাড়া যে কেউ আমার সাথে সদাচরণ ও ইহসান করেছে, আমি দুনিয়াতেই এর প্রতিদান দিয়ে দিয়েছি; কিন্তু আবু বকর রাযি. যে সদাচরণ ও ইহসান করেছে, এর প্রতিদান আখেরাতে আল্লাহ তা'আলাই দান করবেন। হযরত আবূ বকর রাযি.-এর দৌহিত্র হযরত উরওয়া বলেন যে, হযরত আবু বকর রাযি. যখন ইসলাম গ্রহণ করেন, তখন তাঁর নিকট চল্লিশ হাজার দেরহাম ছিল। এ সব রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মর্জি অনুযায়ী দ্বীনের খেদমতে তিনি ব্যয় করে দেন। সাতজন এমন গোলামকে ক্রয় করে আযাদ করে দিয়েছিলেন, যারা ইসলাম গ্রহণ করে ছিল এবং তাদের মুশরিক মনিব ইসলাম গ্রহণের 'অপরাধে' তাদের উপর নির্যাতন করত। হযরত বিলালও তাদেরই একজন ছিলেন। হযরত আবু বকর রাযি. হুযুর (ﷺ)-এর নিকট নিবেদন করে রেখেছিলেন যে, আমার সমস্ত সম্পদ যেন আপনার মালিকানাধীন, যেভাবে ইচ্ছা আপনি ব্যবহার করতে পারেন। বস্তুতঃ হুযুর (ﷺ) এমনটাই করতেন। হুযুর (ﷺ) ইন্তিকাল পূর্ব অসুস্থতার সময় স্বীয় শেষ ভাষণেও হযরত আবু বকর রাযি.-এর এ বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছিলেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)