মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
৩১- সাহাবায়ে কিরামের রাঃ মানাকিব ও ফাযায়েল
হাদীস নং: ৬০৩৫
- সাহাবায়ে কিরামের রাঃ মানাকিব ও ফাযায়েল
প্রথম অনুচ্ছেদ - উমার ফারূক (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৩৫। হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসুলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতের মধ্যে কিছু লোক মুহাদ্দাস ছিল। আমার উম্মতের মধ্যে এমন কেহ যদি থাকে, তবে সে ওমরই হইবে। মোত্তাঃ
كتاب المناقب
بَاب مَنَاقِب عمر: الْفَصْل الأول
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَقَدْ كَانَ فِيمَا قَبْلَكُمْ مِنَ الْأُمَمِ مُحَدَّثُونَ فَإِنْ يَكُ فِي أمّتي أحدٌ فإِنَّه عمر» . مُتَّفق عَلَيْهِ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
১. হযরত ওমর (রাঃ) আবু কুবাইস পাহাড়ের পাদদেশে আরকামের বাড়ীতে হিজরতের পূর্বেই ইসলাম গ্রহণ করিয়াছেন। ইসলাম গ্রহণে তিনি ছিলেন চল্লিশতম মুসলমান। তাঁহার পূর্বে যাঁহারা ইসলাম গ্রহণ করিয়াছিলেন, তাঁহাদের কেহই উহা প্রকাশ করিতে সাহস পাইতেন না, কিন্তু ওমরের ব্যাপারটি ছিল উহার ব্যতিক্রম। ইসলাম কবুল করিবার পরক্ষণেই তিনি কা'বা শরীফের চত্বরে দাঁড়াইয়া বুলন্দ আওয়াজে ইসলামের কলেমা উচ্চারণ করিলেন।
হাদীসের শব্দ محدث (মুহাদ্দাস) সেই ব্যক্তিকে বলা হয়, আল্লাহর তরফ হইতে যাহার অন্তরে সত্য কথা নিক্ষেপ করা হয় এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে তাহার মুখ দিয়া সত্য ও সঠিক কথা বাহির হয়। নবী না হওয়া সত্ত্বেও বিভিন্ন সময় এমন কিছু সত্য কথা হযরত ওমরের মুখ দিয়া প্ৰকাশ পাইয়াছে। অতএব, তাঁহাকে মুহাদ্দাস বলা হইয়াছে।
২. 'মুহাদ্দাস' আল্লাহ তা'আলার ঐ সব ভাগ্যবান বান্দাকে বলা হয়, যাদের প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে অধিক পরিমাণে ইলহাম ও অন্তর্নিক্ষিপ্ত বার্তা আসে এবং এ ব্যাপারে তাঁর সাথে আল্লাহ তা'আলার বিশেষ আচরণ ও ভাব থাকে। তবে তিনি নবী হন না; বরং কোন নবীর উম্মত হয়ে থাকেন।
হুযুর (ﷺ)-এর এ বাণীর মর্ম এই যে, পূর্ববর্তী উম্মতসমূহের মধ্যে এমন ধরনের লোক থাকতেন, আর আমার উম্মতের মধ্যে যদি কাউকে এ নেয়ামত দ্বারা বিশেষভাবে ধন্য করা হয়ে থাকে, তাহলে তিনি হচ্ছেন উমর রাযি.।
হাদীসের শব্দমালা দ্বারা কারো যেন ভুলবুঝাবুঝি না হয় যে, হুযুর (ﷺ)-এর এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ সংশয় ছিল। তাঁর উম্মত যেহেতু শ্রেষ্ঠ উম্মত এবং পূর্ববর্তী সকল উম্মতের চেয়ে উত্তম, তাই এ কথা স্পষ্ট যে, এ উম্মতের মধ্যেও এমন ভাগ্যবান বান্দা থাকবেন, যারা অধিক পরিমাণে ইলহাম দ্বারা ধন্য হবেন। হুযুর (ﷺ)-এর এ বাণীর উদ্দেশ্য ও দাবী হচ্ছে এ ক্ষেত্রে হযরত উমর রাযি.-এর বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে দেওয়া। আর নিঃসন্দেহে এ নেয়ামতের বেলায় হযরত উমর রাযি.-এর বিশেষত্ব অর্জিত ছিল।
হাদীসের শব্দ محدث (মুহাদ্দাস) সেই ব্যক্তিকে বলা হয়, আল্লাহর তরফ হইতে যাহার অন্তরে সত্য কথা নিক্ষেপ করা হয় এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে তাহার মুখ দিয়া সত্য ও সঠিক কথা বাহির হয়। নবী না হওয়া সত্ত্বেও বিভিন্ন সময় এমন কিছু সত্য কথা হযরত ওমরের মুখ দিয়া প্ৰকাশ পাইয়াছে। অতএব, তাঁহাকে মুহাদ্দাস বলা হইয়াছে।
২. 'মুহাদ্দাস' আল্লাহ তা'আলার ঐ সব ভাগ্যবান বান্দাকে বলা হয়, যাদের প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে অধিক পরিমাণে ইলহাম ও অন্তর্নিক্ষিপ্ত বার্তা আসে এবং এ ব্যাপারে তাঁর সাথে আল্লাহ তা'আলার বিশেষ আচরণ ও ভাব থাকে। তবে তিনি নবী হন না; বরং কোন নবীর উম্মত হয়ে থাকেন।
হুযুর (ﷺ)-এর এ বাণীর মর্ম এই যে, পূর্ববর্তী উম্মতসমূহের মধ্যে এমন ধরনের লোক থাকতেন, আর আমার উম্মতের মধ্যে যদি কাউকে এ নেয়ামত দ্বারা বিশেষভাবে ধন্য করা হয়ে থাকে, তাহলে তিনি হচ্ছেন উমর রাযি.।
হাদীসের শব্দমালা দ্বারা কারো যেন ভুলবুঝাবুঝি না হয় যে, হুযুর (ﷺ)-এর এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ সংশয় ছিল। তাঁর উম্মত যেহেতু শ্রেষ্ঠ উম্মত এবং পূর্ববর্তী সকল উম্মতের চেয়ে উত্তম, তাই এ কথা স্পষ্ট যে, এ উম্মতের মধ্যেও এমন ভাগ্যবান বান্দা থাকবেন, যারা অধিক পরিমাণে ইলহাম দ্বারা ধন্য হবেন। হুযুর (ﷺ)-এর এ বাণীর উদ্দেশ্য ও দাবী হচ্ছে এ ক্ষেত্রে হযরত উমর রাযি.-এর বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে দেওয়া। আর নিঃসন্দেহে এ নেয়ামতের বেলায় হযরত উমর রাযি.-এর বিশেষত্ব অর্জিত ছিল।
২. ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)