মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
৩১- সাহাবায়ে কিরামের রাঃ মানাকিব ও ফাযায়েল
হাদীস নং: ৬০৪৩
- সাহাবায়ে কিরামের রাঃ মানাকিব ও ফাযায়েল
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - উমার ফারূক (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৪৩। আর আবু দাউদ হযরত আবু যর (রাঃ) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিয়াছেন, আল্লাহ্ তা'আলা ওমরের মুখে সত্য রাখিয়াছেন, কাজেই তিনি হক কথাই বলিয়া থাকেন।
كتاب المناقب
وَفِي رِوَايَةِ أَبِي دَاوُدَ عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِنَّ اللَّهَ وَضَعَ الْحَقَّ عَلَى لِسَان عمر يَقُول بِهِ»
হাদীসের ব্যাখ্যা:
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হযরত উমরের ব্যাপারে বলেছেন যে, আল্লাহ্ তা'আলা তাঁকে যেসব বিশেষ নেয়ামতে ভূষিত করেছেন, এগুলোর মধ্যে একটি এইও যে, তাঁর অন্তরে যা কিছু আসে এবং যা কিছু তিনি মুখে বলেন, তা হক ও সত্যই হয়ে থাকে। তিনি হকই চিন্তা করেন এবং হকই বলেন। এর মর্ম অবশ্য এই নয় যে, তাঁর পক্ষ থেকে ইজতেহাদী ভুলও হয় না। হযরত উমর রাযি. থেকেও কখনো কখনো ইজতেহাদী ভুল হয়ে যেত; কিন্তু হক প্রকাশ হওয়ার পর তিনি এ থেকে ফিরে যেতেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ওফাতের ব্যাপারে এবং তেমনিভাবে যাকাত অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে জেহাদ ও লড়াইয়ের বিরুদ্ধে তাঁর যে অভিমত ছিল, এটা ইজতেহাদী ভুলই ছিল। পরে সত্য স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পর তিনি আপন মত থেকে ফিরে আসেন এবং হযরত আবূ বকর সিদ্দীক রাযি.-এর সাথে ঐকমত্য পোষণ করে নেন। যাহোক, ইজতেহাদী ভুলের এ জাতীয় কয়েকটি ব্যতিক্রমী ঘটনা ছাড়া (যেগুলোতে সত্য প্রকাশ পেয়ে যাওয়ার পর তিনি নিজ মত থেকে ফিরে আসেন,) তিনি যা চিন্তা করেছেন ও বুঝেছেন এবং যেসব বিধান জারী করেছেন, এগুলো সব সঠিক ও হক ছিল। নিঃসন্দেহে এটা তাঁর প্রতি আল্লাহ্ তা'আলার বিশেষ অনুগ্রহ ছিল।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)