আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ

৫০- নবীজীর সাঃ যুদ্ধাভিযানসমূহ

হাদীস নং: ৪১০১
আন্তর্জাতিক নং: ৪৪৪৮
- নবীজীর সাঃ যুদ্ধাভিযানসমূহ
২২৪৭. নবী কারীম (ﷺ)- এর রোগ ও তাঁর ওফাত।
৪১০১। সাঈদ ইবনে উফায়র (রাহঃ) .... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, সোমবারে সাহাবীগণ ফজরের নামাযে ছিলেন। আর আবু বকর (রাযিঃ) তাদের নামাযের জামাতের ইমামতী করছিলেন। হঠাৎ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আয়েশা (রাযিঃ)- এর কক্ষের পর্দা উঠিয়ে তাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করলেন। সাহাবীগণ কাতারবন্দী অবস্থায় নামায আদায় করছিলেন। তখন নবী কারীম (ﷺ) মুচকি হাসি দিলেন। আবূ বকর (রাযিঃ) পেছনে মুক্তাদির সারিতে নামায আদায়ের নিমিত্ত পিছিয়ে আসতে মনস্থ করলেন। তিনি ধারণা করেছিলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজের নামায আদায়ের জন্য বেরিয়ে আসার ইচ্ছা করছেন। আনাস (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর আগমনের আনন্দে সাহাবীগণের নামায ভঙ্গের উপক্রম হয়েছিল। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজ হাতের ইশারায় তাদের নামায পুরা করতে বললেন। তারপর তিনি কক্ষে প্রবেশ করলেন ও পর্দা টেনে দিলেন।
كتاب المغازى
بَابُ مَرَضِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَوَفَاتِهِ
4448 - حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عُفَيْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي اللَّيْثُ، قَالَ: حَدَّثَنِي عُقَيْلٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، أَنَّ المُسْلِمِينَ بَيْنَا هُمْ فِي صَلاَةِ الفَجْرِ مِنْ يَوْمِ الِاثْنَيْنِ، وَأَبُو بَكْرٍ يُصَلِّي لَهُمْ، لَمْ يَفْجَأْهُمْ إِلَّا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ «كَشَفَ سِتْرَ حُجْرَةِ عَائِشَةَ، فَنَظَرَ إِلَيْهِمْ وَهُمْ فِي صُفُوفِ الصَّلاَةِ، ثُمَّ تَبَسَّمَ يَضْحَكُ» ، فَنَكَصَ أَبُو بَكْرٍ عَلَى عَقِبَيْهِ لِيَصِلَ الصَّفَّ، وَظَنَّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُرِيدُ أَنْ يَخْرُجَ إِلَى الصَّلاَةِ، فَقَالَ أَنَسٌ [ص:13]: وَهَمَّ المُسْلِمُونَ أَنْ يَفْتَتِنُوا فِي صَلاَتِهِمْ، فَرَحًا بِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَشَارَ إِلَيْهِمْ بِيَدِهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَنْ أَتِمُّوا صَلاَتَكُمْ ثُمَّ دَخَلَ الحُجْرَةَ وَأَرْخَى السِّتْرَ»

হাদীসের ব্যাখ্যা:

যে দিন হুযূর (ﷺ)-এর ওফাত হয়েছে, সেদিন সকালে তাঁর অবস্থা বাহ্যত খুবই ভাল ও উদ্বেগমুক্ত হয়ে গিয়েছিল। হযরত আনাস রাযি.-এর এ হাদীস থেকে এর পূর্ণ সমর্থন পাওয়া যায় যে, তিনি নিজে নিজে উঠেই হুজরার দরজার নিকট আসলেন। তারপর পর্দা উঠিয়ে দেখলেন এবং সাহাবায়ে কেরামকে কাতারবন্দী হয়ে নামায আদায় করতে দেখে তিনি অত্যন্ত খুশী হলেন, তাঁর চেহারায় আনন্দের দীপ্তি ফুঠে উঠল। আবূ বকর সিদ্দীক রাযি. যখন পেছনে সরে আসতে চাইলেন এবং আশংকা দেখা দিল যে, লোকেরা খুশীর আতিশয্যে নামাযের নিয়্যত ছেড়ে দেয় কি না, তখন তিনি হাত দ্বারা ইশারা করে বললেন যে, তোমরা যেভাবে নামায পড়ছ, সেভাবেই আবূ বকর রাযি.-এর মুক্তাদী হয়ে নামায শেষ করে নাও। এ দিন সকালে হুযুর (ﷺ)-এর শারীরিক অবস্থা বাহ্যত এতটুকু ভাল হয়ে গিয়েছিল যে, হযরত আবূ বকর রাযি. নিশ্চিন্ত হয়ে নিজের বাড়ী 'সুনহ'-এ তাশরীফ নিয়ে গেলেন- যা মসজিদে নববী থেকে বেশ দূরে ছিল।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)