মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
৩১- সাহাবায়ে কিরামের রাঃ মানাকিব ও ফাযায়েল
হাদীস নং: ৬০৯০
- সাহাবায়ে কিরামের রাঃ মানাকিব ও ফাযায়েল
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ -আলী ইবনু আবু ত্বালিব (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৯০। হযরত ইমরান ইবনে হোসাইন (রাঃ) বলেন, নবী (ﷺ) বলিয়াছেনঃ আলী আমার হইতে আর আমি আলী হইতে। আর সে প্রত্যেক মু'মিনের বন্ধু। —তিরমিযী
كتاب المناقب
الْفَصْل الثَّانِي
عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ عَلِيًّا مِنِّي وَأَنَا مِنْهُ وَهُوَ وَلِيُّ كُلِّ مُؤْمِنٍ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
১. “আলী আমার হইতে”—এই কথাটির তাৎপর্য হইল, প্রথমত সে আমার আহলে বায়ত, দ্বিতীয়ত আমার জামাতা, তৃতীয়ত সর্বাগ্রের মুসলমান এবং আমার প্রতি তাহার অগাধ মহব্বত ইত্যাদি নানাবিধ বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান রহিয়াছে।
২. মেশকাত প্রণেতা তিরমিযী শরীফের এ রেওয়ায়াতের এ শেষ অংশটুকুই উল্লেখ করেছেন- যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)এর বাণী। ইমাম তিরমিযী ঐ পূর্ণ ঘটনাটিও বর্ণনা করেছেন, যে প্রসঙ্গে হুযুর (ﷺ) হযরত আলী রাযি.-এর ব্যাপারে এ কথাটি বলেছিলেন।
ঘটনার সারসংক্ষেপ এই যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হযরত আলীকে আমীর বানিয়ে তাঁর নেতৃত্বে একটি সেনা অভিযান পরিচালনা করেছিলেন। আল্লাহ্ তা'আলার সাহায্যে অভিযান সফল হল এবং বিজয় অর্জিত হল। কিন্তু এ অভিযানে অংশগ্রহণকারী কিছু লোক হযরত আলী রাযি.-এর একটি কাজকে সঠিক মনে করলেন না। তাই অভিযান থেকে ফিরে এসে তারা নিজেদের ধারণা অনুযায়ী হুযুর (ﷺ)-এর নিকট অভিযোগ পেশ করলেন। হুযুর (ﷺ)-এর নিকট তাদের এ অভিযোগের বিষয়টি খুবই অপছন্দ হল। কেননা, হযরত আলী রাযি. এর ব্যাপারে অভিযোগটি সঠিক ছিল না; বরং ভুল বুঝাবুঝির ভিত্তিতে সেটা করা হয়েছিল। তাই এখানে হুযুর (ﷺ) অভিযোগকারী লোকদের উপর অসন্তুষ্টি প্রকাশ করলেন এবং হযরত আলী রাযি.-এর প্রতি নিজের আস্থা, বিশেষ ঘনিষ্ঠতা ও ভালবাসার সম্পর্ক প্রকাশ করতে গিয়ে বললেন: إن عليا مني وأنا منه আমাদের প্রচলিত বাকধারায় যার অর্থ হয় তাই 'আলী আমার, আর আমি আলীর।' হযরত আলী রাযি.-এর প্রতি নিজের ভালবাসা ও বিশেষ ঘনিষ্ঠতা ও সম্পর্কের প্রকাশ এ ধরনের শব্দমালায় হুযুর (ﷺ) বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রকাশ করেছেন।
লক্ষণীয় যে, হুযুর (ﷺ) কোন কোন ক্ষেত্রে অন্য কোন কোন সাহাবীর সাথেও নিজের বিশেষ সতর্ক, নৈকট্য ও ভালবাসার প্রকাশ এসব শব্দমালায়ই করেছেন। যেমন, মুসলিম শরীফে বর্ণিত হয়েছে যে, উহুদ যুদ্ধে শাহাদত বরণকারী এক সাহাবী হযরত জুলাইবীব রাযি.-এর লাশের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি বলেছিলেন: هذا مني وأنا منه (অর্থাৎ, জুলাইবীব আমার আর আমি তার) তেমনিভাবে তিনি একবার হযরত আবু মূসা আশআরীর গোত্রের কোন জিহাদের সফরে যায়, অথবা মদীনায় অবস্থানকালেই পানাহার সামগ্রী তাদের কারো কাছে কম হয়ে যায়, তখন যার কাছে যা থাকে এগুলো এক স্থানে জমা করে নেয় এবং সমানভাবে বণ্টন করে নেয়- তাদের ব্যাপারে বলেছিলেন: هم مني وانا منهم (অর্থাৎ, এ আশআরীগণ আমার আর আমি তাদের)। একথা সুস্পষ্ট যে, হুযুর (ﷺ)-এর পক্ষ থেকে এটা ঐ আশআরীদের সাথে বিশেষ ভালবাসা, ঘনিষ্ঠতা ও গভীর সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশের জন্যই বলা হয়েছিল। এ হাদীসটিও ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ মুসলিমে বর্ণনা করেছেন।
হাদীসটির শেষ বাক্য হচ্ছে: وهو ولي كل مؤمن ওলীর অর্থ বন্ধু, সাহায্যকারী ও অভিভাবক। কুরআন মজীদেও এ শব্দটি বিভিন্ন স্থানে এ অর্থসমূহের কোন একটিতে ব্যবহৃত হয়েছে। ব্যাখ্যাধীন এ হাদীসে বাহ্যত এ শব্দটি বন্ধু ও প্রিয়পাত্রের অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। তাই হুযুর (ﷺ)-এর এ বাণীর মর্ম ও দাবী এই যে, প্রতিটি ঈমানদারকে হযরত আলীর সাথে বন্ধুত্ব ও ভালবাসার সম্পর্ক রাখা চাই। আমার সাথে তার বিশেষ সম্পর্কের এটাও একটা দাবী।
আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর নিজের, তাঁর রাসূলে পাকের ও তাঁর প্রতি ভালবাসা পোষণকারীদের (যাদের মধ্যে হযরত আলী রাযি.-এর বিশেষ মাকাম ও মর্যাদা রয়েছে।) ভালবাসা এ অধমকে এবং সকল ঈমানদারকে নসীব করুন।
২. মেশকাত প্রণেতা তিরমিযী শরীফের এ রেওয়ায়াতের এ শেষ অংশটুকুই উল্লেখ করেছেন- যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)এর বাণী। ইমাম তিরমিযী ঐ পূর্ণ ঘটনাটিও বর্ণনা করেছেন, যে প্রসঙ্গে হুযুর (ﷺ) হযরত আলী রাযি.-এর ব্যাপারে এ কথাটি বলেছিলেন।
ঘটনার সারসংক্ষেপ এই যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হযরত আলীকে আমীর বানিয়ে তাঁর নেতৃত্বে একটি সেনা অভিযান পরিচালনা করেছিলেন। আল্লাহ্ তা'আলার সাহায্যে অভিযান সফল হল এবং বিজয় অর্জিত হল। কিন্তু এ অভিযানে অংশগ্রহণকারী কিছু লোক হযরত আলী রাযি.-এর একটি কাজকে সঠিক মনে করলেন না। তাই অভিযান থেকে ফিরে এসে তারা নিজেদের ধারণা অনুযায়ী হুযুর (ﷺ)-এর নিকট অভিযোগ পেশ করলেন। হুযুর (ﷺ)-এর নিকট তাদের এ অভিযোগের বিষয়টি খুবই অপছন্দ হল। কেননা, হযরত আলী রাযি. এর ব্যাপারে অভিযোগটি সঠিক ছিল না; বরং ভুল বুঝাবুঝির ভিত্তিতে সেটা করা হয়েছিল। তাই এখানে হুযুর (ﷺ) অভিযোগকারী লোকদের উপর অসন্তুষ্টি প্রকাশ করলেন এবং হযরত আলী রাযি.-এর প্রতি নিজের আস্থা, বিশেষ ঘনিষ্ঠতা ও ভালবাসার সম্পর্ক প্রকাশ করতে গিয়ে বললেন: إن عليا مني وأنا منه আমাদের প্রচলিত বাকধারায় যার অর্থ হয় তাই 'আলী আমার, আর আমি আলীর।' হযরত আলী রাযি.-এর প্রতি নিজের ভালবাসা ও বিশেষ ঘনিষ্ঠতা ও সম্পর্কের প্রকাশ এ ধরনের শব্দমালায় হুযুর (ﷺ) বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রকাশ করেছেন।
লক্ষণীয় যে, হুযুর (ﷺ) কোন কোন ক্ষেত্রে অন্য কোন কোন সাহাবীর সাথেও নিজের বিশেষ সতর্ক, নৈকট্য ও ভালবাসার প্রকাশ এসব শব্দমালায়ই করেছেন। যেমন, মুসলিম শরীফে বর্ণিত হয়েছে যে, উহুদ যুদ্ধে শাহাদত বরণকারী এক সাহাবী হযরত জুলাইবীব রাযি.-এর লাশের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি বলেছিলেন: هذا مني وأنا منه (অর্থাৎ, জুলাইবীব আমার আর আমি তার) তেমনিভাবে তিনি একবার হযরত আবু মূসা আশআরীর গোত্রের কোন জিহাদের সফরে যায়, অথবা মদীনায় অবস্থানকালেই পানাহার সামগ্রী তাদের কারো কাছে কম হয়ে যায়, তখন যার কাছে যা থাকে এগুলো এক স্থানে জমা করে নেয় এবং সমানভাবে বণ্টন করে নেয়- তাদের ব্যাপারে বলেছিলেন: هم مني وانا منهم (অর্থাৎ, এ আশআরীগণ আমার আর আমি তাদের)। একথা সুস্পষ্ট যে, হুযুর (ﷺ)-এর পক্ষ থেকে এটা ঐ আশআরীদের সাথে বিশেষ ভালবাসা, ঘনিষ্ঠতা ও গভীর সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশের জন্যই বলা হয়েছিল। এ হাদীসটিও ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ মুসলিমে বর্ণনা করেছেন।
হাদীসটির শেষ বাক্য হচ্ছে: وهو ولي كل مؤمن ওলীর অর্থ বন্ধু, সাহায্যকারী ও অভিভাবক। কুরআন মজীদেও এ শব্দটি বিভিন্ন স্থানে এ অর্থসমূহের কোন একটিতে ব্যবহৃত হয়েছে। ব্যাখ্যাধীন এ হাদীসে বাহ্যত এ শব্দটি বন্ধু ও প্রিয়পাত্রের অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। তাই হুযুর (ﷺ)-এর এ বাণীর মর্ম ও দাবী এই যে, প্রতিটি ঈমানদারকে হযরত আলীর সাথে বন্ধুত্ব ও ভালবাসার সম্পর্ক রাখা চাই। আমার সাথে তার বিশেষ সম্পর্কের এটাও একটা দাবী।
আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর নিজের, তাঁর রাসূলে পাকের ও তাঁর প্রতি ভালবাসা পোষণকারীদের (যাদের মধ্যে হযরত আলী রাযি.-এর বিশেষ মাকাম ও মর্যাদা রয়েছে।) ভালবাসা এ অধমকে এবং সকল ঈমানদারকে নসীব করুন।
২. ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)