মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
৩১- সাহাবায়ে কিরামের রাঃ মানাকিব ও ফাযায়েল
হাদীস নং: ৬০৯৬
- সাহাবায়ে কিরামের রাঃ মানাকিব ও ফাযায়েল
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ -আলী ইবনু আবু ত্বালিব (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৯৬। হযরত আলী (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিয়াছেনঃ আমি জ্ঞানের গৃহ আর আলী হইলেন সেই গৃহের দ্বার। —তিরমিযী, আর তিনি বলিয়াছেন, হাদীসটি গরীব। তিনি আরও বলিয়াছেন, কোন কোন রাবী হাদীসটি শারীক নামক রাবী হইতে বর্ণনা করিয়াছেন। তাহারা উহাতে সুনাবেহী রাবীর নাম উল্লেখ করেন নাই এবং শারীক ব্যতীত অন্য কোন নির্ভরযোগ্য রাবী হইতে এই হাদীস আমরা জানিতে পারি নাই।
كتاب المناقب
وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَنَا دَارُ الْحِكْمَةِ وَعَلِيٌّ بَابُهَا» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ وَقَالَ: رَوَى بَعْضُهُمْ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ شَرِيكٍ وَلَمْ يَذْكُرُوا فِيهِ عَنِ الصُّنَابِحِيِّ وَلَا نَعْرِفُ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ أَحَدٍ مِنَ الثِّقَاتِ غَيْرَ شَرِيكٍ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
১. নবী (ﷺ) অপর হাদীসে বলিয়াছেন, আমি এলমের শহর। হযরত আলীকে উহার দ্বার বলার উদ্দেশ্য তাঁহার এলম ও জ্ঞানের বিশেষ স্বীকৃতি। অন্যথায় সমস্ত সাহাবায়ে কেরামকেও এলমের দ্বার বলা যায়। অন্য এক হাদীসে আলী (রাঃ) সম্পর্কে নবী (ﷺ) ইহাও বলিয়াছেন — اقضى هم على অর্থাৎ, সাহাবীদের মধ্যে আলী হইলেন সূক্ষ্ম ও সঠিক বিচারক।
২. এ কথা সবার জানা যে, হযরত আলী রাযি. শিশু বয়সেই রাসূলুল্লাহ (ﷺ)এর দাওয়াতে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং এরপর সর্বদা তাঁরই শিক্ষা ও সাহচর্যাধীন থাকেন। এ জন্য হুযুর (ﷺ)-এর শিক্ষা থেকে বিশেষভাবে উপকৃত হওয়ার বিশেষ সুযোগ তাঁর লাভ হয়। এর ভিত্তিতেই হুযুর (ﷺ) তাঁর ব্যাপারে বলেছেন: أنا دار الحكمة وعلي بابها অন্য একটি বর্ণনার শব্দমালা হচ্ছে এই: أنا مدينة العلم وعلي بابها (আমি হচ্ছি ইলমের নগরী, আর আলী হচ্ছে তার দরজা।)
কিন্তু এ থেকে এ ফল বের করা যে, কেবল হযরত আলী রাযি. ই হুযুর (ﷺ)-এর মাধ্যমে আগত ইলম ও হেকমতের বাহক ও উত্তরাধিকারী ছিলেন এবং তাঁরই মাধ্যমে এটা অর্জন করা যেতে পারে। তিনি ছাড়া অন্য কারো মাধ্যমে হুযূর (ﷺ)-এর আনীত ইলম ও হেকমত অর্জন করা যায় না- এটা চরম পর্যায়ের অজ্ঞতা। কুরআন মজীদে বিভিন্ন স্থানে বলা হয়েছে যে, আল্লাহ্ তা'আলা হুযুর (ﷺ)কে নিরক্ষরদের মধ্যে আপন রাসূল বানিয়ে প্রেরণ করেছেন, যিনি তাদেরকে আল্লাহ তা'আলার আয়াতসমূহ পাঠ করে শোনান এবং তাদেরকে কিতাব ও হেকমতের তা'লীম দান করেন। কুরআন মজীদের এসব আয়াত নির্দেশ করে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে কিতাব ও হেকমতের তা'লীম নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী সকল সাহাবায়ে কেরামই পেয়েছেন। অতএব, তাঁরা সবাই হুযুর (ﷺ)-এর মাধ্যমে আগত ইলম ও হেকমতের মাধ্যম ও দরজা।
একথাটিও প্রণিধানযোগ্য যে, হুযুর (ﷺ)-এর দাওয়াতে হযরত আলী রাযি. যখন ইসলাম গ্রহণ করলেন, তখন তিনি অল্প বয়সের শিশু ছিলেন। তাঁর বয়স প্রসিদ্ধ বর্ণনা অনুযায়ী মাত্র আট অথবা দশ বছর অথবা এর চেয়ে কিছু বেশী ছিল। হুযুর (ﷺ)-এর শিক্ষা থেকে উপকৃত হওয়ার ঐ যোগ্যতা ও ক্ষমতাই তখন তাঁর অর্জিত ছিল, যা সাধারণভাবে ঐ বয়সে হওয়া চাই। কিন্তু হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাযি. যেদিন ইসলাম গ্রহণ করেন, তখন তাঁর বয়স চল্লিশ বছর পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল এবং স্বাভাবিকভাবে হুযুর (ﷺ)-এর ইলম থেকে উপকৃত হওয়ার ঐ পূর্ণ যোগ্যতা ও ক্ষমতা অর্জিত হয়ে গিয়েছিল, যা ঐ বয়সে হওয়া চাই। এ জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মাধ্যমে আগত ইলম ও হেকমতে তার অংশ অন্যান্য সাহাবায়ে কেরাম থেকে সমষ্টিগতভাবে বেশী ছিল।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজের মৃত্যুকালীন অসুস্থতার সময় আবু বকর সিদ্দীক রাযি. কে নিজের স্থানে নামাযের ইমাম বানিয়েছিলেন। এটাও হুযুর (ﷺ)-এর পক্ষ থেকে একটি সনদ ছিল যে, আবু বকর সিদ্দীক রাযি. কিতাব ও হেকমতে সবচেয়ে বেশী পারদর্শী। তারপর সাহাবায়ে কেরাম সর্বসম্মতিক্রমে তাঁকে হুযুর (ﷺ)-এর খলীফা ও উম্মতের ইমাম মেনে নিয়ে কার্যক্ষেত্রে এর স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং এ বাস্তবতার যেন সাক্ষ্য দিয়েছেন।
তাছাড়া এ কথাও লক্ষণীয় যে, বিভিন্ন সাহাবীদের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইলমে দ্বীনের বিভিন্ন শাখায় তাদের অনন্য বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছেন। তারপর এ বাস্তব সত্যের ব্যাপারে কারো কোন সন্দেহ থাকতে পারে না যে, মহান তাবেয়ীগণ বিভিন্ন সাহাবী থেকে হুযুর (ﷺ)-এর আনীত ইলম হাসিল করেছেন- যা আল্লাহ্ তা'আলা মুহাদ্দিসদের মাধ্যমে হাদীসের কিতাবসমূহ সংরক্ষণ করে দিয়েছেন এবং এ থেকেই কিয়ামত পর্যন্ত উম্মত পথ নির্দেশ লাভ করে যাবে। ذٰلِکَ تَقۡدِیۡرُ الۡعَزِیۡزِ الۡعَلِیۡم
একথাও উল্লেখ করার মত যে, আল্লামা ইবনুল জাওযী ও শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া প্রমুখ প্রাজ্ঞ মুহাদ্দিসগণ, ব্যাখ্যাধীন এ হাদীস أنا دار الحكمة الخ কে 'মওযু' আখ্যা দিয়েছিল। স্বয়ং ইমাম তিরমিযী এ হাদীস বর্ণনা করার পর বলেছেন: "هذا حديث غريب منكر
যাহোক, সনদের দৃষ্টিতে এ হাদীস মুহাদ্দিসদের নিকট গ্রহণযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য নয়।
২. এ কথা সবার জানা যে, হযরত আলী রাযি. শিশু বয়সেই রাসূলুল্লাহ (ﷺ)এর দাওয়াতে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং এরপর সর্বদা তাঁরই শিক্ষা ও সাহচর্যাধীন থাকেন। এ জন্য হুযুর (ﷺ)-এর শিক্ষা থেকে বিশেষভাবে উপকৃত হওয়ার বিশেষ সুযোগ তাঁর লাভ হয়। এর ভিত্তিতেই হুযুর (ﷺ) তাঁর ব্যাপারে বলেছেন: أنا دار الحكمة وعلي بابها অন্য একটি বর্ণনার শব্দমালা হচ্ছে এই: أنا مدينة العلم وعلي بابها (আমি হচ্ছি ইলমের নগরী, আর আলী হচ্ছে তার দরজা।)
কিন্তু এ থেকে এ ফল বের করা যে, কেবল হযরত আলী রাযি. ই হুযুর (ﷺ)-এর মাধ্যমে আগত ইলম ও হেকমতের বাহক ও উত্তরাধিকারী ছিলেন এবং তাঁরই মাধ্যমে এটা অর্জন করা যেতে পারে। তিনি ছাড়া অন্য কারো মাধ্যমে হুযূর (ﷺ)-এর আনীত ইলম ও হেকমত অর্জন করা যায় না- এটা চরম পর্যায়ের অজ্ঞতা। কুরআন মজীদে বিভিন্ন স্থানে বলা হয়েছে যে, আল্লাহ্ তা'আলা হুযুর (ﷺ)কে নিরক্ষরদের মধ্যে আপন রাসূল বানিয়ে প্রেরণ করেছেন, যিনি তাদেরকে আল্লাহ তা'আলার আয়াতসমূহ পাঠ করে শোনান এবং তাদেরকে কিতাব ও হেকমতের তা'লীম দান করেন। কুরআন মজীদের এসব আয়াত নির্দেশ করে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে কিতাব ও হেকমতের তা'লীম নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী সকল সাহাবায়ে কেরামই পেয়েছেন। অতএব, তাঁরা সবাই হুযুর (ﷺ)-এর মাধ্যমে আগত ইলম ও হেকমতের মাধ্যম ও দরজা।
একথাটিও প্রণিধানযোগ্য যে, হুযুর (ﷺ)-এর দাওয়াতে হযরত আলী রাযি. যখন ইসলাম গ্রহণ করলেন, তখন তিনি অল্প বয়সের শিশু ছিলেন। তাঁর বয়স প্রসিদ্ধ বর্ণনা অনুযায়ী মাত্র আট অথবা দশ বছর অথবা এর চেয়ে কিছু বেশী ছিল। হুযুর (ﷺ)-এর শিক্ষা থেকে উপকৃত হওয়ার ঐ যোগ্যতা ও ক্ষমতাই তখন তাঁর অর্জিত ছিল, যা সাধারণভাবে ঐ বয়সে হওয়া চাই। কিন্তু হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাযি. যেদিন ইসলাম গ্রহণ করেন, তখন তাঁর বয়স চল্লিশ বছর পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল এবং স্বাভাবিকভাবে হুযুর (ﷺ)-এর ইলম থেকে উপকৃত হওয়ার ঐ পূর্ণ যোগ্যতা ও ক্ষমতা অর্জিত হয়ে গিয়েছিল, যা ঐ বয়সে হওয়া চাই। এ জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মাধ্যমে আগত ইলম ও হেকমতে তার অংশ অন্যান্য সাহাবায়ে কেরাম থেকে সমষ্টিগতভাবে বেশী ছিল।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজের মৃত্যুকালীন অসুস্থতার সময় আবু বকর সিদ্দীক রাযি. কে নিজের স্থানে নামাযের ইমাম বানিয়েছিলেন। এটাও হুযুর (ﷺ)-এর পক্ষ থেকে একটি সনদ ছিল যে, আবু বকর সিদ্দীক রাযি. কিতাব ও হেকমতে সবচেয়ে বেশী পারদর্শী। তারপর সাহাবায়ে কেরাম সর্বসম্মতিক্রমে তাঁকে হুযুর (ﷺ)-এর খলীফা ও উম্মতের ইমাম মেনে নিয়ে কার্যক্ষেত্রে এর স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং এ বাস্তবতার যেন সাক্ষ্য দিয়েছেন।
তাছাড়া এ কথাও লক্ষণীয় যে, বিভিন্ন সাহাবীদের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইলমে দ্বীনের বিভিন্ন শাখায় তাদের অনন্য বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছেন। তারপর এ বাস্তব সত্যের ব্যাপারে কারো কোন সন্দেহ থাকতে পারে না যে, মহান তাবেয়ীগণ বিভিন্ন সাহাবী থেকে হুযুর (ﷺ)-এর আনীত ইলম হাসিল করেছেন- যা আল্লাহ্ তা'আলা মুহাদ্দিসদের মাধ্যমে হাদীসের কিতাবসমূহ সংরক্ষণ করে দিয়েছেন এবং এ থেকেই কিয়ামত পর্যন্ত উম্মত পথ নির্দেশ লাভ করে যাবে। ذٰلِکَ تَقۡدِیۡرُ الۡعَزِیۡزِ الۡعَلِیۡم
একথাও উল্লেখ করার মত যে, আল্লামা ইবনুল জাওযী ও শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া প্রমুখ প্রাজ্ঞ মুহাদ্দিসগণ, ব্যাখ্যাধীন এ হাদীস أنا دار الحكمة الخ কে 'মওযু' আখ্যা দিয়েছিল। স্বয়ং ইমাম তিরমিযী এ হাদীস বর্ণনা করার পর বলেছেন: "هذا حديث غريب منكر
যাহোক, সনদের দৃষ্টিতে এ হাদীস মুহাদ্দিসদের নিকট গ্রহণযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য নয়।
২. ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)