মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
৩১- সাহাবায়ে কিরামের রাঃ মানাকিব ও ফাযায়েল
হাদীস নং: ৬১১২
- সাহাবায়ে কিরামের রাঃ মানাকিব ও ফাযায়েল
প্রথম অনুচ্ছেদ - আশারাহ্ মুবাশশারা রাযিয়াল্লাহু আনহুমা-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১১২। হযরত আলী (রাঃ) বলেন, নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওহুদ যুদ্ধের দিন সা'দ ইবনে মালেক (আবু ওয়াক্কাস) ব্যতীত আর কাহারও উদ্দেশ্যে নিজের পিতা-মাতাকে একত্রিত করিতে আমি শুনি নাই। আমি শুনিয়াছি, ওহুদ যুদ্ধের দিন তিনি (সা'দকে লক্ষ্য করিয়া বলিয়াছেন: হে সা'দ। (শত্রুর প্রতি) তীর নিক্ষেপ কর। আমার পিতা ও আমার মাতা তোমার জন্য কোরবান। —মোত্তাঃ
كتاب المناقب
وَعَن عليٍّ قَالَ: مَا سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَمَعَ أَبَوَيْهِ لِأَحَدٍ إِلَّا لِسَعْدِ بْنِ مَالِكٍ فَإِنِّي سَمِعْتُهُ يَقُولُ يَوْمَ أُحُدٍ: «يَا سَعْدُ ارْمِ فَدَاكَ أَبِي وَأُمِّي» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
১. অপর এক রেওয়ায়তে আছে, নবী (ﷺ) হযরত যুবায়রের জন্য তাঁহার পিতা-মাতা কোরবান বলিয়াছিলেন। হয়তো হযরত আলী তাহা জানিতেন না। অথবা তিনি শুধু ওহুদ যুদ্ধের কথা উল্লেখ করিয়াছেন। সুতরাং উভয় হাদীসের মধ্যে কোন বিরোধ থাকে না।
২. হযরত আলী রাযি. এর এ হাদীসে হযরত সা'দ ইবনে মালেক দ্বারা উদ্দেশ্য 'সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস'। তার পিতার নাম ছিল মালেক, আর উপনাম ছিল আবু ওয়াক্কাছ।
উহুদ যুদ্ধে সাহাবায়ে কেরামের মধ্য থেকে যারা আল্লাহ্ তা'আলার তাওফীকে সম্পূর্ণ দৃঢ়পদ ছিলেন, তাদের মধ্যে হযরত সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাসও অন্যতম ছিলেন। তিনি তীরান্দাজীতে অত্যন্ত সুকৌশলী ও অভিজ্ঞ ছিলেন। তিনি যুদ্ধের ময়দানে হুযুর (ﷺ)-এর কাছেই ছিলেন। তীরের পর তীর চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় হুযুর (ﷺ) বলেছিলেন: يا سَعْدُ ارْمِ, فِدَاكَ أَبِي وَأُمِّي (হে সা'দ! তোমার উপর আমার মাতা-পিতা কোরবান হোন। এভাবেই তীর চালিয়ে যাও।)
হুযুর (ﷺ)-এর পক্ষ থেকে এটা কেবল সাহস যোগানোই ছিল না; বরং অতি উত্তম শব্দ মালায় নিজের চরম আন্তরিক খুশি ও সন্তুষ্টির প্রকাশও ছিল। শরহুস সুন্নাহ কিতাবে স্বয়ং হযরত সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাসের বর্ণনা রয়েছে যে, উহুদের যুদ্ধের দিন হুযুর (ﷺ) তাঁর জন্য এ দু‘আও করেছিলেন: اللهم سدد رميته وأجب دعوته (হে আল্লাহ! তুমি সাদের তীরান্দাজীতে শক্তি যোগাও এবং তাঁর দু‘আ কবুল করে নাও।)
তিরমিযী শরীফে হযরত সা'দ রাযি.-এরই বর্ণনায় হুযুর (ﷺ) এর দু‘আর এ শব্দমালা উল্লেখ করা হয়েছে: اللهم استجب لسعد إذا دعاك হে আল্লাহ! সা'দ যখন তোমার নিকট কোন দু‘আ করে, তখন তা তুমি কবুল করে নিয়ো।)
হুযুর (ﷺ)-এর এ দু‘আর ফল এই ছিল যে, হযরত সা'দ যে দু‘আ করতেন তা সাধারণত কবুল হয়েই যেত। এ জন্য লোকেরা তাঁর কাছ থেকে দু‘আ নিত এবং তাঁর বদ দু‘আকে খুব ভয় করত।
২. হযরত আলী রাযি. এর এ হাদীসে হযরত সা'দ ইবনে মালেক দ্বারা উদ্দেশ্য 'সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস'। তার পিতার নাম ছিল মালেক, আর উপনাম ছিল আবু ওয়াক্কাছ।
উহুদ যুদ্ধে সাহাবায়ে কেরামের মধ্য থেকে যারা আল্লাহ্ তা'আলার তাওফীকে সম্পূর্ণ দৃঢ়পদ ছিলেন, তাদের মধ্যে হযরত সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাসও অন্যতম ছিলেন। তিনি তীরান্দাজীতে অত্যন্ত সুকৌশলী ও অভিজ্ঞ ছিলেন। তিনি যুদ্ধের ময়দানে হুযুর (ﷺ)-এর কাছেই ছিলেন। তীরের পর তীর চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় হুযুর (ﷺ) বলেছিলেন: يا سَعْدُ ارْمِ, فِدَاكَ أَبِي وَأُمِّي (হে সা'দ! তোমার উপর আমার মাতা-পিতা কোরবান হোন। এভাবেই তীর চালিয়ে যাও।)
হুযুর (ﷺ)-এর পক্ষ থেকে এটা কেবল সাহস যোগানোই ছিল না; বরং অতি উত্তম শব্দ মালায় নিজের চরম আন্তরিক খুশি ও সন্তুষ্টির প্রকাশও ছিল। শরহুস সুন্নাহ কিতাবে স্বয়ং হযরত সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাসের বর্ণনা রয়েছে যে, উহুদের যুদ্ধের দিন হুযুর (ﷺ) তাঁর জন্য এ দু‘আও করেছিলেন: اللهم سدد رميته وأجب دعوته (হে আল্লাহ! তুমি সাদের তীরান্দাজীতে শক্তি যোগাও এবং তাঁর দু‘আ কবুল করে নাও।)
তিরমিযী শরীফে হযরত সা'দ রাযি.-এরই বর্ণনায় হুযুর (ﷺ) এর দু‘আর এ শব্দমালা উল্লেখ করা হয়েছে: اللهم استجب لسعد إذا دعاك হে আল্লাহ! সা'দ যখন তোমার নিকট কোন দু‘আ করে, তখন তা তুমি কবুল করে নিয়ো।)
হুযুর (ﷺ)-এর এ দু‘আর ফল এই ছিল যে, হযরত সা'দ যে দু‘আ করতেন তা সাধারণত কবুল হয়েই যেত। এ জন্য লোকেরা তাঁর কাছ থেকে দু‘আ নিত এবং তাঁর বদ দু‘আকে খুব ভয় করত।
২. ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)