আল মুওয়াত্তা - ইমাম মালিক রহঃ
৭. রাত্রে নফল নামায
হাদীস নং: ২৬১
রাত্রে নফল নামায
৩. বিতর (নামায)-এর নির্দেশ
রেওয়ায়ত ১৪. আব্দুল্লাহ ইবনে মুহায়রীয (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, কেনানা গোত্রের এক ব্যক্তি, যাহাকে মুখদাজী বলা হইত, তিনি শাম দেশের এক ব্যক্তিকে (যাহার উপনাম আবু মুহাম্মাদ) বলিতে শুনিয়াছেন যে, বিতর-এর নামায ওয়াজিব। মুখদাজী বলিলেনঃ আমি উবাদা ইবনে সামিত (রাযিঃ)-এর নিকট গেলাম, তিনি তখন মসজিদে গমন করিতেছিলেন। আমি তাহার পথ আটকাইয়া দাঁড়াইলাম। অতঃপর আবু মুহাম্মাদ যাহা বলিয়াছেন তাহাকে উহার খবর দিলাম। উবাদা (রাযিঃ) বলিলেনঃ আবু মুহাম্মাদ অসত্য বলিয়াছে। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলিতে শুনিয়াছিঃ আল্লাহ তাআলা বান্দাদের উপর পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয করিয়াছেন। যে ব্যক্তি উহা আদায় করিবে এবং তুচ্ছ ধারণা করিয়া উহার কোন প্রকার হক নষ্ট করিবে না, তাহার জন্য আল্লাহর নিকট এই প্রতিজ্ঞা রহিল যে, তিনি তাহাকে বেহেশতে প্রবেশ করাইবেন। আর যে উহা আদায় করিবে না, তাহার প্রতি আল্লাহর কোন অঙ্গীকার থাকিবে না। তিনি ইচ্ছা করিলে তাহাকে শাস্তি দিবেন এবং ইচ্ছা করিলে তাহাকে জান্নাতেও দাখিল করিতে পারেন।
كتاب صلاة الليل
بَاب الْأَمْرِ بِالْوِتْرِ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ عَنْ ابْنِ مُحَيْرِيزٍ أَنَّ رَجُلًا مِنْ بَنِي كِنَانَةَ يُدْعَى الْمُخْدَجِيَّ سَمِعَ رَجُلًا بِالشَّامِ يُكَنَّى أَبَا مُحَمَّدٍ يَقُولُ إِنَّ الْوِتْرَ وَاجِبٌ فَقَالَ الْمُخْدَجِيُّ فَرُحْتُ إِلَى عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ فَاعْتَرَضْتُ لَهُ وَهُوَ رَائِحٌ إِلَى الْمَسْجِدِ فَأَخْبَرْتُهُ بِالَّذِي قَالَ أَبُو مُحَمَّدٍ فَقَالَ عُبَادَةُ كَذَبَ أَبُو مُحَمَّدٍ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ خَمْسُ صَلَوَاتٍ كَتَبَهُنَّ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ عَلَى الْعِبَادِ فَمَنْ جَاءَ بِهِنَّ لَمْ يُضَيِّعْ مِنْهُنَّ شَيْئًا اسْتِخْفَافًا بِحَقِّهِنَّ كَانَ لَهُ عِنْدَ اللَّهِ عَهْدٌ أَنْ يُدْخِلَهُ الْجَنَّةَ وَمَنْ لَمْ يَأْتِ بِهِنَّ فَلَيْسَ لَهُ عِنْدَ اللَّهِ عَهْدٌ إِنْ شَاءَ عَذَّبَهُ وَإِنْ شَاءَ أَدْخَلَهُ الْجَنَّةَ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
যে মু'মিন ব্যক্তি পূর্ণ গুরুত্ব ও একাগ্রতার সাথে উত্তমরূপে সালাত আদায় করবে সে প্রথমতঃ নিজকে পাপমুক্ত রাখল। এরপরেও যদি সে শয়তানের প্ররোচনায় পড়ে অথবা নফসের ধোঁকায় পড়ে কখনো শাস্তিযোগ্য পাপ করে, তথাপিও সালাতের বরকতে তাকে তাওবা ও ক্ষমার তাওফীক দেওয়া হবে (বাস্তবে এমন বহু ঘটনা ঘটতে দেয়া যায়)। এতদ্ব্যতীত সালাত তার পাপের কাফ্ফারা ও প্রতিবিধান হয়ে যাবে। এছাড়াও সালাত অপরাপর পাপের ময়লা পরিষ্কার করে বান্দাকে আল্লাহর বিশেষ রহমতের হকদার বানায়। কারণ সালাত এমন ইবাদত যাতে ফিরিশতারা ঈর্ষাবোধ করেন। সুতরাং যে লোক যাবতীয় শর্ত, নিয়ম কানুন পূর্ণ গুরুত্ব ভীতি ও একাগ্রতার সাথে সালাত করবে তার জন্য ক্ষমা প্রাপ্তির নিশ্চয়তা রয়েছে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি মুসলিম হওয়ার দাবিদার অথচ সালাতের ব্যাপারে অসচেতন, তার ব্যাপারে আল্লাহ্ ইচ্ছা করলে তাকে শাস্তি দিবেন অথবা নিজ করুণায় ক্ষমা দিবেন। তবে সে ব্যক্তি নিঃসন্দেহে ভয়াবহ বিপদের সম্মুখীন হবে এবং তার মুক্তি পাবার কোন নিশ্চয়তা নেই।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)