আল মুওয়াত্তা - ইমাম মালিক রহঃ
১৫. কুরআনে কারীম সংশ্লিষ্ট
হাদীস নং: ৪৮৬
কুরআনে কারীম সংশ্লিষ্ট
৮. দুআ প্রসঙ্গ
রেওয়ায়ত ৩১. উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা (রাযিঃ) বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পার্শ্বে (একবার) নিদ্রিত ছিলাম। রাত্রির এক অংশে আমি তাহাকে হারাইয়া ফেলিলাম। তারপর (সন্ধান করিতে করিতে এক পর্যায়ে) আমার হাত দ্বারা তাহাকে স্পর্শ করলাম এবং আমি আমার হাত তাঁহার উভয় কদমের উপর স্থাপন করিলাম। তিনি তখন সিজদায় ছিলেন এবং বলিতেছিলেনঃ
أَعُوذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ وَبِمُعَافَاتِكَ مِنْ عُقُوبَتِكَ وَبِكَ مِنْكَ لاَ أُحْصِي ثَنَاءً عَلَيْكَ *أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلَى نَفْسِكَ
*অর্থাৎ, আমি আপনার ক্রোধ হইতে আপনার সন্তুষ্টির, আপনার আযাব হইতে আপনার ক্ষমার শরণ লইতেছি। আপনার শরণ লইতেছি আপনার দ্বারা আপনারই পক্ষ হইতে। আপনার প্রশংসার উপযুক্ত হক আমি আদায় করিতে পারিব না। আপনি সেইরূপ যেরূপ আপনি স্বয়ং নিজের সত্তার প্রশংসা করিয়াছেন।
أَعُوذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ وَبِمُعَافَاتِكَ مِنْ عُقُوبَتِكَ وَبِكَ مِنْكَ لاَ أُحْصِي ثَنَاءً عَلَيْكَ *أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلَى نَفْسِكَ
*অর্থাৎ, আমি আপনার ক্রোধ হইতে আপনার সন্তুষ্টির, আপনার আযাব হইতে আপনার ক্ষমার শরণ লইতেছি। আপনার শরণ লইতেছি আপনার দ্বারা আপনারই পক্ষ হইতে। আপনার প্রশংসার উপযুক্ত হক আমি আদায় করিতে পারিব না। আপনি সেইরূপ যেরূপ আপনি স্বয়ং নিজের সত্তার প্রশংসা করিয়াছেন।
كتاب القرآن
بَاب مَا جَاءَ فِي الدُّعَاءِ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْحَارِثِ التَّيْمِيِّ أَنَّ عَائِشَةَ أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ قَالَتْ كُنْتُ نَائِمَةً إِلَى جَنْبِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَفَقَدْتُهُ مِنْ اللَّيْلِ فَلَمَسْتُهُ بِيَدِي فَوَضَعْتُ يَدِي عَلَى قَدَمَيْهِ وَهُوَ سَاجِدٌ يَقُولُ أَعُوذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ وَبِمُعَافَاتِكَ مِنْ عُقُوبَتِكَ وَبِكَ مِنْكَ لَا أُحْصِي ثَنَاءً عَلَيْكَ أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلَى نَفْسِكَ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
সুবহানাল্লাহ্! এই দু'আটি কতই না সূক্ষ্মমর্ম সম্বলিত! দু'আর মূল কথা হচ্ছে এই আল্লাহর অসন্তুষ্টি, আল্লাহর পাকড়াও আল্লাহর শাস্তি এবং তাঁর মহিমাময় সত্তার থেকে তিনি ছাড়া কোন আশ্রয় নেই। কাজেই তাঁর অনুগ্রহ সাহায্য এবং দয়ার্দ্র সত্তাই কেবল আশ্রয় দিতে পারে। হযরত আলী (রা) বর্ণিত হাদীসে শুধু এতটুকু কথা উল্লেখিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর সালাতুল বিতরের শেষ রাক'আতে এই দু'আ পাঠ করতেন। এর মর্ম এত হতে পারে যে, নবী ﷺ তৃতীয় রাক'আতে কুনূত হিসেবে এই দু'আ পাঠ করতেন। কোন কোন বিশেষজ্ঞ আলিম এই অর্থ বুঝেছেন। আবার হাদীসের মর্ম এও হতে পারে যে, বিতর সালাতের শেষ বৈঠকের সালামের পূর্বে অথবা সালামের পরে এই দু'আ পাঠ করতেন। হাদীসের মর্ম এও হতে পারে যে, বিতরের শেষ সিজদায় নবী ﷺ এই দু'আ পাঠ করতেন। সহীহ্ মুসলিমে হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, একদা তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে রাতের সালাতে এই দু'আ পাঠ করতে শোনেন। মোটকথা এ সব ব্যাখ্যাই সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আল্লাহ্ তা'আলা আমাদেরকে আমলের তাওফীক দিন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)