আল মুওয়াত্তা - ইমাম মালিক রহঃ
১৫. কুরআনে কারীম সংশ্লিষ্ট
হাদীস নং: ৫০১
কুরআনে কারীম সংশ্লিষ্ট
১০. ফজর ও আসরের পর নামায নিষিদ্ধ হওয়া
রেওয়ায়ত ৪৬. আলী ইবনে আব্দুর রহমান (রাহঃ) বলেনঃ আমরা যোহরের পর আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ)-এর নিকট প্রবেশ করিলাম, তিনি আসর পড়িতে দাঁড়াইলেন। যখন তিনি নামায সমাপ্ত করিলেন, তখন নামাযে তাড়াতাড়ি করার বিষয় উল্লেখ করিলাম অথবা তিনি উল্লেখ করিলেন। অতঃপর তিনি বলিলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলিতে শুনিয়াছি- উহা মুনাফিকদের নামায, উহা মুনাফিকদের নামায, উহা মুনাফিকদের নামায। তাহাদের একজন বসিয়া থাকে। যখন সূর্য হলুদ বর্ণের হইয়া যায় এবং উহা মিলিত হয় শয়তানের শিংয়ের সাথে। সে উঠে এবং চারটি ঠোকর মারে। উহাতে আল্লাহকে স্মরণ করে অতি অল্প।
كتاب القرآن
بَاب النَّهْيِ عَنْ الصَّلَاةِ بَعْدَ الصُّبْحِ وَبَعْدَ الْعَصْرِ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ الْعَلَاءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ قَالَ دَخَلْنَا عَلَى أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ بَعْدَ الظُّهْرِ فَقَامَ يُصَلِّي الْعَصْرَ فَلَمَّا فَرَغَ مِنْ صَلَاتِهِ ذَكَرْنَا تَعْجِيلَ الصَّلَاةِ أَوْ ذَكَرَهَا فَقَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ تِلْكَ صَلَاةُ الْمُنَافِقِينَ تِلْكَ صَلَاةُ الْمُنَافِقِينَ تِلْكَ صَلَاةُ الْمُنَافِقِينَ يَجْلِسُ أَحَدُهُمْ حَتَّى إِذَا اصْفَرَّتْ الشَّمْسُ وَكَانَتْ بَيْنَ قَرْنَيْ الشَّيْطَانِ أَوْ عَلَى قَرْنِ الشَّيْطَانِ قَامَ فَنَقَرَ أَرْبَعًا لَا يَذْكُرُ اللَّهَ فِيهَا إِلَّا قَلِيلًا
হাদীসের ব্যাখ্যা:
নামায মুসলমানের চোখ শীতলকারী এবং অন্তরের শান্তি দানকারী। নামাযের সময় উপস্থিত হলে স্রষ্টার সঙ্গে মিলিত হওয়ার জন্য মু'মিনের মন ব্যাকুল হয়ে উঠে। তাই মুমিন ব্যক্তি তার যাবতীয় কাজকর্ম ত্যাগ করে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের জন্য সময় মত নামাযে মশগুল হয়। অপরদিকে মুনাফিকের নিকট নামায খুবই অপছন্দনীয়। মানুষকে দেখানোর জন্য বা কোনরূপ স্বার্থের বশবর্তী হয়ে সে নামায পড়ে। যেহেতু তার মনে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের মহব্বত নেই এবং বিচারের দিনেও বিশ্বাসী নয় তাই নামাযের প্রতি মুনাফিকের কোন অনুরাগ নেই। হৃদয়ের আকর্ষণ না থাকার দরুন মুনাফিক সময়মত নামায পড়তে পারে না। কোন কাজের বাহানা করে বিলম্ব করতে থাকে। কোন কাজ না থাকলেও অনর্থক বসে বসে সময় নষ্ট করে। অন্তিম সময়ে নামাযের জন্য দাঁড়ালেও মন তার নামাযের জন্য প্রস্তুত থাকে না, নামাযের আদাব ও আরকান পূর্ণভাবে আদায় করে না। তাই সবদিক থেকে তার নামায অপূর্ণ এবং ত্রুটিযুক্ত থাকে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)