আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ
৫১- কুরআনের তাফসীর অধ্যায়
হাদীস নং: ৪১৯৫
আন্তর্জাতিক নং: ৪৫৫২
- কুরআনের তাফসীর অধ্যায়
২৩১০. আল্লাহর বাণীঃ যারা আল্লাহর সাথে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মুল্যে বিক্রয় করে, আখেরাতে তাদের কোন অংশ নেই (৩ঃ ৭৭)
৪১৯৫। নসর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... ইবনে আবু মূলায়কা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, দু’জন মহিলা একটি ঘর কিংবা একটি কক্ষে সেলাই করছিল। হাতের তালুতে সুই বিদ্ধ হয়ে তাদের একজন বেরিয়ে পড়ল এবং অপর জনের বিরুদ্ধে সুই ফুটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ করল। এই ব্যাপারটি ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) এর নিকট উপস্থাপন করা হলে তিনি বললেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, যদি শুধু মাত্র দাবির উপর ভিত্তি করে মানুষের দাবি পূরণ করা হয়, তাহলে তাদের জান ও মালের নিরাপত্তা থাকবে না। সুতরাং তোমরা বিবাদীদের আল্লাহর নামে শপথ করাও এবং এ আয়াত তার সম্মুখে পাঠ কর। এরপর তারা তাকে শপথ করাল এবং সে নিজ দোষ স্বীকার করল। ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বললে যে, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, শপথ করা বিবাদীর জন্য প্রযোজ্য। যদি বাদীর দলীল না থাকে।
كتاب التفسير
باب إن الذين يشترون بعهد الله وأيمانهم ثمنا قليلا أولئك لا خلاق لهم
حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ نَصْرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دَاوُدَ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، أَنَّ امْرَأَتَيْنِ، كَانَتَا تَخْرِزَانِ فِي بَيْتٍ ـ أَوْ فِي الْحُجْرَةِ ـ فَخَرَجَتْ إِحْدَاهُمَا وَقَدْ أُنْفِذَ بِإِشْفًى فِي كَفِّهَا، فَادَّعَتْ عَلَى الأُخْرَى، فَرُفِعَ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ، فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَوْ يُعْطَى النَّاسُ بِدَعْوَاهُمْ لَذَهَبَ دِمَاءُ قَوْمٍ وَأَمْوَالُهُمْ ". ذَكِّرُوهَا بِاللَّهِ وَاقْرَءُوا عَلَيْهَا (إِنَّ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللَّهِ). فَذَكَّرُوهَا فَاعْتَرَفَتْ، فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " الْيَمِينُ عَلَى الْمُدَّعَى عَلَيْهِ ".
হাদীসের ব্যাখ্যা:
যদি কোন ব্যক্তি বিচারক ও কাযীর আদালতে অন্য কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন দাবি অথবা অভিযোগ পেশ করে তবে দাবি পেশকারী যতই নির্ভরযোগ্য, উত্তম ও উঁচু মর্যাদার হোন না কেন, কেবল তার দাবির ভিত্তিতে বিচারক তার পক্ষে ফায়সালা করতে পারেন না। ইসলামী আইনে প্রত্যেক দাবির জন্য যথানিয়মে সাক্ষী-প্রমাণ প্রয়োজন। যদি দাবিদার সাক্ষী প্রমাণ পেশ করতে না পারে তখন অভিযুক্তকে বলা হবে যদি তার দাবি গ্রহণ না কর তবে শপথ করে বল, এ দাবি মিথ্যা।
অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি এরূপ শপথ করতে অস্বীকার করে তবে দাবি সঠিক মনে করে ডিক্রি দেওয়া হবে। আর যদি সে শপথসহ দাবিকারীর দাবি মিথ্যা প্রতিপন্ন করে তবে, দাবি খারিজ করে অভিযুক্তের পক্ষে ফায়সালা দেওয়া হবে। এটা আদালতের আইন ও রীতি যা রাসূলুল্লাহ ﷺ দিকনির্দেশ প্রদান করেছেন এবং এটা স্বয়ং তার কর্মপদ্ধতি ছিল।
এ বর্ণনার শব্দাবলীতে দাবিদারের নিকট প্রমাণ ও সাক্ষী তলব করার উল্লেখ নেই। কেবল অভিযুক্তের নিকট থেকে অস্বীকার মূলক শপথ গ্রহণের উল্লেখ আছে। কিন্তু সহীহ মুসলিমের ভাষ্যকার ইমাম নববী মুসলিমের ভাষ্যে লিখেন যে, এ হাদীসকে ইমাম বায়হাকীও হাসান অথবা বিশুদ্ধ সনদে বর্ণনা করেছেন। আর তাতে প্রথমে দাবিদারের নিকট প্রমাণ ও সাক্ষী তলব করার কথা উল্লেখ রয়েছে। সে হাদীসের শেষ শব্দাবলী এই:
-ولكنَّ الْبَيِّنَةَ عَلَى الْمُدَّعِي وَالْيَمِينُ على من انكر
কিন্তু কেবল কারো দাবির ওপর তার পক্ষে ফায়সালা যাবে না, বরং প্রমাণ তলব করা হবে এবং প্রমাণ ও সাক্ষী না থাকাবস্থায় বিবাদী থেকে শপথসহ অস্বীকারমূলক বক্তব্য গ্রহণ করা হবে।
অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি এরূপ শপথ করতে অস্বীকার করে তবে দাবি সঠিক মনে করে ডিক্রি দেওয়া হবে। আর যদি সে শপথসহ দাবিকারীর দাবি মিথ্যা প্রতিপন্ন করে তবে, দাবি খারিজ করে অভিযুক্তের পক্ষে ফায়সালা দেওয়া হবে। এটা আদালতের আইন ও রীতি যা রাসূলুল্লাহ ﷺ দিকনির্দেশ প্রদান করেছেন এবং এটা স্বয়ং তার কর্মপদ্ধতি ছিল।
এ বর্ণনার শব্দাবলীতে দাবিদারের নিকট প্রমাণ ও সাক্ষী তলব করার উল্লেখ নেই। কেবল অভিযুক্তের নিকট থেকে অস্বীকার মূলক শপথ গ্রহণের উল্লেখ আছে। কিন্তু সহীহ মুসলিমের ভাষ্যকার ইমাম নববী মুসলিমের ভাষ্যে লিখেন যে, এ হাদীসকে ইমাম বায়হাকীও হাসান অথবা বিশুদ্ধ সনদে বর্ণনা করেছেন। আর তাতে প্রথমে দাবিদারের নিকট প্রমাণ ও সাক্ষী তলব করার কথা উল্লেখ রয়েছে। সে হাদীসের শেষ শব্দাবলী এই:
-ولكنَّ الْبَيِّنَةَ عَلَى الْمُدَّعِي وَالْيَمِينُ على من انكر
কিন্তু কেবল কারো দাবির ওপর তার পক্ষে ফায়সালা যাবে না, বরং প্রমাণ তলব করা হবে এবং প্রমাণ ও সাক্ষী না থাকাবস্থায় বিবাদী থেকে শপথসহ অস্বীকারমূলক বক্তব্য গ্রহণ করা হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)