আল মুওয়াত্তা - ইমাম মালিক রহঃ
৪৫. বিভিন্ন প্রকারের মাসআলা সম্বলিত অধ্যায়
হাদীস নং: ১৬৩৪
বিভিন্ন প্রকারের মাসআলা সম্বলিত অধ্যায়
১. মদীনা ও মদীনাবাসীদের জন্য দুআ
রেওয়ায়ত ২. আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেন, যখন কেহ বাগান হইতে প্রথম ফল আনিত তখন তাহা প্রথমত রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খিদমতে লইয়া আসিত। তিনি উহা লইয়া বলিতেন, হে আল্লাহ, আমাদের ফলে বরকত দান করুন। আমাদের শহরে বরকত দান করুন। হে আল্লাহ্! আপনার বান্দা আপনার বন্ধু ও নবী ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) মক্কার জন্য দুআ করিয়াছিলেন। আমি আপনার নিকট মদীনার জন্য দুআ করিতেছি। আমি আপনার বান্দা ও নবী যেরূপ ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) মক্কার জন্য দুআ করিয়াছিলেন আমি তদ্রূপ মদীনার জন্য দুআ করিতেছি। দুআর শেষে তিনি সকলের চাইতে ছোট যে ছেলেকে তথায় পাইতেন তাহাকে ডাকিয়া উহা তাহাকে দিয়া দিতেন।
كتاب الجامع
باب فضائل المدينة الدُّعَاءِ لِلْمَدِينَةِ وَأَهْلِهَا
وَحَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّهُ قَالَ كَانَ النَّاسُ إِذَا رَأَوْا أَوَّلَ الثَّمَرِ جَاءُوا بِهِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَإِذَا أَخَذَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي ثَمَرِنَا وَبَارِكْ لَنَا فِي مَدِينَتِنَا وَبَارِكْ لَنَا فِي صَاعِنَا وَبَارِكْ لَنَا فِي مُدِّنَا اللَّهُمَّ إِنَّ إِبْرَاهِيمَ عَبْدُكَ وَخَلِيلُكَ وَنَبِيُّكَ وَإِنِّي عَبْدُكَ وَنَبِيُّكَ وَإِنَّهُ دَعَاكَ لِمَكَّةَ وَإِنِّي أَدْعُوكَ لِلْمَدِينَةِ بِمِثْلِ مَا دَعَاكَ بِهِ لِمَكَّةَ وَمِثْلَهُ مَعَهُ ثُمَّ يَدْعُو أَصْغَرَ وَلِيدٍ يَرَاهُ فَيُعْطِيهِ ذَلِكَ الثَّمَرَ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
ফল-ফসলে বরকত হওয়ার অর্থ তো স্পষ্ট যে, এগুলোর উৎপাদন বেশী হবে। মদীনায় বরকত হওয়ার অর্থ এই যে, এটা খুব আবাদ হবে এবং এর অধিবাসীদের উপর অনুগ্রহ করা হবে। ছা ও মুদ্দ দু'টি ওজন বিশেষ। ঐ যুগে খাদ্য শস্য ইত্যাদি ক্রয়-বিক্রয়ের সময় এগুলোই ব্যবহার করা হত। এগুলোর মধ্যে বরকত হওয়ার অর্থ এই যে, এক ছা অথবা এক মুদ্দ জিনিস যতজন মানুষের জন্য অথবা যতদিনের জন্য যথেষ্ট হয়, এর চেয়ে বেশী লোক ও বেশী দিনের জন্য যেন যথেষ্ট হয়ে যায়।
কুরআন মজীদে হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালামের ঐ দু‘আর উল্লেখ রয়েছে, যা তিনি নিজের স্ত্রী-সন্তানকে মক্কার অনাবাদ ও পানিশূন্য প্রান্তরে রেখে তাদের জন্য আল্লাহর কাছে করেছিলেন: "হে আল্লাহ! তুমি তোমার বান্দাদের অন্তরে তাদের মহব্বত ঢেলে দাও এবং তাদেরকে প্রয়োজনীয় রিযিক ও ফলফলাদি দান কর, আর এখানের জন্য শান্তি ও নিরাপত্তার ফায়সালা কর।"
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দৃষ্টান্ত হিসাবে ঐ ইব্রাহীমী দু‘আর কথা উল্লেখ করে আল্লাহ্ তা'আলার কাছে মদীনার জন্যও ঐ দু‘আ; বরং আরো কিছু অতিরিক্ত জিনিস যোগ করে দু‘আ করতেন। এ দু‘আর ফলও স্পষ্ট যে, সারা দুনিয়ার যেসব ঈমানদারদের অন্তরে মক্কার মহব্বত রয়েছে, তাদের সবারই মদীনার মহব্বতও রয়েছে; বরং এ মহব্বত ও ভালবাসায় মদীনার অংশটি নিঃসন্দেহে মক্কার চেয়ে বেশী।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ দু‘আর মধ্যে হযরত ইব্রাহীম (আঃ)-কে আল্লাহর বান্দা, তাঁর নবী ও বন্ধু বলেছেন, আর নিজেকে কেবল বান্দা ও নবী বলে উল্লেখ করেছেন, বন্ধু হওয়ার কথাটি উল্লেখ করেননি। এ বিনয় ভাব ছিল তাঁর একটি বৈশিষ্ট্য।
একেবারে নতুন ও গাছের প্রথম ফলটি ছোট শিশুদেরকে ডেকে দেওয়ার মধ্যে এ শিক্ষা রয়েছে যে, এসব ক্ষেত্রে ছোট মাসুম বাচ্চাদেরকে অগ্রাধিকার দেয়া চাই। তাছাড়া নতুন ফল ও ছোট শিশুদের সম্বন্ধটিও প্রকাশ্য।
কুরআন মজীদে হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালামের ঐ দু‘আর উল্লেখ রয়েছে, যা তিনি নিজের স্ত্রী-সন্তানকে মক্কার অনাবাদ ও পানিশূন্য প্রান্তরে রেখে তাদের জন্য আল্লাহর কাছে করেছিলেন: "হে আল্লাহ! তুমি তোমার বান্দাদের অন্তরে তাদের মহব্বত ঢেলে দাও এবং তাদেরকে প্রয়োজনীয় রিযিক ও ফলফলাদি দান কর, আর এখানের জন্য শান্তি ও নিরাপত্তার ফায়সালা কর।"
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দৃষ্টান্ত হিসাবে ঐ ইব্রাহীমী দু‘আর কথা উল্লেখ করে আল্লাহ্ তা'আলার কাছে মদীনার জন্যও ঐ দু‘আ; বরং আরো কিছু অতিরিক্ত জিনিস যোগ করে দু‘আ করতেন। এ দু‘আর ফলও স্পষ্ট যে, সারা দুনিয়ার যেসব ঈমানদারদের অন্তরে মক্কার মহব্বত রয়েছে, তাদের সবারই মদীনার মহব্বতও রয়েছে; বরং এ মহব্বত ও ভালবাসায় মদীনার অংশটি নিঃসন্দেহে মক্কার চেয়ে বেশী।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ দু‘আর মধ্যে হযরত ইব্রাহীম (আঃ)-কে আল্লাহর বান্দা, তাঁর নবী ও বন্ধু বলেছেন, আর নিজেকে কেবল বান্দা ও নবী বলে উল্লেখ করেছেন, বন্ধু হওয়ার কথাটি উল্লেখ করেননি। এ বিনয় ভাব ছিল তাঁর একটি বৈশিষ্ট্য।
একেবারে নতুন ও গাছের প্রথম ফলটি ছোট শিশুদেরকে ডেকে দেওয়ার মধ্যে এ শিক্ষা রয়েছে যে, এসব ক্ষেত্রে ছোট মাসুম বাচ্চাদেরকে অগ্রাধিকার দেয়া চাই। তাছাড়া নতুন ফল ও ছোট শিশুদের সম্বন্ধটিও প্রকাশ্য।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)