আল মুওয়াত্তা - ইমাম মালিক রহঃ
৪৭. সৎস্বভাব-শিষ্টাচার বিষয়ক অধ্যায়
হাদীস নং: ১৬৭২
সৎস্বভাব-শিষ্টাচার বিষয়ক অধ্যায়
১. সৎস্বভাব প্রসঙ্গ
রেওয়ায়ত ৪. উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, কেহ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট সাক্ষাত করিতে অনুমতি চাহিল। আমি তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ঘরে ছিলাম। তিনি বলিলেনঃ এই লোকটি মন্দ। অতঃপর তিনি তাহাকে আসিতে অনুমতি দান করিলেন। আয়েশা (রাযিঃ) বলেন, বেশীক্ষণ না যাইতেই আমি ঐ লোকটির সহিত রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে হাসিতে শুনিতে পাইলাম। তাহার প্রস্থানের পর আমি বলিলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এইমাত্র আপনি তাহাকে মন্দ বলিলেন, আর এখনই আপনি তাহার সহিত হাসিতে ছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, সকলের চাইতে মন্দ ঐ ব্যক্তি যাহার অনিষ্টকারিতার জন্য লোকে তাহাকে ভয় করে।*
كتاب حسن الخلق
باب مَا جَاءَ فِي حُسْنِ الْخُلُقِ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهَا قَالَتْ اسْتَأْذَنَ رَجُلٌ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَتْ عَائِشَةُ وَأَنَا مَعَهُ فِي الْبَيْتِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِئْسَ ابْنُ الْعَشِيرَةِ ثُمَّ أَذِنَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَتْ عَائِشَةُ فَلَمْ أَنْشَبْ أَنْ سَمِعْتُ ضَحِكَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَعَهُ فَلَمَّا خَرَجَ الرَّجُلُ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قُلْتَ فِيهِ مَا قُلْتَ ثُمَّ لَمْ تَنْشَبْ أَنْ ضَحِكْتَ مَعَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ مِنْ شَرِّ النَّاسِ مَنْ اتَّقَاهُ النَّاسُ لِشَرِّهِ
হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):
*অর্থাৎ লোকেরা এই ভয়ে থাকে যে, সে যে কোন সময় কষ্ট দিতে পারে। লোকটি সম্পর্কে নবী করীম (সা)-এর মন্তব্য গীবত ছিল না, বরং এক ব্যক্তির অবস্থা বর্ণনা করার উদ্দেশ্য ছিল যাহাতে লোকেরা তাহার সম্পর্কে সতর্ক হইয়া যায়।
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এখানে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর উত্তরের সারমর্ম এই যে, কোন মানুষ যদি মন্দ ও দুষ্টও হয়, তবুও তার সাথে কথা নম্রতা ও ভদ্রতার সাথেই বলতে হবে। অন্যথায় মন্দভাষা ও কটুকথার প্রতিক্রিয়া এই হয় যে, এমন ব্যক্তির সাথে সাক্ষাত করতে ও কথা বলতে মানুষ পলায়নপর হয়ে যায়। আর যে ব্যক্তির অবস্থা এই হয়, সে আল্লাহর নিকট খুবই মন্দ এবং কেয়ামতের দিন তার অবস্থা হবে খুবই খারাপ। এ হাদীসটি সম্পর্কে কয়েকটি কথা বুঝে নেওয়া উচিতঃ-
(১) রাসূলুল্লাহ ﷺ এ ব্যক্তির আগমনের পূর্বেই উপস্থিত লোকদেরকে তার মন্দ হওয়ার অবগতি সম্ভবতঃ এজন্য দিয়েছিলেন, যাতে তারা তার সামনে সতর্ক হয়ে কথা বলে এবং এমন কোন কথা যেন না বলে ফেলে, যা কোন দুষ্ট ও খারাপ মানুষের সামনে বলা যায় না। এমন কোন পরিণামদর্শিতার কারণে কারো কোন দোষের ব্যাপারে অন্যদেরকে সতর্ক করা গীবত ও পরনিন্দার মধ্যে গণ্য নয়; বরং এমন করার নির্দেশ রয়েছে। যেমন, এক হাদীসে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: পাপাচারী ও খারাপ মানুষের মধ্যে যে দোষ থাকে, তা লোকদেরকে বলে দাও, যাতে আল্লাহর বান্দারা তার অনিষ্ট থেকে বাঁচতে পারে। কানযুল উম্মাল
(২) এ হাদীস থেকে একথাও জানা গেল যে, কোন ব্যক্তি মন্দ ও দুষ্ট হলেও তার সাথে নরমভাবেই কথা বলতে হবে। এ ঘটনা সম্পর্কেই এক বর্ণনায় এ শব্দমালা এসেছে: রাসূলুল্লাহ ﷺ লোকটির সাথে হাসিমুখে সাক্ষাত করলেন ও কথাবার্তা বললেন। এর দ্বারা বুঝা গেল যে, যারা এ ধারণা পোষণ করে যে, পাপাচারী ও মন্দ স্বভাবের লোকদের সাথে ভালভাবে সাক্ষাত করাও উচিত নয়, এ ধারণা ঠিক নয়।
রাসূলুল্লাহ ﷺ এর প্রসিদ্ধ সাহাবী হযরত আবুদ্দারদা (রা) থেকে ইমাম বুখারী উদ্ধৃত করেছেন যে, তিনি বলতেন: আমরা অনেক এমন মানুষের সাথেও হাসিমুখে সাক্ষাত করি এবং কথা বলি, যাদের অবস্থা ও কর্মের কারণে আমাদের অন্তর তাদেরকে অভিসম্পাত করে। তবে বিশেষ কোন ক্ষেত্রে কঠোর আচরণ ও অসন্তুষ্টি প্রকাশের মধ্যেই যদি কল্যাণ নিহিত থাকে, তাহলে সেখানে এমন পন্থা অবলম্বন করাও ঠিক হবে।
(৩) এ হাদীসেরই এক বর্ণনায় রয়েছে যে, হযরত আয়েশা (রা) যখন রাসূলুল্লাহ ﷺকে জিজ্ঞাসা করলেন, যে ব্যক্তি সম্পর্কে আপনি নিজেই বলেছিলেন যে, লোকটি খুবই খারাপ, তার সাথে আপনি আবার কেমন করে হাসিমুখে কথা বললেন? রাসূলুল্লাহ ﷺ তখন উত্তর দিলেন: হে আয়েশা! আল্লাহ্ তা'আলা কটুভাষী ব্যক্তিকে পছন্দ করেন না। মর্ম এই যে, কটুকথা বলার অভ্যাস মানুষকে আল্লাহর ভালবাসা থেকে বঞ্চিত করে দেয়। তাই আমি কেমন করে এ দোষে লিপ্ত হতে পারি।
(১) রাসূলুল্লাহ ﷺ এ ব্যক্তির আগমনের পূর্বেই উপস্থিত লোকদেরকে তার মন্দ হওয়ার অবগতি সম্ভবতঃ এজন্য দিয়েছিলেন, যাতে তারা তার সামনে সতর্ক হয়ে কথা বলে এবং এমন কোন কথা যেন না বলে ফেলে, যা কোন দুষ্ট ও খারাপ মানুষের সামনে বলা যায় না। এমন কোন পরিণামদর্শিতার কারণে কারো কোন দোষের ব্যাপারে অন্যদেরকে সতর্ক করা গীবত ও পরনিন্দার মধ্যে গণ্য নয়; বরং এমন করার নির্দেশ রয়েছে। যেমন, এক হাদীসে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: পাপাচারী ও খারাপ মানুষের মধ্যে যে দোষ থাকে, তা লোকদেরকে বলে দাও, যাতে আল্লাহর বান্দারা তার অনিষ্ট থেকে বাঁচতে পারে। কানযুল উম্মাল
(২) এ হাদীস থেকে একথাও জানা গেল যে, কোন ব্যক্তি মন্দ ও দুষ্ট হলেও তার সাথে নরমভাবেই কথা বলতে হবে। এ ঘটনা সম্পর্কেই এক বর্ণনায় এ শব্দমালা এসেছে: রাসূলুল্লাহ ﷺ লোকটির সাথে হাসিমুখে সাক্ষাত করলেন ও কথাবার্তা বললেন। এর দ্বারা বুঝা গেল যে, যারা এ ধারণা পোষণ করে যে, পাপাচারী ও মন্দ স্বভাবের লোকদের সাথে ভালভাবে সাক্ষাত করাও উচিত নয়, এ ধারণা ঠিক নয়।
রাসূলুল্লাহ ﷺ এর প্রসিদ্ধ সাহাবী হযরত আবুদ্দারদা (রা) থেকে ইমাম বুখারী উদ্ধৃত করেছেন যে, তিনি বলতেন: আমরা অনেক এমন মানুষের সাথেও হাসিমুখে সাক্ষাত করি এবং কথা বলি, যাদের অবস্থা ও কর্মের কারণে আমাদের অন্তর তাদেরকে অভিসম্পাত করে। তবে বিশেষ কোন ক্ষেত্রে কঠোর আচরণ ও অসন্তুষ্টি প্রকাশের মধ্যেই যদি কল্যাণ নিহিত থাকে, তাহলে সেখানে এমন পন্থা অবলম্বন করাও ঠিক হবে।
(৩) এ হাদীসেরই এক বর্ণনায় রয়েছে যে, হযরত আয়েশা (রা) যখন রাসূলুল্লাহ ﷺকে জিজ্ঞাসা করলেন, যে ব্যক্তি সম্পর্কে আপনি নিজেই বলেছিলেন যে, লোকটি খুবই খারাপ, তার সাথে আপনি আবার কেমন করে হাসিমুখে কথা বললেন? রাসূলুল্লাহ ﷺ তখন উত্তর দিলেন: হে আয়েশা! আল্লাহ্ তা'আলা কটুভাষী ব্যক্তিকে পছন্দ করেন না। মর্ম এই যে, কটুকথা বলার অভ্যাস মানুষকে আল্লাহর ভালবাসা থেকে বঞ্চিত করে দেয়। তাই আমি কেমন করে এ দোষে লিপ্ত হতে পারি।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)