আল মুওয়াত্তা - ইমাম মালিক রহঃ

৫৬. যাবতীয় কথাবার্তা সম্পর্কিত অধ্যায়

হাদীস নং: ১৮৬২
যাবতীয় কথাবার্তা সম্পর্কিত অধ্যায়
৮. অপব্যয় ও দোমুখো মানুষ প্রসঙ্গে
রেওয়ায়ত ২১. আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিয়াছেন, দোমুখো মানুষই নিকৃষ্টতম ব্যক্তি অর্থাৎ যে এক দলের সঙ্গে এক রকম কথা বলে এবং অপর দলের সঙ্গে আরেক রকম কথা বলে।
كتاب الكلام
بَاب مَا جَاءَ فِي إِضَاعَةِ الْمَالِ وَذِي الْوَجْهَيْنِ
وَحَدَّثَنِي مَالِك عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مِنْ شَرِّ النَّاسِ ذُو الْوَجْهَيْنِ الَّذِي يَأْتِي هَؤُلَاءِ بِوَجْهٍ وَهَؤُلَاءِ بِوَجْهٍ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

যারা প্রকাশ্যে নিজেদেরকে মুসলমান বলে, অথচ নিজেদের স্বার্থ ও সুযোগ সুবিধা সংরক্ষণের জন্য ইসলামের শত্রুদের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করে বা তাদের সাথে মিলিত হয়ে ইসলাম ও মুসলমানদের স্বার্থের বিপরীত কাজ করে, তাদেরকে ইসলামের পরিভাষায় মুনাফিক বলা হয়। এ ধরনের লোক নামায-রোযা পালন করলেও মুসলমানদের সমাজভুক্ত নয়। তাদের জন্য জাহান্নামের নিকৃষ্টতম আযাব রয়েছে।

আলোচ্য হাদীসে মুনাফিকদের সদৃশ আমলের কথা বলা হয়েছে। যারা নিজেদের পার্থিব সুযোগ-সুবিধা এবং লোভ-লালসার জন্য সমাজের বিভিন্ন শ্রেনীর মানুষের সাথে ভিন্ন ভিন্ন আচরণ করে, এক ব্যক্তিকে অপর ব্যক্তির বিরুদ্ধে উষ্কানি দেয়, দুই বন্ধুর মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি করার জন্য পরস্পর বিরোধী কথাবার্তা বলে, তারা দীনী পরিভাষায় মুনাফিকের দলভুক্ত না হলেও তাদের মুনাফিকসুলভ আমল ও আচরণের জন্য কিয়ামতের দিন নিকৃষ্ট মানুষ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং কঠিন শাস্তি ভোগ করবে। হাদীসে 'বিভিন্ন চেহারায় আবির্ভূত হওয়া' দ্বারা এ কথাই বুঝান হয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান