শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ
১. পবিত্রতা অর্জনের অধ্যায়
হাদীস নং: ২২৫
পবিত্রতা অর্জনের অধ্যায়
অনুচ্ছেদঃ প্রত্যেক সালাতের জন্য অজু করা ফরয কিনা
২২৫.ইউনুস (রাহঃ) …... আবু গুতায়ফ (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমি একবার আব্দুল্লাহ ইবন উমার ইবন খাত্তাব (রাযিঃ)-এর সঙ্গে জুহুরের সালাত আদায় করেছি। তারপর তিনি ঘরের মজলিসে চলে গেলেন। আমিও তাঁর সঙ্গে গেলাম। যখন আসরের আযান দেওয়া হল, তিনি উজূর জন্য পানি চাইলেন এবং উজূ করে বের হয়ে গেলেন এবং আমিও তাঁর সঙ্গে বের হলাম। তিনি আসরের সালাত আদায় করলেন। এরপর তিনি মজলিসে ফিরে এলেন এবং আমিও তাঁর সঙ্গে ফিরে এলাম। তারপর যখন মাগরিবের আযান দেওয়া হল, তিনি উজূর জন্য পানি চাইলেন এবং উজূ করলেন। আমি তাঁকে বললাম, হে আবু আব্দুর রহমান, এটা কি, প্রত্যেক সালাতের জন্য উজূ? তিনি বললেন, তুমি অবশ্যই আমার (আচরণ) থেকে বুঝে ফেলেছ, তবে এটা সুন্নত (মুয়াক্কাদা) নয়। আমার ফজর সালাতের উজূ সকল সালাতের জন্য যথেষ্ট, যতক্ষণ পর্যন্ত আমি উজূ নষ্ট না করি। কিন্তু আমি রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আ’লাইহু ওয়াসাল্লাম) থেকে শুনেছি, তিনি বলেছেনঃ তাহারাত অবস্থায়ও যদি কেউ উজূ করে তবে আল্লাহ তাকে দশটি নেকী দিবেন। সুতরাং, হে আমার ভ্রাতুষ্পুত্র, আমি ওটার জন্য আগ্রহী। অতঃপর হতে পারে রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আ’লাইহু ওয়াসাল্লাম)-এর এই আমল, যা ইবন বুরায়দা (রাযিঃ) তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, উক্ত ফজীলত লাভের উদ্দ্যেশ্যে ছিল; এই জন্য নয় যে, তা তাঁর উপর ওয়াজিব ছিল। আনাস ইবন মালিক (রাযিঃ) ও উল্লেখিত বিষয়বস্তুর সমর্থনে হাদীস রিওয়ায়াত করেছেনঃ
كتاب الطهارة
باب الوضوء هل يجب لكل صلاة أم لا؟
225 - قَدْ حَدَّثَنَا يُونُسُ قَالَ: أنا ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زِيَادِ بْنِ أَنْعَمَ، عَنْ أَبِي غُطَيْفٍ الْهُذَلِيِّ قَالَ: صَلَّيْتُ مَعَ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ الظُّهْرَ فَانْصَرَفَ فِي مَجْلِسٍ فِي دَارِهِ فَانْصَرَفْتُ مَعَهُ، حَتَّى إِذَا نُودِيَ بِالْعَصْرِ دَعَا بِوَضُوءٍ فَتَوَضَّأَ ثُمَّ خَرَجَ وَخَرَجْتُ مَعَهُ فَصَلَّى الْعَصْرَ ثُمَّ رَجَعَ إِلَى مَجْلِسِهِ وَرَجَعْتُ مَعَهُ، حَتَّى إِذَا نُودِيَ بِالْمَغْرِبِ دَعَا بِوَضُوءٍ فَتَوَضَّأَ. فَقُلْتُ لَهُ: أَيُّ شَيْءٍ هَذَا يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ؟ الْوُضُوءُ عِنْدَ كُلِّ صَلَاةٍ؟ فَقَالَ: وَقَدْ فَطِنْتَ لِهَذَا مِنِّي؟ لَيْسَتْ بِسُنَّةٍ إِنْ كَانَ لَكَافٍ وُضُوئِي لِصَلَاةِ الصُّبْحِ صَلَوَاتِي كُلَّهَا مَا لَمْ أُحْدِثْ، وَلَكِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَنْ تَوَضَّأَ عَلَى طُهْرٍ كَتَبَ اللهُ لَهُ بِذَلِكَ عَشْرَ حَسَنَاتٍ» فَفِي ذَلِكَ رَغِبْتُ يَا ابْنَ أَخِي. فَقَدْ يَجُوزُ أَنْ يَكُونَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّمَا فَعَلَ مَا رَوَى عَنْهُ ابْنُ بُرَيْدَةَ لِإِصَابَةِ هَذَا الْفَضْلِ , لَا لِأَنَّ ذَلِكَ كَانَ وَاجِبًا عَلَيْهِ. وَقَدْ رَوَى أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ أَيْضًا مَا يَدُلُّ عَلَى مَا ذَكَرْنَا
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আলোচ্য হাদীসের উদ্দেশ্য হচ্ছে, উযূ থাকা অবস্থায় পুনঃ উযূ করাকে কেউ যেন নিরর্থক মনে না করে। বরং একাজ এমন উত্তম যে, এতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আমলনামায় দশটি নেকী লেখা হয়।
অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ আলিম রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর এই হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন, এ হাদীস ঐ ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যে প্রথম উযূ দ্বারা এমন ইবাদাত করল যার জন্য উযূ প্রয়োজন। আর যদি কেউ উযূ করল এবং এ উযূ দ্বারা কোন ইবাদত করল না কিংবা এমন কাজ না করে যার জন্য নতুন উযূ করা মুস্তাহাব হয়, এমতাবস্থায় তার পক্ষে নতুন করে উযূ করার আদৌ প্রয়োজন নেই।
অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ আলিম রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর এই হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন, এ হাদীস ঐ ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যে প্রথম উযূ দ্বারা এমন ইবাদাত করল যার জন্য উযূ প্রয়োজন। আর যদি কেউ উযূ করল এবং এ উযূ দ্বারা কোন ইবাদত করল না কিংবা এমন কাজ না করে যার জন্য নতুন উযূ করা মুস্তাহাব হয়, এমতাবস্থায় তার পক্ষে নতুন করে উযূ করার আদৌ প্রয়োজন নেই।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)