শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ

২. নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ৯৪৪
নামাযের অধ্যায়
সালাতের ওয়াক্ত
৯৪৪। ইয়াযীদ ইবন সিনান (রাহঃ).....ইবন উমার থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন। একবার রাতে আমরা ইশার সালাতের জন্য রাসূলুল্লাহ এর অপেক্ষা করছিলাম। তারপর রাতের এক তৃতীয়াংশ বা আরো বেশী অতিক্রান্ত হওয়ার পর তিনি আমাদের নিকট বের হয়ে আসলেন। আমাদের জানা নেই গৃহের কোন কাজ ডাকে বাস্ত রেখেছিল, না অন্য কোন বিষয় ছিল। তিনি বের হয়ে বললেন তোমরা এমন একটি সালাতের অপেক্ষা করছ যে, তোমাদের ব্যতীত অন্য কোন ধর্মের অনুসারীরা তার অপেক্ষা করে না। তিনি আরো বললেন আমার উম্মতের পক্ষে কঠিন না হলে এমন সময়েই আমি তাদের নিয়ে (ইশার সালাত আদায় করতাম। তারপর মুয়াযযিনকে নির্দেশ দিলেন, তিনি সালাতের ইকামত বললেন এবং রাসূলুল্লাহ্ সালাত আদায় করলেন।
كتاب الصلاة
944 - حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ سِنَانٍ، قَالَ: ثنا الْحَسَنُ بْنُ عُمَرَ بْنِ شَقِيقٍ، قَالَ: ثنا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: مَكَثنا ذَاتَ لَيْلَةٍ نَنْتَظِرُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِلْعِشَاءِ الْآخِرَةِ , فَخَرَجَ إِلَيْنَا حِينَ ذَهَبَ ثُلُثُ اللَّيْلِ , أَوْ بَعْدَهُ وَلَا نَدْرِي , أَشَيْءٌ شَغَلَهُ فِي أَهْلِهِ أَوْ غَيْرُ ذَلِكَ. فَقَالَ حِينَ خَرَجَ: «إِنَّكُمْ لَتَنْتَظِرُونَ صَلَاةً , مَا يَنْتَظِرُهَا أَهْلُ دِينٍ غَيْرُكُمْ وَلَوْلَا أَنْ يَثْقُلَ عَلَى أُمَّتِي , لَصَلَّيْتُ بِهِمْ هَذِهِ السَّاعَةَ ثُمَّ أَمَرَ الْمُؤَذِّنَ , فَأَقَامَ الصَّلَاةَ وَصَلَّى»

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ হাদীস থেকে একথা পরিষ্কার জানা গেল যে, ইশার সালাত রাতের এক তৃতীয়াংশের পর আদায় করা উত্তম। কিন্তু সাধারণ মুসল্লীদের এতক্ষণ জেগে থেকে সালাত আদায় করা সত্যি কষ্টসাধ্য ব্যাপার। এ কষ্টের দিকে লক্ষ্য করেই রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর উম্মাতের সুবিধার্থে তাড়াতাড়ি করে সালাত আদায় করে নিতেন। হযরত জাবির (রা) সূত্রে এ মর্মে একটি হাদীস পূর্বে উল্লিখিত হয়েছে যে, ইশার সালাতে যদি তাড়াতাড়ি লোক সমাগম হতো তাহলে তাড়াতাড়ি, আর বিলম্বে লোক সমাগম হলে বিলম্বে নবী কারীম ﷺ সালাত আদায় করে নিতেন। নবী কারীম ﷺ এর কথা ও কাজ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি জানা যায় যে, কোন সামষ্টিক আমল সম্পাদন করতে যেয়ে উত্তম সময় পেতে যদি সাধারণ মানুষের কষ্ট হয়, তবে তা বর্জন করাই উত্তম। আল্লাহ্ চাহেত সাধারণ মানুষের কষ্ট বিবেচনা করে উত্তম সময় বর্জন করায় হয়ত বা আরো অধিক সাওয়াব হবে। অন্যকথায় বলা যায়, সামষ্টিক কাজে সময়ের মর্যাদার তুলনায় সাধারণের অবস্থার দিকে লক্ষ্য রাখা সাওয়াব অর্জনের ক্ষেত্রে অগ্রগামী হওয়ার দাবি রাখে। হাদীস থেকে এও জানা যায় যে, ইশার সালাত কেবল এই উম্মাতের উপরই ফরয। অন্য কোন উম্মাতের উপর এই সালাত ফরয ছিল না। এই কথা বিভিন্ন হাদীসে সবিস্তার বর্ণনা করা হয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)