শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ

২. নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ২৬৭৮
আন্তর্জাতিক নং: ২৬৮১
নামাযের অধ্যায়
সালাত ভুলে ঘুমিয়ে পড়লে অথবা আদায় করতে ভুলে গেলে তা কিভাবে কাযা করবে?
২৬৭৮-২৬৮১। আহমেদ ইবন দাউদ (রাহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ কেউ যদি সালাত আদায় করতে ভুলে যায়, তবে যখনই স্বরন হবে আদায় করে নিবে। হাম্মাম বলেছেন, এর পরে উক্ত হাদীসের সাথে আমি কাতাদা (রাহঃ) কে এই আয়াত তিলওয়াত করতে শুনেছিঃ أَقِمِ الصَّلَاةَ لِذِكْرِي - আমরা স্মরণার্থে (স্মরণের সময়) সালাত কায়েম কর। (২০ঃ ১৪)


ফাহাদ (রাহঃ) ...... আনাস (রাযিঃ) সূত্রে নবী ﷺ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি সালাত আদায় করতে ভুল গেলে যখনই তার স্মরন হবে তা আদায় করে নিবে।


আলী ইবন শায়বা (রাহঃ) ...... আবু কাতাদা (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
এই হাদীসে রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর উক্তি দ্বারা বুঝা যাচ্ছে যে, তার উপর এর কাযা ব্যতীত অন্য কিছু জরুরী নয়। যেহেতু তিনি উল্লেখ করেছেনঃ "কোন ব্যক্তি সালাত আদায় করতে ভুলে গেলে" তারপর তার উপর জরুরী বিষয় সম্পর্কে খবর পরিবেশন করেছেন, (অর্থাৎ যখনই তার স্মরন হবে তা আদায় করে নিবে)। এই বিষয়ে তাঁর থেকে অন্য হাদীসে এই শব্দের উপর আরো অতিরিক্ত বর্নিত আছেঃ

ফাহাদ (রাহঃ) ...... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি সালাত আদায় করতে ভুলে গেলে যখনই তা স্মরণ হবে তা আদায় করে নিবে। এটি ব্যতীত এর অন্য কোন কাফফারা নেই। রাবী বলেন, তারপর আমি তাকে অতিরিক্ত (এ আয়াত) বর্ননা করতে শুনেছিঃ أَقِمِ الصَّلَاةَ لِذِكْرِي অর্থাৎ : আমার স্মরণার্থে সালাত কায়েম কর।(২০ঃ ১৪)
كتاب الصلاة
2678 - مَا حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ دَاوُدَ , قَالَ: ثنا أَبُو الْوَلِيدِ , قَالَ: ثنا هَمَّامٌ , عَنْ قَتَادَةَ , عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ نَسِيَ صَلَاةً فَلْيُصَلِّهَا إِذَا ذَكَرَهَا» قَالَ هَمَّامٌ: ثُمَّ سَمِعْتُ قَتَادَةَ يُحَدِّثُ بِهِ مِنْ بَعْدِ ذَلِكَ فَقَالَ: {أَقِمِ الصَّلَاةَ لِذِكْرِي} [طه: 14]

2679 - حَدَّثَنَا فَهْدٌ، قَالَ: ثنا أَبُو الْوَلِيدِ، قَالَ: ثنا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ نَسِيَ صَلَاةً فَلْيُصَلِّهَا إِذَا ذَكَرَهَا»

2680 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ شَيْبَةَ، قَالَ: ثنا يَحْيَى بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ، قَالَ: ثنا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ رَبَاحٍ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِثْلَهُ فَفِي هَذَا الْحَدِيثِ مِنْ قَوْلِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا يَدُلُّ عَلَى أَنْ لَا شَيْءَ عَلَيْهِ غَيْرُ قَضَائِهِ , لِأَنَّهُ ذَكَرَ مَنْ نَسِيَ صَلَاةً , ثُمَّ أَخْبَرَ بِمَا عَلَيْهِ. وَقَدْ رُوِيَ عَنْهُ أَيْضًا فِي ذَلِكَ فِي غَيْرِ هَذَا الْحَدِيثِ , مَا قَدْ زَادَ عَلَى هَذَا اللَّفْظِ

2681 - حَدَّثَنَا فَهْدٌ، قَالَ: ثنا أَبُو الْوَلِيدِ، قَالَ: ثنا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ نَسِيَ صَلَاةً فَلْيُصَلِّهَا إِذَا ذَكَرَهَا , لَا كَفَّارَةَ لَهَا إِلَّا ذَلِكَ» قَالَ: ثُمَّ سَمِعْتُهُ يُحَدِّثُ وَيَزِيدُ فِيهِ {أَقِمِ الصَّلَاةَ لِذِكْرِي} [طه: 14]

হাদীসের ব্যাখ্যা:

কোন ব্যক্তি যদি (ওয়াক্ত যাওয়ার পর) ঘুম থেকে উঠে কিংবা সালাত আদায় করতে ভুলে যায়, স্মরণ হওয়ার সাথে সাথে সে যেন সালাত আদায় করে নেয়। এমতাবস্থায় তার সালাত আদায় হিসেবে গণ্য হবে-কাযার গুনাহ হবে না।

রাসূলুল্লাহ ﷺ এর কোন কোন সফরে এমন ঘটনা সংঘটিত হয়। গভীর রাতে তিনি এবং তাঁর সাহাবীগণ পথ চলতেন। এরই মাঝে একটু অবসাদ কাটিয়ে উঠার লক্ষ্যে আরাম করতে যেয়ে শুয়ে পড়েন এবং হযরত বিলাল (রা) জেগে থাকার ও সবাইকে ফজরের জন্য ঘুম থেকে ওঠানোর দায়িত্বে থাকেন। কিন্তু আল্লাহরই অসীম কুদরত, সুবহে সাদিকের সময় স্বয়ং হযরত বিলাল (রা) ঘুমিয়ে পড়েন এমনকি সূর্য ওঠে যায়। সর্বপ্রথম রাসূলুল্লাহ ﷺ চোখ খোলেন। তারপর সবাই ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায় ঘুম থেকে উঠেন। সবার সালাত কাযা হওয়ায় প্রত্যেকেই বিষণ্ণ হন। রাসূলুল্লাহ ﷺ আযান দানের ব্যবস্থা করে সালাতের ইমামতি করেন এবং বলেন, নিদ্রাজনিত কারণে সালাতের সময় গড়িয়ে গেলে তাতে গুনাহ নেই। বরং জাগ্রত থেকে যদি কেউ সালাত কাযা করে, তবে তার জন্য রয়েছে গুনাহ। (মুসলিমের সংক্ষিপ্ত সার)
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)