শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ
৬. হজ্বের অধ্যায়
হাদীস নং: ৩৯৪১
হজ্বের অধ্যায়
মুযদালিফায় উকুফ (অবস্থান) করার বিধান
৩৯৪১। রাওহ ইবনুল ফারাজ (রাহঃ) ..... উরওয়া ইব্ন মুদাররিস ইবন আওস ইবন হারিসা ইবন লাম তাঈ (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ -এর কাছে মুযদালিফায় আসলাম। আমি বললাম, “ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি তায়-এর দুই পাহাড় (অঞ্চল) থেকে এসেছি। আল্লাহর কসম! আমি আমাকে খুবই পরিশ্রান্ত করেছি আর আমার বাহনকেও ক্লান্ত করে ফেলেছি। এখানে এই সমস্ত পাহাড়সমূহে এমন কোন পাহাড় নেই যেখানে আমি উকুফ করিনি। আমার হজ্জ হবে কি ? তখন রাসূলুল্লাহ্ বললেন, যে ব্যক্তি মুযদালিফায় আমাদের সঙ্গে এই ফজরের সালাতে হাযির হয়েছে, এর পূর্বে সে রাতে হােক বা দিনে হােক, উকুফে আরাফা করেছে তার হজ্জ পূর্ণরূপে সমাধা হয়েছে এবং সে তার হজ্জের বিধানসমূহ সম্পাদন করে নিতে পেরেছে। সুফইয়ান (রাহঃ) বলেন, যাকারিয়া (রাহঃ) যিনি এই হাদীসের সংরক্ষণকারী তিনজনের শ্রেষ্ঠতম, তিনি এটা বৃদ্ধি করেছেন ঃ (উরওয়া ইবন মুদাররিস রা বলেন) আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ ! এ সময় আমি তায়-এর দুই পাহাড় (অঞ্চল) থেকে এসেছি। আমার বহন ক্লান্ত করে ফেলেছি আর নিজেকেও খুবই পরিশ্রান্ত করেছি। আমার হজ্জ হবে কি? তখন তিনি বললেন, যে ব্যক্তি আমাদের সঙ্গে এই সালাতে হাযির হয়েছে এবং রওয়ানা হওয়ার আগ পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে উকুফ করেছে আর এর পূর্বে রাতে হােক বা দিনে তােক উকুফে আরাফাত করেছে তার হজ্জ পূর্ণ হয়ে গিয়েছে এবং সে তার হজ্জের বিধানসমূহ সম্পাদন করে নিতে পেরেছে। সুফইয়ান (রাহঃ) বলেন, দাউদ ইবন আবী হিন্দ (রাহঃ)-এর রিওয়ায়াতে এটা বৃদ্ধি করেছেন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর দরবারে তখন হাযির হয়েছি যখন ফজর উদ্ভাসিত হয়ে গিয়েছে। তারপর হাদীসের অবশিষ্ট অংশ উল্লেখ করেছেন।
আবু জাফর তাহাবী (রাহঃ) বলেন, একদল আলিম এ মত গ্রহণ করেছেন যে, মুযদালিফায় উকুফ (অবস্থান) করা ফরয; সেখানে যাওয়া ব্যতীত হজ্জ হবে না। তারা এ বিষয়ে আল্লাহ্ তা'আলার এই বাণী দ্বারা প্রমাণ পেশ করেছেনঃ فَإِذَا أَفَضْتُمْ مِنْ عَرَفَاتٍ فَاذْكُرُوا اللهَ عِنْدَ الْمَشْعَرِ الْحَرَامِ
যখন তােমরা আরাফাত থেকে প্রত্যাবর্তন করবে তখন মাশআরুল হারামের নিকট পৌঁছে আল্লাহকে স্মরণ করবে। (সূরা বাকারা : আয়াত ৯৮) তাছাড়া তাঁরা এই হাদীস দ্বারা প্রমাণ পেশ করেন যা আমরা উল্লেখ করেছি। তারা বলেন, আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর কিতাবে ‘মাশআরুল হারাম’কে সেইরূপে উল্লেখ করেছেন যেরূপে আরাফাতের উল্লেখ করেছেন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁর সুন্নাহতে এর উল্লেখ করেছেন। সুতরাং উভয়ের হুকুম অভিন্ন হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত এ দু’স্থানে না পৌঁছবে, হজ্জ আদায় হবে না। পক্ষান্তরে অপরাপর আলিমগণ এ বিষয়ে তাঁদের বিরােধিতা করে বলেছেন, আরাফাতে উকুফ (অবস্থান) করা হজ্জের ফরযসমূহের অন্যতম, সেখানে পৌঁছা ব্যতীত হজ্জ আদায় হবে না। কিন্তু মুযদালিফায় উকুফ করার বিধান এরূপ নয়।
এ বিষয়ে তাদের দলীল হল, আল্লাহ্ তা'আলার বাণী فَإِذَا أَفَضْتُمْ مِنْ عَرَفَاتٍ فَاذْكُرُوا اللهَ عِنْدَ الْمَشْعَرِ الْحَرَامِ
যখন তােমরা আরাফাত থেকে প্রত্যাবর্তন করবে তখন মাশআরুল হারামের নিকট পৌঁছে আল্লাহকে স্মরণ করবে। এতে সেখানে উক্ফ ওয়াজিব হওয়ার দলীল নেই। কেননা আল্লাহ তাআলা যিকর-এর বিষয়ে বলেছেন, কিন্তু উকুফের উল্লেখ করেন নি। আর এ বিষয়ে সকলের ঐকমত্য রয়েছে যে, যদি কোন ব্যক্তি মুযদালিফায় উকুফ (অবস্থান করে কিন্তু আল্লাহর যিকর না করে তাহলে তার হজ্জ পূর্ণ হয়ে যায়। যখন কুরআন শরীফে উল্লিখিত ‘যিকর’ হজ্জের ফরযসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয় তাহলে সেই অবস্থান করা যাতে এই যিকর পাওয়ানা যায় কিন্তু কুরআনের যে অবস্থানের উল্লেখ নেই এটা ফরয না হওয়া অধিকতর সংগত। আল্লাহ্ তাআলা কুরআন শরীফে হজ্জ সম্পর্কে অনেকগুলাে বিষয় উল্লেখ করেছেন। কিন্তু এগুলাের উল্লেখ করে এগুলাে ওয়াজিব হওয়া বুঝান নি যে, কোন মুসলমানের পক্ষেই এগুলাে আদায় না করলে হজ্জ বিশুদ্ধ হবে না (এরূপ নয়)। তা থেকে আল্লাহ্ তা'আলার নিম্নোক্ত বাণীঃ إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا
সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যে কেউ কাবাগৃহের হজ্জ কিংবা উমরা সম্পন্ন করে এই দুটির মধ্যে সাঈ করলে তার কোন পাপ নেই। (সূরা বাকারা আয়াতঃ ১৫৮)। বস্তুত এ বিষয়ে সকলে একমত যে, যদি কোন ব্যক্তি হজ্জ আদায় করতে গিয়ে সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ না করে তাহলে তার হজ্জ পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। তবে তা ছেড়ে দেওয়ার কারণে তার উপরে দম (কুরবানী করা) আবশ্যক হবে। অনুরূপভাবে কুরআন শরীফে ‘মাশআরুল হারাম’ -এর উল্লেখও এর ওয়াজিব হওয়ার কোন দলীল নয় যে, এটা ব্যতীত হজ্জ জায়িয হবে না। উরওয়া ইবন মুদাররিস (রাযিঃ)-এর রিওয়ায়াতেও এর কোন প্রমাণ নেই, যেমনটি তারা উল্লেখ করেছেন। কেননা রাসূলুল্লাহর তাতে বলেছেন : যে ব্যক্তি আমাদের সঙ্গে এই সালাত আদায় করেছে এবং এর পূর্বে রাতে হােক বা দিনে হােক আরাফাতে গিয়েছে (উকুফে আরাফাত করেছে) তাঁর হজ্জ পূর্ণ হয়ে গিয়েছে এবং সে তার হজ্জের বিধানসমূহ সম্পাদন করে নিতে পেরেছে। এখানে তিনি সালাতের উল্লেখ করেছেন। এ বিষয়ে সকলের ঐকমত্য রয়েছে যে, যদি সে সেখানে রাত অতিবাহিত করে এবং অবস্থান করে তারপর
ফজরের সালাতের সময় ঘুমিয়ে থাকে ইমামের সঙ্গে তা আদায় না করে পরিশেষে সেই সালাত তার ছুটে যায়, তাহলেও তার হজ্জ পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। যখন এই হাদীসে উল্লিখিত ইমামের সঙ্গে সালাতে উপস্থিতি হজ্জের ফরযসমূহে অন্তর্ভুক্ত নয় যে, তা ব্যতীত হজ্জ বিশুদ্ধ হবে না। হাদীসে যে উকুফে সালাতের উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও উক্ত সালাত ছাড়াও হজ্জ বিশুদ্ধ হয়ে যায় সে উকুফ (অবস্থানে) হাদীসে যার উল্লেখ নেই, এভাবে (ফরয) না হওয়াটা অধিকতর সংগত। সুতরাং এই হাদীসে শুধু আরাফাতের (উকুফ)-এর ফরয হওয়া সাব্যস্ত হল। আব্দুর রহমান ইব্ন ইয়া’মুর দায়লী (রাযিঃ) নবী (ﷺ) থেকে এ বিষয়ের স্বপক্ষে প্রমাণ সম্বলিত হাদীস রিওয়ায়াত করেছেনঃ
আবু জাফর তাহাবী (রাহঃ) বলেন, একদল আলিম এ মত গ্রহণ করেছেন যে, মুযদালিফায় উকুফ (অবস্থান) করা ফরয; সেখানে যাওয়া ব্যতীত হজ্জ হবে না। তারা এ বিষয়ে আল্লাহ্ তা'আলার এই বাণী দ্বারা প্রমাণ পেশ করেছেনঃ فَإِذَا أَفَضْتُمْ مِنْ عَرَفَاتٍ فَاذْكُرُوا اللهَ عِنْدَ الْمَشْعَرِ الْحَرَامِ
যখন তােমরা আরাফাত থেকে প্রত্যাবর্তন করবে তখন মাশআরুল হারামের নিকট পৌঁছে আল্লাহকে স্মরণ করবে। (সূরা বাকারা : আয়াত ৯৮) তাছাড়া তাঁরা এই হাদীস দ্বারা প্রমাণ পেশ করেন যা আমরা উল্লেখ করেছি। তারা বলেন, আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর কিতাবে ‘মাশআরুল হারাম’কে সেইরূপে উল্লেখ করেছেন যেরূপে আরাফাতের উল্লেখ করেছেন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁর সুন্নাহতে এর উল্লেখ করেছেন। সুতরাং উভয়ের হুকুম অভিন্ন হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত এ দু’স্থানে না পৌঁছবে, হজ্জ আদায় হবে না। পক্ষান্তরে অপরাপর আলিমগণ এ বিষয়ে তাঁদের বিরােধিতা করে বলেছেন, আরাফাতে উকুফ (অবস্থান) করা হজ্জের ফরযসমূহের অন্যতম, সেখানে পৌঁছা ব্যতীত হজ্জ আদায় হবে না। কিন্তু মুযদালিফায় উকুফ করার বিধান এরূপ নয়।
এ বিষয়ে তাদের দলীল হল, আল্লাহ্ তা'আলার বাণী فَإِذَا أَفَضْتُمْ مِنْ عَرَفَاتٍ فَاذْكُرُوا اللهَ عِنْدَ الْمَشْعَرِ الْحَرَامِ
যখন তােমরা আরাফাত থেকে প্রত্যাবর্তন করবে তখন মাশআরুল হারামের নিকট পৌঁছে আল্লাহকে স্মরণ করবে। এতে সেখানে উক্ফ ওয়াজিব হওয়ার দলীল নেই। কেননা আল্লাহ তাআলা যিকর-এর বিষয়ে বলেছেন, কিন্তু উকুফের উল্লেখ করেন নি। আর এ বিষয়ে সকলের ঐকমত্য রয়েছে যে, যদি কোন ব্যক্তি মুযদালিফায় উকুফ (অবস্থান করে কিন্তু আল্লাহর যিকর না করে তাহলে তার হজ্জ পূর্ণ হয়ে যায়। যখন কুরআন শরীফে উল্লিখিত ‘যিকর’ হজ্জের ফরযসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয় তাহলে সেই অবস্থান করা যাতে এই যিকর পাওয়ানা যায় কিন্তু কুরআনের যে অবস্থানের উল্লেখ নেই এটা ফরয না হওয়া অধিকতর সংগত। আল্লাহ্ তাআলা কুরআন শরীফে হজ্জ সম্পর্কে অনেকগুলাে বিষয় উল্লেখ করেছেন। কিন্তু এগুলাের উল্লেখ করে এগুলাে ওয়াজিব হওয়া বুঝান নি যে, কোন মুসলমানের পক্ষেই এগুলাে আদায় না করলে হজ্জ বিশুদ্ধ হবে না (এরূপ নয়)। তা থেকে আল্লাহ্ তা'আলার নিম্নোক্ত বাণীঃ إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا
সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যে কেউ কাবাগৃহের হজ্জ কিংবা উমরা সম্পন্ন করে এই দুটির মধ্যে সাঈ করলে তার কোন পাপ নেই। (সূরা বাকারা আয়াতঃ ১৫৮)। বস্তুত এ বিষয়ে সকলে একমত যে, যদি কোন ব্যক্তি হজ্জ আদায় করতে গিয়ে সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ না করে তাহলে তার হজ্জ পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। তবে তা ছেড়ে দেওয়ার কারণে তার উপরে দম (কুরবানী করা) আবশ্যক হবে। অনুরূপভাবে কুরআন শরীফে ‘মাশআরুল হারাম’ -এর উল্লেখও এর ওয়াজিব হওয়ার কোন দলীল নয় যে, এটা ব্যতীত হজ্জ জায়িয হবে না। উরওয়া ইবন মুদাররিস (রাযিঃ)-এর রিওয়ায়াতেও এর কোন প্রমাণ নেই, যেমনটি তারা উল্লেখ করেছেন। কেননা রাসূলুল্লাহর তাতে বলেছেন : যে ব্যক্তি আমাদের সঙ্গে এই সালাত আদায় করেছে এবং এর পূর্বে রাতে হােক বা দিনে হােক আরাফাতে গিয়েছে (উকুফে আরাফাত করেছে) তাঁর হজ্জ পূর্ণ হয়ে গিয়েছে এবং সে তার হজ্জের বিধানসমূহ সম্পাদন করে নিতে পেরেছে। এখানে তিনি সালাতের উল্লেখ করেছেন। এ বিষয়ে সকলের ঐকমত্য রয়েছে যে, যদি সে সেখানে রাত অতিবাহিত করে এবং অবস্থান করে তারপর
ফজরের সালাতের সময় ঘুমিয়ে থাকে ইমামের সঙ্গে তা আদায় না করে পরিশেষে সেই সালাত তার ছুটে যায়, তাহলেও তার হজ্জ পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। যখন এই হাদীসে উল্লিখিত ইমামের সঙ্গে সালাতে উপস্থিতি হজ্জের ফরযসমূহে অন্তর্ভুক্ত নয় যে, তা ব্যতীত হজ্জ বিশুদ্ধ হবে না। হাদীসে যে উকুফে সালাতের উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও উক্ত সালাত ছাড়াও হজ্জ বিশুদ্ধ হয়ে যায় সে উকুফ (অবস্থানে) হাদীসে যার উল্লেখ নেই, এভাবে (ফরয) না হওয়াটা অধিকতর সংগত। সুতরাং এই হাদীসে শুধু আরাফাতের (উকুফ)-এর ফরয হওয়া সাব্যস্ত হল। আব্দুর রহমান ইব্ন ইয়া’মুর দায়লী (রাযিঃ) নবী (ﷺ) থেকে এ বিষয়ের স্বপক্ষে প্রমাণ সম্বলিত হাদীস রিওয়ায়াত করেছেনঃ
كتاب مناسك الحج
3941 - حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ الْفَرَجِ , قَالَ: ثنا حَامِدُ بْنُ يَحْيَى , قَالَ: ثنا سُفْيَانُ , قَالَ: ثنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ , عَنِ الشَّعْبِيِّ , وَابْنِ أَبِي زَائِدَةَ , عَنِ الشَّعْبِيِّ , وَزَكَرِيَّا عَنِ الشَّعْبِيِّ , وَدَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدَ قَالَ: سَمِعْتُ عُرْوَةَ بْنَ مُضَرِّسِ بْنِ أَوْسِ بْنِ حَارِثَةَ بْنِ لَائِمٍ الطَّائِيَّ , يَقُولُ: أَتَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمُزْدَلِفَةَ , فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ جِئْتُ مِنْ جَبَلَيْ طَيِّئٍ , وَوَاللهِ مَا جِئْتُ حَتَّى أَتْعَبْتُ نَفْسِي وَأَنْضَيْتُ رَاحِلَتِي , وَمَا تَرَكْتُ جَبَلًا مِنْ هَذِهِ الْجِبَالِ إِلَّا وَقَدْ وَقَفْتُ عَلَيْهِ , فَهَلْ لِي مِنْ حَجٍّ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ شَهِدَ مَعَنَا هَذِهِ الصَّلَاةَ , صَلَاةَ الْفَجْرِ بِالْمُزْدَلِفَةِ , وَقَدْ كَانَ وَقَفَ بِعَرَفَةَ قَبْلَ ذَلِكَ لَيْلًا أَوْ نَهَارًا , فَقَدْ تَمَّ حَجُّهُ , وَقَضَى تَفَثَهُ» قَالَ سُفْيَانُ , وَزَادَ زَكَرِيَّا فِيهِ , وَكَانَ أَحْفَظَ الثَّلَاثَةِ لِهَذَا الْحَدِيثِ , قَالَ: " فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ أَتَيْتُ هَذِهِ السَّاعَةَ مِنْ جَبَلَيْ طَيِّئٍ , قَدْ أَكَلَلْتُ رَاحِلَتِي , وَأَتْعَبْتُ نَفْسِي , فَهَلْ لِي مِنْ حَجٍّ؟ فَقَالَ: «مَنْ شَهِدَ مَعَنَا هَذِهِ الصَّلَاةَ , وَوَقَفَ مَعَنَا حَتَّى نُفِيضَ , وَقَدْ كَانَ وَقَفَ قَبْلَ ذَلِكَ بِعَرَفَةَ , مِنْ لَيْلٍ أَوْ نَهَارٍ فَقَدْ تَمَّ حَجُّهُ , وَقَضَى تَفَثَهُ» قَالَ سُفْيَانُ: وَزَادَ دَاوُدَ بْنُ أَبِي هِنْدَ , قَالَ: أَتَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ بَرَقَ الْفَجْرُ , ثُمَّ ذَكَرَ الْحَدِيثَ قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: فَذَهَبَ قَوْمٌ إِلَى أَنَّ الْوُقُوفَ بِالْمُزْدَلِفَةِ فَرْضٌ , لَا يَجُوزُ إِلَّا بِإِصَابَتِهِ. وَاحْتَجُّوا فِي ذَلِكَ بِقَوْلِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ: {فَإِذَا أَفَضْتُمْ مِنْ عَرَفَاتٍ فَاذْكُرُوا اللهَ عِنْدَ الْمَشْعَرِ الْحَرَامِ "} [البقرة: 198] وَبِهَذَا الْحَدِيثِ الَّذِي رَوَيْنَاهُ. وَقَالُوا ذَكَرَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ فِي كِتَابِهِ الْمَشْعَرَ الْحَرَامَ , كَمَا ذَكَرَ عَرَفَاتٍ , وَذَكَرَ ذَلِكَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سُنَّتِهِ , فَحُكْمُهَا وَاحِدٌ , لَا يُجْزِئُ الْحَجُّ إِلَّا بِإِصَابَتِهَا. [ص:209] وَخَالَفَهُمْ فِي ذَلِكَ آخَرُونَ فَقَالُوا: أَمَّا الْوُقُوفُ بِعَرَفَةَ , فَهُوَ مِنْ صُلْبِ الْحَجِّ الَّذِي لَا يُجْزِئُ الْحَجُّ إِلَّا بِإِصَابَتِهِ , وَأَمَّا الْوُقُوفُ بِمُزْدَلِفَةَ , فَلَيْسَ كَذَلِكَ. وَكَانَ مِنَ الْحُجَّةِ لَهُمْ فِي ذَلِكَ أَنَّ قَوْلَ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ: {فَإِذَا أَفَضْتُمْ مِنْ عَرَفَاتٍ فَاذْكُرُوا اللهَ عِنْدَ الْمَشْعَرِ الْحَرَامِ "} [البقرة: 198] لَيْسَ فِيهِ دَلِيلٌ عَلَى أَنَّ ذَلِكَ عَلَى الْوُجُوبِ لِأَنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ إِنَّمَا ذَكَرَ الذِّكْرَ , وَلَمْ يَذْكُرِ الْوُقُوفَ , وَكُلٌّ قَدْ أَجْمَعَ أَنَّهُ لَوْ وَقَفَ بِمُزْدَلِفَةَ , وَلَمْ يَذْكُرِ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ أَنَّ حَجَّهُ تَامٌّ. فَإِذَا كَانَ الذِّكْرُ الْمَذْكُورُ فِي الْكِتَابِ , لَيْسَ مِنْ صُلْبِ الْحَجِّ , فَالْمَوْطِنُ الَّذِي يَكُونُ ذَلِكَ الذِّكْرُ فِيهِ , الَّذِي لَمْ يُذْكَرْ فِي الْكِتَابِ , أَحْرَى أَنْ لَا يَكُونَ فَرْضًا. وَقَدْ ذَكَرَ اللهُ تَعَالَى أَشْيَاءَ فِي كِتَابِهِ مِنَ الْحَجِّ , وَلَمْ يُرِدْ بِذِكْرِهَا إِيجَابَهَا , حَتَّى لَا يُجْزِئَ الْحَجُّ إِلَّا بِإِصَابَتِهَا فِي قَوْلِ أَحَدٍ مِنَ الْمُسْلِمِينَ. مِنْ ذَلِكَ قَوْلُهُ تَعَالَى {إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا "} [البقرة: 158] وَكُلٌّ قَدْ أَجْمَعَ أَنَّهُ لَوْ حَجَّ وَلَمْ يَطُفْ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ , أَنَّ حَجَّهُ قَدْ تَمَّ , وَعَلَيْهِ دَمٌ مَكَانَ مَا نَزَلَ مِنْ ذَلِكَ. فَكَذَلِكَ ذِكْرُ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ الْمَشْعَرِ الْحَرَامِ فِي كِتَابِهِ لَيْسَ فِي ذَلِكَ دَلِيلٌ عَلَى إِيجَابِهِ حَتَّى لَا يُجْزِئَ الْحَجُّ إِلَّا بِإِصَابَتِهِ. وَأَمَّا مَا فِي حَدِيثِ عُرْوَةَ بْنِ مُضَرِّسٍ , فَلَيْسَ فِيهِ دَلِيلٌ أَيْضًا عَلَى مَا ذَكَرُوا لِأَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّمَا قَالَ فِيهِ: «مَنْ صَلَّى مَعَنَا صَلَاتَنَا هَذِهِ , وَقَدْ كَانَ أَتَى عَرَفَةَ قَبْلَ ذَلِكَ مِنْ لَيْلٍ أَوْ نَهَارٍ فَقَدْ تَمَّ حَجُّهُ وَقَضَى تَفَثَهُ» فَذَكَرَ الصَّلَاةَ , وَكُلٌّ قَدْ أَجْمَعَ عَلَى أَنَّهُ لَوْ بَاتَ بِهَا , وَوَقَفَ وَنَامَ عَنِ الصَّلَاةِ فَلَمْ يُصَلِّهَا مَعَ الْإِمَامِ حَتَّى فَاتَتْهُ , أَنَّ حَجَّهُ تَامٌّ. فَلَمَّا كَانَ حُضُورُ الصَّلَاةِ مَعَ الْإِمَامِ الْمَذْكُورُ فِي هَذَا الْحَدِيثِ , لَيْسَ مِنْ صُلْبِ الْحَجِّ الَّذِي لَا يُجْزِئُ الْحَجُّ إِلَّا بِإِصَابَتِهِ , كَانَ الْمَوْطِنُ الَّذِي تَكُونُ فِيهِ تِلْكَ الصَّلَاةُ , الَّذِي لَمْ يُذْكَرْ فِي الْحَدِيثِ , أَحْرَى أَنْ لَا يَكُونَ كَذَلِكَ. فَلَمْ يَتَحَقَّقْ بِهَذَا الْحَدِيثِ ذِكْرُ الْفَرْضِ إِلَّا لِعَرَفَةَ خَاصَّةً. وَقَدْ رَوَى عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ يَعْمُرَ الدِّيلِيُّ , عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا يَدُلُّ عَلَى ذَلِكَ