শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ
৬. হজ্বের অধ্যায়
হাদীস নং: ৪০৫০
হজ্বের অধ্যায়
তাওয়াফে যিয়ারতের পর তাওয়াফে সদর (বিদায়ী তাওয়াফের)-এর পূর্বে কোন মহিলার ঋতুস্রাব হলে
৪০৫০। ইউনুস (রাহঃ) ….. ইব্ন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, লোকেরা সব রকমে (তাওয়াফে সদর করে এবং না করে) ফিরে যেত্ তারপর রাসূলুল্লাহ (সা:) বললেন, তোমাদের কেউ যেন প্রত্যাবর্তন না করে যতক্ষণ না তার শেষ আমল হয় বায়তুল্লাহ্ শরীফ তাওয়াফ।
كتاب مناسك الحج
4050 - بِمَا حَدَّثَنَا يُونُسُ قَالَ: ثنا سُفْيَانُ , عَنْ سُلَيْمَانَ وَهُوَ ابْنُ أَبِي مُسْلِمٍ الْأَحْوَلِ , عَنْ طَاوُسٍ , عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: " كَانَ النَّاسُ يَنْفِرُونَ مِنْ كُلِّ وَجْهٍ. فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يَنْفِرَنَّ أَحَدٌ حَتَّى يَكُونَ آخِرُ عَهْدِهِ الطَّوَافَ بِالْبَيْتِ»
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ হাদীসে যেমন স্পষ্ট উল্লেখিত হয়েছে যে, প্রথম প্রথম লোকেরা বিদায়ী তাওয়াফের প্রতি যত্নবান থাকত না। ১২ অথবা ১৩ই যিলহজ্ব পর্যন্ত মিনায় অবস্থান করে কংকর মারা ইত্যাদি হজ্বের কাজ সেরে নিজ নিজ দেশে ফিরে যেত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ নির্দেশ দ্বারা যেন এর গুরুত্ব ও ওয়াজিব হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এ জন্যই ফুকাহায়ে কেরাম তাওয়াফে বিদাকে ওয়াজিব বলেছেন। তবে হাদীসে এটাও আছে যে, যেসব মহিলা এ সময় তাদের বিশেষ দিন আসার কারণে তাওয়াফ করতে অপারগ, তারা যদি আগেই তাওয়াফে যিয়ারত করে নিয়ে থাকে, তাহলে বিদায়ী তাওয়াফ না করেই দেশে ফিরে যেতে পারবে। তাদের ছাড়া প্রত্যেক বহিরাগত হাজীর জন্য জরুরী যে, তারা দেশে রওয়ানা হওয়ার আগে বিদায়ের নিয়তেই শেষ ও বিদায়ী তাওয়াফ করে নিবে। আর এটাই হজ্ব সংক্রান্ত তার শেষ কাজ।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)