শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ
৬. হজ্বের অধ্যায়
হাদীস নং: ৪১৪১
হজ্বের অধ্যায়
হজ্জব্রত পালনে অবরুদ্ধ ব্যক্তির বিধান
৪১৪১। ইউনুস (রাহঃ) ….. সালিম (রাহঃ)-এর পিতা (আব্দুল্লাহ রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি রােগের কারণে বায়তুল্লাহ্ শরীফ থেকে দূরে আটকা পড়ে সে ততক্ষণ পর্যন্ত হালাল হবে না যতক্ষণ না বায়তুল্লাহ্ শরীফের তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করবে।
যখন এই বিষয়টিতে মতবিরােধ সৃষ্টি হয়েছে এবং আমরা হাজ্জাজ ইব্ন আম্র (রাযিঃ), ইব্ন আব্বাস (রাযিঃ) ও আবু হুরায়রা (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ(ﷺ)-এর ইরশাদঃ “যে ব্যক্তির কোন অঙ্গ ভেঙ্গে যাবে কিংবা সে লেংড়া হয়ে যাবে সে হালাল হয়ে যাবে”-এর ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেছি যে, তার উপর আরেকটি হজ্জ আবশ্যক হয়। এতে প্রমাণিত হল যে, অবরুদ্ধতা যেভাবে দুশমনের কারণে হয় অনুরূপভাবে রােগের কারণেও হয়। এই অনুচ্ছেদের হাদীসসমূহের সঠিক মর্ম নিরূপণের নীতিতে এটাই হল যথার্থ বিশ্লেষণ। পক্ষান্তরে যুক্তির ভিত্তিতে বিশ্লেষণ হল যে, আমরা ফকীহ্গণকে লক্ষ্য করেছি যে, তাঁরা এ বিষয়ে ঐকমত্য পােষণ করেছেন যে, দুশমনের কারণে অবরুদ্ধ অবস্থায় অবরুদ্ধ ব্যক্তির উপরে হালাল হয়ে যাওয়া ওয়াজিব, যেমনটি আমরা বর্ণনা করেছি। কিন্তু তাঁরা রােগের ব্যাপারে মতবিরােধ করেছেন। একদল বলেন যে, এ বিষয়ে এর হুকুম দুশমনের হুকুমের অনুরূপ। কেননা এটাও, তার হজ্জকে অব্যাহত রাখতে বাধা প্রদান করা, দুশমনের বাধা প্রদান করার অনুরূপ। পক্ষান্তরে অপরদল বলেন যে, এর হুকুম দুশমনের হুকুম থেকে ভিন্নতর। আমরা দেখতে চাচ্ছি যে, সেই কাজ যা দুশমনের কারণে প্রয়ােজনের ভিত্তিতে জায়েয হয় তা রােগের কারণেও জায়েয হয় কি-না? আমরা লক্ষ্য করছি যে, যখন কোন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতে সক্ষম তখন তার জন্য দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করা ফরয। যদি তার আশংকা হয় যে, দাঁড়ালে দুশমন তাকে দেখে হত্যা করে ফেলবে অথবা দুশমন তার মাথার উপর দাঁড়ালে এবং সে তাকে দাঁড়াতে বাধা দিচ্ছে, তবে সকলের ঐকমত্য রয়েছে যে, তার জন্য বসে সালাত আদায় করা জায়িয এবং তার জন্য কিয়াম (দাঁড়ান) ফরয হওয়ার বিধান রহিত হয়ে যাবে। আর এ বিষয়েও তাঁদের ঐকমত্য রয়েছে যে, যদি কোন ব্যক্তি রােগ বা পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়ার কারণে দাঁড়াতে না পারে, তবে তার জন্য কিয়াম ফরয হওয়ার বিধান রহিত হয়ে যাবে এবং তার জন্য বসে সালাত আদায় করা জায়িয। যদি সক্ষম হয় তাহলে রুকু সিজদা করবে অন্যথায় ইশারা দ্বারা তা আদায় করবে। সুতরাং আমরা দেখছি যে, তার জন্য যে কাজ দুশমনের কারণে প্রয়ােজনের ভিত্তিতে জায়িয হয়; সেটা রোগের কারণেও প্রয়ােজনের নিরিখে জায়িয হয়। আমরা লক্ষ্য করছি যে, যখন কোন ব্যক্তি এবং পানির মাঝে দুশমন বাধা হয়ে দাঁড়ায় তখন তার জন্য উযূর ফরয হওয়ার বিধান রহিত হয়ে যায়; সে তায়াম্মুম করে সালাত আদায় করবে। অনুরূপভাবে তার যদি এরূপ কোন রােগ হয় যাতে পানি ব্যবহার ক্ষতিকর হয়, এ অবস্থায়ও তার জন্য উযূ ফরয হওয়ার বিধান রহিত হয়ে যায়; সে তায়াম্মুম করবে এবং সালাত আদায় করবে। এই সমস্ত অবস্থায় যেখানে সে দুশমনের কারণে ওযরগ্রস্ত হয়েছে আর কখনও রােগের কারণে ওযরগ্রস্ত হয়, এ বিষয়ে অবস্থা ও হুকুম অভিন্ন। তারপর আমরা লক্ষ্য করছি যে, ঐ হজ্জ পালনকারী যে দুশমনের কারণে বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে এবং ওযরগ্রস্ত সাব্যস্ত হয়েছে। বস্তুত তার জন্য সেই আমল করার হুকুম রয়েছে যা বাধাগ্রস্ত ব্যক্তিকে করতে হয়, তারপর সে হালাল হয়। পক্ষান্তরে রােগের কারণে অবরুদ্ধ ব্যক্তির ব্যাপারে তারা (ফকীহ্গণ) মতবিরােধ করেছেন। এ বিষয়ে যা কিছু আমরা উল্লেখ করেছি এর উপর যুক্তির দাবি হল যে, দুশমনের কারণে প্রয়ােজনের নিরিখে তার জন্য আমল ওয়াজিব, ভােগের কারণেও প্রয়ােজনের নিরিখে তা ওয়াজিব হবে এবং এ দু’টির হুকুম অনুরূপভাবে অভিন্ন হবে, যেমনটি তাহারাত ও সালাতের ব্যাপারে উভয়ের হুকুম এক ও অভিন্ন।
তারপর সেই ব্যক্তির ব্যাপারে আলিমগণ মত বিরােধ করেছেন, যে উমরার ইহরাম বেঁধেছে এবং দুশমন কিংবা রােগের কারণে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেঃ একদল আলিম বলেন, সে হাদী পাঠিয়ে দিবে এবং সঙ্গীদের থেকে ওয়াদা নিবে, তারা তার পক্ষ থেকে তা যবাহ করবে। যখন তা যবাহ হয়ে যাবে সে হালাল হয়ে যাবে । কিন্তু অপর দল বলেন, সে অবিরত ইহরাম বেঁধে রাখবে, তার জন্য হজ্জের ন্যায় ওয়াক্ত নির্দিষ্ট নেই। যারা এ মত পােষণকারী যে, সে হাদীর সাথে ইহরাম থেকে হালাল হয়ে যাবে তাদের দলীল হল রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) -এর সেই হাদীস, যা আমরা এই অনুচ্ছেদের শুরুতে বর্ণনা করেছি যে, যখন তিনি হুদায়বিয়ার বছর উমরার ইহরামরত অবস্থায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন। কুরায়শ এর কাফিররা তাঁকে অবরুদ্ধ করেছিল, তখন তিনি হাদী যবাহ করেছেন এবং ইহরাম খুলে হালাল হয়ে গিয়েছেন। আর এ ভিত্তিতে তিনি অবরুদ্ধতা সমাপ্ত হওয়ার অপেক্ষা করেন নি। যেহেতু এর জন্য হজ্জের ন্যায় ওয়াক্ত নির্দিষ্ট নেই, বরং এর জন্য অবরুদ্ধতাকে অনুরূপভাবে ওযর সাব্যস্ত করেছেন যেমনিভাবে হজ্জের সাথে অবরুদ্ধতার কারণে ওযরগ্রস্ত হয়। এতে সাব্যস্ত হল যে, অবরুদ্ধতার অবস্থায় দু’টির হুকুম এক ও অভিন্ন যে, সে হাদী পাঠাবে এবং এরপরে ঐ অবরুদ্ধতার কারণে উভয়ের ইহরাম খুলে হালাল হয়ে যাবে। তবে তার উপর উমরার অবস্থায় উমরার কাযা হবে তার উমরার স্থলে এবং হজ্জের অবস্থায় কাযা হিসাবে একটি হজ্জ এবং ইহরাম খােলার কারণে উমরা পালন আবশ্যক হবে। ইতিপূর্বে এই অনুচ্ছেদে আমরা আব্দুল্লাহ ইব্ন মাসউদ (রাযিঃ) থেকে রিওয়ায়াত উদ্ধৃত করেছি যে, উমরার জন্য ইহরাম পালনকারীও কখনও অবরুদ্ধ হয়। রিওয়ায়াতসমূহের নীতিতে এটাই হল
এই অনুচ্ছেদের সঠিক বিশ্লেষণ। এ বিষয়ে যুক্তির ভিত্তিতে আলােচনা হল এই যে, আমরা লক্ষ্য করছি যে, কিছু জিনিস যা বান্দাদের উপর ফরয। এর মধ্যে কতেকের জন্য বিশেষ সময় নির্ধারিত আছে। আবার তাদের উপর কিছু ফরয বিধানাবলী এরূপ রয়েছে, যার জন্য পূরা জীবন ওয়াক্ত নির্ধারিত করা হয়েছে। সেগুলাে থেকে সালাতসমূহ যা তাদের উপর বিশেষ ওয়াক্তসমূহে ফরয এবং সেই ওয়াক্তসমূহে ঐ সমস্ত কারণের সাথে ঐ আদায় করা হয়, যা সেই ওয়াক্তসমূহের পূর্বে পাওয়া যায়। যেমন পানি দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করা, সতর ঢাকা ইত্যাদি এবং সেই সমস্ত জিনিস থেকে যিহার, সিয়াম ও হত্যার কাফফারায় সিয়াম পালন। যা যিহারকারী ও হত্যাকারীর উপর নির্দিষ্ট দিনে আবশ্যক নয় বরং এর জন্য পুরােজীবন ওয়াক্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। অনুরূপভাবে কসমের কাফফারা, যা আল্লাহ্ তা'আলা কসম ভঙ্গকারীর উপর ওয়াজিব করেছেন। আর তা হল اطعام عشرة مساكين أو کسوتهم أو تحرير رقبة দশ মিসকীনকে আহার করান কিংবা তাদের পােশাক পরিধান করান অথবা একটি ক্রীতদাস আযাদ করা।
তারপর যাদের উপর আল্লাহ্ তা'আলা পূর্বে পাওয়া যাওয়া কারণ এবং সালাতের মাঝে পাওয়া যাওয়া কারণের শর্তে সালাত ফরয করেছেন। যখন এগুলাে থেকে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয় তখন এটাকে ওযর সাব্যস্ত করেছেন। সেই সমস্ত জিনিস থেকে একটি হল, যে ব্যক্তি পানি না পায় তার জন্য পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা রহিত হয়ে যায় এবং তায়াম্মুমের বিধান কার্যকর হয়। তা থেকে আরেকটি হল যে, যদি সতর ঢাকার জন্য কিছু না পায় তাহলে উলঙ্গ হয়ে সালাত আদায় করবে। আরেকটি হলঃ যে ব্যক্তি কিবলামুখী হতে না পারে সে কিবলা ব্যতীত অন্য দিকে মুখ করে সালাত আদায় করবে। আরেকটি হলঃ যে ব্যক্তি দাঁড়াতে অক্ষম সে বসে রুকূ-সিজদার সঙ্গে সালাত আদায় করবে। যদি এটাও করতে না পারে, তাহলে ইশারা দ্বারা সালাত আদায় করবে, তাকে এর অনুমতি দেয়া হয়েছে। যদিও এতটুকু ওয়াক্ত অবশিষ্ট থাকে যাতে এই ওযর খতম হয়ে যায় এবং সে ওই অবস্থার দিকে প্রত্যাবর্তন করে যা ওযরের পূর্বে বিদ্যমান ছিল, যদিও তখনাে তার ওয়াক্ত চলে যায় নি এবং সে ওয়াক্তের মধ্যেই থাকে। অনুরূপভাবে যে ব্যক্তির উপর আল্লাহ্ তা'আলা কাফফার সিয়াম ওয়াজিব করেছেন, কোন রােগের কারণে সিয়াম পালনে সক্ষম না হয়, তা হলে ওযরগ্রস্ত হবে। অথচ এরপরে সে সুস্থ হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে এবং তার সিয়াম পালনের শক্তি ফিরে আসে। এবং তার সিয়াম পালনের ব্যাপারে কোন কিছু প্রতিবন্ধক নেই। কেননা এর জন্য কোন ওয়াক্ত নির্দিষ্ট নেই। এটা তার থেকে সিয়াম রহিত হওয়ার ব্যাপারে ওযর হিসাবে সাব্যস্ত করা হবে। অনুরূপভাবে কাফফারাসমূহের অবস্থায় আহার করানাে, ক্রীতদাস আযাদ করা অথবা পােশাক পরিধান করানাের হুকুম। যদি এগুলাে থেকে কোনটির উপর শক্তিমান না হয় তা হলে অন্যের সঙ্গে শক্তিমান গণ্য করা হবে এবং আগামীতে কোন সময়ে অর্জনযােগ্য শক্তির সম্ভবনা ধর্তব্য হবে না। তাই যখন প্রয়ােজনের সময় সেই সমস্ত জিনিসগুলাের ফরয হওয়া রহিত হয়ে যায় যদিও ওয়াক্ত ফওত হয়ে যাওয়ার আশংকা না থাকে। সুতরাং এ জিনিসগুলাে এবং ঐ সমস্তগুলাে যাতে ওয়াক্ত ফওত হয়ে যাওয়ার আশংকা থাকে। যেমন আখেরী ওয়াক্তে সালাত ইত্যাদি অভিন্ন হুকুম -এর আওতাভুক্ত।
সুতরাং আমরা যা উল্লেখ করেছি এর উপর যুক্তির দাবি হল যে, উমরাও অনুরূপ হবে যে, উমরার জন্য এবং যার কোন ওয়াক্ত নির্দিষ্ট নেই প্রয়ােজনের নিরিখে সে জিনিস জায়িয হবে, যা ঐ সমস্ত জিনিসের জন্য জায়িয হয়; যার নির্দিষ্ট ওয়াক্ত আছে। এতে সেই সমস্ত আলিমদের মাযহাব সাব্যস্ত হল যারা অভিন্নরূপে হজ্জের অবরুদ্ধতার ন্যায় উমরার জন্যও অবরুদ্ধতাকে স্বীকার করেন। আর এটাই হল ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ), ইমাম আবু ইউসুফ (রাহঃ) ও ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ)-এর অভিমত।
তারপর এ বিষয়ে ফকীহদের মত বিরােধ রয়েছে যে, যখন অবরুদ্ধ ব্যক্তির হাদী যবাই হয়ে যাবে তখন সে মাথা মুণ্ডন করতে পারবে কি-না? একদল আলিম বলেন, তার উপর মাথা মুণ্ডন করা আবশ্যক নয়। কেননা তার হজ্জের সমস্ত আমলসমূহ বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে। ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ) ও ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ)ও এই মত পােষণ করেন। পক্ষান্তরে অন্য একদল আলিম বলেন, বরং সে মাথা মুণ্ডন করবে। যদি সে মাথা মুণ্ডন না করে তখনও ইহরাম খুলে হালাল হতে পারবে এবং তার উপর কোন কিছু ওয়াজিব হবে না। এই মত যারা পােষণ করেছেন। ইমাম আবু ইউসুফ (রাহঃ) তাঁদের অন্যতম। আরেক দল আলিম বলেছেন, সে মাথা মুণ্ডন করবে এবং এটা তার উপর অনুরূপভাবে ওয়াজিব যেমনিভাবে হজ্জ বা উমরা পালনকারীর উপর ওয়াজিব হয়।
এ বিষয়ে ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ) ও ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ)-এর দলীল হলঃ ইহ্সার বা অবরুদ্ধতার কারণে তার থেকে তাওয়াফ, সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ ইত্যাদি হজ্জের সমস্ত আমল রহিত হয়ে যায়। আর এটা সেই সমস্ত জিনিসের অন্তর্ভুক্ত যার দ্বারা ইহরামকারী তার ইহরাম থেকে বের হয়ে হালাল হয়ে যায়। আপনি কি লক্ষ্য করেছেন, যখন সে কুরবানীর দিনে বায়তুল্লাহ্ শরীফের তাওয়াফ করে তখন তার জন্য মাথা মুণ্ডন করা জায়িয হয়ে যায়, এবং এতে তার জন্য সুগন্ধি ব্যবহার, (সেলাই করা) পােশাক পরিধান করা ও স্ত্রী সঙ্গম হালাল হয়ে যায়। তাঁরা বলেন, যখন এটা (হলক) সেই সমস্ত জিনিসের অন্তর্ভুক্ত যেগুলাে হজ্জ পালনকারী ইহরাম খােলার পূর্বে সম্পাদন করে। আর অবরুদ্ধতার কারণে এইসব কিছু তার থেকে রহিত হয়ে গিয়েছে। তাই এখন তার থেকে সেই সমস্ত জিনিস রহিত হয়ে যাবে যেগুলাে ইহরামকারী অবরুদ্ধতার কারণে ছেড়ে দেয়। এটা হল ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ) ও ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ)-এর দলীল। পক্ষান্তরে এ বিষয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে অন্যদের দলীল হল যে, বায়তুল্লাহ শরীফের তাওয়াফ, সাফা-মারওয়া মাঝে সাঈ ও জামরাতে কংকর নিক্ষেপ করাসহ এই সমস্ত আমল থেকে ইহরামকারী বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে এবং তার ও ঐ সমস্ত জিনিসের মাঝে 'অবরুদ্ধতা' বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই তার থেকে সেই সমস্ত আমল সম্পাদন রহিত হয়ে গিয়েছে। কিন্তু মাথা মুণ্ডন এবং তার মাঝে কোন কিছু আড়াল হয়নি, সে তা সম্পাদন করতে সক্ষম। সে অবরুদ্ধ অবস্থায় আমল করতে সক্ষম এর সে-ই হুকুমই হবে যা অবরুদ্ধতা ব্যতীত (মুক্ত) অবস্থায় হয় এবং যা সে অবরুদ্ধ থাকা অবস্থায় আঞ্জাম দিতে পারে না তা অবরুদ্ধতার কারণে তার থেকে রহিত হয়ে যাবে। আমাদের নিকট এটাই যুক্তি সংগত। সুতরাং যখন অবরুদ্ধ অবস্থায় হলক ওয়াজিব হওয়ার হুকুম সেটাই যা অবরুদ্ধ থাকার অবস্থায় হয়। তাই তা ছাড়ার হুকুমও অবরুদ্ধতার অবস্থায় সেটাই হবে, যা অবরুদ্ধ না হওয়ার অবস্থায় হয়ে থাকে।
রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) থেকে এ বিষয়ে হাদীস বর্ণিত আছে যা এ কথার প্রমাণ বহন করে যে, অবরুদ্ধ ব্যক্তিদের উপর হলকের হুকুম অনুরূপভাবে বাকী আছে যেমনিভাবে ঐ ব্যক্তির জন্য (বাকী), যে বায়তুল্লাহ্ শরীফ (হারাম) পর্যন্ত পৌঁছায়। আর তা হল নিম্নরূপঃ
যখন এই বিষয়টিতে মতবিরােধ সৃষ্টি হয়েছে এবং আমরা হাজ্জাজ ইব্ন আম্র (রাযিঃ), ইব্ন আব্বাস (রাযিঃ) ও আবু হুরায়রা (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ(ﷺ)-এর ইরশাদঃ “যে ব্যক্তির কোন অঙ্গ ভেঙ্গে যাবে কিংবা সে লেংড়া হয়ে যাবে সে হালাল হয়ে যাবে”-এর ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেছি যে, তার উপর আরেকটি হজ্জ আবশ্যক হয়। এতে প্রমাণিত হল যে, অবরুদ্ধতা যেভাবে দুশমনের কারণে হয় অনুরূপভাবে রােগের কারণেও হয়। এই অনুচ্ছেদের হাদীসসমূহের সঠিক মর্ম নিরূপণের নীতিতে এটাই হল যথার্থ বিশ্লেষণ। পক্ষান্তরে যুক্তির ভিত্তিতে বিশ্লেষণ হল যে, আমরা ফকীহ্গণকে লক্ষ্য করেছি যে, তাঁরা এ বিষয়ে ঐকমত্য পােষণ করেছেন যে, দুশমনের কারণে অবরুদ্ধ অবস্থায় অবরুদ্ধ ব্যক্তির উপরে হালাল হয়ে যাওয়া ওয়াজিব, যেমনটি আমরা বর্ণনা করেছি। কিন্তু তাঁরা রােগের ব্যাপারে মতবিরােধ করেছেন। একদল বলেন যে, এ বিষয়ে এর হুকুম দুশমনের হুকুমের অনুরূপ। কেননা এটাও, তার হজ্জকে অব্যাহত রাখতে বাধা প্রদান করা, দুশমনের বাধা প্রদান করার অনুরূপ। পক্ষান্তরে অপরদল বলেন যে, এর হুকুম দুশমনের হুকুম থেকে ভিন্নতর। আমরা দেখতে চাচ্ছি যে, সেই কাজ যা দুশমনের কারণে প্রয়ােজনের ভিত্তিতে জায়েয হয় তা রােগের কারণেও জায়েয হয় কি-না? আমরা লক্ষ্য করছি যে, যখন কোন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতে সক্ষম তখন তার জন্য দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করা ফরয। যদি তার আশংকা হয় যে, দাঁড়ালে দুশমন তাকে দেখে হত্যা করে ফেলবে অথবা দুশমন তার মাথার উপর দাঁড়ালে এবং সে তাকে দাঁড়াতে বাধা দিচ্ছে, তবে সকলের ঐকমত্য রয়েছে যে, তার জন্য বসে সালাত আদায় করা জায়িয এবং তার জন্য কিয়াম (দাঁড়ান) ফরয হওয়ার বিধান রহিত হয়ে যাবে। আর এ বিষয়েও তাঁদের ঐকমত্য রয়েছে যে, যদি কোন ব্যক্তি রােগ বা পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়ার কারণে দাঁড়াতে না পারে, তবে তার জন্য কিয়াম ফরয হওয়ার বিধান রহিত হয়ে যাবে এবং তার জন্য বসে সালাত আদায় করা জায়িয। যদি সক্ষম হয় তাহলে রুকু সিজদা করবে অন্যথায় ইশারা দ্বারা তা আদায় করবে। সুতরাং আমরা দেখছি যে, তার জন্য যে কাজ দুশমনের কারণে প্রয়ােজনের ভিত্তিতে জায়িয হয়; সেটা রোগের কারণেও প্রয়ােজনের নিরিখে জায়িয হয়। আমরা লক্ষ্য করছি যে, যখন কোন ব্যক্তি এবং পানির মাঝে দুশমন বাধা হয়ে দাঁড়ায় তখন তার জন্য উযূর ফরয হওয়ার বিধান রহিত হয়ে যায়; সে তায়াম্মুম করে সালাত আদায় করবে। অনুরূপভাবে তার যদি এরূপ কোন রােগ হয় যাতে পানি ব্যবহার ক্ষতিকর হয়, এ অবস্থায়ও তার জন্য উযূ ফরয হওয়ার বিধান রহিত হয়ে যায়; সে তায়াম্মুম করবে এবং সালাত আদায় করবে। এই সমস্ত অবস্থায় যেখানে সে দুশমনের কারণে ওযরগ্রস্ত হয়েছে আর কখনও রােগের কারণে ওযরগ্রস্ত হয়, এ বিষয়ে অবস্থা ও হুকুম অভিন্ন। তারপর আমরা লক্ষ্য করছি যে, ঐ হজ্জ পালনকারী যে দুশমনের কারণে বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে এবং ওযরগ্রস্ত সাব্যস্ত হয়েছে। বস্তুত তার জন্য সেই আমল করার হুকুম রয়েছে যা বাধাগ্রস্ত ব্যক্তিকে করতে হয়, তারপর সে হালাল হয়। পক্ষান্তরে রােগের কারণে অবরুদ্ধ ব্যক্তির ব্যাপারে তারা (ফকীহ্গণ) মতবিরােধ করেছেন। এ বিষয়ে যা কিছু আমরা উল্লেখ করেছি এর উপর যুক্তির দাবি হল যে, দুশমনের কারণে প্রয়ােজনের নিরিখে তার জন্য আমল ওয়াজিব, ভােগের কারণেও প্রয়ােজনের নিরিখে তা ওয়াজিব হবে এবং এ দু’টির হুকুম অনুরূপভাবে অভিন্ন হবে, যেমনটি তাহারাত ও সালাতের ব্যাপারে উভয়ের হুকুম এক ও অভিন্ন।
তারপর সেই ব্যক্তির ব্যাপারে আলিমগণ মত বিরােধ করেছেন, যে উমরার ইহরাম বেঁধেছে এবং দুশমন কিংবা রােগের কারণে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেঃ একদল আলিম বলেন, সে হাদী পাঠিয়ে দিবে এবং সঙ্গীদের থেকে ওয়াদা নিবে, তারা তার পক্ষ থেকে তা যবাহ করবে। যখন তা যবাহ হয়ে যাবে সে হালাল হয়ে যাবে । কিন্তু অপর দল বলেন, সে অবিরত ইহরাম বেঁধে রাখবে, তার জন্য হজ্জের ন্যায় ওয়াক্ত নির্দিষ্ট নেই। যারা এ মত পােষণকারী যে, সে হাদীর সাথে ইহরাম থেকে হালাল হয়ে যাবে তাদের দলীল হল রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) -এর সেই হাদীস, যা আমরা এই অনুচ্ছেদের শুরুতে বর্ণনা করেছি যে, যখন তিনি হুদায়বিয়ার বছর উমরার ইহরামরত অবস্থায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন। কুরায়শ এর কাফিররা তাঁকে অবরুদ্ধ করেছিল, তখন তিনি হাদী যবাহ করেছেন এবং ইহরাম খুলে হালাল হয়ে গিয়েছেন। আর এ ভিত্তিতে তিনি অবরুদ্ধতা সমাপ্ত হওয়ার অপেক্ষা করেন নি। যেহেতু এর জন্য হজ্জের ন্যায় ওয়াক্ত নির্দিষ্ট নেই, বরং এর জন্য অবরুদ্ধতাকে অনুরূপভাবে ওযর সাব্যস্ত করেছেন যেমনিভাবে হজ্জের সাথে অবরুদ্ধতার কারণে ওযরগ্রস্ত হয়। এতে সাব্যস্ত হল যে, অবরুদ্ধতার অবস্থায় দু’টির হুকুম এক ও অভিন্ন যে, সে হাদী পাঠাবে এবং এরপরে ঐ অবরুদ্ধতার কারণে উভয়ের ইহরাম খুলে হালাল হয়ে যাবে। তবে তার উপর উমরার অবস্থায় উমরার কাযা হবে তার উমরার স্থলে এবং হজ্জের অবস্থায় কাযা হিসাবে একটি হজ্জ এবং ইহরাম খােলার কারণে উমরা পালন আবশ্যক হবে। ইতিপূর্বে এই অনুচ্ছেদে আমরা আব্দুল্লাহ ইব্ন মাসউদ (রাযিঃ) থেকে রিওয়ায়াত উদ্ধৃত করেছি যে, উমরার জন্য ইহরাম পালনকারীও কখনও অবরুদ্ধ হয়। রিওয়ায়াতসমূহের নীতিতে এটাই হল
এই অনুচ্ছেদের সঠিক বিশ্লেষণ। এ বিষয়ে যুক্তির ভিত্তিতে আলােচনা হল এই যে, আমরা লক্ষ্য করছি যে, কিছু জিনিস যা বান্দাদের উপর ফরয। এর মধ্যে কতেকের জন্য বিশেষ সময় নির্ধারিত আছে। আবার তাদের উপর কিছু ফরয বিধানাবলী এরূপ রয়েছে, যার জন্য পূরা জীবন ওয়াক্ত নির্ধারিত করা হয়েছে। সেগুলাে থেকে সালাতসমূহ যা তাদের উপর বিশেষ ওয়াক্তসমূহে ফরয এবং সেই ওয়াক্তসমূহে ঐ সমস্ত কারণের সাথে ঐ আদায় করা হয়, যা সেই ওয়াক্তসমূহের পূর্বে পাওয়া যায়। যেমন পানি দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করা, সতর ঢাকা ইত্যাদি এবং সেই সমস্ত জিনিস থেকে যিহার, সিয়াম ও হত্যার কাফফারায় সিয়াম পালন। যা যিহারকারী ও হত্যাকারীর উপর নির্দিষ্ট দিনে আবশ্যক নয় বরং এর জন্য পুরােজীবন ওয়াক্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। অনুরূপভাবে কসমের কাফফারা, যা আল্লাহ্ তা'আলা কসম ভঙ্গকারীর উপর ওয়াজিব করেছেন। আর তা হল اطعام عشرة مساكين أو کسوتهم أو تحرير رقبة দশ মিসকীনকে আহার করান কিংবা তাদের পােশাক পরিধান করান অথবা একটি ক্রীতদাস আযাদ করা।
তারপর যাদের উপর আল্লাহ্ তা'আলা পূর্বে পাওয়া যাওয়া কারণ এবং সালাতের মাঝে পাওয়া যাওয়া কারণের শর্তে সালাত ফরয করেছেন। যখন এগুলাে থেকে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয় তখন এটাকে ওযর সাব্যস্ত করেছেন। সেই সমস্ত জিনিস থেকে একটি হল, যে ব্যক্তি পানি না পায় তার জন্য পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা রহিত হয়ে যায় এবং তায়াম্মুমের বিধান কার্যকর হয়। তা থেকে আরেকটি হল যে, যদি সতর ঢাকার জন্য কিছু না পায় তাহলে উলঙ্গ হয়ে সালাত আদায় করবে। আরেকটি হলঃ যে ব্যক্তি কিবলামুখী হতে না পারে সে কিবলা ব্যতীত অন্য দিকে মুখ করে সালাত আদায় করবে। আরেকটি হলঃ যে ব্যক্তি দাঁড়াতে অক্ষম সে বসে রুকূ-সিজদার সঙ্গে সালাত আদায় করবে। যদি এটাও করতে না পারে, তাহলে ইশারা দ্বারা সালাত আদায় করবে, তাকে এর অনুমতি দেয়া হয়েছে। যদিও এতটুকু ওয়াক্ত অবশিষ্ট থাকে যাতে এই ওযর খতম হয়ে যায় এবং সে ওই অবস্থার দিকে প্রত্যাবর্তন করে যা ওযরের পূর্বে বিদ্যমান ছিল, যদিও তখনাে তার ওয়াক্ত চলে যায় নি এবং সে ওয়াক্তের মধ্যেই থাকে। অনুরূপভাবে যে ব্যক্তির উপর আল্লাহ্ তা'আলা কাফফার সিয়াম ওয়াজিব করেছেন, কোন রােগের কারণে সিয়াম পালনে সক্ষম না হয়, তা হলে ওযরগ্রস্ত হবে। অথচ এরপরে সে সুস্থ হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে এবং তার সিয়াম পালনের শক্তি ফিরে আসে। এবং তার সিয়াম পালনের ব্যাপারে কোন কিছু প্রতিবন্ধক নেই। কেননা এর জন্য কোন ওয়াক্ত নির্দিষ্ট নেই। এটা তার থেকে সিয়াম রহিত হওয়ার ব্যাপারে ওযর হিসাবে সাব্যস্ত করা হবে। অনুরূপভাবে কাফফারাসমূহের অবস্থায় আহার করানাে, ক্রীতদাস আযাদ করা অথবা পােশাক পরিধান করানাের হুকুম। যদি এগুলাে থেকে কোনটির উপর শক্তিমান না হয় তা হলে অন্যের সঙ্গে শক্তিমান গণ্য করা হবে এবং আগামীতে কোন সময়ে অর্জনযােগ্য শক্তির সম্ভবনা ধর্তব্য হবে না। তাই যখন প্রয়ােজনের সময় সেই সমস্ত জিনিসগুলাের ফরয হওয়া রহিত হয়ে যায় যদিও ওয়াক্ত ফওত হয়ে যাওয়ার আশংকা না থাকে। সুতরাং এ জিনিসগুলাে এবং ঐ সমস্তগুলাে যাতে ওয়াক্ত ফওত হয়ে যাওয়ার আশংকা থাকে। যেমন আখেরী ওয়াক্তে সালাত ইত্যাদি অভিন্ন হুকুম -এর আওতাভুক্ত।
সুতরাং আমরা যা উল্লেখ করেছি এর উপর যুক্তির দাবি হল যে, উমরাও অনুরূপ হবে যে, উমরার জন্য এবং যার কোন ওয়াক্ত নির্দিষ্ট নেই প্রয়ােজনের নিরিখে সে জিনিস জায়িয হবে, যা ঐ সমস্ত জিনিসের জন্য জায়িয হয়; যার নির্দিষ্ট ওয়াক্ত আছে। এতে সেই সমস্ত আলিমদের মাযহাব সাব্যস্ত হল যারা অভিন্নরূপে হজ্জের অবরুদ্ধতার ন্যায় উমরার জন্যও অবরুদ্ধতাকে স্বীকার করেন। আর এটাই হল ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ), ইমাম আবু ইউসুফ (রাহঃ) ও ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ)-এর অভিমত।
তারপর এ বিষয়ে ফকীহদের মত বিরােধ রয়েছে যে, যখন অবরুদ্ধ ব্যক্তির হাদী যবাই হয়ে যাবে তখন সে মাথা মুণ্ডন করতে পারবে কি-না? একদল আলিম বলেন, তার উপর মাথা মুণ্ডন করা আবশ্যক নয়। কেননা তার হজ্জের সমস্ত আমলসমূহ বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে। ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ) ও ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ)ও এই মত পােষণ করেন। পক্ষান্তরে অন্য একদল আলিম বলেন, বরং সে মাথা মুণ্ডন করবে। যদি সে মাথা মুণ্ডন না করে তখনও ইহরাম খুলে হালাল হতে পারবে এবং তার উপর কোন কিছু ওয়াজিব হবে না। এই মত যারা পােষণ করেছেন। ইমাম আবু ইউসুফ (রাহঃ) তাঁদের অন্যতম। আরেক দল আলিম বলেছেন, সে মাথা মুণ্ডন করবে এবং এটা তার উপর অনুরূপভাবে ওয়াজিব যেমনিভাবে হজ্জ বা উমরা পালনকারীর উপর ওয়াজিব হয়।
এ বিষয়ে ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ) ও ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ)-এর দলীল হলঃ ইহ্সার বা অবরুদ্ধতার কারণে তার থেকে তাওয়াফ, সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ ইত্যাদি হজ্জের সমস্ত আমল রহিত হয়ে যায়। আর এটা সেই সমস্ত জিনিসের অন্তর্ভুক্ত যার দ্বারা ইহরামকারী তার ইহরাম থেকে বের হয়ে হালাল হয়ে যায়। আপনি কি লক্ষ্য করেছেন, যখন সে কুরবানীর দিনে বায়তুল্লাহ্ শরীফের তাওয়াফ করে তখন তার জন্য মাথা মুণ্ডন করা জায়িয হয়ে যায়, এবং এতে তার জন্য সুগন্ধি ব্যবহার, (সেলাই করা) পােশাক পরিধান করা ও স্ত্রী সঙ্গম হালাল হয়ে যায়। তাঁরা বলেন, যখন এটা (হলক) সেই সমস্ত জিনিসের অন্তর্ভুক্ত যেগুলাে হজ্জ পালনকারী ইহরাম খােলার পূর্বে সম্পাদন করে। আর অবরুদ্ধতার কারণে এইসব কিছু তার থেকে রহিত হয়ে গিয়েছে। তাই এখন তার থেকে সেই সমস্ত জিনিস রহিত হয়ে যাবে যেগুলাে ইহরামকারী অবরুদ্ধতার কারণে ছেড়ে দেয়। এটা হল ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ) ও ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ)-এর দলীল। পক্ষান্তরে এ বিষয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে অন্যদের দলীল হল যে, বায়তুল্লাহ শরীফের তাওয়াফ, সাফা-মারওয়া মাঝে সাঈ ও জামরাতে কংকর নিক্ষেপ করাসহ এই সমস্ত আমল থেকে ইহরামকারী বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে এবং তার ও ঐ সমস্ত জিনিসের মাঝে 'অবরুদ্ধতা' বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই তার থেকে সেই সমস্ত আমল সম্পাদন রহিত হয়ে গিয়েছে। কিন্তু মাথা মুণ্ডন এবং তার মাঝে কোন কিছু আড়াল হয়নি, সে তা সম্পাদন করতে সক্ষম। সে অবরুদ্ধ অবস্থায় আমল করতে সক্ষম এর সে-ই হুকুমই হবে যা অবরুদ্ধতা ব্যতীত (মুক্ত) অবস্থায় হয় এবং যা সে অবরুদ্ধ থাকা অবস্থায় আঞ্জাম দিতে পারে না তা অবরুদ্ধতার কারণে তার থেকে রহিত হয়ে যাবে। আমাদের নিকট এটাই যুক্তি সংগত। সুতরাং যখন অবরুদ্ধ অবস্থায় হলক ওয়াজিব হওয়ার হুকুম সেটাই যা অবরুদ্ধ থাকার অবস্থায় হয়। তাই তা ছাড়ার হুকুমও অবরুদ্ধতার অবস্থায় সেটাই হবে, যা অবরুদ্ধ না হওয়ার অবস্থায় হয়ে থাকে।
রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) থেকে এ বিষয়ে হাদীস বর্ণিত আছে যা এ কথার প্রমাণ বহন করে যে, অবরুদ্ধ ব্যক্তিদের উপর হলকের হুকুম অনুরূপভাবে বাকী আছে যেমনিভাবে ঐ ব্যক্তির জন্য (বাকী), যে বায়তুল্লাহ্ শরীফ (হারাম) পর্যন্ত পৌঁছায়। আর তা হল নিম্নরূপঃ
كتاب مناسك الحج
4141 - حَدَّثَنَا يُونُسُ , قَالَ: أنا ابْنُ وَهْبٍ , أَنَّ مَالِكًا , حَدَّثَهُ , عَنِ ابْنِ شِهَابٍ , عَنْ سَالِمٍ , عَنْ أَبِيهِ , أَنَّهُ قَالَ: «مَنْ حُبِسَ , دُونَ الْبَيْتِ بِمَرَضٍ , فَإِنَّهُ لَا يَحِلُّ حَتَّى يَطُوفَ بِالْبَيْتِ , وَبَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ» فَلَمَّا وَقَعَ فِي هَذَا , هَذَا الِاخْتِلَافُ , وَقَدْ رَوَيْنَا , عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ , مِنْ حَدِيثِ الْحَجَّاجِ بْنِ عَمْرٍو , وَابْنِ عَبَّاسٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمْ مَا ذَكَرْنَا مِنْ قَوْلِهِ , يَعْنِي النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «مَنْ كُسِرَ أَوْ عَرِجَ , فَقَدْ حَلَّ» وَعَلَيْهِ حُجَّةٌ أُخْرَى " ثَبَتَ بِذَلِكَ أَنَّ الْإِحْصَارَ يَكُونُ بِالْمَرَضِ , كَمَا يَكُونُ بِالْعَدُوِّ. فَهَذَا وَجْهُ هَذَا الْبَابِ , مِنْ طَرِيقِ تَصْحِيحِ مَعَانِي الْآثَارِ. وَأَمَّا وَجْهُهُ مِنْ طَرِيقِ النَّظَرِ , فَإِنَّا قَدْ رَأَيْنَاهُمْ أَجْمَعُوا أَنَّ إِحْصَارَ الْعَدُوِّ , يَجِبُ بِهِ لِلْمُحْصَرِ , الْإِحْلَالُ كَمَا قَدْ ذَكَرْنَا. وَاخْتَلَفُوا فِي الْمَرَضِ , فَقَالَ قَوْمٌ: حُكْمُهُ حُكْمُ الْعَدُوِّ فِي ذَلِكَ , إِذَا كَانَ قَدْ مَنَعَهُ مِنَ الْمُضِيِّ فِي الْحَجِّ , كَمَا مَنَعَهُ الْعَدُوُّ. وَقَالَ آخَرُونَ: حُكْمُهُ بَائِنٌ مِنْ حُكْمِ الْعَدُوِّ. فَأَرَدْنَا أَنْ نَنْظُرَ , مَا أُبِيحَ بِالضَّرُورَةِ مِنَ الْعَدُوِّ , هَلْ يَكُونُ مُبَاحًا بِالضَّرُورَةِ بِالْمَرَضِ أَمْ لَا؟ فَوَجَدْنَا الرَّجُلَ إِذَا كَانَ يُطِيقُ الْقِيَامَ , كَانَ فَرْضًا أَنْ يُصَلِّيَ قَائِمًا , وَإِنْ كَانَ يَخَافُ إِنْ قَامَ أَنْ يُعَايِنَهُ الْعَدُوُّ فَيَقْتُلَهُ , أَوْ كَانَ الْعَدُوُّ قَائِمًا عَلَى رَأْسِهِ , فَمَنَعَهُ مِنَ الْقِيَامِ , فَكُلٌّ قَدْ أَجْمَعَ أَنَّهُ قَدْ حَلَّ لَهُ أَنْ يُصَلِّيَ قَاعِدًا , وَسَقَطَ عَنْهُ فَرْضُ الْقِيَامِ. [ص:253] وَأَجْمَعُوا أَنَّ رَجُلًا لَوْ أَصَابَهُ مَرَضٌ أَوْ زَمَانَةٌ فَمَنَعَهُ ذَلِكَ مِنَ الْقِيَامِ , أَنَّهُ قَدْ سَقَطَ عَنْهُ فَرْضُ الْقِيَامِ , وَحَلَّ لَهُ أَنْ يُصَلِّيَ قَاعِدًا , يَرْكَعُ وَيَسْجُدُ إِذَا أَطَاقَ ذَلِكَ , أَوْ يُومِئُ إِنْ كَانَ لَا يُطِيقُ ذَلِكَ. فَرَأَيْنَا مَا أُبِيحَ لَهُ مِنْ هَذَا بِالضَّرُورَةِ مِنَ الْعَدُوِّ , قَدْ أُبِيحَ لَهُ بِالضَّرُورَةِ مِنَ الْمَرَضِ وَرَأَيْنَا الرَّجُلَ إِذَا حَالَ الْعَدُوُّ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْمَاءِ , سَقَطَ عَنْهُ فَرْضُ الْوُضُوءِ , وَيَتَيَمَّمُ وَيُصَلِّي. فَكَانَتْ هَذِهِ الْأَشْيَاءُ الَّتِي قَدْ عُذِرَ فِيهَا بِالْعَدُوِّ , قَدْ عُذِرَ فِيهَا أَيْضًا بِالْمَرَضِ , وَكَانَ الْحَالُ فِي ذَلِكَ سَوَاءً. ثُمَّ رَأَيْنَا الْحَاجَّ الْمُحْصَرَ بِالْعَدُوِّ , قَدْ عُذِرَ فَجُعِلَ لَهُ فِي ذَلِكَ أَنْ يَفْعَلَ مَا جُعِلَ لِلْمُحْصَرِ أَنْ يَفْعَلَ , حَتَّى يَحِلَّ وَاخْتَلَفُوا فِي الْمُحْصَرِ بِالْمَرَضِ فَالنَّظَرُ عَلَى مَا ذَكَرْنَا مِنْ ذَلِكَ أَنْ يَكُونَ مَا وَجَبَ لَهُ مِنَ الْعُذْرِ بِالضَّرُورَةِ بِالْعَدُوِّ , يَجِبُ لَهُ أَيْضًا بِالضَّرُورَةِ بِالْمَرَضِ , وَيَكُونُ حُكْمُهُ فِي ذَلِكَ سِوَاهُ , كَمَا كَانَ حُكْمُهُ فِي ذَلِكَ أَيْضًا سَوَاءً , فِي الطِّهَارَاتِ , وَالصَّلَوَاتِ. ثُمَّ اخْتَلَفَ النَّاسُ بَعْدَ هَذَا فِي الْمُحْرِمِ بِعُمْرَةٍ , يُحْصَرُ بِعَدُوٍّ أَوْ بِمَرَضٍ. فَقَالَ قَوْمٌ: يَبْعَثُ بِهَدْيٍ وَيُوَاعَدُهُمْ أَنْ يَنْحَرُوهُ عَنْهُ , فَإِذَا نَحَرَ حَلَّ. وَقَالَ آخَرُونَ: بَلْ يُقِيمُ عَلَى إِحْرَامِهِ أَبَدًا , وَلَيْسَ لَهَا وَقْتٌ كَوَقْتِ الْحَجِّ. وَكَانَ مِنَ الْحَجَّةِ لِلَّذِينَ ذَهَبُوا إِلَى أَنَّهُ يَحِلُّ مِنْهَا بِالْهَدْيِ , مَا رَوَيْنَا عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي أَوَّلِ هَذَا الْبَابِ , «لَمَّا أَحْصَرَ بِعُمْرَةٍ زَمَنَ الْحُدَيْبِيَةِ، حَصَرَتْهُ كُفَّارُ قُرَيْشٍ، فَنَحَرَ الْهَدْيَ وَحَلَّ وَلَمْ يَنْتَظِرْ أَنْ يَذْهَبَ عَنْهُ الْإِحْصَارُ» , إِذْ كَانَ لَا وَقْتَ لَهَا كَوَقْتِ الْحَجِّ , بَلْ جَعَلَ الْعُذْرَ فِي الْإِحْصَارِ بِهَا , كَالْعُذْرِ فِي الْإِحْصَارِ بِالْحَجِّ. فَثَبَتَ بِذَلِكَ أَنَّ حُكْمَهَا فِي الْإِحْصَارِ فِيهِمَا سَوَاءٌ , وَأَنَّهُ يَبْعَثُ الْهَدْيَ حَتَّى يَحِلَّ بِهِ مِمَّا أُحْصِرَ بِهِ مِنْهُمَا. إِلَّا أَنَّ عَلَيْهِ فِي الْعُمْرَةِ قَضَاءَ عُمْرَةٍ مَكَانَ عُمْرَتِهِ , وَعَلَيْهِ فِي الْحَجَّةِ , حَجَّةً مَكَانَ حَجَّتِهِ وَعُمْرَةً لِإِخْلَالِهِ. وَقَدْ رَوَيْنَا فِي الْعُمْرَةِ أَنَّهُ قَدْ يَكُونُ الْمُحْرِمُ مُحْصَرًا بِهَا , مَا قَدْ تَقَدَّمَ فِي هَذَا الْبَابِ , عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ. فَهَذَا وَجْهُ هَذَا الْبَابِ مِنْ طَرِيقِ الْآثَارِ. وَأَمَّا النَّظَرُ فِي ذَلِكَ , فَإِنَّا قَدْ رَأَيْنَا أَشْيَاءَ قَدْ فُرِضَتْ عَلَى الْعِبَادِ , مِمَّا جُعِلَ لَهَا وَقْتٌ خَاصٌّ , وَأَشْيَاءُ فُرِضَتْ عَلَيْهِمْ , مِمَّا جُعِلَ الدَّهْرُ كُلُّهُ وَقْتًا لَهَا. مِنْهَا الصَّلَوَاتُ , فُرِضَتْ عَلَيْهِمْ فِي أَوْقَاتٍ خَاصَّةٍ , تُؤَدَّى فِي تِلْكَ الْأَوْقَاتِ بِأَسْبَابٍ مُتَقَدِّمَةٍ لَهَا , مِنَ التَّطَهُّرِ بِالْمَاءِ , وَسَتْرِ الْعَوْرَةِ. وَمِنْهَا الصِّيَامُ فِي كَفَّارَاتِ الظِّهَارِ وَكَفَّارَاتِ الصِّيَامِ , وَكَفَّارَاتِ الْقَتْلِ , جُعِلَ ذَلِكَ عَلَى الْمُظَاهِرِ , وَالْقَاتِلِ [ص:254] لَا فِي أَيَّامٍ بِعَيْنِهَا , بَلْ جُعِلَ الدَّهْرُ كُلُّهُ وَقْتًا لَهَا , وَكَذَلِكَ كَفَّارَةُ الْيَمِينِ جَعَلَهَا اللهُ عَزَّ وَجَلَّ عَلَى الْحَانِثِ فِي يَمِينِهِ , وَهِيَ إِطْعَامُ عَشَرَةِ مَسَاكِينَ أَوْ كِسْوَتُهُمْ أَوْ تَحْرِيرُ رَقَبَةٍ. ثُمَّ جَعَلَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ مَنْ فُرِضَ عَلَيْهِ الصَّلَوَاتُ بِالْأَسْبَابِ الَّتِي يَتَقَدَّمُ , وَالْأَسْبَابُ الْمَفْعُولَةِ فِيهَا فِي ذَلِكَ , عُذْرًا إِذَا مُنِعَ مِنْهُ. فَمِنْ ذَلِكَ مَا جُعِلَ لَهُ فِي عَدَمِ الْمَاءِ , مِنْ سُقُوطِ الطَّهَارَةِ بِالْمَاءِ وَالتَّيَمُّمِ. وَمِنْ ذَلِكَ مَا جُعِلَ لِلَّذِي مُنِعَ مِنْ سَتْرِ الْعَوْرَةِ أَنْ يُصَلِّيَ بَادِيَ الْعَوْرَةِ. وَمِنْ ذَلِكَ مَا جُعِلَ لِمَنْ مُنِعَ مِنَ الْقُبْلَةِ أَنْ يُصَلِّيَ إِلَى غَيْرِ قِبْلَةٍ. وَمِنْ ذَلِكَ مَا جُعِلَ لِلَّذِي مُنِعَ مِنَ الْقِيَامِ , أَنْ يُصَلِّيَ قَاعِدًا , يَرْكَعُ وَيَسْجُدُ , فَإِنْ مُنِعَ مِنْ ذَلِكَ أَيْضًا , أَوْمَأَ إِيمَاءً , فَجُعِلَ لَهُ ذَلِكَ. وَإِنْ كَانَ قَدْ بَقِيَ عَلَيْهِ مِنَ الْوَقْتِ مَا قَدْ يَجُوزُ أَنْ يَذْهَبَ عَنْهُ ذَلِكَ الْعُذْرُ , وَيَعُودُ إِلَى حَالِهِ قَبْلَ الْعُذْرِ , وَهُوَ فِي الْوَقْتِ , لَمْ يَفُتْهُ. وَكَذَلِكَ جُعِلَ لِمَنْ لَا يَقْدِرُ عَلَى الصَّوْمِ فِي الْكَفَّارَاتِ الَّتِي أَوْجَبَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ عَلَيْهِ فِيهَا الصَّوْمَ , لِمَرَضٍ حَلَّ بِهِ مِمَّا قَدْ يَجُوزُ بُرْؤُهُ مِنْهُ بَعْدَ ذَلِكَ , وَرُجُوعُهُ إِلَى حَالِ الطَّاقَةِ لِذَلِكَ الصَّوْمِ , فَجُعِلَ ذَلِكَ لَهُ عُذْرًا فِي إِسْقَاطِ الصَّوْمِ عَنْهُ بِهِ , وَلَمْ يُمْنَعْ مِنْ ذَلِكَ إِذَا كَانَ مَا جُعِلَ عَلَيْهِ مِنَ الصَّوْمِ لَا وَقْتَ لَهُ. وَكَذَلِكَ فِيمَا ذَكَرْنَا مِنَ الْإِطْعَامِ فِي الْكَفَّارَاتِ وَالْعِتْقِ فِيهَا , وَالْكِسْوَةِ , إِذَا كَانَ الَّذِي فُرِضَ ذَلِكَ عَلَيْهِ مُعْدِمًا. وَقَدْ يَجُوزُ أَنْ يَجِدَ بَعْدَ ذَلِكَ , فَيَكُونَ قَادِرًا عَلَى مَا أَوْجَبَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ عَلَيْهِ مِنْ ذَلِكَ , مِنْ غَيْرِ فَوَاتٍ لِوَقْتِ شَيْءٍ مِمَّا كَانَ أُوجِبَ عَلَيْهِ فِعْلُهُ فِيهِ. فَلَمَّا كَانَتْ هَذِهِ الْأَشْيَاءُ يَزُولُ فَرْضُهَا بِالضَّرُورَةِ فِيهَا , وَإِنْ كَانَ لَا يَخَافُ فَوْتَ وَقْتِهَا , فَجُعِلَ ذَلِكَ مَا خِيفَ فَوْتُ وَقْتِهِ , سَوَاءٌ مِنَ الصَّلَوَاتِ فِي أَوَاخِرِ أَوْقَاتِهَا , وَمَا أَشْبَهَ ذَلِكَ. فَالنَّظَرُ عَلَى مَا ذَكَرْنَا أَنْ يَكُونَ كَذَلِكَ , الْعُمْرَةُ , وَإِنْ كَانَ لَا وَقْتَ لَهَا أَنْ يُبَاحَ فِي الضَّرُورَةِ فِيهَا , مَا يُبَاحُ بِالضَّرُورَةِ فِي غَيْرِهَا , مِمَّا لَهُ وَقْتٌ مَعْلُومٌ. فَثَبَتَ بِمَا ذَكَرْنَا , قَوْلُ مَنْ ذَهَبَ إِلَى أَنَّهُ قَدْ يَكُونُ الْإِحْصَارُ بِالْعُمْرَةِ , كَمَا يَكُونُ الْإِحْصَارُ بِالْحَجِّ سَوَاءً. وَهَذَا قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ , وَأَبِي يُوسُفَ , وَمُحَمَّدٍ رَحِمَهُمُ اللهُ تَعَالَى. ثُمَّ تَكَلَّمَ النَّاسُ بَعْدَ هَذَا فِي الْمُحْصَرِ إِذَا نَحَرَ هَدْيَهُ , هَلْ يَحْلِقُ رَأْسَهُ أَمْ لَا؟ . فَقَالَ قَوْمٌ: لَيْسَ عَلَيْهِ أَنْ يَحْلِقَ لِأَنَّهُ قَدْ ذَهَبَ عَنْهُ النُّسُكُ كُلُّهُ , وَمِمَّنْ قَالَ ذَلِكَ , أَبُو حَنِيفَةَ , وَمُحَمَّدٌ رَحِمَهُمَا اللهُ. وَقَالَ آخَرُونَ: بَلْ يَحْلِقُ , فَإِنْ لَمْ يَحْلِقْ , حَلَّ وَلَا شَيْءَ عَلَيْهِ , وَمِمَّنْ قَالَ ذَلِكَ , أَبُو يُوسُفَ رَحِمَهُ اللهُ. وَقَالَ آخَرُونَ يَحْلِقُ وَيَجِبُ ذَلِكَ عَلَيْهِ , كَمَا يَجِبُ عَلَى الْحَاجِّ وَالْمُعْتَمِرِ. [ص:255] فَكَانَ مِنْ حُجَّةِ أَبِي حَنِيفَةَ , وَمُحَمَّدٍ رَحِمَهُمَا اللهُ فِي ذَلِكَ , أَنَّهُ قَدْ سَقَطَ عَنْهُ بِالْإِحْصَارِ , جَمِيعُ مَنَاسِكِ الْحَجِّ , مِنَ الطَّوَافِ وَالسَّعْيِ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ , وَذَلِكَ مِمَّا يَحِلُّ الْمُحْرِمُ بِهِ مِنْ إِحْرَامِهِ. أَلَا تَرَى أَنَّهُ إِذَا طَافَ بِالْبَيْتِ يَوْمَ النَّحْرِ , حَلَّ لَهُ أَنْ يَحْلِقَ , فَيَحِلُّ لَهُ بِذَلِكَ , الطِّيبُ , وَاللِّبَاسُ , وَالنِّسَاءُ. قَالُوا: فَلَمَّا كَانَ ذَلِكَ مِمَّا يَفْعَلُهُ , حَتَّى يَحِلَّ , فَسَقَطَ ذَلِكَ عَنْهُ كُلُّهُ بِالْإِحْصَارِ , سَقَطَ أَيْضًا عَنْهُ سَائِرُ مَا يَحِلُّ بِهِ الْمُحْرِمُ بِسَبَبِ الْإِحْصَارِ , هَذِهِ حُجَّةٌ لِأَبِي حَنِيفَةَ , وَمُحَمَّدٍ رَحِمَهُمَا اللهُ تَعَالَى. وَكَانَ مِنْ حُجَّةِ الْآخَرِينَ عَلَيْهِمَا فِي ذَلِكَ , أَنَّ تِلْكَ الْأَشْيَاءَ مِنَ الطَّوَافِ بِالْبَيْتِ , وَالسَّعْيِ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ , وَرَمْيِ الْجِمَارِ , قَدْ صُدَّ عَنْهُ الْمُحْرِمُ , وَحِيلَ بَيْنَهُ وَبَيْنَهُ , فَسَقَطَ عَنْهُ أَنْ يَفْعَلَهُ. وَالْحَلْقُ لَمْ يَحُلْ بَيْنَهُ وَبَيْنَهُ , وَهُوَ قَادِرٌ عَلَى أَنْ يَفْعَلَهُ. فَمَا كَانَ يَصِلُ إِلَى أَنْ يَفْعَلَهُ , فَحُكْمُهُ فِيهِ , فِي حَالِ الْإِحْصَارِ , كَحُكْمِهِ فِيهِ , حَالَ الْإِحْصَارِ. وَمَا لَا يَسْتَطِيعُ أَنْ يَفْعَلَهُ فِي حَالِ الْإِحْصَارِ , فَهُوَ الَّذِي يَسْقُطُ عَنْهُ بِالْإِحْصَارِ , فَهُوَ النَّظَرُ عِنْدَنَا. وَإِذَا كَانَ حُكْمُهُ فِي وَقْتِ الْحَلْقِ عَلَيْهِ , وَهُوَ مُحْصَرٌ , كَحُكْمِهِ فِي وُجُوبِهِ عَلَيْهِ , وَهُوَ غَيْرُ مُحْصَرٍ , كَانَ تَرْكُهُ إِيَّاهُ أَيْضًا , وَهُوَ مُحْصَرٌ , كَتَرْكِهِ إِيَّاهُ وَهُوَ غَيْرُ مُحْصَرٍ. وَقَدْ رُوِيَ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ , مَا قَدْ دَلَّ عَلَى أَنَّ حُكْمَ الْحَلْقِ بَاقٍ عَلَى الْمُحْصَرِينَ , كَمَا هُوَ عَلَى مَنْ وَصَلَ إِلَى الْبَيْتِ