শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ

১৩. যাবতীয় ক্রয়-বিক্রয়র অধ্যায়

হাদীস নং: ৫৫৬১
আন্তর্জাতিক নং: ৫৫৬২
যাবতীয় ক্রয়-বিক্রয়র অধ্যায়
৫. স্তনে দুধ আটকিয়ে গবাদি পশুর বেচা-কেনা প্রসঙ্গ
৫৫৬১-৬২। ইউনুস বলেন, ...... হযরত আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, নবী (সা.) ইরশাদ করেন যে ব্যক্তি ওলানে দুধ আটকিয়ে রাখা বকরী ক্রয় করবে তার ব্যাপারে তার তিন দিনের ইখতিয়ার থাকবে। যদি তার ইচ্ছা হয় তবে রেখে দিবে । আর ইচ্ছা হলে ফিরিয়ে দিবে । তবে তার সাথে এক সা’ খেজুরও দিবে।

নসর ইবন মারযূক বলেন... হযরত আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেন, তিনি নবী (সা.) হতে অনুরূপ বর্ণনা করেন । তবে এ হাদীসে তিনি বলেন, সেটি সে ফিরিয়ে দিবেন এবং তার সাথে এক সা’ খাদ্যও দিবে। কিন্তু তা গম হতে পারবে না ।
আবু জা’ফর তাহাবী (রাহঃ) বলেনঃ একদল উলামায়ে* কিরাম এ মত পোষণ করেন যে, ওলানে দুধ আটকিয়ে রাখা বকরী কোন ব্যক্তি ক্রয় করার পর যদি দোহন করে এবং দোহন করা দুধে যদি সে সন্তুষ্ট না হয় তবে তার তিন দিনের ইখতিয়ার থাকবে । যদি সে ইচ্ছা করে তবে তা রেখে দিবে । আর ইচ্ছা না হলে তা ফিরিয়ে দিবে এবং তার সাথে এক সা’ খেজুরও দিবে । তারা উল্লেখিত এসব হাদীস দলীল হিসেবে পেশ করেন। যারা এ মত পোষণ করেন তাদের মধ্যে একজন ইবন আবী লায়লাও রয়েছেন। অবশ্য তিনি বলেন, উক্ত বকরী ফিরিয়ে দিয়ার সময় তার সাথে এক সা’ খেজুরের মুল্য ফিরিয়ে দিবে। ইমাম আবু ইউসুফও (রাহঃ) তার কোন কোন লেখনীতে এ মন্তব্য ব্যক্ত করেছেন । তবে তার এ মত প্রসিদ্ধ নয়। অন্য আর একটি জামাত,* উল্লেখিত এ মতের বিরোধিতা করে বলেন, ক্রেতার পক্ষে ক্রয় করা এ পশু দোস্ষের কারণে ফিরিয়ে অধিকার নেই। অবশ্য বিক্রেতার নিকট হতে দোষী হবার কারণে ক্ষতিপূরন আদায় করতে পারে। যারা এমত পোষন করেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন ইমাম আবু হানীফা, মুহাম্ম্দ ইবনুল হাসান।তারা বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) হতে পূর্বে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে, তা মানসূখ ও রহিত হয়েছে। আর মানসুখ হবার এ বক্তব্যটি তাদের থেকে ইজমালী ভাবে বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে নাসিখ যে কি, সে বিষয়ে তাদের মধ্যে পরস্পরে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়েছে।ইবন আবী ইমরান, আবান ইবন মুহাম্মাদ হতে যা বর্ণনা করেছেন, তা হলো রাসূলুল্লাহ (সা.) এর البيعان بالخيار ما لم يتفرقا এই বানী দুধ ওলান আটকিয়ে রাখা পশুর ক্রেতার ইখতিয়ারই কে মানসূখ করে দিয়েছে। আমরা পূর্বেই এ হাদীস সনদসহ এ কিতাবেই বর্ণনা করেছি। এ হাদীসের মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন ক্রেতা ও বিক্রেতার ইখতিয়ার তাদের পৃথক হবার কারণে শেষ করেছেন, তখন একথা প্রমানিত হয় যে, পৃথক হবার পর তাদের কারোই ইখতিয়ার থাকে না। আবশ্য আলোচ্য হাদীসে إلا بيع الخيار বলে যা বাদ দেয়া হয়েছে, মজলিস হতে পৃথক হবার পরও সে ইখতিয়ার বহাল থাকবে।ইমাম আবু জাফর তাহবী (রাহঃ) বলেন, আমার মতে অগ্রহগযোগ্য ব্যাখ্যা। কারণ مصراة (ওলানে দুধ আটকিয়ে রাখা পশু) এর ক্ষেত্রে প্রদও ইখতিয়ার হচ্ছে خيار عيب (ক্রটির ইখতিয়ার) خيار عيب আর মজলিস হতে পৃথক হবার কারণে শেষ হয়ে যায় না। দেখুননা, কোন ব্যক্তি যদি কোন গোলাম ক্রয় করার পর তা কবযা করে এবং পৃথক হয়ে যায়।আর তারপর যদি ঐ গোলামের মধ্যে কোন দোষ দেখতে পায়, তাবে সমস্ত মুসলমানদের মতেই বিক্রেতার নিকট তা ফিরিয়ে দেয়ার ইখতিয়ার থাকে। রাসূলুল্লাহ (সা.) হতে বর্ণিত হাদীসে যে পৃথক হয়ে যাবার উল্লেখ করা হয়েছে তা তার ইখতিয়ারকে শেষ করেনা। অনুরুপভাবে যে ব্যক্তি ওলানে আটকিয়ে রাখা বকরী ক্রয় করে তা কবযা করল এবং পরে দোহন করে সে জনতে পারল যে, সে ঠিক যেমন মনে করে বকরীটি ক্রয় করেছিল বাস্তবে তেমন নয় । আর এ দোষ সে এই সময়ের মধ্যে তার বস্তুর অবস্থা সম্পর্কে অবগত হতে পারে। অতঃপর যদি উক্ত বকরীর ভিতরের অবস্থা তার প্রকাশ্য অবস্থার অনুরুপ হয় তবে এ বকরী তার জন্য রাখা অনিবার্য হয়ে পড়বে । কারণ সে যা ক্রয় করেছে তা সে পুরাপুরী্‌ই নিয়ে নিয়েছে। আয় যদি উক্ত বকরীর প্রকাশ্য অবস্থা তার ভিতরের প্রকৃত অবস্থার বিপরীত হয় তবে তার মধ্যে দোষ সাব্যস্ত হলে এবং সেটি ফিরিয়ে দেয়া তার এটা তার জন্য প্রয়োজন হয়ে পড়ল। এ অবস্থায় সে যদি তিন দিনের পর দোষ জেনেও বকরী দোহন করে তবে এটা তার সন্তুষ্টিরই প্রমান বহন করে।আর এই যে কারণটি আমি উল্লেখ করলঅম, এ কারণেই উপরের ব্যাখ্যাটি যে একটি ফাসিদ ব্যাখ্যা তা প্রমানিত হলো।
ঈসা ইবনে আবান বলেন مصراة সম্পর্কে পূর্বে উল্লেখিত হাদীস দ্বারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে যে হুকুম বর্ণিত হয়েছে , তা এমন এক সময়ের হুকুম, যখন গুনাহের শাস্তি স্বরূপ মাল গ্রহন করা হত । আর তারই একটি উদাহরণ হলো, যাকাত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা.) এর এই হাদীস। তিনি বলেন من أداها طائعا , فله أجرها , وإلا أخذناها منه وشطر ماله , عزمة من عزمات ربنا عز وجل অর্থাৎ যে সতঃস্ফূতভাবে যাকাত আদায় করবে সে ছাওয়ারের অধিকার হবে । আর তা না হলে আমরা জোরপূর্বক তার নিকট হতে যাকাত উসূল করব ।আর আমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে শাস্তি হিসেবে তার মালেন অর্ধেক নিয়ে নিব। অনুপভাবে যে ব্যক্তি অরক্ষিত ফল চুরি করবে তার ব্যাপারে হযরত আমর ইবন শু’আইব হতে বর্নিত, তাকে বেত্রাঘাত করা হবে এবং শাস্তি হিসেবে তার নিকট হতে চুরি করা ফলের দ্বিগুন নেয়া হবে।এসব রিওয়ায়াত আমরা সনদসহ وطء الرجل جارية امرأته অধ্যায়ে বর্ণনা করেছি।অতএব এখানে পুনরায় আর বর্ণনা করার পয়োজন নেই। তিনি বলেন, ইসলামের শুরুতে হুকুম এমনই ছিল। কিন্তু আল্লাহ্ তাআলা পরবর্তীতে তা মানসূখ করেছেন। অর্থাৎ গুনাহগার ও অপরাধীদের নিকট হতে শাস্তি হিসেবে অতিরিক্ত নেয়া হত তা মানমূখ করে দিয়েছেন। অতএব গৃহীত বস্তু যদি مثلي (সদৃশ)হয় অর্থৎ তার অনুরুপ বস্তু থাকে তবে তার বিনিময়ে অনুরুপ বস্তুই নেয়া হবে ।আর مثلي না হলে উক্ত বস্তুর মূল্য নেয়া হবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ওলা্ন ফোলাতে নিষেধ করেছেন। এ বিষয়ে তাঁর থেকে হাদীসও বর্ণিত হয়েছেঃ
كتاب البيوع و الصرف
5561 - حَدَّثَنَا يُونُسُ قَالَ: ثنا ابْنُ وَهْبٍ , قَالَ: أَخْبَرَنِي يَعْقُوبُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ سُهَيْلَ بْنَ أَبِي صَالِحٍ أَخْبَرَهُ عَنْ أَبِيهِ , عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ , أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنِ ابْتَاعَ شَاةً مُصَرَّاةً , فَهُوَ فِيهَا بِالْخِيَارِ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ , فَإِنْ شَاءَ أَمْسَكَهَا , وَإِنْ شَاءَ رَدَّهَا , وَرَدَّ مَعَهَا صَاعًا مِنْ تَمْرٍ»

5562 - حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ مَرْزُوقٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَسَدٌ، قَالَ: ثنا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ أَيُّوبَ، وَهِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ , وَحَبِيبٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِثْلَهُ. غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ: «رَدَّهَا وَصَاعًا مِنْ طَعَامٍ , لَا سَمْرَاءَ» قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: فَذَهَبَ قَوْمٌ إِلَى أَنَّ الشَّاةَ الْمُصَرَّاةَ إِذَا اشْتَرَاهَا رَجُلٌ فَحَلَبَهَا , فَلَمْ يَرْضَ حِلَابَهَا , فِيمَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ , كَانَ بِالْخِيَارِ , إِنْ شَاءَ أَمْسَكَهَا , وَإِنْ شَاءَ رَدَّهَا , وَرَدَّ مَعَهَا صَاعًا مِنْ تَمْرٍ , وَاحْتَجُّوا فِي ذَلِكَ بِهَذِهِ الْآثَارِ. وَمِمَّنْ ذَهَبَ إِلَى ذَلِكَ ابْنُ أَبِي لَيْلَى إِلَّا أَنَّهُ قَالَ: يَرُدُّهَا وَيَرُدُّ مَعَهَا قِيمَةَ صَاعٍ مِنْ تَمْرٍ. وَقَدْ كَانَ أَبُو يُوسُفَ أَيْضًا قَالَ بِهَذَا الْقَوْلِ فِي بَعْضِ أَمَالِيهِ , غَيْرَ أَنَّهُ لَيْسَ بِالْمَشْهُورِ عَنْهُ. وَخَالَفَ ذَلِكَ كُلَّهُ آخَرُونَ , فَقَالُوا: لَيْسَ لِلْمُشْتَرِي رَدُّهَا بِالْعَيْبِ , وَلَكِنَّهُ يَرْجِعُ عَلَى الْبَائِعِ بِنُقْصَانِ الْعَيْبِ. وَمِمَّنْ قَالَ ذَلِكَ , أَبُو حَنِيفَةَ , وَمُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِمَا. وَذَهَبُوا إِلَى أَنَّ مَا رُوِيَ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي ذَلِكَ , مِمَّا تَقَدَّمَ ذِكْرُنَا لَهُ فِي هَذَا الْبَابِ , مَنْسُوخٌ. فَرُوِيَ عَنْهُمْ هَذَا الْكَلَامُ مُجْمَلًا , ثُمَّ اخْتُلِفَ عَنْهُمْ مِنْ بَعْدُ فِي الَّذِي نَسَخَ ذَلِكَ مَا هُوَ؟ فَقَالَ مُحَمَّدُ بْنُ شُجَاعٍ , فِيمَا أَخْبَرَنِي عَنْهُ ابْنُ أَبِي عِمْرَانَ , نَسَخَهُ قَوْلُ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «الْبَيِّعَانِ بِالْخِيَارِ مَا لَمْ يَتَفَرَّقَا» وَقَدْ ذَكَرْنَا ذَلِكَ بِأَسَانِيدِهِ , فِيمَا تَقَدَّمَ مِنْ هَذَا الْكِتَابِ. فَلَمَّا قَطَعَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْفُرْقَةِ الْخِيَارَ , ثَبَتَ بِذَلِكَ أَنَّهُ لَا خِيَارَ لِأَحَدٍ بَعْدَهَا إِلَّا لِمَنِ اسْتَثْنَاهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي هَذَا الْحَدِيثِ بِقَوْلِهِ «إِلَّا بَيْعَ الْخِيَارِ» . قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: وَهَذَا التَّأْوِيلُ , عِنْدِي , فَاسِدٌ لِأَنَّ الْخِيَارَ الْمَجْعُولَ فِي الْمُصَرَّاةِ , إِنَّمَا هُوَ خِيَارُ عَيْبٍ , وَخِيَارُ الْعَيْبِ لَا يَقْطَعُهُ الْفُرْقَةُ. أَلَا تَرَى أَنَّ رَجُلًا لَوِ اشْتَرَى عَبْدًا فَقَبَضَهُ , وَتَفَرَّقَا , ثُمَّ رَأَى بِهِ عَيْبًا بَعْدَ ذَلِكَ , أَنَّ لَهُ رَدَّهُ عَلَى بَائِعِهِ , بِاتِّفَاقِ الْمُسْلِمِينَ , لَا يَقْطَعُ ذَلِكَ التَّفَرُّقُ , الَّذِي رُوِيَ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْآثَارِ الْمَذْكُورَةِ عَنْهُ فِي ذَلِكَ. فَكَذَلِكَ الْمُبْتَاعُ لِلشَّاةِ الْمُصَرَّاةِ , فَإِذَا قَبَضَهَا فَاحْتَلَبَهَا , فَعَلِمَ أَنَّهَا عَلَى غَيْرِ مَا كَانَ ظَهَرَ لَهُ مِنْهَا , وَكَانَ ذَلِكَ لَا يَعْلَمُهُ فِي احْتِلَابِهِ مَرَّةً وَلَا مَرَّتَيْنِ , جُعِلَتْ لَهُ فِي ذَلِكَ هَذِهِ الْمُدَّةُ , وَهِيَ ثَلَاثَةُ أَيَّامٍ , حَتَّى يَحْلُبَهَا فِي ذَلِكَ , فَيَقِفَ عَلَى حَقِيقَةِ مَا هِيَ عَلَيْهِ. فَإِنْ كَانَ بَاطِنُهَا كَظَاهِرِهَا , فَقَدْ لَزِمَتْهُ وَاسْتَوْفَى مَا اشْتَرَى. [ص:20] وَإِنْ كَانَ ظَاهِرُهَا بِخِلَافِ بَاطِنِهَا , فَقَدْ ثَبَتَ الْعَيْبُ , وَوَجَبَ لَهُ رَدُّهَا بِهِ. فَإِنْ حَلَبَهَا بَعْدَ الثَّلَاثَةِ أَيَّامٍ , فَقَدْ حَلَبَهَا بَعْدَ عِلْمِهِ بِعَيْبِهَا , فَذَلِكَ رِضَاءٌ مِنْهُ بِهَا. فَلِهَذِهِ الْعِلَّةِ الَّتِي ذَكَرْتُ , وَجَبَ فَسَادُ التَّأْوِيلِ الَّذِي وَصَفْتُ. وَقَالَ عِيسَى بْنُ أَبَانَ: كَانَ مَا رُوِيَ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنَ الْحُكْمِ فِي الْمُصَرَّاةِ , بِمَا فِي الْآثَارِ الْأُوَلِ , فِي وَقْتِ مَا كَانَتِ الْعُقُوبَاتُ فِي الذُّنُوبِ , يُؤْخَذُ بِهَا الْأَمْوَالُ. فَمِنْ ذَلِكَ مَا قَدْ رُوِيَ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الزَّكَاةِ أَنَّهُ «مَنْ أَدَّاهَا طَائِعًا , فَلَهُ أَجْرُهَا , وَإِلَّا أَخَذْنَاهَا مِنْهُ وَشَطْرَ مَالِهِ , عَزْمَةً مِنْ عَزَمَاتِ رَبِّنَا عَزَّ وَجَلَّ» . وَمِنْ ذَلِكَ مَا رُوِيَ عَنْهُ فِي حَدِيثِ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ فِي سَارِقِ الثَّمَرَةِ الَّتِي لَمْ تُحْرَزْ فَإِنَّهُ يُضْرَبُ جَلَدَاتٍ , وَيَغْرَمُ مِثْلَيْهَا. وَقَدْ ذَكَرْنَا ذَلِكَ بِأَسَانِيدِهِ فِي بَابِ وَطْءِ الرَّجُلِ جَارِيَةَ امْرَأَتِهِ، فَأَغْنَانَا ذَلِكَ عَنْ إِعَادَةِ ذِكْرِهَا هَاهُنَا. قَالَ: فَلَمَّا كَانَ الْحُكْمُ فِي أَوَّلِ الْإِسْلَامِ كَذَلِكَ حَتَّى نَسَخَ اللهُ الرِّبَا أُفْرِدَتِ الْأَشْيَاءُ الْمَأْخُوذَةُ إِلَى أَمْثَالِهَا , إِنْ كَانَتْ لَهَا أَمْثَالٌ , وَإِلَى قِيمَتِهَا , إِنْ كَانَتْ لَا أَمْثَالَ لَهَا , وَكَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ نَهَى عَنِ التَّصْرِيَةِ , وَرُوِيَ عَنْهُ فِي ذَلِكَ

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

*আল্লামা আইনী (র) বলেন, এ সমস্ত উলামা-ই কিরাম দ্বারা লাইস ইবন সা’দ শাফেঈ, এক বক্তব্য মুতাবিক ইমাম মালেক, আবূ ছাওর, আহমদ, ইসহাক, আবূ উবাইদ, সুলায়মান, যুফার, কোন রিওয়ায়াত মুতাবিক ইমাম, আবূ ইউসুফ ও মুহাম্মদ ইবন আবী লায়লা উদ্দেশ্য। তারা বলেন, যে ব্যক্তি স্তনে দুধ আটকিয়ে রাখা বকরী ক্রয় করল, অতঃপর দোহন করার পর সে সন্তুষ্ট হতে পারল না তবে সে ইচ্ছা করলে বকরী ফিরিয়ে দিবে । এবং তার সহিত এক সা’ খেজুর দিবে। কিন্তু ইমাম মালেক (রা) বলেন, এক সা’ খেজুরের মূল্য দিবে । ইমাম আবু ইউসুফ (রা)- এর মতে এটাই । তবে তাঁর প্রসিদ্ধ মত এটা নয় । ইমাম যুফার (র) বলেন, এক সা’ খেজুর, অথবা এক সা জব ও অর্ধ সা’ খেজুর দিবে।
** আল্লামা আইনী (র) বলেন, এ সমস্ত উরামা-ই কিরাম হলেন কুফার আলিমগন, ইমাম আবূ হানীফা, মুহাম্মদ, এক রিওয়ায়াত মুতাবিক ইমাম মালিক ও ইমাম আবূ ইউসুফ (র)- এর প্রসিদ্ধ মত।
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান