শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ
১৩. যাবতীয় ক্রয়-বিক্রয়র অধ্যায়
হাদীস নং: ৫৫৯৭
যাবতীয় ক্রয়-বিক্রয়র অধ্যায়
৬. অনুচ্ছেদঃ ফল পরিপক্ক হবার পূর্বে বিক্রয় করা প্রসঙ্গ
৫৫৯৭। 'হুসাইন ইব্ন নসর' বলেন,..... হযরত ইব্ন উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, একবার এক ব্যক্তি খেজুর গাছ ক্রয় করল, যার মালিক 'বৃক্ষ সংস্কার' করেছিল। অতঃপর সে নবী (ﷺ) এর দরবারে মামলা দায়ের করলো। তখন রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ) ফায়সালা করলেন, ফল তার হবে, যে বৃদ্ধ সংস্কার করেছে। হ্যাঁ, ক্রেতা শর্ত, করে থাকলে তার হবে।
আলোচনা
আবু জা'ফর তাহাবী (রাহঃ) বলেন: উল্লেখিত এসব হাদীসে নবী (ﷺ) গাছ বিক্রেতার জন্যই ফল সাব্যস্ত করেছেন; অবশ্য ক্রেতা শর্ত করে থাকলে তার শর্ত করার কারণে তার জন্য ফল হবে। এবং সে ফল ক্রেতার হবে।
এখানে দেখা যাচ্ছে যে, নবী (ﷺ) গাছে ঝুলন্ত ফল তার উপযোগিতা প্রকাশের পূর্বেই বিক্রয়ের অনুমতি প্রদান করেছেন। এটা এ কথাই প্রমাণ করে যে, পূর্বে উল্লেখিত হাদীসসমূহে যে নিষিদ্ধ হবার কথা রয়েছে, তার অর্থ এ হাদীসসমূহের অর্থ হতে ভিন্নতর।
অবশ্য যদি এখানে কেউ এই প্রশ্ন উত্থাপন করে যে, এসব হাদীসে তো ফল বিক্রয় করা বৈধ করা হয়েছে অন্য বস্তুর অন্তর্ভুক্ত হয়ে। আর কোন বস্তুর অন্য কোন বস্তুর অন্তর্ভুক্ত হয়ে বিক্রয় বৈধ হওয়া একথা প্রমাণ করে না যে, পৃথকভাবেও তা বিক্রয় করা অনুরূপ বৈধ হবে। কারণ, আমরা এমন বহু জিনিস দেখেছি যা অন্য বস্তুর সহিত তো ক্রয়-বিক্রয়ের মধ্যে প্রবেশ করে কিন্তু পৃথকভাবে তার ক্রয়-বিক্রয় বৈধ নয়। যেমন, কোন বাড়ীর পথ ও আংগিনা। বাড়ী বিক্রয় করলে তো এসবেরও বিক্রয় হয়ে যায়। কিন্তু স্বতন্ত্রভাবে এসবের বিক্রয় করা বৈধ নয়।
এ প্রশ্নের জবাবে আমরা আল্লাহর তাওফীকে বলব, বাড়ীতে প্রবেশ করার পথ ও বাড়ীর আংগিনাসমূহ বাড়ী ক্রয়ের সহিত এসবের বিক্রয়ের শর্ত না করলেও ক্রয়ের মধ্যে শামিল হয়ে যায়। আর যে বস্তু শর্ত ব্যতীত অন্য বস্তুর বিক্রয়ের মধ্যে শামিল হয়ে যায়, স্বতন্ত্রভাবে বিক্রয় করা যায় না। আর যে বস্তু শর্ত করা ব্যতীত অন্য বস্তুর বিক্রয়ের মধ্যে শামিল হয় না কেবল সে বস্তুই শর্ত করা হলে বিক্রিত বস্তুতে পরিণত হয়। অতএব চিহ্নিত বস্তুতে পরিণত হবে কেবল সে বস্তু, যা স্বতন্ত্রভাবে বিক্রয় করা জায়িয আছে, নচেত নয়। দেখতে কি পাননা যে, যদি কোন ব্যক্তি কোন বাড়িঘর বিক্রয় করে এবং সেখানে মালসামান থাকে তবে তা বিক্রয়ের মধ্যে দাখিল হবে না। তবে ক্রেতা যদি উক্ত মালসামান তার ঘর ক্রয়ের অন্তর্ভুক্তির শর্ত করে, তবে তার এ শর্ত করার কারণে সে উক্ত মালের মালিক হবে। অবশ্য উক্ত ঘরে যদি মদ কিংবা শূকর থাকে এবং ঘর ক্রয়ের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবার শর্ত করে, তবে ক্রয় ফাসিদ হবে। অতএব বুঝা গেল, ঘর ক্রয়ের জন্য কেবল এমন বস্তুর শর্ত করা যায়, যা পৃথকভাবে ক্রয়-বিক্রয় জায়িয আছে।
আমরা যে ফলের আলোচনা করেছি খেজুর গাছের সহিত তার শর্ত করা কেবল এ কারণে জায়িয আছে যে, তা পৃথকভাবে ক্রয়-বিক্রয় করা বৈধ। দেখুন না, নবী (ﷺ) এ হাদীসের মধ্যেই উল্লেখ করেছেন এবং খেজুর গাছ বিক্রয় করার কথা উল্লেখ করার সাথেই ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি তার এমন এক গোলাম বিক্রয় করল, যার মাল আছে তার মালের মালিক হবে বিক্রেতা। অবশ্য যদি ক্রেতা তার শর্ত করে তবে সে-ই তার মালিক হবে। এ হাদীসে নবী (ﷺ) ক্রেতা শর্ত না করলে, বিক্রেতাকে গোলামের মালের মালিক সাব্যস্ত করেছেন। আর ক্রেতার শর্ত করলে তাকেই উক্ত মালের মালিক সাব্যস্ত করেছেন। অবশ্য যদি সে মাল, মদ কিংবা শূকর হয় তবে শর্ত করার কারণে ক্রয়-বিক্রয় ফাসিদ হয়ে যাবে। গোলামের সহিত কেবল এমন মালের শর্ত আরোপ করা যাবে, যা পৃথকভাবে ক্রয়-বিক্রয় করা বৈধ। পৃথকভাবে যে বস্তুর ক্রয়-বিক্রয় বৈধ নয় অন্য মালের ক্রয়-বিক্রয়ের সহিত তার শর্ত করাও বৈধ নয়। কারণ শর্ত করার কারণে এ বস্তুও বিক্রীত বস্তুর অন্তর্ভুক্ত হয়; অথচ এটা বিক্রয় করা জায়িয় নয়। সুতরাং এটা এ কথারই একটা বিশুদ্ধ প্রমাণ যে,খেজুর গাছ বিক্রয়ের শর্ত আরোপের মাধ্যমে যে ফল অন্তর্ভুক্ত থাকা বৈধ তা হলো ঐ ফল, যা খেজুর বাদেই পৃথকভাবে বিক্রয় করা বৈধ। অতএব এ আলোচনা দ্বারা আমরা যা উল্লেখ করেছি তা প্রমাণিত হলো। আর এটাই ইমাম আবু হানীফা ও আবু ইউসুফ (রাযিঃ) এর মত।
ইমাম মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান, এ অনুচ্ছেদের শুরুতে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) হতে যে নিষেধাজ্ঞার কথা আমরা উল্লেখ করেছি, তা হলো ফল বিক্রয়ের পর তা পূর্ণ হওয়া ও কাটা পর্যন্ত গাছে রেখে দেয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা। বস্তুতঃ এক্ষেত্রে ফল পরিপক্ক হবার পূর্বেই ক্রয়-বিক্রয় সংঘটিত হয়েছে। আর ক্রেতা এ ক্ষেত্রে গাছে ফল প্রকাশ হবার পর ক্রয় করেছে। এবং ক্রয়ের পর বিক্রেতার এ গাছ, ফল কাটা পর্যন্ত যে অতিরিক্ত বৃদ্ধি করছে তাও তার ক্রয় করা বস্তুর অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। অতএব ক্রয়ের এটা একটা বাতিল চুক্তি। তিনি বলেন, ফল যখন পূর্ণ হয়ে যায় এবং বৃদ্ধি হওয়া বন্ধ হয়ে যায় তখন তা ক্রয় করে কাটা পর্যন্ত রেখে দেওয়ার শর্ত করায় কোন অসুবিধা নেই। তিনি বলেন, গাছে ফল রেখে দেয়ার যে নিষেধাজ্ঞা হয়েছে তা তো অতিরিক্ত বৃদ্ধি পাবার কারণে হয়েছে। এটা এ কথাই প্রমাণ করে যে, যখন আর বৃদ্ধি পাবেনা, তখন ক্রয়ের সময় এ শর্ত করায় কোন অসুবিধা নেই । সুলায়মান ইব্ন শুআইব তার পিতার মাধ্যমে ইমাম মুহাম্মাদ (রাযিঃ) হতে এ কথা আমাকে জানিয়েছেন। তবে ইমাম আবু হানীফা, ও আবু ইউসুফ (রাহঃ)-এর ব্যাখ্যা আমাদের মতে অধিক উত্তম।
ইমাম তাহাবী (রাহঃ)-এর যুক্তি
যুক্তিও একথার সাক্ষ্য প্রদান করে, কারণ ফল পরিপক্ক হবার পর যখন তা এ শর্তে বিক্রয় করা হয় যে খেজুর কাটা পর্যন্ত তা গাছেই রেখে দেয়া হবে। সে ক্ষেত্রে খেজুর গাছ খেজুর কাটা পর্যন্ত ভাড়া করা গাছ হবে। আর এরূপ ভাড়া করা যেহেতু স্বতন্ত্রভাবে জায়িয নয়, সুতরাং যখন অন্যের সহিত ভাড়া করা হবে তখন ও জায়িয হবেনা। এক দল উলামা-ই কিরাম বলেন, উপযোগিতার পূর্বে ফল বিক্রয় করা হতে যে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) নিষেধ করেছেন, তা তাহরীম বা অবৈধতা দানের জন্য নয়। বরং তাঁর নিকট অসংখ্য অভিযোগের কারণে তিনি পরমার্শ হিসেবে তাদেরকে (সাহাবা-ই কিরামকে) এ নিষেধ করেছেন। উক্ত উলামা-ই কিরাম এ বিষয়টি হযরত যায়িদ ইব্ন সাবিত (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেছেন।
আলোচনা
আবু জা'ফর তাহাবী (রাহঃ) বলেন: উল্লেখিত এসব হাদীসে নবী (ﷺ) গাছ বিক্রেতার জন্যই ফল সাব্যস্ত করেছেন; অবশ্য ক্রেতা শর্ত করে থাকলে তার শর্ত করার কারণে তার জন্য ফল হবে। এবং সে ফল ক্রেতার হবে।
এখানে দেখা যাচ্ছে যে, নবী (ﷺ) গাছে ঝুলন্ত ফল তার উপযোগিতা প্রকাশের পূর্বেই বিক্রয়ের অনুমতি প্রদান করেছেন। এটা এ কথাই প্রমাণ করে যে, পূর্বে উল্লেখিত হাদীসসমূহে যে নিষিদ্ধ হবার কথা রয়েছে, তার অর্থ এ হাদীসসমূহের অর্থ হতে ভিন্নতর।
অবশ্য যদি এখানে কেউ এই প্রশ্ন উত্থাপন করে যে, এসব হাদীসে তো ফল বিক্রয় করা বৈধ করা হয়েছে অন্য বস্তুর অন্তর্ভুক্ত হয়ে। আর কোন বস্তুর অন্য কোন বস্তুর অন্তর্ভুক্ত হয়ে বিক্রয় বৈধ হওয়া একথা প্রমাণ করে না যে, পৃথকভাবেও তা বিক্রয় করা অনুরূপ বৈধ হবে। কারণ, আমরা এমন বহু জিনিস দেখেছি যা অন্য বস্তুর সহিত তো ক্রয়-বিক্রয়ের মধ্যে প্রবেশ করে কিন্তু পৃথকভাবে তার ক্রয়-বিক্রয় বৈধ নয়। যেমন, কোন বাড়ীর পথ ও আংগিনা। বাড়ী বিক্রয় করলে তো এসবেরও বিক্রয় হয়ে যায়। কিন্তু স্বতন্ত্রভাবে এসবের বিক্রয় করা বৈধ নয়।
এ প্রশ্নের জবাবে আমরা আল্লাহর তাওফীকে বলব, বাড়ীতে প্রবেশ করার পথ ও বাড়ীর আংগিনাসমূহ বাড়ী ক্রয়ের সহিত এসবের বিক্রয়ের শর্ত না করলেও ক্রয়ের মধ্যে শামিল হয়ে যায়। আর যে বস্তু শর্ত ব্যতীত অন্য বস্তুর বিক্রয়ের মধ্যে শামিল হয়ে যায়, স্বতন্ত্রভাবে বিক্রয় করা যায় না। আর যে বস্তু শর্ত করা ব্যতীত অন্য বস্তুর বিক্রয়ের মধ্যে শামিল হয় না কেবল সে বস্তুই শর্ত করা হলে বিক্রিত বস্তুতে পরিণত হয়। অতএব চিহ্নিত বস্তুতে পরিণত হবে কেবল সে বস্তু, যা স্বতন্ত্রভাবে বিক্রয় করা জায়িয আছে, নচেত নয়। দেখতে কি পাননা যে, যদি কোন ব্যক্তি কোন বাড়িঘর বিক্রয় করে এবং সেখানে মালসামান থাকে তবে তা বিক্রয়ের মধ্যে দাখিল হবে না। তবে ক্রেতা যদি উক্ত মালসামান তার ঘর ক্রয়ের অন্তর্ভুক্তির শর্ত করে, তবে তার এ শর্ত করার কারণে সে উক্ত মালের মালিক হবে। অবশ্য উক্ত ঘরে যদি মদ কিংবা শূকর থাকে এবং ঘর ক্রয়ের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবার শর্ত করে, তবে ক্রয় ফাসিদ হবে। অতএব বুঝা গেল, ঘর ক্রয়ের জন্য কেবল এমন বস্তুর শর্ত করা যায়, যা পৃথকভাবে ক্রয়-বিক্রয় জায়িয আছে।
আমরা যে ফলের আলোচনা করেছি খেজুর গাছের সহিত তার শর্ত করা কেবল এ কারণে জায়িয আছে যে, তা পৃথকভাবে ক্রয়-বিক্রয় করা বৈধ। দেখুন না, নবী (ﷺ) এ হাদীসের মধ্যেই উল্লেখ করেছেন এবং খেজুর গাছ বিক্রয় করার কথা উল্লেখ করার সাথেই ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি তার এমন এক গোলাম বিক্রয় করল, যার মাল আছে তার মালের মালিক হবে বিক্রেতা। অবশ্য যদি ক্রেতা তার শর্ত করে তবে সে-ই তার মালিক হবে। এ হাদীসে নবী (ﷺ) ক্রেতা শর্ত না করলে, বিক্রেতাকে গোলামের মালের মালিক সাব্যস্ত করেছেন। আর ক্রেতার শর্ত করলে তাকেই উক্ত মালের মালিক সাব্যস্ত করেছেন। অবশ্য যদি সে মাল, মদ কিংবা শূকর হয় তবে শর্ত করার কারণে ক্রয়-বিক্রয় ফাসিদ হয়ে যাবে। গোলামের সহিত কেবল এমন মালের শর্ত আরোপ করা যাবে, যা পৃথকভাবে ক্রয়-বিক্রয় করা বৈধ। পৃথকভাবে যে বস্তুর ক্রয়-বিক্রয় বৈধ নয় অন্য মালের ক্রয়-বিক্রয়ের সহিত তার শর্ত করাও বৈধ নয়। কারণ শর্ত করার কারণে এ বস্তুও বিক্রীত বস্তুর অন্তর্ভুক্ত হয়; অথচ এটা বিক্রয় করা জায়িয় নয়। সুতরাং এটা এ কথারই একটা বিশুদ্ধ প্রমাণ যে,খেজুর গাছ বিক্রয়ের শর্ত আরোপের মাধ্যমে যে ফল অন্তর্ভুক্ত থাকা বৈধ তা হলো ঐ ফল, যা খেজুর বাদেই পৃথকভাবে বিক্রয় করা বৈধ। অতএব এ আলোচনা দ্বারা আমরা যা উল্লেখ করেছি তা প্রমাণিত হলো। আর এটাই ইমাম আবু হানীফা ও আবু ইউসুফ (রাযিঃ) এর মত।
ইমাম মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান, এ অনুচ্ছেদের শুরুতে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) হতে যে নিষেধাজ্ঞার কথা আমরা উল্লেখ করেছি, তা হলো ফল বিক্রয়ের পর তা পূর্ণ হওয়া ও কাটা পর্যন্ত গাছে রেখে দেয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা। বস্তুতঃ এক্ষেত্রে ফল পরিপক্ক হবার পূর্বেই ক্রয়-বিক্রয় সংঘটিত হয়েছে। আর ক্রেতা এ ক্ষেত্রে গাছে ফল প্রকাশ হবার পর ক্রয় করেছে। এবং ক্রয়ের পর বিক্রেতার এ গাছ, ফল কাটা পর্যন্ত যে অতিরিক্ত বৃদ্ধি করছে তাও তার ক্রয় করা বস্তুর অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। অতএব ক্রয়ের এটা একটা বাতিল চুক্তি। তিনি বলেন, ফল যখন পূর্ণ হয়ে যায় এবং বৃদ্ধি হওয়া বন্ধ হয়ে যায় তখন তা ক্রয় করে কাটা পর্যন্ত রেখে দেওয়ার শর্ত করায় কোন অসুবিধা নেই। তিনি বলেন, গাছে ফল রেখে দেয়ার যে নিষেধাজ্ঞা হয়েছে তা তো অতিরিক্ত বৃদ্ধি পাবার কারণে হয়েছে। এটা এ কথাই প্রমাণ করে যে, যখন আর বৃদ্ধি পাবেনা, তখন ক্রয়ের সময় এ শর্ত করায় কোন অসুবিধা নেই । সুলায়মান ইব্ন শুআইব তার পিতার মাধ্যমে ইমাম মুহাম্মাদ (রাযিঃ) হতে এ কথা আমাকে জানিয়েছেন। তবে ইমাম আবু হানীফা, ও আবু ইউসুফ (রাহঃ)-এর ব্যাখ্যা আমাদের মতে অধিক উত্তম।
ইমাম তাহাবী (রাহঃ)-এর যুক্তি
যুক্তিও একথার সাক্ষ্য প্রদান করে, কারণ ফল পরিপক্ক হবার পর যখন তা এ শর্তে বিক্রয় করা হয় যে খেজুর কাটা পর্যন্ত তা গাছেই রেখে দেয়া হবে। সে ক্ষেত্রে খেজুর গাছ খেজুর কাটা পর্যন্ত ভাড়া করা গাছ হবে। আর এরূপ ভাড়া করা যেহেতু স্বতন্ত্রভাবে জায়িয নয়, সুতরাং যখন অন্যের সহিত ভাড়া করা হবে তখন ও জায়িয হবেনা। এক দল উলামা-ই কিরাম বলেন, উপযোগিতার পূর্বে ফল বিক্রয় করা হতে যে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) নিষেধ করেছেন, তা তাহরীম বা অবৈধতা দানের জন্য নয়। বরং তাঁর নিকট অসংখ্য অভিযোগের কারণে তিনি পরমার্শ হিসেবে তাদেরকে (সাহাবা-ই কিরামকে) এ নিষেধ করেছেন। উক্ত উলামা-ই কিরাম এ বিষয়টি হযরত যায়িদ ইব্ন সাবিত (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেছেন।
كتاب البيوع و الصرف
5597 - حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ نَصْرٍ، قَالَ: سَمِعْتُ يَزِيدَ بْنَ هَارُونَ، قَالَ: أَخْبَرَنِي حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ عِكْرِمَةَ بْنِ خَالِدٍ الْمَخْزُومِيِّ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَجُلًا، اشْتَرَى نَخْلًا قَدْ أَبَّرَهَا صَاحِبُهَا , فَخَاصَمَهُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَضَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَيْهِ أَنَّ الثَّمَرَةَ لِصَاحِبِهَا الَّذِي أَبَّرَهَا إِلَّا أَنْ يَشْتَرِطَ الْمُشْتَرِي قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: فَجَعَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي هَذِهِ الْآثَارِ , ثَمَرَ النَّخْلِ لِبَائِعِهَا إِلَّا أَنْ يَشْتَرِطَهَا مُبْتَاعُهَا , فَيَكُونَ لَهُ بِاشْتِرَاطِهِ إِيَّاهَا , وَيَكُونَ بِذَلِكَ مُبْتَاعًا لَهَا. وَقَدْ أَبَاحَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَاهُنَا , بَيْعَ ثَمَرَةٍ فِي رُءُوسِ النَّخْلِ قَبْلَ بُدُوِّ صَلَاحِهَا. [ص:27] فَدَلَّ ذَلِكَ أَنَّ الْمَعْنَى الْمَنْهِيَّ عَنْهُ فِي الْآثَارِ الْأُوَلِ خِلَافُ هَذَا الْمَعْنَى. فَإِنْ قَالَ قَائِلٌ: إِنَّ مَا أُجِيزَ , هُوَ بَيْعُ الثَّمَرِ فِي هَذِهِ الْآثَارِ , لِأَنَّهُ مَبِيعٌ مَعَ غَيْرِهِ , وَلَيْسَ فِي جَوَازِ بَيْعِهِ مَعَ غَيْرِهِ مَا يَدُلُّ عَلَى أَنَّ بَيْعَهُ وَحْدَهُ كَذَلِكَ , لِأَنَّا قَدْ رَأَيْنَا أَشْيَاءَ تَدْخُلُ مَعَ غَيْرِهَا فِي الْبَيْعَاتِ , وَلَا يَجُوزُ إِفْرَادُهَا بِالْبَيْعِ. مِنْ ذَلِكَ , الطُّرُقُ وَالْأَفْنِيَةُ , تَدْخُلُ فِي بَيْعِ الدُّورِ , وَلَا يَجُوزُ أَنْ تُفْرَدَ بِالْبَيْعِ. فَجَوَابُنَا فِي ذَلِكَ , وَبِاللهِ التَّوْفِيقُ , أَنَّ الطُّرُقَ وَالْأَفْنِيَةَ , تَدْخُلُ فِي الْبَيْعِ , وَإِنْ لَمْ يُشْتَرَطْ , وَلَا يَدْخُلُ الثَّمَرُ فِي بَيْعِ النَّخْلِ إِلَّا أَنْ يُشْتَرَطَ. فَالَّذِي يَدْخُلُ فِي بَيْعِ غَيْرِهِ , لَا بِاشْتِرَاطٍ , هُوَ الَّذِي لَا يَجُوزُ أَنْ يَكُونَ مَبِيعًا وَحْدَهُ. وَالَّذِي لَا يَكُونُ دَاخِلًا فِي بَيْعِ غَيْرِهِ إِلَّا بِاشْتِرَاطٍ , هُوَ الَّذِي إِذَا اشْتُرِطَ , كَانَ مَبِيعًا , فَلَمْ يَجُزْ أَنْ يَكُونَ مَبِيعًا مَعَ غَيْرِهِ إِلَّا وَبَيْعُهُ وَحْدَهُ جَائِزًا. أَلَا يَرَى أَنَّ رَجُلًا لَوْ بَاعَ دَارًا , وَفِيهَا مَتَاعٌ , أَنَّ ذَلِكَ الْمَتَاعَ لَا يَدْخُلُ فِي الْبَيْعِ وَأَنَّ مُشْتَرِيَهَا لَوِ اشْتَرَطَهُ فِي شِرَائِهِ الدَّارَ , صَارَ لَهُ بِاشْتِرَاطِهِ إِيَّاهُ. وَلَوْ كَانَ الَّذِي فِي الدَّارِ خَمْرًا أَوْ خِنْزِيرًا , فَاشْتَرَطَهُ فِي الْبَيْعِ , فَسَدَ الْبَيْعُ. فَكَانَ لَا يَدْخُلُ فِي شِرَائِهِ الدَّارَ بِاشْتِرَاطِهِ فِي ذَلِكَ , إِلَّا مَا يَجُوزُ لَهُ شِرَاؤُهُ. وَلَوِ اشْتَرَى وَحْدَهُ , وَكَانَ الثَّمَرُ الَّذِي ذَكَرْنَا يَجُوزُ لَهُ اشْتِرَاطُهُ مَعَ النَّخْلِ , فَلَمْ يَكُنْ ذَلِكَ , إِلَّا لِأَنَّهُ يَجُوزُ بَيْعُهُ وَحْدَهُ. أَوَ لَا يَرَى أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فِي هَذَا الْحَدِيثِ , وَقَرَنَهُ مَعَ ذِكْرِهِ النَّخْلَ مَنْ بَاعَ عَبْدًا لَهُ مَالٌ , فَمَالُهُ لِلْبَائِعِ , إِلَّا أَنْ يَشْتَرِطَهُ الْمُبْتَاعُ. فَجَعَلَ الْمَالَ لِلْبَائِعِ , إِذَا لَمْ يَشْتَرِطْهُ الْمُبْتَاعُ , وَجَعَلَهُ لِلْمُبْتَاعِ بِاشْتِرَاطِهِ إِيَّاهُ , وَكَانَ ذَلِكَ الْمَالُ لَوْ كَانَ خَمْرًا أَوْ خِنْزِيرًا , فَسَدَ بَيْعُ الْعَبْدِ , إِذَا اشْتَرَطَهُ فِيهِ. وَإِنَّمَا يَجُوزُ أَنْ يَشْتَرِطَ مَعَ الْعَبْدِ مِنْ مَالِهِ , مَا يَجُوزُ بَيْعُهُ وَحْدَهُ , فَأَمَّا مَا لَا يَجُوزُ بَيْعُهُ وَحْدَهُ , فَلَا يَجُوزُ اشْتِرَاطُهُ فِي بَيْعِهِ , لِأَنَّهُ يَكُونُ بِذَلِكَ مَبِيعًا , وَبَيْعُ ذَلِكَ الشَّيْءِ , لَا يَصْلُحُ , فَذَلِكَ أَيْضًا دَلِيلٌ صَحِيحٌ عَلَى مَا ذَكَرْنَا فِي الثَّمَرَةِ الدَّاخِلَةِ فِي بَيْعِ النَّخْلِ بِالِاشْتِرَاطِ , أَنَّهَا الثِّمَارُ الَّتِي يَجُوزُ بَيْعُهَا عَلَى الِانْفِرَادِ , دُونَ بَيْعِ النَّخْلِ. فَثَبَتَ بِذَلِكَ مَا ذَكَرْنَا , وَهَذَا قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ , وَأَبِي يُوسُفَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِمَا. وَكَانَ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ يَذْهَبُ إِلَى أَنَّ النَّهْيَ الَّذِي ذَكَرْنَاهُ , عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي أَوَّلِ هَذَا الْبَابِ , هُوَ بَيْعُ الثَّمَرِ , عَلَى أَنْ يُتْرَكَ فِي رُءُوسِ النَّخْلِ , حَتَّى يَبْلُغَ وَيَتَنَاهَى , وَحَتَّى يُجَدَّ , وَقَدْ وَقَعَ الْبَيْعُ عَلَيْهِ قَبْلَ التَّنَاهِي , فَيَكُونُ الْمُشْتَرِي قَدِ ابْتَاعَ ثَمَرًا ظَاهِرًا , وَمَا يُنَمِّيهِ نَخْلُ الْبَائِعِ بَعْدَ ذَلِكَ إِلَى أَنْ يُجَدَّ , فَذَلِكَ بَاطِلٌ. قَالَ: فَأَمَّا إِذَا وَقَعَ الْبَيْعُ بَعْدَمَا تَنَاهَى عِظَمُهُ , وَانْقَطَعَتْ زِيَادَتُهُ , فَلَا بَأْسَ بِابْتِيَاعِهِ وَاشْتِرَاطِ تَرْكِهِ إِلَى حَصَادِهِ وَجِدَادِهِ. [ص:28] قَالَ: فَإِنَّمَا وَقَعَ النَّهْيُ عَنْ ذَلِكَ , لِاشْتِرَاطِهِ التَّرْكَ لِمَكَانِ الزِّيَادَةِ. قَالَ: وَفِي ذَلِكَ دَلِيلٌ عَلَى أَنْ لَا بَأْسَ بِذَلِكَ الِاشْتِرَاطِ فِي ابْتِيَاعِهِ , بَعْدَ عَدَمِ الزِّيَادَةِ. حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ شُعَيْبٍ بِهَذَا , عَنْ أَبِيهِ , عَنْ مُحَمَّدٍ. وَتَأْوِيلُ أَبِي حَنِيفَةَ , وَأَبِي يُوسُفَ فِي هَذَا أَحْسَنُ , عِنْدَنَا , وَاللهُ أَعْلَمُ. وَالنَّظَرُ أَيْضًا يَشْهَدُ لَهُ , لِأَنَّهُ إِذَا وَقَعَ الْبَيْعُ عَلَى الثِّمَارِ بَعْدَ تَنَاهِيهَا , عَلَى أَنْ تُتْرَكَ إِلَى الْحَصَادِ , فَالنَّخْلُ هَاهُنَا , مُسْتَأْجَرَةٌ , لِيَكُونَ الثِّمَارُ فِيهَا إِلَى وَقْتِ جِدَادِهَا عَنْهَا , وَذَلِكَ لَوْ كَانَ عَلَى الِانْفِرَادِ , لَمْ يَجُزْ , فَإِذَا كَانَ مَعَ غَيْرِهِ، فَهُوَ أَيْضًا كَذَلِكَ. وَقَدْ قَالَ قَوْمٌ: إِنَّ النَّهْيَ الَّذِي كَانَ مِنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ بَيْعِ الثِّمَارِ حَتَّى يَبْدُوَ صَلَاحُهَا , لَمْ يَكُنْ مِنْهُ عَلَى تَحْرِيمِ ذَلِكَ , وَلَكِنَّهُ كَانَ عَلَى الْمَشُورَةِ عَلَيْهِمْ بِذَلِكَ لِكَثْرَةِ مَا كَانُوا يَخْتَصِمُونَ إِلَيْهِ فِيهِ وَرَوَوْا ذَلِكَ عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ