শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ
১৩. যাবতীয় ক্রয়-বিক্রয়র অধ্যায়
হাদীস নং: ৫৭৫৫
আন্তর্জাতিক নং: ৫৭৫৭
যাবতীয় ক্রয়-বিক্রয়র অধ্যায়
১৩. জীব-জন্তু ঋণ গ্রহণ প্রসঙ্গ
৫৭৫৫-৫৭। ইবন আবী দাউদ বলেন, ..... হাসান হযরত সামুরা (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেন, তিনি নবী ﷺ হতে অনুরূপ ঘোষণা করেছেন।
ইবরাহীম ইবন মারযূক বলেন, ….. সামুরা (রাযিঃ) নবী ﷺ হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ ইবন খুশাইশ বলেন,..... সামুরা (রাযিঃ) হযরত নবী ﷺ এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
আবী জাফর (রাহঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ ﷺ জীব-জন্তুর বিনিময়ে জীব-জন্তু বাকী বিক্রয়ের অনুমতি প্রদান করেছেন বলে আমরা যে হাদীস বর্ণনা করেছি এ হাদীস তার জন্য নাসিখও কিন্তু প্রথম মত পোষণকারী উলামা-ই কিরাম বলেন, এ হাদীস আমাদের জন্য কোন ক্ষতির কারন নয়। আমরা দেখেছি গমের বিনিময়ে গম বাকী বিক্রয় করা যায় না। অথচ গম ঋণ দেয়া জায়েয আছে। ঠিক অনুরূপভাবে জীব-জন্তু একটা অন্য একটার বিনিময়ে বাকী বিক্রয় করা জায়েয নয়, কিন্তু গ্রহণ করা জায়েয হবে।
প্রথম মত প্রদান করার ব্যাপারে যারা এই মন্তব্য পেশ করেন, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের দলিল হলো, রাসূলুল্লাহ ﷺ প্রানীকে প্রানীর বিনিময়ে বাকী বিক্রয়ের ব্যাপারে যে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেছেন, সেখানে যেমন এ সম্ভাবনা আছে যে, প্রানীর কোন (প্রানীর অনুরূপ প্রানী) আছে বলে তিনি অবগত নন। এ কারনে তিনি নিষেধ করেছেন। আর প্রথম মত পোষণকারী দল গম বিক্রয় ও এর ঋণ গ্রহণের ব্যাপারে যে বক্তব্য পেশ করেছেন, সে সম্ভাবনাও আছে। যদি রাসূলুল্লাহ ﷺ প্রানীকে প্রানীর বাকী বিনিময়ে বিক্রয় করতে এ কারনে নিষেধ করে থাকেন যে, তার কোন مثل (অনুরূপ প্রাণী) নেই, তবে দ্বিতীয় মত পোষণকারী দলের মতই সঠিক প্রমাণিত হবে। আর যদি নিষেধাজ্ঞা এ কারনে হয়ে থাকে দুটোই এক শ্রেণীর আর এ কারনে একটি অন্যটার বিনিময়ে বাকী ক্রয়-বিক্রয় জায়েয নেই। তবে সেক্ষেত্রে প্রথম দলের মতের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দলের কোন দলিল প্রমানিত হবেনা।
অতএব আমরা কিয়াস ও সঠিক যুক্তির আশ্রয় গ্রহণ করেছি। আমরা কায়লী বস্তু দেখেছি যা পরস্পরে বাকী বিক্রয় জায়েয নেই। কিন্তু ঋণ হিসেবে লেনদেন করায় কোন ক্ষতি নেই। অনুরূপ ওযনী বস্তুর হুকুমও এ ব্যাপারে অনুরূপ, যেমন কায়লী বস্তুর হুকুম। অবশ্য সোনা চাঁদীর হুকুম এর চেয়ে ভিন্ন।
এছাড়া যে সব বস্তু কাস্তলী বা ওজনী নয়, যেমন কাপড় ও অনুরূপ বস্তু, এসব বস্তুর পারস্পরিক বিনিময় করায়ও কোন ক্ষতি নেই। যদিও একটি অপরটির বিনিময়ে অতিরিক্ত প্রদান করা হোক না কেন। আর এসব বস্তুর পরস্পর বাকী বিক্রয়ের ব্যাপারে মতপার্থক্য রয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন, এইসব বস্তুর মধ্যে যা একই শ্রেণীরভুক্ত হবে, তা বাকী বিক্রয় করা ঠিক নয়। আর বিভিন্ন শ্রেণীর হলে তা বাকী বিক্রয়ে কোন ক্ষতি নেই। যারা এ মত পোষণ করেন, তারা হলেন ইমাম আবু হানীফা, আবু ইউসুফ ও মুহাম্মাদ (রাযিঃ)*। অন্য একদল ফকীহ বলেন** যে, এ ধরনের বস্তু পরস্পরে নগদ ও বাকী বিক্রয় করায় কোন অসুবিধা নেই। চাই সে বস্তু একই শ্রেণীভুক্ত হোক কিংবা ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণীর।
প্রাণী ও জীব-জন্তু ব্যতীত অন্য যেসব বস্তু কায়েল করে, ওজন করে কিংবা সংখ্যায় গণনা করে ক্রয়-বিক্রয় করা হয়, এ হলো সে সব বস্তুর হুকুম, যা জীবজন্তু ব্যতীত, কায়েল করে, ওজন করে কিংবা গণনা করে বিক্রয় করা হয়। যেমন আমরা ব্যাখ্যা প্রদান করেছি। অতএব যে সব বস্তু কায়েল করে কিংবা ওজন করে বিক্রয় করা হয় না, তা এমন বস্তুর বিনিময়ে ক্রয়-বিক্রয় করায় কোন অসুবিধা নেই, যা তার শ্রেণীভুক্ত নয়। যদিও বিক্রয় দ্রব্য ও বিনিময় দ্রব্য দুটোই কাপড় হয়। অথচ, প্রাণী ও জীব-জন্তু ভিন্ন শ্রেণীর হলেও তা একটার বিনিময়ে অন্যটা বাকী বিক্রয় করা জায়েয নয়। আর এ কারনেই উটের বিনিময়ে গোলাম বিক্রয় করা জায়েয নয়। আর ছাগলের বিনিময়ে ও জায়েয নয়। যদি বিক্রয় দ্রব্য বিনিময় দ্রব্য একই শ্রেণীভুক্ত হবার কারনে রাসূলুল্লাহ ﷺ তাদের বাকী ক্রয়-বিক্রয় করা নিষেধ করে থাকতেন তবে এক শ্রেণীভুক্ত না হবার কারনে গাভীর বিনিময়ে উট বাকী বিক্রয় করা জায়েয হত। যেমন, কাতান কাপড় সুতি কাপড়ের বিনিময়ে বাকী বিক্রয় করা জায়েয আছে। আর যে ক্ষেত্রে একই শ্রেণী হোক কিংবা ভিন্ন শ্রেণীর জীব-জন্তু হোক তাদের বাকী ক্রয় বিক্রয় জায়েয নয়, তাতে একথাই প্রমানিত হয় যে, এসবের বাকী বিক্রয় নিষিদ্ধ হবার কারন হলো তার مثل (অনুরূপ প্রাণী) নেই। আর যেহেতু এটা অজ্ঞাত। আর যখন এর পারস্পরিক বাকী বিক্রয় করা এ কারনে বাতিল তা অজ্ঞাত সেক্ষেত্রে এর ঋণ দেয়াও বাতিল হবে, কারণ তা অজ্ঞাত। এটাই হলো এ বিষয়ের য়ুক্তি।
জীব জন্তুর ঋণ প্রদান করা যে জায়েয নয়, বাতিল, এ বিষয়ে আরো যা কিছু প্রমাণ করে তার মধ্যে একটি হলো বাঁদীর ঋণ গ্রহণ করা সকল উলামা-ই কিরামের মতে নাজায়েয। অথচ বাঁদীরও প্রানী। অতএব যুক্তির নিরিখে অন্যান্য সকল প্রানীরও ঋণ গ্রহণ করা অনুরূপ না জায়েয হবে।
যদি কেউ এ প্রশ্ন করে যে, আমরা তো দেখছি যে, গর্ভস্থ সন্তানের ক্ষতিপূরনে রাসূলুল্লাহ ﷺ (গোলাম/বাঁদী) দেয়ার হুকুম দিয়েছেন। আর دية এ একশ উটের হুকুম দিয়েছেন। আর কোন অংগহানীর ব্যাপারেও যে ক্ষতি পূরণের হুকুম প্রদান করেছেন, তা উটের মাধ্যমেই করেছেন। আর এগুলো সবই অনির্ধারিতভাবে সাব্যস্ত প্রাণী। তবে অন্যান্য সব প্রানীও অনুরূপ অনির্ধারিতভাবে সাব্যস্ত হতে পারবে না কেন?
তবে এ প্রশ্নকারীকে বলা হবে, দিয়াত ও গর্ভস্থ সন্তানের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ ﷺ জন্তু প্রদানের হুকুম দিয়েছেন যেমন আপনি বলছেন এবং প্রাণীর বিনিময়ে আর এক প্রাণীর বাকী বিক্রয় করতে নিষেধ করছেন, যেমন আমরা এ অনুচ্ছেদে আলোচনা করেছি। এতে মালের বিনিময়ে কারো যিম্মায় কোন প্রাণীর ওয়াজিব হওয়া নিষিদ্ধ প্রমাণিত হয়। আর কোন মালের বিনিময় হিসেবে না হলে আরো জিম্মায় কোন প্রাণীর ওয়াজিব হওয়া জায়েয প্রমাণিত হয়।
এগুলো দুটো ভিন্ন নীতি, যা আমরা বিশুদ্ধ নীতি মনে করি এবং এই নীতির উপর যাবতীয় শাখা-প্রশাখা সমূহের ভিত্তি স্থাপন করি। অতএব যে জীবজন্তু কোন মালের বদল হয় তার হুকুম ঐ ঋণের হুকুমের মতই, যার বর্ণনা আমরা পূর্বে প্রদান করেছি। আর যে জীব-জন্তু কোন মালের বদল নয়, আর হুকুম হলো ديت ও غرة এর হুকুমের মত, যার উল্লেখ আমরা এর পূর্বে করেছি। মধ্যম মানের কোন দাস বা দাসীর উপর বিবাহ প্রদান কিংবা খোলা করন এই শ্রেণীতেই অন্তর্ভুক্ত।
আর আমরা যে বর্ণনা প্রদান করেছি তা বিশুদ্ধ হবার দলীল হলো, নবী ﷺ আযাদ ও حرة মহিলার جنين (গর্ভস্থ সন্তান) নষ্ট করার দায়ে একটা غرة (গোলাম/বাদী) প্রদানের ফায়সালা প্রদান করেছেন। অথচ সমস্ত মুসলিমগন এ বিষয় একমত যে, কোন বাঁদীর جنين (গর্ভস্থ সন্তান) এর ক্ষতিপূরণে এটা ওয়াজিব নয়। বরং এতে ওয়াজিব হলো, মতান্তরে কিছু দিরহাম, কিংবা দীনার, কেউ কেউ বলেন, 'জানীন' কন্যা হলে তার মূল্যের এক দশম অংশ হত্যাকারীর উপর ওয়াজিব হবে। আর যদি পুত্র সন্তান হয় তবে তার মূল্যের দশমাংশের অর্ধেক ওয়াজিব হবে। আর যারা এমত পোষণ করেন, তারা হলেন ইমাম আবু হানীফা, আবু ইউসুফ ও মুহাম্মাদ (রাহঃ)।
অপর পক্ষে অন্যান্য উলামা-ই কিরাম বলেন, 'জানীন' নষ্ট করলে নষ্টকারীর উপর 'জানীন' এর মায়ের মূল্যের দশমাংশের অর্ধেক ওয়াজিব হবে। উলামা-ই কিরাম এ বিষয়ে একমত পোষণ করেন যে, চতুষ্পদ প্রাণীর কোন 'জানীন' নষ্ট করলে নষ্টকারীর উপর বাচ্চার মায়ের যতটুকু 'মূল্যহানি' হবে-তা-ই ওয়াজিব হবে। অথচ, রাসূলুল্লাহ ﷺ উটের যে দিয়াত (دية) ওয়াজিব করেছেন তা কেবল আযাদ মানুষের ব্যাপারে ওয়াজিব হবে। গোলাম হত্যা করলে তা ওয়াজিব হবে না।
অতএব রাসূলুল্লাহ ﷺ যে ক্ষেত্রে 'কারো জিম্মায়' (অর্থাৎ অনির্ধারিত) কোন প্রাণী সাব্যস্ত করেছেন, তা হলো ঐ প্রাণী, যা কোন মালের বদল না বিনিময় নয়। আর যে প্রাণী কোন মালের বদল বলে বিবেচিত নয়,। আর যে প্রানী কোন মালের বদলবলে বিবেচিত, তা কারো জিম্মায় ওয়াজিব হবার কথা নিষেধ করেছেন। এ দ্বারা একথাই প্রমানিত হয় যে, যে ঋণ কোন মালের বদল, তার মধ্যে 'জিম্মায়' কোন প্রাণী ওয়াজিব হবে না। আর এটাই হলো ইমাম আবু হানীফা, আবু ইউসুফ ও মুহাম্মাদ (রাহঃ) এর মত। পূর্ববর্তী একদল*** উলামা হতে বর্ণিত হয়েছেঃ
ইবরাহীম ইবন মারযূক বলেন, ….. সামুরা (রাযিঃ) নবী ﷺ হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ ইবন খুশাইশ বলেন,..... সামুরা (রাযিঃ) হযরত নবী ﷺ এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
আবী জাফর (রাহঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ ﷺ জীব-জন্তুর বিনিময়ে জীব-জন্তু বাকী বিক্রয়ের অনুমতি প্রদান করেছেন বলে আমরা যে হাদীস বর্ণনা করেছি এ হাদীস তার জন্য নাসিখও কিন্তু প্রথম মত পোষণকারী উলামা-ই কিরাম বলেন, এ হাদীস আমাদের জন্য কোন ক্ষতির কারন নয়। আমরা দেখেছি গমের বিনিময়ে গম বাকী বিক্রয় করা যায় না। অথচ গম ঋণ দেয়া জায়েয আছে। ঠিক অনুরূপভাবে জীব-জন্তু একটা অন্য একটার বিনিময়ে বাকী বিক্রয় করা জায়েয নয়, কিন্তু গ্রহণ করা জায়েয হবে।
প্রথম মত প্রদান করার ব্যাপারে যারা এই মন্তব্য পেশ করেন, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের দলিল হলো, রাসূলুল্লাহ ﷺ প্রানীকে প্রানীর বিনিময়ে বাকী বিক্রয়ের ব্যাপারে যে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেছেন, সেখানে যেমন এ সম্ভাবনা আছে যে, প্রানীর কোন (প্রানীর অনুরূপ প্রানী) আছে বলে তিনি অবগত নন। এ কারনে তিনি নিষেধ করেছেন। আর প্রথম মত পোষণকারী দল গম বিক্রয় ও এর ঋণ গ্রহণের ব্যাপারে যে বক্তব্য পেশ করেছেন, সে সম্ভাবনাও আছে। যদি রাসূলুল্লাহ ﷺ প্রানীকে প্রানীর বাকী বিনিময়ে বিক্রয় করতে এ কারনে নিষেধ করে থাকেন যে, তার কোন مثل (অনুরূপ প্রাণী) নেই, তবে দ্বিতীয় মত পোষণকারী দলের মতই সঠিক প্রমাণিত হবে। আর যদি নিষেধাজ্ঞা এ কারনে হয়ে থাকে দুটোই এক শ্রেণীর আর এ কারনে একটি অন্যটার বিনিময়ে বাকী ক্রয়-বিক্রয় জায়েয নেই। তবে সেক্ষেত্রে প্রথম দলের মতের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দলের কোন দলিল প্রমানিত হবেনা।
অতএব আমরা কিয়াস ও সঠিক যুক্তির আশ্রয় গ্রহণ করেছি। আমরা কায়লী বস্তু দেখেছি যা পরস্পরে বাকী বিক্রয় জায়েয নেই। কিন্তু ঋণ হিসেবে লেনদেন করায় কোন ক্ষতি নেই। অনুরূপ ওযনী বস্তুর হুকুমও এ ব্যাপারে অনুরূপ, যেমন কায়লী বস্তুর হুকুম। অবশ্য সোনা চাঁদীর হুকুম এর চেয়ে ভিন্ন।
এছাড়া যে সব বস্তু কাস্তলী বা ওজনী নয়, যেমন কাপড় ও অনুরূপ বস্তু, এসব বস্তুর পারস্পরিক বিনিময় করায়ও কোন ক্ষতি নেই। যদিও একটি অপরটির বিনিময়ে অতিরিক্ত প্রদান করা হোক না কেন। আর এসব বস্তুর পরস্পর বাকী বিক্রয়ের ব্যাপারে মতপার্থক্য রয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন, এইসব বস্তুর মধ্যে যা একই শ্রেণীরভুক্ত হবে, তা বাকী বিক্রয় করা ঠিক নয়। আর বিভিন্ন শ্রেণীর হলে তা বাকী বিক্রয়ে কোন ক্ষতি নেই। যারা এ মত পোষণ করেন, তারা হলেন ইমাম আবু হানীফা, আবু ইউসুফ ও মুহাম্মাদ (রাযিঃ)*। অন্য একদল ফকীহ বলেন** যে, এ ধরনের বস্তু পরস্পরে নগদ ও বাকী বিক্রয় করায় কোন অসুবিধা নেই। চাই সে বস্তু একই শ্রেণীভুক্ত হোক কিংবা ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণীর।
প্রাণী ও জীব-জন্তু ব্যতীত অন্য যেসব বস্তু কায়েল করে, ওজন করে কিংবা সংখ্যায় গণনা করে ক্রয়-বিক্রয় করা হয়, এ হলো সে সব বস্তুর হুকুম, যা জীবজন্তু ব্যতীত, কায়েল করে, ওজন করে কিংবা গণনা করে বিক্রয় করা হয়। যেমন আমরা ব্যাখ্যা প্রদান করেছি। অতএব যে সব বস্তু কায়েল করে কিংবা ওজন করে বিক্রয় করা হয় না, তা এমন বস্তুর বিনিময়ে ক্রয়-বিক্রয় করায় কোন অসুবিধা নেই, যা তার শ্রেণীভুক্ত নয়। যদিও বিক্রয় দ্রব্য ও বিনিময় দ্রব্য দুটোই কাপড় হয়। অথচ, প্রাণী ও জীব-জন্তু ভিন্ন শ্রেণীর হলেও তা একটার বিনিময়ে অন্যটা বাকী বিক্রয় করা জায়েয নয়। আর এ কারনেই উটের বিনিময়ে গোলাম বিক্রয় করা জায়েয নয়। আর ছাগলের বিনিময়ে ও জায়েয নয়। যদি বিক্রয় দ্রব্য বিনিময় দ্রব্য একই শ্রেণীভুক্ত হবার কারনে রাসূলুল্লাহ ﷺ তাদের বাকী ক্রয়-বিক্রয় করা নিষেধ করে থাকতেন তবে এক শ্রেণীভুক্ত না হবার কারনে গাভীর বিনিময়ে উট বাকী বিক্রয় করা জায়েয হত। যেমন, কাতান কাপড় সুতি কাপড়ের বিনিময়ে বাকী বিক্রয় করা জায়েয আছে। আর যে ক্ষেত্রে একই শ্রেণী হোক কিংবা ভিন্ন শ্রেণীর জীব-জন্তু হোক তাদের বাকী ক্রয় বিক্রয় জায়েয নয়, তাতে একথাই প্রমানিত হয় যে, এসবের বাকী বিক্রয় নিষিদ্ধ হবার কারন হলো তার مثل (অনুরূপ প্রাণী) নেই। আর যেহেতু এটা অজ্ঞাত। আর যখন এর পারস্পরিক বাকী বিক্রয় করা এ কারনে বাতিল তা অজ্ঞাত সেক্ষেত্রে এর ঋণ দেয়াও বাতিল হবে, কারণ তা অজ্ঞাত। এটাই হলো এ বিষয়ের য়ুক্তি।
জীব জন্তুর ঋণ প্রদান করা যে জায়েয নয়, বাতিল, এ বিষয়ে আরো যা কিছু প্রমাণ করে তার মধ্যে একটি হলো বাঁদীর ঋণ গ্রহণ করা সকল উলামা-ই কিরামের মতে নাজায়েয। অথচ বাঁদীরও প্রানী। অতএব যুক্তির নিরিখে অন্যান্য সকল প্রানীরও ঋণ গ্রহণ করা অনুরূপ না জায়েয হবে।
যদি কেউ এ প্রশ্ন করে যে, আমরা তো দেখছি যে, গর্ভস্থ সন্তানের ক্ষতিপূরনে রাসূলুল্লাহ ﷺ (গোলাম/বাঁদী) দেয়ার হুকুম দিয়েছেন। আর دية এ একশ উটের হুকুম দিয়েছেন। আর কোন অংগহানীর ব্যাপারেও যে ক্ষতি পূরণের হুকুম প্রদান করেছেন, তা উটের মাধ্যমেই করেছেন। আর এগুলো সবই অনির্ধারিতভাবে সাব্যস্ত প্রাণী। তবে অন্যান্য সব প্রানীও অনুরূপ অনির্ধারিতভাবে সাব্যস্ত হতে পারবে না কেন?
তবে এ প্রশ্নকারীকে বলা হবে, দিয়াত ও গর্ভস্থ সন্তানের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ ﷺ জন্তু প্রদানের হুকুম দিয়েছেন যেমন আপনি বলছেন এবং প্রাণীর বিনিময়ে আর এক প্রাণীর বাকী বিক্রয় করতে নিষেধ করছেন, যেমন আমরা এ অনুচ্ছেদে আলোচনা করেছি। এতে মালের বিনিময়ে কারো যিম্মায় কোন প্রাণীর ওয়াজিব হওয়া নিষিদ্ধ প্রমাণিত হয়। আর কোন মালের বিনিময় হিসেবে না হলে আরো জিম্মায় কোন প্রাণীর ওয়াজিব হওয়া জায়েয প্রমাণিত হয়।
এগুলো দুটো ভিন্ন নীতি, যা আমরা বিশুদ্ধ নীতি মনে করি এবং এই নীতির উপর যাবতীয় শাখা-প্রশাখা সমূহের ভিত্তি স্থাপন করি। অতএব যে জীবজন্তু কোন মালের বদল হয় তার হুকুম ঐ ঋণের হুকুমের মতই, যার বর্ণনা আমরা পূর্বে প্রদান করেছি। আর যে জীব-জন্তু কোন মালের বদল নয়, আর হুকুম হলো ديت ও غرة এর হুকুমের মত, যার উল্লেখ আমরা এর পূর্বে করেছি। মধ্যম মানের কোন দাস বা দাসীর উপর বিবাহ প্রদান কিংবা খোলা করন এই শ্রেণীতেই অন্তর্ভুক্ত।
আর আমরা যে বর্ণনা প্রদান করেছি তা বিশুদ্ধ হবার দলীল হলো, নবী ﷺ আযাদ ও حرة মহিলার جنين (গর্ভস্থ সন্তান) নষ্ট করার দায়ে একটা غرة (গোলাম/বাদী) প্রদানের ফায়সালা প্রদান করেছেন। অথচ সমস্ত মুসলিমগন এ বিষয় একমত যে, কোন বাঁদীর جنين (গর্ভস্থ সন্তান) এর ক্ষতিপূরণে এটা ওয়াজিব নয়। বরং এতে ওয়াজিব হলো, মতান্তরে কিছু দিরহাম, কিংবা দীনার, কেউ কেউ বলেন, 'জানীন' কন্যা হলে তার মূল্যের এক দশম অংশ হত্যাকারীর উপর ওয়াজিব হবে। আর যদি পুত্র সন্তান হয় তবে তার মূল্যের দশমাংশের অর্ধেক ওয়াজিব হবে। আর যারা এমত পোষণ করেন, তারা হলেন ইমাম আবু হানীফা, আবু ইউসুফ ও মুহাম্মাদ (রাহঃ)।
অপর পক্ষে অন্যান্য উলামা-ই কিরাম বলেন, 'জানীন' নষ্ট করলে নষ্টকারীর উপর 'জানীন' এর মায়ের মূল্যের দশমাংশের অর্ধেক ওয়াজিব হবে। উলামা-ই কিরাম এ বিষয়ে একমত পোষণ করেন যে, চতুষ্পদ প্রাণীর কোন 'জানীন' নষ্ট করলে নষ্টকারীর উপর বাচ্চার মায়ের যতটুকু 'মূল্যহানি' হবে-তা-ই ওয়াজিব হবে। অথচ, রাসূলুল্লাহ ﷺ উটের যে দিয়াত (دية) ওয়াজিব করেছেন তা কেবল আযাদ মানুষের ব্যাপারে ওয়াজিব হবে। গোলাম হত্যা করলে তা ওয়াজিব হবে না।
অতএব রাসূলুল্লাহ ﷺ যে ক্ষেত্রে 'কারো জিম্মায়' (অর্থাৎ অনির্ধারিত) কোন প্রাণী সাব্যস্ত করেছেন, তা হলো ঐ প্রাণী, যা কোন মালের বদল না বিনিময় নয়। আর যে প্রাণী কোন মালের বদল বলে বিবেচিত নয়,। আর যে প্রানী কোন মালের বদলবলে বিবেচিত, তা কারো জিম্মায় ওয়াজিব হবার কথা নিষেধ করেছেন। এ দ্বারা একথাই প্রমানিত হয় যে, যে ঋণ কোন মালের বদল, তার মধ্যে 'জিম্মায়' কোন প্রাণী ওয়াজিব হবে না। আর এটাই হলো ইমাম আবু হানীফা, আবু ইউসুফ ও মুহাম্মাদ (রাহঃ) এর মত। পূর্ববর্তী একদল*** উলামা হতে বর্ণিত হয়েছেঃ
كتاب البيوع و الصرف
5755 - حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي دَاوُدَ، قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ الْمِنْهَالِ، قَالَ: ثنا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِثْلَهُ
5756 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مَرْزُوقٍ، قَالَ: ثنا عَفَّانَ، قَالَ: ثنا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، قَالَ: ثنا قَتَادَةُ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِثْلَهُ [ص:61]
5757 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ خُشَيْشٍ، قَالَ: ثنا مُسْلِمٌ، قَالَ: ثنا هِشَامُ بْنُ أَبِي عَبْدِ اللهِ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِثْلَهُ قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: فَكَانَ هَذَا نَاسِخًا لِمَا رَوَيْنَاهُ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ إِجَازَةِ بَيْعِ الْحَيَوَانِ بِالْحَيَوَانِ نَسِيئَةً فَدَخَلَ فِي ذَلِكَ أَيْضًا اسْتِقْرَاضُ الْحَيَوَانِ. فَقَالَ أَهْلُ الْمَقَالَةِ الْأُولَى: هَذَا لَا يَلْزَمُنَا , لِأَنَّا قَدْ رَأَيْنَا الْحِنْطَةَ لَا يُبَاعُ بَعْضُهَا بِبَعْضٍ نَسِيئَةً , وَقَرْضُهَا جَائِزٌ. فَكَذَلِكَ الْحَيَوَانُ لَا يَجُوزُ بَيْعُ بَعْضِهِ بِبَعْضٍ نَسِيئَةً , وَقَرْضُهُ جَائِزٌ. فَكَانَ مِنْ حُجَّتِنَا عَلَى أَهْلِ هَذِهِ الْمَقَالَةِ فِي تَثْبِيتِ الْمَقَالَةِ الْأُولَى أَنَّ نَهْيَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ بَيْعِ الْحَيَوَانِ بِالْحَيَوَانِ نَسِيئَةً , يُحْتَمَلُ أَنْ يَكُونَ ذَلِكَ لِعَدَمِ الْوُقُوفِ مِنْهُ عَلَى الْمِثْلِ. وَيُحْتَمَلُ أَنْ يَكُونَ مِنْ قَبْلِ مَا قَالَ أَهْلُ الْمَقَالَةِ الْأُولَى فِي الْحِنْطَةِ فِي الْبَيْعِ وَالْقَرْضِ. فَإِنْ كَانَ إِنَّمَا نَهَى عَنْ ذَلِكَ مِنْ طَرِيقِ عَدَمِ وُجُودِ الْمِثْلِ , ثَبَتَ مَا ذَهَبَ إِلَيْهِ أَهْلُ الْمَقَالَةِ الثَّانِيَةِ , وَإِنْ كَانَ مِنْ قِبَلِ أَنَّهُمَا نَوْعٌ وَاحِدٌ لَا يَجُوزُ بَيْعُ بَعْضِهِ بِبَعْضٍ نَسِيئَةً , لَمْ يَكُنْ فِي ذَلِكَ حُجَّةٌ لِأَهْلِ الْمَقَالَةِ الثَّانِيَةِ عَلَى أَهْلِ الْمَقَالَةِ الْأُولَى. فَاعْتَبَرْنَا ذَلِكَ فَرَأَيْنَا الْأَشْيَاءَ الْمَكِيلَاتِ , لَا يَجُوزُ بَيْعُ بَعْضِهَا بِبَعْضٍ نَسِيئَةً وَلَا بَأْسَ بِقَرْضِهَا. وَرَأَيْنَا الْمَوْزُونَاتِ حُكْمُهَا فِي ذَلِكَ كَحُكْمِ الْمَكِيلَاتِ سَوَاءٌ , خَلَا الذَّهَبِ وَالْوَرِقِ. وَرَأَيْنَا مَا كَانَ مِنْ غَيْرِ الْمَكِيلَاتِ وَالْمَوْزُونَاتِ , مِثْلَ الثِّيَابِ ; وَمَا أَشْبَهَهَا , فَلَا بَأْسَ بِبَيْعِ بَعْضِهَا بِبَعْضٍ , وَإِنْ كَانَتْ مُتَفَاضِلَةً , وَبِيعَ بَعْضُهَا بِبَعْضٍ نَسِيئَةً , فِيهِ اخْتِلَافٌ بَيْنَ النَّاسِ. فَمِنْهُمْ مَنْ يَقُولُ: مَا كَانَ مِنْهَا مِنْ نَوْعٍ وَاحِدٍ , فَلَا يَصْلُحُ بَيْعُ بَعْضِهِ بِبَعْضٍ نَسِيئَةً. وَمَا كَانَ مِنْهَا مِنْ نَوْعَيْنِ مُخْتَلِفَيْنِ ; فَلَا بَأْسَ بِبَيْعِ بَعْضِهِ بِبَعْضٍ نَسِيئَةً. وَمِمَّنْ قَالَ بِهَذَا الْقَوْلِ , أَبُو حَنِيفَةَ , وَأَبُو يُوسُفَ. وَمُحَمَّدٌ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِمْ أَجْمَعِينَ. وَمِنْهُمْ مَنْ يَقُولُ: لَا بَأْسَ بِبَيْعِ بَعْضِهَا بِبَعْضٍ , يَدًا بِيَدٍ وَنَسِيئَةً , وَسَوَاءٌ عِنْدَهُ كَانَتْ مِنْ نَوْعٍ وَاحِدٍ أَوْ مِنْ نَوْعَيْنِ. [ص:62] فَهَذِهِ أَحْكَامُ الْأَشْيَاءِ الْمَكِيلَاتِ وَالْمَوْزُونَاتِ وَالْمَعْدُودَاتِ , غَيْرِ الْحَيَوَانِ , عَلَى مَا نَشَرْنَا. فَكَانَ غَيْرُ الْمَكِيلِ وَالْمَوْزُونِ , لَا بَأْسَ بِبَيْعِهِ , بِمَا هُوَ مِنْ خِلَافِ نَوْعِهِ , نَسِيئَةً , وَإِنْ كَانَ الْمَبِيعُ وَالْمُبْتَاعُ بِهِ ثِيَابًا كُلَّهَا , وَكَانَ الْحَيَوَانُ لَا يَجُوزُ بَيْعُ بَعْضِهِ بِبَعْضٍ نَسِيئَةً , وَإِنِ اخْتَلَفَتْ أَجْنَاسُهُ , لَا يَجُوزُ بَيْعُ عَبْدٍ بِبَعِيرٍ , وَلَا بِبَقَرَةٍ وَلَا بِشَاةٍ , نَسِيئَةً. وَلَوْ كَانَ النَّهْيُ مِنَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ بَيْعِ الْحَيَوَانِ بِالْحَيَوَانِ نَسِيئَةً , إِنَّمَا كَانَ لِاتِّفَاقِ النَّوْعَيْنِ , لَجَازَ بَيْعُ الْعَبْدِ بِالْبَقَرَةِ نَسِيئَةً , لِأَنَّهَا مِنْ غَيْرِ نَوْعِهِ , كَمَا جَازَ بَيْعُ الثَّوْبِ الْكَتَّانِ , بِالثَّوْبِ الْقُطْنِ الْمَوْصُوفِ , نَسِيئَةً. فَلَمَّا بَطَلَ ذَلِكَ فِي نَوْعِهِ , وَفِي غَيْرِ نَوْعِهِ ثَبَتَ أَنَّ النَّهْيَ فِي ذَلِكَ , إِنَّمَا كَانَ لِعَدَمِ وُجُودِ مِثْلِهِ , وَلِأَنَّهُ غَيْرُ مَوْقُوفٍ عَلَيْهِ. وَإِذَا كَانَ إِنَّمَا بَطَلَ بَيْعُ بَعْضِهِ بِبَعْضٍ نَسِيئَةً , لِأَنَّهُ غَيْرُ مَوْقُوفٍ عَلَيْهِ , بَطَلَ قَرْضُهُ أَيْضًا لِأَنَّهُ غَيْرُ مَوْقُوفٍ عَلَيْهِ. فَهَذَا هُوَ النَّظَرُ فِي هَذَا الْبَابِ. وَمِمَّا يَدُلُّ عَلَى ذَلِكَ أَيْضًا , مَا قَدْ أَجْمَعُوا عَلَيْهِ فِي اسْتِقْرَاضِ الْإِمَاءِ , أَنَّهُ لَا يَجُوزُ , رَهْنُ حَيَوَانٍ. فَاسْتِقْرَاضُ سَائِرِ الْحَيَوَانِ فِي النَّظَرِ أَيْضًا , كَذَلِكَ. فَإِنْ قَالَ قَائِلٌ: فَإِنَّا رَأَيْنَا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَكَمَ فِي الْجَنِينِ بِغُرَّةِ عَبْدٍ , أَوْ أَمَةٍ وَحَكَمَ فِي الدِّيَةِ بِمِائَةٍ مِنَ الْإِبِلِ , وَفِي أُرُوشِ الْأَعْضَاءِ , بِمَا قَدْ حَكَمَ بِهِ , مِمَّا قَدْ جَعَلَهُ فِي الْإِبِلِ , وَكَانَ ذَلِكَ حَيَوَانًا كُلَّهُ يَجِبُ فِي الذِّمَّةِ فَلِمَ لَا كَانَ كُلُّ الْحَيَوَانِ أَيْضًا كَذَلِكَ؟ . قِيلَ لَهُ: قَدْ حَكَمَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الدِّيَةِ وَالْجَنِينِ بِمَا ذَكَرْتَ مِنَ الْحَيَوَانِ , وَمَنَعَ مِنْ بَيْعِ الْحَيَوَانِ بِالْحَيَوَانِ بَعْضِهِ بِبَعْضٍ نَسِيئَةً , عَلَى مَا قَدْ ذَكَرْنَا وَشَرَحْنَا فِي هَذَا الْبَابِ. فَثَبَتَ النَّهْيُ فِي وُجُوبِ الْحَيَوَانِ فِي الذِّمَّةِ بِأَمْوَالٍ , وَأُبِيحَ وُجُوبُ الْحَيَوَانِ فِي الذِّمَّةِ بِغَيْرِ أَمْوَالٍ. فَهَذَانِ أَصْلَانِ مُخْتَلِفَانِ نُصَحِّحُهُمَا , وَنَرُدُّ إِلَيْهِمَا سَائِرَ الْفُرُوعِ. فَنَجْعَلُ مَا كَانَ بَدَلًا مِنْ مَالٍ , حُكْمَهُ حُكْمَ الْقَرْضِ الَّذِي وَصَفْنَا , وَمَا كَانَ بَدَلًا مِنْ غَيْرِ مَالٍ , فَحُكْمُهُ حُكْمُ الدِّيَاتِ. وَالْغُرَّةُ الَّتِي ذَكَرْنَا مِنْ ذَلِكَ , التَّزْوِيجِ عَلَى أَمَةٍ وَسَطٍ , أَوْ عَلَى عَبْدٍ وَسَطٍ , وَالْخُلْعَ , عَلَى أَمَةٍ وَسَطٍ , أَوْ عَلَى عَبْدٍ وَسَطٍ. وَالدَّلِيلُ عَلَى صِحَّةِ مَا وَصَفْنَا أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ جَعَلَ فِي جَنِينِ الْحُرَّةِ , غُرَّةً عَبْدًا , أَوْ أَمَةً. وَأَجْمَعَ الْمُسْلِمُونَ أَنَّ ذَلِكَ لَا يَجِبُ فِي جَنِينِ الْأَمَةِ , وَأَنَّ الْوَاجِبَ فِيهِ دَرَاهِمُ أَوْ دَنَانِيرُ , عَلَى مَا اخْتَلَفُوا. فَقَالَ بَعْضُهُمْ: عُشْرُ قِيمَةِ الْجَنِينِ , إِنْ كَانَ أُنْثَى , وَنِصْفُ عُشْرِ قِيمَتِهِ , إِنْ كَانَ ذَكَرًا. [ص:63] وَمِمَّنْ قَالَ ذَلِكَ , أَبُو حَنِيفَةَ , وَأَبُو يُوسُفَ , وَمُحَمَّدٌ , رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِمْ أَجْمَعِينَ. وَقَالَ آخَرُونَ: نِصْفُ عُشْرِ قِيمَةِ أُمِّ الْجَنِينِ , وَأَجْمَعُوا فِي جَنِينِ الْبَهَائِمِ أَنَّ فِيهِ مَا نَقَصَ أُمُّ الْجَنِينِ. وَكَانَتِ الدِّيَاتُ الْوَاجِبَةُ مِنَ الْإِبِلِ , عَلَى مَا أَوْجَبَهَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَجِبُ فِي أَنْفُسِ الْأَحْرَارِ , وَلَا يَجِبُ فِي أَنْفُسِ الْعَبِيدِ. فَكَانَ مَا حَكَمَ فِيهِ بِالْحَيَوَانِ الْمَجْعُولِ فِي الذِّمَمِ , هُوَ مَا لَيْسَ بِبَدَلٍ مِنْ مَالٍ , وَمَنَعَ مِنْ ذَلِكَ فِي الْأَبْدَالِ مِنَ الْأَمْوَالِ. فَثَبَتَ بِذَلِكَ أَنَّ الْقَرْضَ الَّذِي هُوَ بَدَلٌ مِنْ مَالٍ , لَا يَجِبُ فِيهِ حَيَوَانٌ فِي الذِّمَمِ , وَهَذَا قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ , وَأَبِي يُوسُفَ , وَمُحَمَّدٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِمْ أَجْمَعِينَ وَقَدْ رُوِيَ ذَلِكَ عَنْ نَفَرٍ مِنَ الْمُتَقَدِّمِينَ
5756 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مَرْزُوقٍ، قَالَ: ثنا عَفَّانَ، قَالَ: ثنا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، قَالَ: ثنا قَتَادَةُ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِثْلَهُ [ص:61]
5757 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ خُشَيْشٍ، قَالَ: ثنا مُسْلِمٌ، قَالَ: ثنا هِشَامُ بْنُ أَبِي عَبْدِ اللهِ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِثْلَهُ قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: فَكَانَ هَذَا نَاسِخًا لِمَا رَوَيْنَاهُ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ إِجَازَةِ بَيْعِ الْحَيَوَانِ بِالْحَيَوَانِ نَسِيئَةً فَدَخَلَ فِي ذَلِكَ أَيْضًا اسْتِقْرَاضُ الْحَيَوَانِ. فَقَالَ أَهْلُ الْمَقَالَةِ الْأُولَى: هَذَا لَا يَلْزَمُنَا , لِأَنَّا قَدْ رَأَيْنَا الْحِنْطَةَ لَا يُبَاعُ بَعْضُهَا بِبَعْضٍ نَسِيئَةً , وَقَرْضُهَا جَائِزٌ. فَكَذَلِكَ الْحَيَوَانُ لَا يَجُوزُ بَيْعُ بَعْضِهِ بِبَعْضٍ نَسِيئَةً , وَقَرْضُهُ جَائِزٌ. فَكَانَ مِنْ حُجَّتِنَا عَلَى أَهْلِ هَذِهِ الْمَقَالَةِ فِي تَثْبِيتِ الْمَقَالَةِ الْأُولَى أَنَّ نَهْيَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ بَيْعِ الْحَيَوَانِ بِالْحَيَوَانِ نَسِيئَةً , يُحْتَمَلُ أَنْ يَكُونَ ذَلِكَ لِعَدَمِ الْوُقُوفِ مِنْهُ عَلَى الْمِثْلِ. وَيُحْتَمَلُ أَنْ يَكُونَ مِنْ قَبْلِ مَا قَالَ أَهْلُ الْمَقَالَةِ الْأُولَى فِي الْحِنْطَةِ فِي الْبَيْعِ وَالْقَرْضِ. فَإِنْ كَانَ إِنَّمَا نَهَى عَنْ ذَلِكَ مِنْ طَرِيقِ عَدَمِ وُجُودِ الْمِثْلِ , ثَبَتَ مَا ذَهَبَ إِلَيْهِ أَهْلُ الْمَقَالَةِ الثَّانِيَةِ , وَإِنْ كَانَ مِنْ قِبَلِ أَنَّهُمَا نَوْعٌ وَاحِدٌ لَا يَجُوزُ بَيْعُ بَعْضِهِ بِبَعْضٍ نَسِيئَةً , لَمْ يَكُنْ فِي ذَلِكَ حُجَّةٌ لِأَهْلِ الْمَقَالَةِ الثَّانِيَةِ عَلَى أَهْلِ الْمَقَالَةِ الْأُولَى. فَاعْتَبَرْنَا ذَلِكَ فَرَأَيْنَا الْأَشْيَاءَ الْمَكِيلَاتِ , لَا يَجُوزُ بَيْعُ بَعْضِهَا بِبَعْضٍ نَسِيئَةً وَلَا بَأْسَ بِقَرْضِهَا. وَرَأَيْنَا الْمَوْزُونَاتِ حُكْمُهَا فِي ذَلِكَ كَحُكْمِ الْمَكِيلَاتِ سَوَاءٌ , خَلَا الذَّهَبِ وَالْوَرِقِ. وَرَأَيْنَا مَا كَانَ مِنْ غَيْرِ الْمَكِيلَاتِ وَالْمَوْزُونَاتِ , مِثْلَ الثِّيَابِ ; وَمَا أَشْبَهَهَا , فَلَا بَأْسَ بِبَيْعِ بَعْضِهَا بِبَعْضٍ , وَإِنْ كَانَتْ مُتَفَاضِلَةً , وَبِيعَ بَعْضُهَا بِبَعْضٍ نَسِيئَةً , فِيهِ اخْتِلَافٌ بَيْنَ النَّاسِ. فَمِنْهُمْ مَنْ يَقُولُ: مَا كَانَ مِنْهَا مِنْ نَوْعٍ وَاحِدٍ , فَلَا يَصْلُحُ بَيْعُ بَعْضِهِ بِبَعْضٍ نَسِيئَةً. وَمَا كَانَ مِنْهَا مِنْ نَوْعَيْنِ مُخْتَلِفَيْنِ ; فَلَا بَأْسَ بِبَيْعِ بَعْضِهِ بِبَعْضٍ نَسِيئَةً. وَمِمَّنْ قَالَ بِهَذَا الْقَوْلِ , أَبُو حَنِيفَةَ , وَأَبُو يُوسُفَ. وَمُحَمَّدٌ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِمْ أَجْمَعِينَ. وَمِنْهُمْ مَنْ يَقُولُ: لَا بَأْسَ بِبَيْعِ بَعْضِهَا بِبَعْضٍ , يَدًا بِيَدٍ وَنَسِيئَةً , وَسَوَاءٌ عِنْدَهُ كَانَتْ مِنْ نَوْعٍ وَاحِدٍ أَوْ مِنْ نَوْعَيْنِ. [ص:62] فَهَذِهِ أَحْكَامُ الْأَشْيَاءِ الْمَكِيلَاتِ وَالْمَوْزُونَاتِ وَالْمَعْدُودَاتِ , غَيْرِ الْحَيَوَانِ , عَلَى مَا نَشَرْنَا. فَكَانَ غَيْرُ الْمَكِيلِ وَالْمَوْزُونِ , لَا بَأْسَ بِبَيْعِهِ , بِمَا هُوَ مِنْ خِلَافِ نَوْعِهِ , نَسِيئَةً , وَإِنْ كَانَ الْمَبِيعُ وَالْمُبْتَاعُ بِهِ ثِيَابًا كُلَّهَا , وَكَانَ الْحَيَوَانُ لَا يَجُوزُ بَيْعُ بَعْضِهِ بِبَعْضٍ نَسِيئَةً , وَإِنِ اخْتَلَفَتْ أَجْنَاسُهُ , لَا يَجُوزُ بَيْعُ عَبْدٍ بِبَعِيرٍ , وَلَا بِبَقَرَةٍ وَلَا بِشَاةٍ , نَسِيئَةً. وَلَوْ كَانَ النَّهْيُ مِنَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ بَيْعِ الْحَيَوَانِ بِالْحَيَوَانِ نَسِيئَةً , إِنَّمَا كَانَ لِاتِّفَاقِ النَّوْعَيْنِ , لَجَازَ بَيْعُ الْعَبْدِ بِالْبَقَرَةِ نَسِيئَةً , لِأَنَّهَا مِنْ غَيْرِ نَوْعِهِ , كَمَا جَازَ بَيْعُ الثَّوْبِ الْكَتَّانِ , بِالثَّوْبِ الْقُطْنِ الْمَوْصُوفِ , نَسِيئَةً. فَلَمَّا بَطَلَ ذَلِكَ فِي نَوْعِهِ , وَفِي غَيْرِ نَوْعِهِ ثَبَتَ أَنَّ النَّهْيَ فِي ذَلِكَ , إِنَّمَا كَانَ لِعَدَمِ وُجُودِ مِثْلِهِ , وَلِأَنَّهُ غَيْرُ مَوْقُوفٍ عَلَيْهِ. وَإِذَا كَانَ إِنَّمَا بَطَلَ بَيْعُ بَعْضِهِ بِبَعْضٍ نَسِيئَةً , لِأَنَّهُ غَيْرُ مَوْقُوفٍ عَلَيْهِ , بَطَلَ قَرْضُهُ أَيْضًا لِأَنَّهُ غَيْرُ مَوْقُوفٍ عَلَيْهِ. فَهَذَا هُوَ النَّظَرُ فِي هَذَا الْبَابِ. وَمِمَّا يَدُلُّ عَلَى ذَلِكَ أَيْضًا , مَا قَدْ أَجْمَعُوا عَلَيْهِ فِي اسْتِقْرَاضِ الْإِمَاءِ , أَنَّهُ لَا يَجُوزُ , رَهْنُ حَيَوَانٍ. فَاسْتِقْرَاضُ سَائِرِ الْحَيَوَانِ فِي النَّظَرِ أَيْضًا , كَذَلِكَ. فَإِنْ قَالَ قَائِلٌ: فَإِنَّا رَأَيْنَا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَكَمَ فِي الْجَنِينِ بِغُرَّةِ عَبْدٍ , أَوْ أَمَةٍ وَحَكَمَ فِي الدِّيَةِ بِمِائَةٍ مِنَ الْإِبِلِ , وَفِي أُرُوشِ الْأَعْضَاءِ , بِمَا قَدْ حَكَمَ بِهِ , مِمَّا قَدْ جَعَلَهُ فِي الْإِبِلِ , وَكَانَ ذَلِكَ حَيَوَانًا كُلَّهُ يَجِبُ فِي الذِّمَّةِ فَلِمَ لَا كَانَ كُلُّ الْحَيَوَانِ أَيْضًا كَذَلِكَ؟ . قِيلَ لَهُ: قَدْ حَكَمَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الدِّيَةِ وَالْجَنِينِ بِمَا ذَكَرْتَ مِنَ الْحَيَوَانِ , وَمَنَعَ مِنْ بَيْعِ الْحَيَوَانِ بِالْحَيَوَانِ بَعْضِهِ بِبَعْضٍ نَسِيئَةً , عَلَى مَا قَدْ ذَكَرْنَا وَشَرَحْنَا فِي هَذَا الْبَابِ. فَثَبَتَ النَّهْيُ فِي وُجُوبِ الْحَيَوَانِ فِي الذِّمَّةِ بِأَمْوَالٍ , وَأُبِيحَ وُجُوبُ الْحَيَوَانِ فِي الذِّمَّةِ بِغَيْرِ أَمْوَالٍ. فَهَذَانِ أَصْلَانِ مُخْتَلِفَانِ نُصَحِّحُهُمَا , وَنَرُدُّ إِلَيْهِمَا سَائِرَ الْفُرُوعِ. فَنَجْعَلُ مَا كَانَ بَدَلًا مِنْ مَالٍ , حُكْمَهُ حُكْمَ الْقَرْضِ الَّذِي وَصَفْنَا , وَمَا كَانَ بَدَلًا مِنْ غَيْرِ مَالٍ , فَحُكْمُهُ حُكْمُ الدِّيَاتِ. وَالْغُرَّةُ الَّتِي ذَكَرْنَا مِنْ ذَلِكَ , التَّزْوِيجِ عَلَى أَمَةٍ وَسَطٍ , أَوْ عَلَى عَبْدٍ وَسَطٍ , وَالْخُلْعَ , عَلَى أَمَةٍ وَسَطٍ , أَوْ عَلَى عَبْدٍ وَسَطٍ. وَالدَّلِيلُ عَلَى صِحَّةِ مَا وَصَفْنَا أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ جَعَلَ فِي جَنِينِ الْحُرَّةِ , غُرَّةً عَبْدًا , أَوْ أَمَةً. وَأَجْمَعَ الْمُسْلِمُونَ أَنَّ ذَلِكَ لَا يَجِبُ فِي جَنِينِ الْأَمَةِ , وَأَنَّ الْوَاجِبَ فِيهِ دَرَاهِمُ أَوْ دَنَانِيرُ , عَلَى مَا اخْتَلَفُوا. فَقَالَ بَعْضُهُمْ: عُشْرُ قِيمَةِ الْجَنِينِ , إِنْ كَانَ أُنْثَى , وَنِصْفُ عُشْرِ قِيمَتِهِ , إِنْ كَانَ ذَكَرًا. [ص:63] وَمِمَّنْ قَالَ ذَلِكَ , أَبُو حَنِيفَةَ , وَأَبُو يُوسُفَ , وَمُحَمَّدٌ , رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِمْ أَجْمَعِينَ. وَقَالَ آخَرُونَ: نِصْفُ عُشْرِ قِيمَةِ أُمِّ الْجَنِينِ , وَأَجْمَعُوا فِي جَنِينِ الْبَهَائِمِ أَنَّ فِيهِ مَا نَقَصَ أُمُّ الْجَنِينِ. وَكَانَتِ الدِّيَاتُ الْوَاجِبَةُ مِنَ الْإِبِلِ , عَلَى مَا أَوْجَبَهَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَجِبُ فِي أَنْفُسِ الْأَحْرَارِ , وَلَا يَجِبُ فِي أَنْفُسِ الْعَبِيدِ. فَكَانَ مَا حَكَمَ فِيهِ بِالْحَيَوَانِ الْمَجْعُولِ فِي الذِّمَمِ , هُوَ مَا لَيْسَ بِبَدَلٍ مِنْ مَالٍ , وَمَنَعَ مِنْ ذَلِكَ فِي الْأَبْدَالِ مِنَ الْأَمْوَالِ. فَثَبَتَ بِذَلِكَ أَنَّ الْقَرْضَ الَّذِي هُوَ بَدَلٌ مِنْ مَالٍ , لَا يَجِبُ فِيهِ حَيَوَانٌ فِي الذِّمَمِ , وَهَذَا قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ , وَأَبِي يُوسُفَ , وَمُحَمَّدٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِمْ أَجْمَعِينَ وَقَدْ رُوِيَ ذَلِكَ عَنْ نَفَرٍ مِنَ الْمُتَقَدِّمِينَ
হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):
* আল্লামা আইনী বলেন, এসব উলামা-ই কিরাম দ্বারা আতা, ইব্রাহীম নাখঈ, ইবন সীরীন, ইকরিমা, খালিদ, মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়া, ছাত্তারী, ইমাম আবূ হানীফা, আবূ ইউসুফ ও মুহাম্মদ (র) উদ্দেশ্য।
** এসমস্ত উলামা দ্বারা সাঈদ ইবনুল মুসাইয়ির, আওলাই, ইমাম শাফেঈ ও মালেক (র) উদ্দেশ্য।
*** قوله وقد روي هذين الخ আল্লামা আইনী (র) বলেন, এই যে বক্তব্যটি বর্ণিত হয়েছে, যে কোন প্রাণী যখন কোন মালের বদল হবে তা কারো জিম্মায় ওয়াজিব হবে না, এ কথা সাহাবা-ই কিরাম ও তাবেঈগনের একটি দল হতে বর্ণিত। তারা হলেন, হযরত আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ, হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান, আব্দুল্লাহ ইবন উমার, আব্দুর রহমান ইবন সামুরা ও ইব্রাহীম নাখঈ, তারা সকলেই জীবজন্তুর মধ্যে بيع سلم নিষেধ করছেন। হযরত উমার ইবন খাত্তাব (রা) হতেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে এবং এটাই ইমাম ছাত্তারী, শা'বী, নাঈদ ইবন জুবাইর, এক রিওয়ায়ত মুতাবিক ইমাম আহমদ (র) এর মায়হাব।
** এসমস্ত উলামা দ্বারা সাঈদ ইবনুল মুসাইয়ির, আওলাই, ইমাম শাফেঈ ও মালেক (র) উদ্দেশ্য।
*** قوله وقد روي هذين الخ আল্লামা আইনী (র) বলেন, এই যে বক্তব্যটি বর্ণিত হয়েছে, যে কোন প্রাণী যখন কোন মালের বদল হবে তা কারো জিম্মায় ওয়াজিব হবে না, এ কথা সাহাবা-ই কিরাম ও তাবেঈগনের একটি দল হতে বর্ণিত। তারা হলেন, হযরত আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ, হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান, আব্দুল্লাহ ইবন উমার, আব্দুর রহমান ইবন সামুরা ও ইব্রাহীম নাখঈ, তারা সকলেই জীবজন্তুর মধ্যে بيع سلم নিষেধ করছেন। হযরত উমার ইবন খাত্তাব (রা) হতেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে এবং এটাই ইমাম ছাত্তারী, শা'বী, নাঈদ ইবন জুবাইর, এক রিওয়ায়ত মুতাবিক ইমাম আহমদ (র) এর মায়হাব।