শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ

১৪. উপহার ও সাদ্‌কা প্রদান সংক্রান্ত অধ্যায়

হাদীস নং: ৫৮৫০
উপহার ও সাদ্‌কা প্রদান সংক্রান্ত অধ্যায়
কোন পুত্রকে বাদ দিয়ে যে ব্যক্তি তার অপর কোন পুত্রকে দান করে
৫৮৫০। ফাহদ ..... হুসায়ন শা'বী হতে বর্ণনা করেন তিনি বলেন : আমি হযরত নু'মান ইব্‌ন বশীর (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন : আমার আব্বা আমাকে একটি বস্তু দান করেছিলেন। অতঃপর আমার আম্মা আমরাহ বিনত রাওয়াহা বললেন, যাবত না রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) সাক্ষী বানাবে, আমি রাজী হব না। অতঃপর তিনি রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) -এর দরবারে উপস্থিত হয়ে বললেন : আমি আমরাহর গর্ভের আমার এই পুত্রকে একটি বস্তু দান করেছি এবং সে ব্যাপারে আমি আপনাকে সাক্ষী করছি। তিনি বললেন : তােমার সমস্ত সন্তানকে কি অনুরূপ দান করেছ? তিনি বললেন, জী না। তখন তিনি বললেন : আল্লাহকে ভয় কর এবং তােমাদের সন্তানদের মাঝে ইনসাফ কর।

হুসায়ন ইব্‌ন আব্দুর রহমান সুলামী একজন বিশ্বস্ত রাবী । মুহাদ্দিসগণের একটি জামাত তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।

এ হাদীসেও রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) দান ফিরিয়ে দেয়ার কথা বলেননি, তিনি সমতা অবলম্বন করার নির্দেশ দিয়েছেন।
كتاب الهبة والصدقة
5850 - حَدَّثَنَا فَهْدٌ، قَالَ: ثنا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ: ثنا عَبَّادُ بْنُ الْعَوَّامِ، عَنْ حُصَيْنٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، قَالَ: سَمِعْتُ النُّعْمَانَ بْنَ بَشِيرٍ، يَقُولُ: أَعْطَانِي أَبِي عَطِيَّةً فَقَالَتْ أُمِّي عَمْرَةُ بِنْتُ رَوَاحَةَ لَا أَرْضَى حَتَّى تُشْهِدَ مِنَ الْأَشْهَادِ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. فَأَتَى رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: إِنِّي قَدْ أَعْطَيْتُ ابْنِي مِنْ عَمْرَةَ عَطِيَّةً وَإِنِّي أُشْهِدُكَ. قَالَ: «أَكُلَّ وَلَدِكَ أَعْطَيْتَ مِثْلَ هَذَا؟» قَالَ لَا، قَالَ: «فَاتَّقُوا اللهَ وَاعْدِلُوا بَيْنَ أَوْلَادِكُمْ» فَلَيْسَ فِي هَذَا الْحَدِيثِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَهُ بِرَدِّ الشَّيْءِ وَإِنَّمَا فِيهِ الْأَمْرُ بِالتَّسْوِيَةِ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

একথা স্পষ্ট যে, এ হাদীসে সন্তানদের সাথে অসম আচরণ করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং এটাকে বেইনসাফী সাব্যস্ত করা হয়েছে। কোন কোন ফকীহ এটাকে হারাম পর্যন্ত বলেছেন। তবে অধিকাংশ ফকীহ এবং ইমাম চতুষ্টয়ের মধ্যে ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালেক ও ইমাম শাফেয়ী (রহ) কিছু কিছু দলীল ও ইঙ্গিতের ভিত্তিতে এটাকে হারাম তো বলেননি; কিন্তু মাকরূহ ও অত্যন্ত অপছন্দনীয় কাজ সাব্যস্ত করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে যে, এ বিধানটি কেবল ঐ অবস্থায়, যখন কাউকে প্রাধান্য দান শরী‘আতসম্মত কোন কারণ ছাড়াই হয়। কিন্তু যদি কোন কারণ থাকে, তাহলে এ কারণ অনুসারে কাউকে প্রাধান্য দেওয়া বৈধ হবে। যেমন, সন্তানদের মধ্যে কেউ যদি চিররোগী হয় এবং সে অন্য ভাইদের মত জীবিকা উপার্জনের চেষ্টা-সাধনা করতে না পারে, তাহলে তার সাথে বিশেষ আচরণ ন্যায়-নীতির পরিপন্থী হবে না; বরং এক পর্যায়ে জরুরী ও সওয়াবের কাজ বিবেচিত হবে। অনুরূপভাবে সন্তানদের মধ্য থেকে কেউ যদি নিজেকে দ্বীন ও জাতির খেদমতে এভাবে নিয়োজিত করে দেয় যে, জীবিকার চেষ্টায় বেশী অংশগ্রহণ করতে পারে না, তাহলে তার সাথেও উপযোগী পর্যায় পর্যন্ত বিশেষ আচরণ কেবল জায়েযই নয়; বরং সওয়াবের কাজ হবে। অনুরূপভাবে এক ভাইয়ের প্রতি বিশেষ ও প্রাধান্যমূলক আচরণ করাতে অন্য ভাইয়েরা যদি সন্তুষ্ট থাকে, তাহলেও এটা জায়েয হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান