শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ

১৯. শিকার,জবাই ও কুরবানীর বিধান

হাদীস নং: ৬২৫৭
শিকার,জবাই ও কুরবানীর বিধান
একটা ছাগল কয়জনের পক্ষ হতে কুরবানী করা যায়
৬২৫৭। মুহাম্মাদ ইব্ন খুযায়মা….. আলী ইব্ন আব্দুর রহমান তার পিতা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি আবু সাঈ খুদরী (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেন, তারপর তিনি অনুরূপ বর্ণনা করেন।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন সর্বাধিক উত্তম সময়ে নামাযে আগমনকারীকে ঐ ব্যক্তির ন্যায় সাব্যস্ত করেছেন যে কুরবানীর জন্য হারাম শরীফে উট প্রেরণ করে। তারপর আগমনকারীকে কুরবানীর জন্য গরু প্রেরণ করে। তারপর আগমনকারীকে কুরবানীর জন্য গরু প্রেরণকারীর সদৃশ বলে উল্লেখ করেছেন। আর তৃতীয় পর্যায়ে উপস্থিত ব্যক্তিকে দুম্বা কুরবানীকারীর মত বলে উল্লেখ করেছেন। এতে প্রমাণিত হয় هدي -এর জন্য সর্বোত্তম হলাে উট।
এতে প্রমাণিত হলো যে সমস্ত পশু هدي হিসেবে পাঠানাে যায়, তার মধ্যে সবচেয়ে উত্তম হলো উট,তারপর গরু, তারপর ভেড়া।
যখন এ কথা প্রমাণিত হলাে যে, هدي হাবার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পশু হলো উট, এতে এ ও নাদিত হয় যে, কুরবানীর পশু হিসেবেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পশু উটই। আর এ বিষয়ে যখন সকল উলামাই কিরাম একমত পােষণ করেন যে, কোন اضحية (কুরবানীর পশু) সাতজনের অধিক লােকের পক্ষ হতে যথেষ্ট হয় না, সে ক্ষেত্রে একটি ছাগলের মধ্যে সাতজনের অধিক লােকের পক্ষ হতে যথেষ্ট না হওয়াই অধিক শ্রেয়। আর যখন একটি ছাগলের সাধারণভাবে সাতজনের অধিক লােকের পক্ষ হতে যথেষ্ট না হওয়া প্রমাণিত , সেক্ষেত্রে কেবল বিশেষ খাস লােকের পক্ষ হতেই তা যথেষ্ট হবে। আর উলামা-ই কিরাম এ বিষয়ে একমত পোষণ করেন যে, একটি ছাগল কেবল একজনের পক্ষ হতে কুরবানী করালেই তা যথেষ্ট হবে। একের অধিক হলে যথেষ্ট হবে কি না, সে ব্যাপারে তারা মতপার্থক্য করেন। অতএব যার ব্যাপারে خصوصيىة-এর হুকু রয়েছে, তার মধ্যে কেবল যার দাখিল হবার ব্যাপারটা সর্বজন স্বীকৃত, সেটাই দাখিল হবে, অন্যটা নয়। অতএব আমাকে আলােচনা দ্বারা প্রমাণিত হলাে, একটি ছাগল না দু’জনের পক্ষ হতে, আর না দু’জনের অধিবের পক্ষ হতে কুরবানী করা জায়েয হবে। এটাই ইমাম আবু হানীফা, আবু ইউসুফ ও মুহাম্মাদ (রাযিঃ)-এর মত ও মাযহাব।
كتاب الصيد والذبائح والأضاحي
6257 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خُزَيْمَةَ، قَالَ: ثنا حَجَّاجُ بْنُ الْمِنْهَالِ، قَالَ: ثنا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنِ الْعَلَاءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ، رَضِيَ اللهُ عَنْهُ يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَكَرَ مِثْلَهُ فَلَمَّا جَعَلَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمُهَجِّرَ فِي أَفْضَلِ الْأَوْقَاتِ كَالْمُهْدِي بَدَنَةً , وَالْمُهَجِّرَ فِي الْوَقْتِ الَّذِي بَعْدَهُ , كَالْمُهْدِي بَقَرَةً , وَالْمُهَجِّرَ فِي الثَّالِثِ , كَالْمُهْدِي كَبْشًا ثَبَتَ بِذَلِكَ أَنَّ أَفْضَلَ مَا يُهْدَى الْجَزُورُ , ثُمَّ الْبَقَرَةُ , ثُمَّ الْكَبْشُ. فَلَمَّا كَانَتِ الْبَدَنَةُ أَعْظَمَ مَا يُهْدَى , ثَبَتَ أَنَّهَا أَعْظَمُ مَا يُضَحَّى بِهِ. [ص:181] وَلَمَّا انْتَفَى أَنْ تُجْزِئَ الشَّاةُ عَمَّا فَوْقَ السَّبْعَةِ , ثَبَتَ أَنَّهَا لَا تُجْزِئُ إِلَّا عَنْ خَاصٍّ مِنَ النَّاسِ. وَلَمَّا كَانَتْ بِاتِّفَاقِهِمْ لَا تُجْزِئُ فِي الْأُضْحِيَّةِ عَمَّا فَوْقَ السَّبْعَةِ , كَانَتِ الشَّاةُ أَحْرَى أَنْ لَا تُجْزِئَ عَنْ ذَلِكَ وَقَدْ أَجْمَعُوا عَلَى أَنَّهَا مُجْزِئَةٌ عَنِ الْوَاحِدِ , وَاخْتَلَفُوا فِيمَا هُوَ أَكْثَرُ مِنْهُ , فَلَا يَدْخُلُ فِيمَا قَدْ ثَبَتَ لَهُ حُكْمُ الْخُصُوصِيَّةِ إِلَّا مَا قَدْ أَجْمَعُوا عَلَى دُخُولِهِ فِيهِ. فَثَبَتَ بِمَا ذَكَرْنَا أَنَّهُ لَا يَجُوزُ أَنْ يُضَحَّى بِالشَّاةِ الْوَاحِدَةِ عَنِ اثْنَيْنِ , وَلَا عَنْ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ , وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ وَأَبِي يُوسُفَ , وَمُحَمَّدٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِمْ أَجْمَعِينَ
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান
ত্বহাবী শরীফ - হাদীস নং ৬২৫৭ | মুসলিম বাংলা