শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ
১৯. শিকার,জবাই ও কুরবানীর বিধান
হাদীস নং: ৬২৬০
আন্তর্জাতিক নং: ৬২৬১
শিকার,জবাই ও কুরবানীর বিধান
যে ব্যক্তি أيام عشر-এ কুরবানী করা ওয়াজিব করেছে অথবা কুরবানী করবে বলে সংকল্প গ্রহণ করেছে, তার জন্য কি নিজের চুল কিংবা নখ কাটা জায়েয হবে।
৬২৬০-৬১। ইবরাহীম ইব্ন মারযূক ..... সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব হযরত উম্মে সালমা (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেন, হাদীসটি মারফু বর্ণনা করেননি, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি যিলহজ্জ মাসের চাঁদ দেখল এবং কুরবানী করার জন্য মনস্থ করল; সে যেন কুরবানী করার পূর্বে তার চুল ও নখ না কাটে।
ইউনুস ..... সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব হযরত উম্মে সালমা (রাযিঃ) হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন কিন্তু হযরত উম্মে সালামা মারফূ বর্ণনা করেননি।
বস্তুত হযরত উম্মে সালমা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত এটাই মূল হাদীস। আর এটা হলাে হাদীসের সূত্রে প্রমাণিত এ অনুচ্ছেদের হুকুম।
নযর ও যুক্তি : আর এ ব্যাপারে নযর ও যুক্তি হলাে, আমরা দেখেছি, ইহরামের পূর্বে বহু জিনিস যা হালাল ছিল, ইহরামের পর তা নিষিদ্ধ হয়ে যায়। তার মধ্যে স্ত্রী সহবাস করা, তাকে চুমু খাওয়া, নখ কাটা ও চুল মুড়ে ফেলা, ইহরামের কারণে এ সবই হারাম হয়ে যায়। আর এ সবের হুকুমও ভিন্ন ভিন্ন। ইহরামের অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করলে ইহরাম নষ্ট হয়ে যায়। অবশ্য স্ত্রী সহবাস ছাড়া আর যে সব কাজ, তা করলে ইহরাম নষ্ট হবে না। এতে স্পষ্ট হলাে, ইহরাম দ্বারা যে সব কাজ হারাম হয়, তার মধ্যে সর্বাধিক গুরুতর হলাে, স্ত্রী সহবাস করা। তারপর আমরা লক্ষ্য করেছি যে, যিলহজ্জ মাসের দশ তারিখের মধ্যে কেউ যদি কুরবানী করার মনস্থ করে, তবে তার। জন্য স্ত্রী সহবাস করা নিষিদ্ধ নয়। আর ইহরামের পর স্ত্রী সহবাস করা যখন সবচেয়ে গুরুতর হারাম, তা সত্ত্বেও কুরবানী করার জন্য মনস্থ করা তা থেকে বাধার সৃষ্টি করে না, সে ক্ষেত্রে তার থেকে নিম্নের যে কাজ, তা হতে বাধার সৃষ্টি না করাই অধিকতর শ্রেয়। এ অনুচ্ছেদে এটাই একটি নর ও যুক্তি এবং এটাই ইমাম আবু হানীফা, আবু ইউসুফ ও মুহাম্মাদ (রাহঃ)-এর মত ও মাযহাব। এ ব্যাপারে পূর্ববর্তী উলামা-ই কিরাম হতে এ হাদীস বর্ণিত হয়েছে :
ইউনুস ..... সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব হযরত উম্মে সালমা (রাযিঃ) হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন কিন্তু হযরত উম্মে সালামা মারফূ বর্ণনা করেননি।
বস্তুত হযরত উম্মে সালমা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত এটাই মূল হাদীস। আর এটা হলাে হাদীসের সূত্রে প্রমাণিত এ অনুচ্ছেদের হুকুম।
নযর ও যুক্তি : আর এ ব্যাপারে নযর ও যুক্তি হলাে, আমরা দেখেছি, ইহরামের পূর্বে বহু জিনিস যা হালাল ছিল, ইহরামের পর তা নিষিদ্ধ হয়ে যায়। তার মধ্যে স্ত্রী সহবাস করা, তাকে চুমু খাওয়া, নখ কাটা ও চুল মুড়ে ফেলা, ইহরামের কারণে এ সবই হারাম হয়ে যায়। আর এ সবের হুকুমও ভিন্ন ভিন্ন। ইহরামের অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করলে ইহরাম নষ্ট হয়ে যায়। অবশ্য স্ত্রী সহবাস ছাড়া আর যে সব কাজ, তা করলে ইহরাম নষ্ট হবে না। এতে স্পষ্ট হলাে, ইহরাম দ্বারা যে সব কাজ হারাম হয়, তার মধ্যে সর্বাধিক গুরুতর হলাে, স্ত্রী সহবাস করা। তারপর আমরা লক্ষ্য করেছি যে, যিলহজ্জ মাসের দশ তারিখের মধ্যে কেউ যদি কুরবানী করার মনস্থ করে, তবে তার। জন্য স্ত্রী সহবাস করা নিষিদ্ধ নয়। আর ইহরামের পর স্ত্রী সহবাস করা যখন সবচেয়ে গুরুতর হারাম, তা সত্ত্বেও কুরবানী করার জন্য মনস্থ করা তা থেকে বাধার সৃষ্টি করে না, সে ক্ষেত্রে তার থেকে নিম্নের যে কাজ, তা হতে বাধার সৃষ্টি না করাই অধিকতর শ্রেয়। এ অনুচ্ছেদে এটাই একটি নর ও যুক্তি এবং এটাই ইমাম আবু হানীফা, আবু ইউসুফ ও মুহাম্মাদ (রাহঃ)-এর মত ও মাযহাব। এ ব্যাপারে পূর্ববর্তী উলামা-ই কিরাম হতে এ হাদীস বর্ণিত হয়েছে :
كتاب الصيد والذبائح والأضاحي
6260 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مَرْزُوقٍ , قَالَ: ثنا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ بْنِ فَارِسٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا مَالِكٌ , عَنْ عَمْرِو بْنِ مُسْلِمٍ , عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ , عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا , وَلَمْ تَرْفَعْهُ قَالَتْ: «مَنْ رَأَى هِلَالَ ذِي الْحِجَّةِ , وَأَرَادَ أَنْ يُضَحِّيَ فَلَا يَأْخُذَنَّ مِنْ شَعْرِهِ , وَلَا مِنْ أَظْفَارِهِ , حَتَّى يُضَحِّيَ»
6261 - حَدَّثَنَا يُونُسُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي مَالِكٌ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، رَضِيَ اللهُ عَنْهَا , مِثْلَهُ وَلَمْ تَرْفَعْهُ فَهَذَا هُوَ أَصْلُ الْحَدِيثِ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا , فَهَذَا حُكْمُ هَذَا الْبَابِ , مِنْ طَرِيقِ الْآثَارِ. وَأَمَّا النَّظَرُ فِي ذَلِكَ فَإِنَّا قَدْ رَأَيْنَا الْإِحْرَامَ يَنْحَظِرُ بِهِ أَشْيَاءُ , مِمَّا قَدْ كَانَتْ كُلُّهَا قَبْلَهُ حَلَالًا , مِنْهَا: الْجِمَاعُ , وَالْقُبْلَةُ , وَقَصُّ الْأَظْفَارِ , وَحَلْقُ الشَّعْرِ , وَقَتْلُ الصَّيْدِ , فَكُلُّ هَذِهِ الْأَشْيَاءِ تَحْرُمُ بِالْإِحْرَامِ , وَأَحْكَامُ ذَلِكَ مُخْتَلِفَةٌ. فَأَمَّا الْجِمَاعُ فَمَنْ أَصَابَهُ فِي إِحْرَامِهِ , فَسَدَ إِحْرَامُهُ , وَمَا سِوَى ذَلِكَ لَا يُفْسِدُ إِصَابَتُهُ الْإِحْرَامَ فَكَانَ الْجِمَاعُ أَغْلَظَ الْأَشْيَاءِ الَّتِي يُحَرِّمُهَا الْإِحْرَامُ. ثُمَّ رَأَيْنَا مَنْ دَخَلَتْ عَلَيْهِ أَيَّامُ الْعَشْرِ , وَهُوَ يُرِيدُ أَنْ يُضَحِّيَ أَنَّ ذَلِكَ لَا يَمْنَعُهُ مِنَ الْجِمَاعِ فَلَمَّا كَانَ ذَلِكَ لَا يَمْنَعُهُ مِنَ الْجِمَاعِ , وَهُوَ أَغْلَظُ مَا يَحْرُمُ بِالْإِحْرَامِ , كَانَ أَحْرَى أَنْ لَا يَمْنَعَ مِمَّا دُونَ ذَلِكَ. فَهَذَا هُوَ النَّظَرُ فِي هَذَا الْبَابِ أَيْضًا , وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ , وَأَبِي يُوسُفَ , وَمُحَمَّدٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِمْ أَجْمَعِينَ. وَقَدْ رُوِيَ ذَلِكَ أَيْضًا عَنْ جَمَاعَةٍ مِنَ الْمُتَقَدِّمِينَ
6261 - حَدَّثَنَا يُونُسُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي مَالِكٌ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، رَضِيَ اللهُ عَنْهَا , مِثْلَهُ وَلَمْ تَرْفَعْهُ فَهَذَا هُوَ أَصْلُ الْحَدِيثِ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا , فَهَذَا حُكْمُ هَذَا الْبَابِ , مِنْ طَرِيقِ الْآثَارِ. وَأَمَّا النَّظَرُ فِي ذَلِكَ فَإِنَّا قَدْ رَأَيْنَا الْإِحْرَامَ يَنْحَظِرُ بِهِ أَشْيَاءُ , مِمَّا قَدْ كَانَتْ كُلُّهَا قَبْلَهُ حَلَالًا , مِنْهَا: الْجِمَاعُ , وَالْقُبْلَةُ , وَقَصُّ الْأَظْفَارِ , وَحَلْقُ الشَّعْرِ , وَقَتْلُ الصَّيْدِ , فَكُلُّ هَذِهِ الْأَشْيَاءِ تَحْرُمُ بِالْإِحْرَامِ , وَأَحْكَامُ ذَلِكَ مُخْتَلِفَةٌ. فَأَمَّا الْجِمَاعُ فَمَنْ أَصَابَهُ فِي إِحْرَامِهِ , فَسَدَ إِحْرَامُهُ , وَمَا سِوَى ذَلِكَ لَا يُفْسِدُ إِصَابَتُهُ الْإِحْرَامَ فَكَانَ الْجِمَاعُ أَغْلَظَ الْأَشْيَاءِ الَّتِي يُحَرِّمُهَا الْإِحْرَامُ. ثُمَّ رَأَيْنَا مَنْ دَخَلَتْ عَلَيْهِ أَيَّامُ الْعَشْرِ , وَهُوَ يُرِيدُ أَنْ يُضَحِّيَ أَنَّ ذَلِكَ لَا يَمْنَعُهُ مِنَ الْجِمَاعِ فَلَمَّا كَانَ ذَلِكَ لَا يَمْنَعُهُ مِنَ الْجِمَاعِ , وَهُوَ أَغْلَظُ مَا يَحْرُمُ بِالْإِحْرَامِ , كَانَ أَحْرَى أَنْ لَا يَمْنَعَ مِمَّا دُونَ ذَلِكَ. فَهَذَا هُوَ النَّظَرُ فِي هَذَا الْبَابِ أَيْضًا , وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ , وَأَبِي يُوسُفَ , وَمُحَمَّدٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِمْ أَجْمَعِينَ. وَقَدْ رُوِيَ ذَلِكَ أَيْضًا عَنْ جَمَاعَةٍ مِنَ الْمُتَقَدِّمِينَ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
প্রকৃতপক্ষে যিলহজ্জের প্রথম দশক হজ্জের দিন এবং এদিনে অনেক বিশেষ করণীয় কাজ রয়েছে। কিন্তু হজ্জ পালন করতে হয় মক্কা শরীফে গিয়ে। তাই সামর্থ্যবানের উপর জীবনে কেবল একবার তা আদায় ফরয করা হয়েছে। যে লোক সেখানে গিয়ে হজ্জ পালন করে সেই প্রকৃত অর্থে বিশেষ বরকত লাভ করে। কিন্তু আল্লাহ্ তা'আলা প্রত্যেক মু'মিনকে এ রহমত লাভের সুযোগ করে দিয়েছেন এভাবে যে, হজ্জের দিনসমূহে যেন তারা স্ব-স্ব স্থানে থেকে হজ্জ এবং হাজীর কাজসমূহের সাথে সম্পৃক্ত কাজে অংশগ্রহণ করে এক ধরনের সম্পর্ক গড়ে নেয়। ঈদুল আযহার কুরবানীর মূলে এটাই বিশেষ রহস্য। হাজীগণ ১০ই যিলহজ্জ তারিখে মিনায় আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিজ নিজ কুরবানী করে থাকেন। তবে বিশ্বের যে সকল মুসলমান হজ্জে অংশগ্রহণ করেন নি তাঁদের জন্য নির্দেশ হল, তারা যেন নিজ নিজ স্থানে অবস্থান করে আল্লাহর উদ্দেশ্যে কুরবানী করে। হাজীগণ যেভাবে ইহরাম বাঁধার পর চুল ও নখ কাটেন না তদ্রুপ যে সকল মুসলমান কুরবানী করতে ইচ্ছুক তারাও যেন যিলহাজ্জের চাঁদ দেখার পর চুল অথবা নখ না কাটে। এভাবে যেন তারা হাজীদের সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলে। কতই না চমৎকার দিক নির্দেশনা। যার উপর আমল করে প্রাচ্য-প্রতীচ্যের সকল মুসলমান হজ্জের বরকত ও নূর লাভ করে ধন্য হতে পারে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)