শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ
১৯. শিকার,জবাই ও কুরবানীর বিধান
হাদীস নং: ৬২৯৪
আন্তর্জাতিক নং: ৬২৯৫
শিকার,জবাই ও কুরবানীর বিধান
তিন দিন পর কুরবানীর গােশত খাওয়া জায়েয কি জায়েয নয়
৬২৯৪-৯৫। রাবী আল-মুয়াযযিন ..... ইয়াযীদ ইব্ন আবু ইয়াযীদ আল-আনসারী তার স্ত্রী হতে বর্ণনা করেন, একবার তিনি হযরত আয়েশা (রাযিঃ)-কে কুরবানীর গোশত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন, একবার হযরত আলী (রাযিঃ) সফর হতে আগমন করলেন। আমরা তার নিকট কুরবানীর গোশত পেশ করলাম। তখন তিনি বললেন, যাবত না আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করব, আমি খাব না। তারপর তিনি জিজ্ঞেস করলে তিনি (রাসূল) বললেন, তোমরা এক যিলহজ্জ মাস হতে অন্য যিলহজ্জ মাস পর্যন্ত খেতে থাক।
বাহর......ইয়াযীদ ইবন আবু ইয়াযীদ বর্ণনা করেন, অতঃপর তাঁর সনদে তিনি অনুরূপ বর্ণনা করেন। আবু জা'ফর বলেন, এসব রিওয়ায়াত এ কথাই প্রমাণ করে যে, এ অনুচ্ছেদের শুরুতে তিন দিনের বেশী কুরবানীর গোশত খাওয়া নিষিদ্ধ হবার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে যে হাদীস বর্ণিত হয়েছে, তা মানসূখ ও রহিত হয়েছে। যদি প্রশ্ন করা হয় যে, আপনারা তো হযরত আলী (রাযিঃ) হতে এখানে এ কথা বর্ণনা করলেন যে, তিনি নবী (ﷺ) হতে তিন দিনের বেশী কুরবানীর গোশত খাওয়া নিষেধ করার পর পুনরায় তা মুবাহ করেছেন বলে রিওয়ায়াত করেছেন, অথচ এর পূর্বে এ কথা আপনারা বর্ণনা করেছেন যে, হযরত আলী (রাযিঃ) একবার লোকদের খুতবা দিলেন এবং হযরত উসমান (রাযিঃ) তখন অবরুদ্ধ ছিলেন, অতঃপর তিনি বললেন, তোমরা তিনদিন পর তোমাদের কুরবানীর গোশত খাবে না। কারণ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন। এ হাদীস তো এ কথাই প্রমাণ করে যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মুবাহ করার পর তা নিষেধ করেছেন। আর এভাবেই হযরত আলী (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসসমূহ সংগতিপূর্ণ হবে; এক হাদীস অন্য হাদীসের সাথে সাংঘর্ষিক হবে না। তবে তাকে বলা হবে, আপনি যে বিষয় উল্লেখ করেছেন এ হাদীসে তার জন্য কোন দলীল নেই। কারণ হতে পারে যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তিন দিনের ওপর যে কুরবানীর গোশত খেতে নিষেধ করেছেন, তা সে সময়ে মানুষের অভাব ও দুঃখকষ্টের কারণে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে সে কষ্টের অবসান ঘটার পর তিনি তাদের জন্য পুনরায় মুবাহ ঘোষণা করেন। কিন্তু হযরত আলী (রাযিঃ) যখন খুতবা প্রদান করেন, সে সময় পুনরায় সেই কষ্টের পুনরাবৃত্তি ঘটে। ফলে হযরত আলী (রাযিঃ) এমন পরিস্থিতিতে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাদেরকে যে নির্দেশ প্রদান করেছিলেন, তিনি সেই নির্দেশই তাদেরকে প্রদান করেন। আর এই যে কথা আমরা উল্লেখ করলাম, তার জন্য দলীল হলো :
বাহর......ইয়াযীদ ইবন আবু ইয়াযীদ বর্ণনা করেন, অতঃপর তাঁর সনদে তিনি অনুরূপ বর্ণনা করেন। আবু জা'ফর বলেন, এসব রিওয়ায়াত এ কথাই প্রমাণ করে যে, এ অনুচ্ছেদের শুরুতে তিন দিনের বেশী কুরবানীর গোশত খাওয়া নিষিদ্ধ হবার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে যে হাদীস বর্ণিত হয়েছে, তা মানসূখ ও রহিত হয়েছে। যদি প্রশ্ন করা হয় যে, আপনারা তো হযরত আলী (রাযিঃ) হতে এখানে এ কথা বর্ণনা করলেন যে, তিনি নবী (ﷺ) হতে তিন দিনের বেশী কুরবানীর গোশত খাওয়া নিষেধ করার পর পুনরায় তা মুবাহ করেছেন বলে রিওয়ায়াত করেছেন, অথচ এর পূর্বে এ কথা আপনারা বর্ণনা করেছেন যে, হযরত আলী (রাযিঃ) একবার লোকদের খুতবা দিলেন এবং হযরত উসমান (রাযিঃ) তখন অবরুদ্ধ ছিলেন, অতঃপর তিনি বললেন, তোমরা তিনদিন পর তোমাদের কুরবানীর গোশত খাবে না। কারণ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন। এ হাদীস তো এ কথাই প্রমাণ করে যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মুবাহ করার পর তা নিষেধ করেছেন। আর এভাবেই হযরত আলী (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসসমূহ সংগতিপূর্ণ হবে; এক হাদীস অন্য হাদীসের সাথে সাংঘর্ষিক হবে না। তবে তাকে বলা হবে, আপনি যে বিষয় উল্লেখ করেছেন এ হাদীসে তার জন্য কোন দলীল নেই। কারণ হতে পারে যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তিন দিনের ওপর যে কুরবানীর গোশত খেতে নিষেধ করেছেন, তা সে সময়ে মানুষের অভাব ও দুঃখকষ্টের কারণে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে সে কষ্টের অবসান ঘটার পর তিনি তাদের জন্য পুনরায় মুবাহ ঘোষণা করেন। কিন্তু হযরত আলী (রাযিঃ) যখন খুতবা প্রদান করেন, সে সময় পুনরায় সেই কষ্টের পুনরাবৃত্তি ঘটে। ফলে হযরত আলী (রাযিঃ) এমন পরিস্থিতিতে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাদেরকে যে নির্দেশ প্রদান করেছিলেন, তিনি সেই নির্দেশই তাদেরকে প্রদান করেন। আর এই যে কথা আমরা উল্লেখ করলাম, তার জন্য দলীল হলো :
كتاب الصيد والذبائح والأضاحي
6294 - حَدَّثَنَا رَبِيعٌ الْمُؤَذِّنُ، قَالَ: ثنا شُعَيْبُ بْنُ اللَّيْثِ، قَالَ ثنا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ يَعْقُوبَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي يَزِيدَ، يَزِيدَ الْأَنْصَارِيِّ , عَنِ امْرَأَتِهِ، أَنَّهَا سَأَلَتْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا عَنْ لُحُومِ الْأَضَاحِيِّ فَقَالَتْ: «قَدِمَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ مِنْ سَفَرٍ , فَقَدَّمْنَا إِلَيْهِ مِنْهُ» ، فَقَالَ: «لَا آكُلُ حَتَّى أَسْأَلَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ» ، فَسَأَلَهُ فَقَالَ: «كُلُوا مِنْ ذِي الْحِجَّةِ إِلَى ذِي الْحِجَّةِ»
6295 - حَدَّثَنَا بَحْرٌ، عَنْ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ يَعْقُوبَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي يَزِيدَ، مَوْلَى الْأَنْصَارِ , ثُمَّ ذَكَرَ بِإِسْنَادِهِ مِثْلَهُ قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: فَفِي هَذِهِ الْآثَارِ , مَا يَدُلُّ عَلَى نَسْخِ مَا رَوَيْنَاهُ فِي أَوَّلِ هَذَا الْبَابِ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنَ النَّهْيِ عَنْ لُحُومِ الْأَضَاحِيِّ فَوْقَ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ. فَإِنْ قِيلَ: فَقَدْ رَوَيْتُمْ عَنْ عَلِيٍّ فِي هَذَا الْفَصْلِ , عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ أَبَاحَ لُحُومَ الْأَضَاحِيِّ بَعْدَمَا قَدْ كَانَ نَهَى عَنْهَا. ثُمَّ رَوَيْتُمْ عَنْهُ فِي الْفَصْلِ الَّذِي قَبْلَ هَذَا الْفَصْلِ , أَنَّهُ خَطَبَ النَّاسَ , وَعُثْمَانُ مَحْصُورٌ فَقَالَ لَا تَأْكُلُوا مِنْ لُحُومِ أَضَاحِيكُمْ بَعْدَ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ , فَإِنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَأْمُرُ بِذَلِكَ. فَقَدْ دَلَّ ذَلِكَ عَلَى أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ كَانَ نَهَى عَنْ ذَلِكَ , بَعْدَمَا كَانَ أَبَاحَهُ , حَتَّى تَتَّفِقَ مَعَانِي مَا رَوَيْتُمُوهُ , عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ مِنْ هَذَا , وَلَا يَتَضَادَّ. قِيلَ لَهُ: مَا فِي هَذَا دَلِيلٌ عَلَى مَا ذَكَرْتُ , لِأَنَّهُ قَدْ يَجُوزُ أَنْ يَكُونَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ نَهَى عَنْ لُحُومِ الْأَضَاحِيِّ فَوْقَ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ , لِشِدَّةٍ كَانَ النَّاسُ فِيهَا ثُمَّ ارْتَفَعَتْ تِلْكَ الشِّدَّةُ , فَأَبَاحَ لَهُمْ ذَلِكَ , ثُمَّ عَادَ ذَلِكَ , فِي وَقْتِ مَا خَطَبَ عَلِيٌّ النَّاسَ , فَأَمَرَهُمْ بِمَا كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَهُمْ بِهِ فِي مِثْلِ ذَلِكَ. وَالدَّلِيلُ عَلَى مَا ذَكَرْنَا مِنْ هَذَا
6295 - حَدَّثَنَا بَحْرٌ، عَنْ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ يَعْقُوبَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي يَزِيدَ، مَوْلَى الْأَنْصَارِ , ثُمَّ ذَكَرَ بِإِسْنَادِهِ مِثْلَهُ قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: فَفِي هَذِهِ الْآثَارِ , مَا يَدُلُّ عَلَى نَسْخِ مَا رَوَيْنَاهُ فِي أَوَّلِ هَذَا الْبَابِ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنَ النَّهْيِ عَنْ لُحُومِ الْأَضَاحِيِّ فَوْقَ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ. فَإِنْ قِيلَ: فَقَدْ رَوَيْتُمْ عَنْ عَلِيٍّ فِي هَذَا الْفَصْلِ , عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ أَبَاحَ لُحُومَ الْأَضَاحِيِّ بَعْدَمَا قَدْ كَانَ نَهَى عَنْهَا. ثُمَّ رَوَيْتُمْ عَنْهُ فِي الْفَصْلِ الَّذِي قَبْلَ هَذَا الْفَصْلِ , أَنَّهُ خَطَبَ النَّاسَ , وَعُثْمَانُ مَحْصُورٌ فَقَالَ لَا تَأْكُلُوا مِنْ لُحُومِ أَضَاحِيكُمْ بَعْدَ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ , فَإِنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَأْمُرُ بِذَلِكَ. فَقَدْ دَلَّ ذَلِكَ عَلَى أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ كَانَ نَهَى عَنْ ذَلِكَ , بَعْدَمَا كَانَ أَبَاحَهُ , حَتَّى تَتَّفِقَ مَعَانِي مَا رَوَيْتُمُوهُ , عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ مِنْ هَذَا , وَلَا يَتَضَادَّ. قِيلَ لَهُ: مَا فِي هَذَا دَلِيلٌ عَلَى مَا ذَكَرْتُ , لِأَنَّهُ قَدْ يَجُوزُ أَنْ يَكُونَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ نَهَى عَنْ لُحُومِ الْأَضَاحِيِّ فَوْقَ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ , لِشِدَّةٍ كَانَ النَّاسُ فِيهَا ثُمَّ ارْتَفَعَتْ تِلْكَ الشِّدَّةُ , فَأَبَاحَ لَهُمْ ذَلِكَ , ثُمَّ عَادَ ذَلِكَ , فِي وَقْتِ مَا خَطَبَ عَلِيٌّ النَّاسَ , فَأَمَرَهُمْ بِمَا كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَهُمْ بِهِ فِي مِثْلِ ذَلِكَ. وَالدَّلِيلُ عَلَى مَا ذَكَرْنَا مِنْ هَذَا