শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ
২০. (হালাল-হারাম) পানীয়ের অধ্যায়
হাদীস নং: ৬৫০৪
(হালাল-হারাম) পানীয়ের অধ্যায়
দুব্বা, (কদুর কলস), হানতাম (সবুজ রং্গীন কলসী), নাক্বীর (খেজুর গাছের মুথা দ্বারা তৈরী পাত্র) ও মুযাফফাত (আলকাতরা দ্বারা প্রলেপ করা কলসী) -এ নাবীয তৈরী করা প্রসঙ্গে
৬৫০৪। রাবী আল-মুয়াযযিন …… আবু হামযা বলেন, আমি হযরত ইবন আব্বাস (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছি, নবী (ﷺ) আব্দুল কায়সের প্রতিনিধি দলকে, দুব্বা, হানতাম ও নাক্বীর ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন। শুরা কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে রয়েছে, কখনও তিনি (শুবার শায়খ) বলেন, নাক্বীর ও মুযাফফাত হতে নিষেধ করেছেন। আর বিষয়টা অবশ্য (শুবা ও হাম্মাদ) উভয়ের রিওয়ায়াতে রয়েছে। শুবা কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে অতিরিক্ত আরো বর্ণিত হয়েছে। তা হলো, তোমরা আমার নিকট হতে এ কথাগুলো সংরক্ষণ করে নাও এবং তোমাদের পশ্চাতে যারা রয়েছে, তাদেরকে জানিয়ে দাও ।
كتاب الأشربة
6504 - حَدَّثَنَا رَبِيعٌ الْمُؤَذِّنُ، قَالَ: ثنا أَسَدٌ، قَالَ: ثنا شُعْبَةُ، وَحَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي جَمْرَةَ قَالَ: سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ، يَقُولُ: «نَهَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَفْدَ عَبْدِ الْقَيْسِ , عَنِ الدُّبَّاءِ , وَالْحَنْتَمِ , وَالنَّقِيرِ» فِي حَدِيثِ شُعْبَةَ وَرُبَّمَا قَالَ: النَّقِيرِ وَالْمُزَفَّتِ، فِي حَدِيثِهِمَا جَمِيعًا. وَفِي حَدِيثِ شُعْبَةَ فَاحْفَظُوهُنَّ عَنِّي , وَأَخْبِرُوا بِهِنَّ مَنْ وَرَاءَكُمْ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
খেজুর, মুনাক্কা অথবা আঙ্গুর কিংবা এ জাতীয় কোন জিনিস যদি পানিতে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং এতক্ষণ পড়ে থাকে যে, এর স্বাদ ও মিষ্টতা পানিতে এসে যায়, কিন্তু নেশার অবস্থা সৃষ্টি না হয়, তাহলে এ পানিকে 'নবীয' বলে। আরবদের মধ্যে এরও প্রচলন ছিল এবং কোন কোন হাদীস থেকে জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)ও এটা পান করতেন।
এ হাদীসে যে চার প্রকার পাত্রে নবীয বানাতে নিষেধ করা হয়েছে, এগুলো সাধারণত মদ তৈরীর কাজে ব্যবহার করা হত। 'দুব্বা' লাউয়ের শুকনো খোলকে বলা হয়। 'হানতাম' ও 'মুযাফফাত' বিশেষ ধরনের কলসকে বলা হয়। আর 'নকীর' খেজুর গাছের কাঠ দিয়ে তৈরী এক ধরনের পাত্র। যাহোক, এ চার প্রকার পাত্রই সাধারণত মদ তৈরীর কাজে ব্যবহার করা হত। যখন মদের চূড়ান্ত হারাম হওয়ার বিধান আসল, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এসব পাত্রে নবীয তৈরী করতেও নিষেধ করে দিলেন। সম্ভবত এ নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য এই ছিল যে, এই পাত্রসমূহ মদের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে অন্তরে যেন এর খাহেশ সৃষ্টি করে না দেয়। তারপর যখন মদের প্রতি ঘৃণা অন্তরে পূর্ণরূপে স্থান করে নিল এবং এ আশংকা আর বাকী রইল না যে, এ পাত্রসমূহ মদের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এর চাহিদা ও আকর্ষণ অন্তরে সৃষ্টি করে দিবে, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এসব পাত্র ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে দিয়েছিলেন।
এ হাদীসে যে চার প্রকার পাত্রে নবীয বানাতে নিষেধ করা হয়েছে, এগুলো সাধারণত মদ তৈরীর কাজে ব্যবহার করা হত। 'দুব্বা' লাউয়ের শুকনো খোলকে বলা হয়। 'হানতাম' ও 'মুযাফফাত' বিশেষ ধরনের কলসকে বলা হয়। আর 'নকীর' খেজুর গাছের কাঠ দিয়ে তৈরী এক ধরনের পাত্র। যাহোক, এ চার প্রকার পাত্রই সাধারণত মদ তৈরীর কাজে ব্যবহার করা হত। যখন মদের চূড়ান্ত হারাম হওয়ার বিধান আসল, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এসব পাত্রে নবীয তৈরী করতেও নিষেধ করে দিলেন। সম্ভবত এ নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য এই ছিল যে, এই পাত্রসমূহ মদের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে অন্তরে যেন এর খাহেশ সৃষ্টি করে না দেয়। তারপর যখন মদের প্রতি ঘৃণা অন্তরে পূর্ণরূপে স্থান করে নিল এবং এ আশংকা আর বাকী রইল না যে, এ পাত্রসমূহ মদের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এর চাহিদা ও আকর্ষণ অন্তরে সৃষ্টি করে দিবে, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এসব পাত্র ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে দিয়েছিলেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)