শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ

২১. মাকরুহ বিষয়াদির বর্ণনা

হাদীস নং: ৬৫৮৩
মাকরুহ বিষয়াদির বর্ণনা
গোঁফ মুণ্ডানো প্রসঙ্গ
৬৫৮৩। সালিহ ইবন আব্দুর রহমান ..... আবু সালামা হযরত আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেন, তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, তোমরা গোঁফ গোড়া হতে চেঁছে ফেল এবং দাঁড়ি লম্বা কর। এই তো রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) গোঁফ গোড়া হতে চেঁছে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন। অতএব হযরত ইবন উমর (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে যা আমরা উল্লেখ করেছি, তা দ্বারা গোড়া হতে গোঁফ কেটে ফেলাই প্রমাণিত হলো। আর হযরত ইবন আব্বাস ও আবু হুরায়রা (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে রয়েছে جزوا الشوارب "তোমরা গোঁফ কর্তন কর।" এ হাদীসের যেমন এই অর্থ হতে পারে “তোমরা গোড়া হতে গোঁফ কর্তন কর", তেমনি এ অর্থও হতে পারে, তোমরা গোঁফ ছোট করে কর্তন কর। অতএব হযরত ইবন উমর (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীস, হযরত আবু হুরায়রা, হযরত আম্মার ও হযরত আয়েশা (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীস যা আমরা এ পরিচ্ছেদের শুরুতে বর্ণনা করেছি, তার সাথে সাংঘর্ষিক প্রমাণিত হলো।
আর হযরত মুগীরা ইবন শুবা (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে কোন পক্ষের কোন দলীল নেই। কারণ এ হাদীসে এ সম্ভাবনা রয়েছে যে, তার এমন করার কারণ হয়ত এই যে, তখন তার কাছে কোন কাঁচি ছিল না, অপরপক্ষে হযরত আম্মার, হযরত আয়েশা ও হযরত আবু হুরায়রা (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসেরও ভিন্ন অর্থ হতে পারে। এখানে এ সম্ভাবনা আছে, সুন্নত আদায় হবার জন্য যতটুকু কর্তন করা অবশ্যই জরুরী, তা হলো গোঁফ খাট করে কর্তন করা। আর গোড়া হতে অতিরিক্ত কর্তন করা হলো উত্তম। এ অর্থের ভিত্তিতে আমরা এ পরিচ্ছেদে যে সব হাদীস বর্ণনা করেছি, তার সবটাই প্রমাণিত ও কার্যকর হবে এবং এসব হাদীসে পরস্পর দ্বন্দ্ব থাকবে না এবং এ কথা প্রমাণিত হবার পর, এ কথাও প্রমাণিত হবে যে মূল হতে কর্তন করা খাট করে কর্তন করা অপেক্ষা উত্তম। হাদীসের ভিত্তিতে এ পরিচ্ছেদের অর্থ এটাই ।
নযর ও যুক্তি : আর নযর ও যুক্তির নিরীখে আমরা দেখতে পাই যে, ইহরাম শেষ করার সময় হলক ও মূল হতে চুল কেটে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং ছোট করারও অনুমতি দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে হলক করা ছোট করা অপেক্ষা উত্তম। যার ইচ্ছা সে ছোট করবে, আর যার ইচ্ছা আরো অতিরিক্ত কাটবে। তবে মূল হতে যে অতিরিক্ত কাটবে, তার সাওয়াব ঐ ব্যক্তির চেয়ে বেশী হবে, যে ছোট করে কাটবে। আর এ কথার ওপর ভিত্তি করে এটাই যুক্তিসংগত যে, গোঁফের হুকুম হলো তা ছোট করা তো ভাল, তবে মূল হতে কেটে ফেলা বেশী ভাল। আর এটাই ইমাম আবু হানীফা, আবু ইউসুফ ও মুহাম্মাদ (রাহঃ)-এর মত ও মাযহাব। পূর্ববর্তী উলামা-ই কিরামের একটি জামাত হতে বর্ণিত, যা হলো
كتاب الكراهة
6583 - حَدَّثَنَا صَالِحُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ ثنا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ: ثنا هُشَيْمٌ، عَنْ عُمَرَ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ: «أَحْفُوا الشَّوَارِبَ , وَأَعْفُوا اللِّحَى» فَهَذَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَدْ أَمَرَ بِإِحْفَاءِ الشَّوَارِبِ , فَثَبَتَ بِذَلِكَ الْإِحْفَاءُ عَلَى مَا ذَكَرْنَا , فِي حَدِيثِ ابْنِ عُمَرَ. وَفِي حَدِيثِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ , جُزُّوا الشَّوَارِبَ فَذَاكَ يَحْتَمِلُ أَنْ يَكُونَ جَزًّا , مَعَهُ الْإِحْفَاءُ , وَيَحْتَمِلُ أَنْ يَكُونَ عَلَى مَا دُونَ ذَلِكَ. فَقَدْ ثَبَتَ مُعَارَضَةُ حَدِيثِ ابْنِ عُمَرَ , بِحَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ , وَعَمَّارٍ , وَعَائِشَةَ , الَّذِي ذَكَرْنَا فِي أَوَّلِ هَذَا الْبَابِ. وَأَمَّا حَدِيثُ الْمُغِيرَةِ , فَلَيْسَ فِيهِ دَلِيلٌ عَلَى شَيْءٍ , لِأَنَّهُ يَجُوزُ أَنْ يَكُونَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَعَلَ ذَلِكَ , وَلَمْ يَكُنْ بِحَضْرَتِهِ مِقْرَاضٌ , يَقْدِرُ عَلَى إِحْفَاءِ الشَّارِبِ. وَيَحْتَمِلُ أَيْضًا حَدِيثُ عَمَّارٍ وَعَائِشَةَ , وَأَبِي هُرَيْرَةَ , فِي ذَلِكَ مَعْنًى آخَرَ , يَحْتَمِلُ أَنْ تَكُونَ الْفِطْرَةُ , هِيَ الَّتِي لَا بُدَّ مِنْهَا , وَهِيَ قَصُّ الشَّارِبِ , وَمَا سِوَى ذَلِكَ فَضْلٌ حَسَنٌ. فَثَبَتَتِ الْآثَارُ كُلُّهَا الَّتِي رَوَيْنَاهَا فِي هَذَا الْبَابِ , وَلَا تَضَادُّ , وَيَجِبُ بِثُبُوتِهَا أَنَّ الْإِحْفَاءَ أَفْضَلُ مِنَ الْقَصِّ. [ص:231] وَهَذَا مَعْنَى هَذَا الْبَابِ , مِنْ طَرِيقِ الْآثَارِ. وَأَمَّا مِنْ طَرِيقِ النَّظَرِ , فَإِنَّا رَأَيْنَا الْحَلْقَ قَدْ أُمِرَ بِهِ فِي الْإِحْرَامِ , وَرُخِّصَ فِي التَّقْصِيرِ. فَكَانَ الْحَلْقُ أَفْضَلَ مِنَ التَّقْصِيرِ , وَكَانَ التَّقْصِيرُ , مَنْ شَاءَ فَعَلَهُ , وَمَنْ شَاءَ زَادَ عَلَيْهِ , إِلَّا أَنَّهُ يَكُونُ بِزِيَادَتِهِ عَلَيْهِ أَعْظَمَ أَجْرًا مِمَّنْ قَصَّ. فَالنَّظَرُ عَلَى ذَلِكَ أَنْ يَكُونَ كَذَلِكَ حُكْمُ الشَّارِبِ قَصُّهُ حَسَنٌ , وَإِحْفَاؤُهُ أَحْسَنُ وَأَفْضَلُ. وَهَذَا مَذْهَبُ أَبِي حَنِيفَةَ , وَأَبِي يُوسُفَ , وَمُحَمَّدٍ رَحِمَهُمُ اللهُ. وَقَدْ رُوِيَ عَنْ جَمَاعَةٍ مِنَ الْمُتَقَدِّمِينَ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

অন্য কোন কোন হাদীস দ্বারা জানা যায় যে, পূর্ববর্তী নবী-রাসূলদের তরীকাও এটাই ছিল যে, তারা দাড়ি রাখতেন এবং মোচ ছোট করতেন। একথা স্পষ্ট যে, দাড়ি পুরুষত্বের চিহ্ন ও ব্যক্তিত্বের প্রতীক। স্বয়ং পাশ্চাত্য সমাজেও (যেখানে দাড়ি না রাখার ব্যাপক প্রচলন) দাড়িকে সম্মানের চোখে দেখা হয়। হায়! আমরা মুসলমানরা যদি উপলব্ধি করতাম যে, দাড়ি রাখা আমাদের মহান পথ প্রদর্শক রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও সকল নবী-রাসূলের সুন্নত এবং তাদের তরীকার সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার লক্ষণ, আর দাড়ি না রাখা তাদের অস্বীকারকারীদের পথ।

এ হাদীসে কেবল দাড়ি ছেড়ে দেওয়ার (রেখে দেওয়ার) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; কিন্তু এর কোন উল্লেখ নেই যে, কোন পর্যন্ত ছেড়ে দেওয়া হবে; বরং এর শব্দমালা দ্বারা সন্দেহ হতে পারে যে, কোন অবস্থাতেই এতে কাচি লাগানো যাবে না এবং খাটো করা যাবে না। কিন্তু ইমাম তিরমিযীর মুত্তাসিল বর্ণনায় হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাযি.-এর যে হাদীস লিপিবদ্ধ করা আছে, এর দ্বারা জানা যায় যে, স্বয়ং হুযুর (ﷺ) নিজের দাড়ি মুবারক (সমান ও সোজা করার জন্য) এর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ থেকে কিছুটা কেটে নিতেন। তাছাড়া উপরে উল্লেখিত হাদীস انهكوا الشوارب واعفوا اللحى -এর বর্ণনাকারী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. সম্পর্কেও বর্ণনা পাওয়া যায় যে, তার দাড়ির যে চুলগুলো এক মুঠের উপর হত তিনি এগুলো ছেটে নিতেন। অন্যান্য কোন কোন সাহাবীর কার্যধারাও এটাই বর্ণনা করা হয়েছে। এসব বর্ণনার আলোকে ব্যাখ্যাধীন হাদীস انهكوا الشوارب وأعفوا اللحى -এর মর্ম ও দাবী এটাই হবে যে, দাড়ি রাখতে হবে, এটা মুণ্ডন করাও যাবে না, আর বেশী খাটোও করা যাবে না।

আমাদের ফকীহগণ এক মুঠ থেকে কম করাকে নাজায়েয বলেছেন। এ কথার ভিত্তি এটাই যে, সাহাবায়ে কেরাম থেকে এক মুঠ পর্যন্ত রাখা প্রমাণিত রয়েছে, এর চেয়ে কম রাখার কোন প্রমাণ নেই।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান