আল মুওয়াত্তা-ইমাম মুহাম্মাদ রহঃ

২- নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ২৮৪
- নামাযের অধ্যায়
কেউ ভুলবশত নাপাক বা উযুহীন অবস্থায় নামায পড়লে।
২৮৪। সুলায়মান ইবনে ইয়াসার (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) ফজরের নামায পড়ান, অতঃপর আল-জুরুফ নামাক স্থানের দিকে রওনা হলেন। সূর্য উঠার পর তিনি তার কাপড় স্বপ্নদোষের চিহ্ন আবিষ্কার করলেন। তিনি বলেন, আমার স্বপ্নদোষ হয়েছিল, কিন্তু আমি তা বুঝতে পারিনি। জনগণের কার্যভার গ্রহণের পর থেকে আমার এই অবস্থা হচ্ছে। অতঃপর তিনি কাপড়ের বীর্য লাগা স্থান ধুয়ে ফেলেন বা কাপড়ে পানি গড়িয়ে দিলেন। অতঃপর গোসল করে সূর্য উঠার পর পুনরায় ফজরের নামায পড়লেন।**
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, আমরা এই মত গ্রহণ করেছি। নাপাকীর কথা অবগত হওয়ার পর মুক্তাদী পুনর্বার নামায পড়বে, যেমন হযরত উমার (রাযিঃ) পুনর্বার ফজরের নামায পড়েছিলেন । কেননা ইমামের নামায নষ্ট হলে মুক্তাদীদের নামাযও নষ্ট গণ্য হয়। ইমাম আবু হানীফারও এই মত।
أبواب الصلاة
بَابُ: الرَّجُلِ يُصَلِّي بِالْقَوْمِ وَهُوَ جُنُبٌ، أَوْ عَلَى غَيْرِ وُضُوءٍ
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي الْحَكِيمِ، أَنَّ سُلَيْمَانَ بْنَ يَسَارٍ أَخْبَرَهُ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ صَلَّى الصُّبْحَ، ثُمَّ رَكِبَ إِلَى الْجُرُفِ، ثُمَّ بَعْدَ مَا طَلَعَتِ الشَّمْسُ رَأَى فِي ثَوْبِهِ احْتِلامًا، فَقَالَ: «لَقَدِ احْتَلَمْتُ، وَمَا شَعُرْتُ، وَلَقَدْ سُلِّطَ عَلَيَّ الاحْتِلامُ مُنْذُ وُلِّيتُ أَمْرَ النَّاسِ، ثُمَّ غَسَلَ مَا رَأَى فِي ثَوْبِهِ، وَنَضَحَهُ، ثُمَّ اغْتَسَلَ ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى الصُّبْحَ بَعْدَ مَا طَلَعَتِ الشَّمْسُ» ، قَالَ مُحَمَّدٌ: وَبِهَذَا نَأْخُذُ، وَنَرَى أَنَّ مَنْ عَلِمَ ذَلِكَ مِمَّنْ صَلَّى خَلْفَ عُمَرَ، فَعَلَيْهِ أَنْ يُعِيدَ الصَّلاةَ كَمَا أَعَادَهَا عُمَرُ، لأَنَّ الإِمَامَ إِذَا فَسَدَتْ صَلاتُهُ، فَسَدَتْ صَلاةُ مَنْ خَلْفَهُ، وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ، رَحِمَهُ اللَّهُ

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

** ইমাম মালেক, শাফিঈ, আহমাদ ইবনে হাম্বল, আবু দাউদ, হাসান বসরী ও ইবরাহীম নাখঈর মতে, মুক্তাদীদের নামায পুনর্বার পড়ার প্রয়োজন নেই। যেমন হযরত উমার (রা) নিজে পুনর্বার নামায পড়েছেন, কিন্তু লোকজনকে তা পুনর্বার পড়ার নির্দেশ দেননি। ইবনে আবু শায়বা হারিসের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, হযরত আলী (রা) একবার ভুলবশত নাপাক অবস্থায় নামায পড়েন। পরে তা মনে হলে তিনি পুনর্বার নামায পড়েন, কিন্তু মুক্তাদীদের পুনর্বার পড়ার নির্দেশ দেননি। ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেছেন যে, হযরত উছমান (রা) নাপাক অবস্থায় ফজরের নামাযের ইমামতি করেন। বেলা বেশ উপরে উঠার পর তিনি নিজের কাপড়ে নাপাকীর চিহ্ন দেখতে পান। অতঃপর তিনি পুনর্বার নামায পড়েন, কিন্তু মুক্তাদীদের পুনর্বার পড়ার নির্দেশ দেননি। অপরদিকে ইমাম আবু হানীফা, শা'বী এবং হাম্মাদ ইবনে সুলায়মানের মতে, মুক্তাদীগণকেও পুনর্বার নামায পড়তে হবে। কেননা ইমাম গোটা জামাআতের নামাযের জন্য দায়িত্বশীল। অতএব ইমামের নামায নষ্ট হলে, মুক্তাদীদের নামাযও নষ্ট হয়ে যায়। কেননা তাদের নামায ইমামের নামাযের মধ্যে একাকার হয়ে গেছে ! অতএব ইমামের নামায সহীহ হলে মুক্তাদীদের নামাযও সহীহ হবে এবং তার নামায নষ্ট হলে তাদের নামাযও নষ্ট হবে (অনুবাদক)।
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান