আল মুওয়াত্তা-ইমাম মুহাম্মাদ রহঃ

২- নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ২৯০
- নামাযের অধ্যায়
শংকাকালীন নামায (সালাতুল খাওফ)।
২৯০। নাফে (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাযিঃ)-কে শংকাকালীন নামায সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, লোকদের একাংশ ইমামের সাথে নামাযে দাঁড়িয়ে যাবে এবং অপর দল শত্রুর প্রতিরোধে থাকবে। প্রথম দল ইমামের সাথে এক রাকআত নামায পড়ে সালাম না ফিরিয়ে শত্রুর প্রতিরোধকারীদের স্থানে অবস্থান নিবে এবং তারা এসে ইমামের সাথে এক রাকআত নামায পড়বে। ইমাম দুই রাকআত নামায পড়ে সালাম ফিরাবে। অতঃপর উভয় দল পৃথক পৃথকভাবে এক রাকআত করে নামায পড়ে নিবে। এভাবে সকলেরই দুই রাকআত নামায পূর্ণ হবে। কিন্তু শত্রুর ভয় যদি তীব্রতর হয়, তবে দাঁড়ানো অবস্থায় অথবা হ্যাঁটা অবস্থায় অথবা সওয়ার অবস্থায় যেভাবে সম্ভব নামায পড়বে। এতে কিবলার দিকে মুখ করা সম্ভব হোক বা না হোক। নাফে (রাহঃ) বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাযিঃ) একথা নিজের পক্ষ থেকে বলেননি; বরং রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর কথাই বর্ণনা করেছেন।**
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, আমরা শংকাকালীন বা যুদ্ধ চলাকলীন নামায পড়ার এই পদ্ধতি গ্রহণ করেছি। ইমাম আবু হানীফারও এই মত। কিন্তু ইমাম মালেক এই পদ্ধতি অনুসরণ করেননি।
أبواب الصلاة
بَابُ: صَلاةِ الْخَوْفِ
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، حَدَّثَنَا نَافِعٌ، أَنَّ ابْنَ عُمَرَ كَانَ إِذَا سُئِلَ عَنْ صَلاةِ الْخَوْفِ، قَالَ: يَتَقَدَّمُ الإِمَامُ وَطَائِفَةٌ مِنَ النَّاسِ، فَيُصَلِّي بِهِمْ سَجْدَةً وَتَكُونُ طَائِفَةٌ مِنْهُمْ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْعَدُوِّ وَلَمْ يُصَلُّوا، فَإِذَا صَلَّى الَّذِينَ مَعَهُ سَجْدَةً اسْتَأْخَرُوا مَكَانَ الَّذِينَ لَمْ يُصَلُّوا، وَلا يُسَلِّمُونَ، وَيَتَقَدَّمُ الَّذِينَ لَمْ يُصَلُّوا فَيُصَلُّونَ مَعَهُ سَجْدَةً، ثُمَّ يَنْصَرِفُ الإِمَامُ، وَقَدْ صَلَّى سَجْدَتَيْنِ، ثُمَّ يَقُومُ كُلُّ وَاحِدَةٍ مِنَ الطَّائِفَتَيْنِ فَيُصَلُّونَ لأَنْفُسِهِمْ سَجْدَةً، بَعْدَ انْصِرَافِ الإِمَامِ، فَيَكُونُ كُلُّ وَاحِدَةٍ مِنَ الطَّائِفَتَيْنِ قَدْ صَلَّوْا سَجْدَتَيْنِ، فَإِنْ كَانَ خَوْفًا هُوَ أَشَدَّ مِنْ ذَلِكَ صَلَّوْا رِجَالا قِيَامًا عَلَى أَقْدَامِهِمْ، أَوْ رُكْبَانًا مُسْتَقْبِلِي الْقِبْلَةَ، وَغَيْرَ مُسْتَقْبِلِيهَا "، قَالَ نَافِعٌ: وَلا أُرَى عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ إِلا حَدَّثَهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ مُحَمَّدٌ: وَبِهَذَا نَأْخُذُ، وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ، رَحِمَهُ اللَّهُ وَكَانَ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ لا يَأْخُذُ بِهِ

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

** এ হাদীস জামে আত-তিরমিযীতে ইবনে উমার (রা)-র সূত্রে রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর কাছ থেকে বর্ণিত হয়েছে। শংকাকালীন নামাযও কুরআনের নির্দেশ দ্বারা বিধিবদ্ধ। মহান আল্লাহ বলেনঃ “হে নবী! তুমি যখন মুসলমানদের মধ্যে উপস্থিত থাকবে এবং (যুদ্ধাবস্থায়) নামাযে তাদের ইমামতি কবার জন্য দাঁড়াবে, তখন তাদের (সৈনিকদের) মধ্য থেকে একদল তোমার সাথে দাঁড়াবে এবং অস্ত্র নিয়ে থাকবে। তারা যখন সিজদা সম্পন্ন করবে, তখন তারা পিছনে চলে যাবে এবং দ্বিতীয় দল, যারা এখনো নামায পড়েনি, এসে তোমার সাথে নামায পড়বে এবং তারাও সতর্ক থাকবে ও নিজেদের অস্ত্র সাথে রাখবে। কেননা কাফেররা সুযোগ সন্ধান করছে। তোমরা নিজেদের অস্ত্রশস্ত্র ও সাজসরঞ্জাম থেকে একটু অসতর্ক হলেই তারা আকস্মিকভাবে তোমাদের উপর আক্রমণ চালাবে। কিন্তু তোমরা যদি বৃষ্টির কারণে কষ্ট পাও অথবা অসুস্থ থাকো, তবে অস্ত্র সংবরণ করায় কোন দোষ নেই । কিন্তু তা সত্ত্বেও তোমরা সতর্ক থাকবে” (সূরা নিসাঃ ১০২)।
শংকাকালীন নামাযের বিধান সেই সময়ের জন্য যখন শত্রুপক্ষের আক্রমণের আশংকা দেখা দিলেও কার্যত যুদ্ধ তখনো শুরু হয়নি। যুদ্ধ চলাকালে হানাফী মাহযাবমতে, নাযাম পরে পড়া যাবে। ইমাম মালেকের মতে, রুকূ-সিজদা করা সম্ভব না হলে ইশারায় তা করবে। ইমাম শাফিঈর মতে, নামাযরত অবস্থায়ও কিছু যুদ্ধ করা যেতে পারে। মহানবী ﷺ -এর কর্মনীতি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, খন্দকের যুদ্ধের পূর্বেই শংকাকালীন নামাযের নির্দেশ নাযিল হয়।
শংকাকালীন নামায কোন্ পদ্ধতিতে পড়তে হবে তা অনেকটা যুদ্ধাবস্থার উপর নির্ভরশীল। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে ও পদ্ধতিতে এই নামায পড়েছেন । কাজেই যুদ্ধাবস্থায় যে পদ্ধতিতেই নামায পড়া সম্ভব বলে সমসাময়িক রাষ্ট্রপ্রধান বা প্রধান সেনাপতি মনে করবেন, তা সে পদ্ধতিতেই পড়তে হবে। হাদীস শরীফ থেকে এর চারটি নিয়ম জানা যায়ঃ
(এক) সেনাবাহিনীর একটি অংশ ইমামের সাথে মিলিত হয়ে নামায পড়বে, অপর অংশ শত্রুর প্রতিরোধে নিয়োজিত থাকবে। প্রথম অংশের এক রাকআত পড়া হলে তারা সালাম ফিরিয়ে চলে যাবে এবং দ্বিতীয় অংশ এসে ইমামের সাথে মিলিত হবে। এতে ইমামের হবে দুই রাকআত, আর ফৌজের হবে এক রাকআত। ইবনে আব্বাস (রা), জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা) ও মুজাহিদ (র) এই নিয়ম বর্ণনা করেছেন।
(দুই) দ্বিতীয় নিয়ম অত্র হাদীসে উল্লেখিত হয়েছে এবং তা হানাফী মাযহাব গ্রহণ করেছে।
(তিন) তৃতীয় নিয়মে প্রথম দল ইমামের সাথে দুই রাকআত পড়ে চলে যাবে। দ্বিতীয় দল এসে ইমামের সাথে দুই রাকআত পড়বে। এতে ফৌজের নামায হবে দুই রাকআত, কিন্তু ইমামের নামায হবে চার রাকআত। এই নিয়ম হাসান বসরী আবু বাকরা (র)-র সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
(চার) সেনাবাহিনীর একাংশ ইমামের সাথে এক রাকআত পড়বে। ইমাম যখন দ্বিতীয় রাকআতের জন্য উঠে দাঁড়াবে, তখন মুক্তাদীরা স্বতন্ত্রভাবে এক রাকআত পড়ে সালাম ফিরিয়ে চলে যাবে। অতঃপর দ্বিতীয় দল এসে দ্বিতীয় রাকআতে ইমামের সাথে মিলিত হবে। ইমাম সালাম ফিরানোর পর তারা উঠে গিয়ে আর এক রাকআত পড়ে সালাম ফিরাবে। এক্ষেত্রে ইমাককে দ্বিতীয় রাকআতে পদ্ধতিগত কারণে দীর্ঘ কিরাআত পড়তে হবে। ইমাম শাফিঈ ও ইমাম মালেক সামান্য পার্থক্য সহকারে এই পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন। সাহল ইবনে আবু হাসমা (র)-র সূত্রে বর্ণিত হাদীস এর উৎস (তিরমিযী, ইবনে মাজা) (অনুবাদক)।
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)
আল মুওয়াত্তা-ইমাম মুহাম্মাদ রহঃ - হাদীস নং ২৯০ | মুসলিম বাংলা