আল মুওয়াত্তা-ইমাম মুহাম্মাদ রহঃ

৪- যাকাতের অধ্যায়

হাদীস নং: ৩৩৪
- যাকাতের অধ্যায়
জিযয়ার বর্ণনা।
৩৩৪। যায়েদ ইবনে আসলাম (রাহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। উমার (রাযিঃ)-র কাছে জিয়ার খাত থেকে অসংখ্য উট আসতো। ইমাম মালেক (রাহঃ) বলেন, আমার মনে হয় জিয়া প্রদানকারীদের কাছ থেকে জিয়া বাবদ এই উট আদায় করা হতো।
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, মজূসীদের কাছ থেকে জিযয়া আদায় করা সুন্নত । কিন্তু তাদের স্ত্রীলোকদের বিবাহ করা যাবে না এবং তাদের যবেহকৃত পশুর গোশতও খাওয়া যাবে না। রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর কাছ থেকে আমরা এই নির্দেশই পেয়েছি। হযরত উমার (রাযিঃ) কুফার দরিদ্র লোকদের উপর বারো দিরহাম, মধ্যবিত্তদের উপর চব্বিশ দিরহাম এবং ধনীদের উপর আটচল্লিশ দিরহাম জিযয়া ধার্য করেছিলেন। ইমাম মালেক (রাহঃ) যে উটের কথা বলেছেন, আমাদের জানামতে উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) জিয়া বাবদ তা আদায় করতেন না, বরং একবার তিনি তাগলিব গোত্রের উপর চুক্তি মোতাবেক তাদের দেয় করের পরিমাণ দ্বিগুণ করেন। তিনি এটাকে তাদের জিয়ায় রূপান্তরিত করেন এবং উট, গরু ও মেষ-বকরীর আকারে গ্রহণ করেন।**
كتاب الزكاة
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، أَخْبَرَنَا زَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، كَانَ يُؤْتَى بِنَعَمٍ كَثِيرَةٍ مِنْ نَعَمِ الْجِزْيَةِ "، قَالَ مَالِكٌ: أُرَاهُ تُؤْخَذُ مِنْ أَهْلِ الْجِزْيَةِ فِي جِزْيَتِهِمْ، قَالَ مُحَمَّدٌ: السُّنَّةُ أَنْ تُؤْخَذَ الْجِزْيَةُ مِنَ الْمَجُوسِ مِنْ غَيْرِ أَنْ تُنْكَحَ نِسَاؤُهُمْ، وَلا تُؤْكَلَ ذَبَائِحُهُمْ، وَكَذَلِكَ بَلَغَنَا عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَضَرَبَ عُمَرُ الْجِزْيَةَ عَلَى أَهْلِ سَوَادِ الْكُوفَةِ، عَلَى الْمُعْسِرِ اثْنَيْ عَشَرَ دِرْهَمًا، وَعَلَى الْوَسَطِ أَرْبَعَةً وَعِشْرِينَ دِرْهَمًا، وَعَلَى الْغَنِيِّ ثَمَانِيَةً وَأَرْبَعِينَ دِرْهَمًا، وَأَمَّا مَا ذَكَرَ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ مِنَ الْإِبِلِ، فَإِنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ لَمْ يَأْخُذِ الْإِبِلَ فِي جِزْيَةٍ عَلِمْنَاهَا إِلا مِنْ بَنِي تَغْلِبَ فَإِنَّهُ أَضْعَفَ عَلَيْهِمُ الصَّدَقَةَ، فَجَعَلَ ذَلِكَ جِزْيَتَهُمْ، فَأَخَذَ مِنْ إِبِلِهِمْ وَبَقَرِهِمْ وَغَنَمِهِمْ

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

** জিযয়া সাধারণত অমুসলিম নাগরিকদের উপর ধার্য করা হয়। ইসলামী সরকার ও মুসলিম নাগরিকগণ রাষ্ট্রের অমুসলিম নাগরিকদের জান-মালের নিরাপত্তার সমস্ত দায়িত্ব নিজেদের ঘাড়ে তুলে নেয়। তাছাড়া তাদেরকে যুদ্ধে যোগদানের বাধ্যবাধকতা থেকেও মুক্ত রাখা হয়। এর বিনিময়ে তাদের কাছ থেকে জিযয়া আদায় করা হয়। কিন্তু তারা মুসলিম সামরিক বাহিনীতে অংশগ্রহণ করলে তাদের জিযয়া মওকুফ হয়ে যায়। ইমাম আবু ইউসুফ (র) তার কিতাবুল খারাজে লিখেছেন, সমস্ত মুশরিক, মজূসী, মূর্তিপূজক, অগ্নি উপাসক, পাথর পূজক ও সায়েবদের কাছ থেকে জিযয়া আদায় করতে হবে (অনুবাদক)।
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান